অর্থোপটেরা বর্গের ক্যালিফেরা উপপর্বের প্রাণীদেরকে ফাসফড়িং বলা হয়। টেটিনোনিডি (Tettinonidae) গোত্রের ঘাসফড়িং লম্বা অ্যান্টেনাযুক্ত এবং অ্যাক্রিডিডি (Acrididae) গোত্রের ঘাসফড়িং খাটো অ্যান্টেনাযুক্ত। এরা একক বা নির্জন (solitary phase) অথবা দলবদ্ধ (gregrarius phase) ভাবে অবস্থান করে
Category: Biology Second Paper
হাইড্রার শনাক্তকারী বৈশিষ্ট ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) এদের দেহ লম্বা, নলাকার ও সরু।
(ii) দেহের অগ্রভাগ খোলা এবং নিম্নপ্রান্ত বদ্ধ।
(iii) দেহের মুক্তপ্রান্তে মোচাকার হাইপোস্টোম অবস্থিত।
(iv) হাইপোস্টোমে ৬–৮টি কর্ষিকা আছে।
(v) দেহে এক বা একাধিক মুকুল বিদ্যমান
(vi) দেহের নিম্নপ্রান্তে পাদ–চাকতি অবস্থিত।
Hydra-কে সরলতম বহুকোষী প্রাণী বলা হয় কেন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। হাইড্রা দ্বিস্তরী প্রাণী। এর দেহপ্রাচীরে এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস বিদ্যমান। এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে অকোষীয় মেসোগিøয়া রয়েছে।
২। দেহে বিদ্যমান ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হতে পারে।
৩। স্নায়ুকোষ থেকে স্নায়ুতন্ত্র বের হয়ে স্নায়ুজালক গঠন করে। ইহা দেহের সর্বত্র বিস্তৃত থাকে।
৪। দেহে সিলেন্টেরন বা গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর বিদ্যমান। ইহা দেহ গহ্বর এবং পরিপাক নালি হিসেবে কাজ করে।
৫। গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার মুখছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে উন্মুক্ত হয়।
৬। দেহে অন্তঃকোষীয় এবং বহিঃকোষীয় পরিপাক ঘটে।
৭। ব্যাপন ও অভিস্রবন প্রক্রিয়ায় শ^সন এবং রেচন ঘটে।
৮। শারীরবৃত্তীয় এবং যান্ত্রিক কাজ সম্পাদনের জন্য শ্রমবন্টন পরিলক্ষিত হয়।
৯। দেহে অযৌন জনন এবং যৌনজনন ঘটে।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে Hydra-কে সরলতম বহুকোষী প্রাণী বলা হয়।
হাইড্রাকে নিডারিয়া পর্বে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ।। Hydra-কে Cnidaria পর্বে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। ভ্রুণাবস্থায় হাইড্রার দেহ এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম স্তরে বিভক্ত থাকে। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে এক্টোডার্ম এপিডার্মিসে এবং এন্ডোডার্ম গ্যাস্ট্রোডার্মিসে রুপান্তরিত হয়।
২। দেহের কেন্দ্রে সিলেন্টেরন বা গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহŸর থাকে। ইহা মুখছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে উন্মুক্ত হয়।
৩। দেহপ্রাচীরে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ থাকে। ইহা অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হতে পারে।
৪। এপিডার্মিসে নিডোব্লাস্ট বা নিডোসাইট কোষ থাকে। নিডোসাইট কোষে নেমাটোসিস্ট থাকে।
৫। মুখছিদ্রের চারিদিকে কর্ষিকা থাকে।
৬। কোষীয় শ্রমবন্টন দেখা যায়।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে Hydra-কে Cnidaria পর্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হাইড্রার পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা ।। Hydra-র পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা ।। Hydra Regeneration ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
দেহের হারানো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশ পুনর্গঠন হওয়াকে পুনরুৎপত্তি বলে। হাইড্রার টটিপটেন্সি ক্ষমতা থাকায় ব্যাপক পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা রয়েছে। সুইস বিজ্ঞানী আব্রাহাম ট্রেমলে (১৭৪৪) সর্বপ্রথম হাইড্রার পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। হাইড্রাকে খন্ড খন্ড করলে প্রতিটি খন্ড হতে একটি করে হাইড্রা সৃষ্টি হয়। মৌখিক প্রান্ত হতে কর্ষিকা ও হাইপোস্টোম এবং বিমৌখিক প্রান্ত হতে পদচাকতি গঠিত হয়।
১। হাইড্রাকে অনুপ্রস্থ ভাবে কয়েক খন্ড করা হলে প্রতিটি খন্ড থেকে একটি করে পুর্ণাঙ্গ হাইড্রা সৃষ্টি হয়। প্রতিটি খন্ডই মেরুতা বজায় রাখে। অর্থাৎ মৌখিক প্রান্ত থেকে কর্ষিকা ও হাইপোস্টোম এবং বিমৌখিক প্রান্ত থেকে পাদ–চাকতি গঠিত হয়।
২। হাইড্রা দেহকে লম্বালম্বি ভাবে দুই ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ থেকে একটি করে পুর্ণাঙ্গ হাইড্রা সৃষ্টি হয়।
৩। হাইড্রার মাথা লম্বালম্বি ভাবে দুই ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ থেকে একটি করে মাথা সৃষ্টি হয়।
গ্রিক পুরানে রুপকথার দানব হাইড্রা এর নামানুসারে এই প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে হাইড্রা। এই দানবের নয়টি মাথা ছিল। শক্তিধর মানব হারকিউলিস এ দানবের মাথা কেটে ফেললে ঐ স্থানে দুটি মাথা গজাতো।
হাইড্রার শ্রমবন্টন ।। Hydra ।। Division of labour ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
বহুকোষী প্রাণীদেহে নির্দিষ্ট কোষ, কলা বা অঙ্গ নির্দিষ্ট কার্য সম্পন্ন করলে তাকে শ্রমবন্টন বলে। প্রাণীজগতে নিডারিয়ান তথা Hydra-তে সর্বপ্রথম শ্রমবন্টন দেখা যায়। Hydra -তে আঙ্গিক এবং কোষীয় শ্রমবন্টন দেখা যায়।
আঙ্গিক শ্রমবন্টন
১। মুখছিদ্রঃ খাদ্য গ্রহণ, বর্জ্য নিষ্কাশন ও পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
২। কর্ষিকাঃ চলন, শিকার ধরা, আরোহন ও আত্মরক্ষায় ব্যবহার করে।
৩। দেহকান্ডঃ চলনে সহায়তা এবং মুকুল ও জননাঙ্গ ধারণ করে।
৪। এপিডার্মিসঃ দেহ গঠন ও প্রতিরক্ষার কাজ করে।
৫। মেসোগিøয়াঃ ভিত্তিতল ও কাঠামো গঠন করে এবং দেহের সংকোচন-প্রসারণে সহায়তা করে।
৬। সিলেনটেরনঃ খাদ্য পরিপাক ও সংবহনের কাজ করে।
৭। পাদচাকতিঃ চলন এবং দেহকে আবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে।
কোষীয় শ্রমবন্টন
১। পেশি আবরণী কোষঃ দেহ আবরণী তৈরী, চলন এবং শিকার ধরায় সাহায্য করে।
২। ইন্টারস্টিশিয়াল কোষঃ দেহের যে কোন কোষ বা অঙ্গ সৃষ্টি করে।
৩। সংবেদী ও স্নায়ু কোষঃ উদ্দীপনা গ্রহণ ও প্রতিবেদন তৈরী করে।
৪। পুষ্টি কোষঃ বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষী পরিপাক সম্পন্ন করে।
৫। গ্রন্থি কোষঃ এনজাইম ও আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।
হাইড্রাকে মিথোজীবী বলা হয় কেন ।। Hydra।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত দুটি জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থানের ফলে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হওয়াকে মিথোজীবীতা বলে। হাইড্রা শৈবাল থেকে খাদ্য ও অক্সিজেন গ্রহণ করে। হাইড্রার শ^সনে সৃষ্ট CO2 ও বর্জ্য পদার্থ শৈবালকে প্রদান করে। ফলে হাইড্রা উপকৃত হয় এবং জীবন ধারণ সহজ হয়। তাই হাইড্রাকে মিথোজীবী বলা হয়। Chlorohydra viridissima নামক সবুজ হাইড্রা মিথোজীবীতা গঠন করে।
হাইড্রার মিথোজীবিতা ।। Hydra Symbiosis ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রিক Symbioum শব্দ অর্থ live together বা একত্রে বাস করা। ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত দু’টি জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থানের ফলে পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হওয়াকে মিথোজীবীতা বলে। Zoochlorella নামক শৈবাল এবং Chlorohydra viridissima নামক সবুজ হাইড্রা মিথোজীবীতা গঠন করে। আবার, সাগর কুসুম ও ক্লাউন ফিস মিলে মিথোজীবিতা গঠন করে। হাইড্রার ডিম্বাণুর সাথে শৈবালের অংশ পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। তাই শৈবালকে lifelong paying guest বলে। হাইড্রা ও শৈবাল কিভাবে উপকৃত তা নিচে আলোচনা করা হলো।
শৈবাল কিভাবে উপকৃত হয়
১। আশ্রয় লাভঃ শৈবাল হাইড্রার অন্তঃত্বকের পেশী আবরণী কোষে আশ্রয় গ্রহণ করে।
২। CO2 প্রাপ্তিঃ হাইড্রার শ্বসনে সৃষ্ট CO2-কে শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার করে।
৩। নাইট্রোজেনজাত পদার্থ প্রাপ্তিঃ হাইড্রার বিপাকীয় নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থকে শৈবাল ব্যবহার করে আমিষ জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
৪। পরিবেশীয় পীড়ন থেকে রক্ষাঃ শৈবাল হাইড্রার দেহে আশ্রয় লাভ করে। তাই তাপ, চাপ, শুষ্কাতা প্রভৃতি থেকে রক্ষা পায়।
হাইড্রা কিভাবে উপকৃত হয়
১। খাদ্যঃ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে খাদ্য উৎপন্ন করে তার অতিরিক্ত অংশ হাইড্রা গ্রহণ করে। শৈবাল মারা গেলে মৃতদেহকে হাইড্রা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
২। O2 প্রাপ্তিঃ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে O2 উৎপন্ন করে হাইড্রা তা শ্বসন কাজে ব্যয় করে।
৩। বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনঃ হাইড্রা শ্বসন প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন করে। শৈবাল এসব বর্জ্য পদার্থ গ্রহণ করে হাইড্রাকে বর্জ্য মুক্ত করে।
হাইড্রা উভলিঙ্গ প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও স্বনিষেক ঘটে না ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
অধিকাংশ হাইড্রা একলিঙ্গ (dioecious), তবে কিছু সংখ্যক হাইড্রা উভলিঙ্গ (monoecious) প্রাণী। স্বনিষেক একটি যৌনজনন প্রক্রিয়া। একই প্রাণীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে স্বনিষেক বলে। হাইড্রা উভলিঙ্গ প্রাণী হওয়া সত্তে¡ও স্বনিষেক ঘটে না। একই হাইড্রায় শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় সৃষ্টি হয় ভিন্ন দুটি ঋতুতে। হাইড্রায় যে সময়ে শুক্রাণু পরিপক্ক হয় ডিম্বাণু তখন অপরিপক্ক থাকে। আবার, ডিম্বাণু যখন পরিপক্ক হয় শুক্রাণু তখন অপরিপক্ক থাকে। তাই একই হাইড্রার শুক্রাণু ও ডিম্বাণু কখনো মিলিত হতে পারে না। এ কারণে হাইড্রায় স্বনিষেক ঘটে না। হাইড্রায় শুধু পরনিষেক ঘটে।
হাইড্রার পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া ।। Development of Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
পরিস্ফুটন (Development)ঃ জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিনত হওয়াকে পরিস্ফুটন বলে। হাইড্রার জাইগোটের বিভাজন হলোব্লাস্টিক বা সম্পুর্ণ ধরনের। এর পরিস্ফুটনের ধাপ গুলো নিম্নরুপ।
১। মরুলা দশা (Morula)ঃ জাইগোট ক্লিভেজের মাধ্যমে বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী, নিরেট ও গোলাকার কোষপিন্ডে পরিনত হয়। একে মরুলা দশা বলে। মরুলা দশায় দুই ধরনের কোষ সৃষ্টি হয়। মাইক্রোমিয়ার ও ম্যাক্রোমিয়ার।
২। ব্লাস্টুলা দশা (Blastula)ঃ ব্লাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় মরুলা দশার কোষ গুলো একটি নির্দিষ্ট স্তরে সজ্জিত হয়ে ফাঁপা গোলাকার গঠন সৃষ্টি করে। একে ব্লাস্টুলা দশা বলে। ব্লাস্টুলার কেন্দ্রে যে গহ্বর থাকে তাকে ব্লাস্টোসিল বলে। ব্লাস্টুলার প্রাচীরকে ব্লাস্টোডার্ম (Blastoderm) এবং কোষ গুলোকে ব্লাস্টোমিয়ার বলে।
৩। গ্যাস্ট্রুলা দশা (Gastrula)ঃ গ্যাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্লাস্টোমিয়ার কোষ গুলো দুই স্তরবিশিষ্ট নিরেট ও গোলাকার গঠন সৃষ্টি করে। একে গ্যাস্ট্রুলা দশা বলে। হাইড্রার গ্যাস্ট্রুলা মাতৃদেহের সাথে যুক্ত থাকে বলে একে স্টেরিওগ্যাস্টুলা বলা হয়। গ্যাস্ট্রুলার বাইরের স্তরকে এক্টোডার্ম এবং ভিতরের স্তরকে এন্ডোডার্ম বলে। এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝে জেলির মতো অকোষীয় মেসোগিøয়া থাকে। গ্যাস্ট্রুলার গহ্বরকে আদি সিলেন্টেরন বলে।
৪। সিস্ট (Cyst)ঃ গ্যাস্টুলার চারিদিকে কাইটিন নির্মিত কন্টকময় আবরণী থাকে। একে সিস্ট বলে।
৫। হাইড্রিলা (Hydrilla)ঃ বসন্তকালে অনুকুল তাপমাত্রায় সিস্টের ভিতরে ভ্রুণ লম্বা হয়। ভ্রিুণে মুখছিদ্র, হাইপোস্টোম, কর্ষিকা ও পদচাকতি গঠিত হয়। ভ্রুণের এই দশাকে হাইড্রুলা বলে।