ল্যাটিন শব্দ Mamma থেকে Mammalia নামকরণ করা হয়েছে। Mammalia শব্দের অর্থ হলো স্তন্যপায়ী। এরা ক্ষুদ্র থাই বাদুর (১.৫ গ্রাম) থেকে সর্ববৃহৎ নীল তিমি (১৩০ মেট্রিক টন) পর্যন্ত হতে পারে। এরা পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দখল করেছে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ এই শ্রেণীর প্রাণী। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৬,০০০। বাংলাদেশে ম্যামালিয়া শ্রেণীর ১০টি বর্গ, ৩৫টি গোত্র এবং ১৩৮টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।
Category: Biology Second Paper
অ্যাভিস শ্রেণীর কয়েকটি পাখি, উদাহরণ ।। Aves ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
দোয়েল– Copsychus saularis
মোরগ– Galus galus
পেঁচা– Bubo bubo
ঈগল– Haliacetus leucogaster
কবুতর– Columba livia
হামিংবার্ড– Mellisuga helenae
ঘুঘু– Streptopelia decaocto
শালিক– Lamprotornis hildebrandti
কোকিল– Eudynamys scolopaceus
বক– Nycticorax nycticorax
চড়াই– Passer domesticus
রাজ শকুন– Sarcogyps calvus
কালো তিতির– Francolinus francolinus
কোয়েল– Coturnix coturnix
ময়না– Gracula Religiosa
টিয়া– Psittacula krameri
ডাহুক– Amaurornis phoenicurus
সারস– Grus antigone
কাক– Corvus splendens
বুলবুলি– Pycnonotus cafer
উটপাখি– Struthio camelus
ময়ুর– Pavo cristatus
বাবুই পাখি– Ploceus philippinus
পেলিকন– Pelecanus philippensis
পাখিদেরকে মহিমান্বিত সরীসৃপ বলা হয় ।। Aves ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মেসোজোয়িক যুগে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থেকে পাখিদের উৎপত্তি হয়েছে। পাখিদের পূর্বপুরুষ হলো সরীসৃপ। বিবর্তনের মাধ্যমে সরীসৃপরা পাখিতে রুপান্তরিত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিখ্যাত পাখিবিদ থমাস হাক্সলে (Thomas Huxley) এদেরকে পাখিরা মহিমান্বিত সরীসৃপ নামে অভিহিত করেন। আর্কিওপটেরিক্স (Archaeopteryx) হলো সরীসৃপ ও পাখির মধ্যে যোগসূত্রকারী জীবাশ্ম। অর্থাৎ সরীসৃপ থেকে আর্কিওপটেরিক্স এবং আর্কিওপটেরিক্স থেকে পাখি সৃষ্টি হয়েছে। সরীসৃপ থেকে পাখি সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হলো–
১। সরীসৃপ হলো নিম্ন বিপাকীয় হার সমৃদ্ধ শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। পাখি হলো উচ্চ বিপাকীয় হার সমৃদ্ধ উঞ্চ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
২। সরীসৃপ হলো গতি সম্পন্ন প্রাণী। পাখি উড্ডয়ন ক্ষমতা লাভের কারণে সবচেয়ে দক্ষতার সাথে দ্রুত চলতে পারে।
৩। সরীসৃপের দেহ শুষ্ক আঁইশযুক্ত। সরীসৃপের আঁইশ থেকে পাখির পালক সৃষ্টি হয়েছে।
৪। সরীসৃপের অসম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিন্ড থেকে পাখির চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিন্ড সৃষ্টি হয়েছে।
৫। সৃরীসৃপের রক্ত সংবহনতন্ত্রে দুইটি সিস্টেমিক আর্চ এবং পাখির একটি সিস্টেমিক আর্চ।
৬। সরীসৃপের রেনাল পোর্টাল সিস্টেম উন্নত প্রকৃতির। পাখিদের উহা ক্ষয়প্রাপ্ত।
৭। সরীসৃপের চোয়াল থেকে পাখির লম্বা চঞ্চু সৃষ্টি হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সরীসৃপ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে পাখির উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ পাখিরা মহিমান্বিত সরীসৃপ।
পাখির সফল উড্ডয়ন অভিযোজনের জন্য পরিবর্তন সাধন । Aves । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। এদের দেহ পালক দ্বারা আবৃত থাকে। দেহ হালকা হয় এবং পালক বাতাসে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
২। এদের গ্রীবা প্রলম্বিত এবং S আকৃতির। তাই সামনের দিকে সহজে ঝুকতে পারে।
৩। এরা দ্বিপদী প্রাণী। অগ্রপদ ডানায় রুপান্তরিত হয়েছে। ডানা এদের প্রধান উড্ডয়ন অঙ্গ।
৪। চোয়াল চঞ্চুতে পরিনত হয়েছে। ইহা উড্ডয়নে সহায়ক।
৫। এদের অস্থি শক্ত, হালকা ও বায়ুপুর্ণ থাকে। এতে দেহের ওজন কম হয় এবং সহজে উড়তে পারে।
৬। এদের ফুসফুসে বায়ু থলী থাকে। বায়ু থলীতে বায়ু জমা থাকে। দেহ হালকা হয় এবং সহজে উড়তে পারে।
৭। হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, ২ টি অলিন্দ ও ২ টি নিলয়। তাই বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
৮। স্টার্নাম নৌকার মতো কীল গঠন করেছে যা উড্ডয়নে সহায়ক
অ্যাভিস-এর বৈশিষ্ট্য ।। Aves ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। দেহ পালকে আবৃত এবং অগ্রপদ দুটি ডানায় রুপান্তরিত।
২। এদের গ্রীবা প্রলম্বিত এবং ঝ আকৃতির।
৩। চোয়াল দন্তহীন এবং চঞ্চু–তে পরিনত হয়েছে।
৪। অন্তঃকঙ্কাল ছিদ্র, অস্থি শক্ত, হালকা ও বায়ুপুর্ণ। অস্থিতে বায়ুপূর্ণ গহŸর থাকে।
৫। ফুসফুসে বায়ু থলী বিদ্যমান। শ^সনযন্ত্রে শব্দ সৃষ্টিকারী অঙ্গ সিরিঙ্কস থাকে।
৬। এরা এন্ডোথার্মিক বা উঞ্চ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা উঠা–নামার সাথে এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয় না।
৭। হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, ২ টি অলিন্দ ও ২ টি নিলয়।
৮। এদের পরিপাকতন্ত্রে ক্রপ ও গিজার্ড থাকে। তাই দ্রæত শক্তিদায়ক খাদ্য পরিপাক করতে সক্ষম।
৯। মাথার করোটি একটি অক্সিপিটাল কন্ডাইল দ্বারা মেরুদন্ডের সাথে যুক্ত থাকে। স্টার্ণাম নৌকার মতো কীল গঠন করে।
১০। এরা দ্বিপদ প্রাণী এবং উড়তে পারে।
১১। এদের পায়ে নখর যুক্ত আঙ্গুল থাকে।
১২। এরা ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
১৩। সদ্যোপ্রসুত বাচ্চা সক্রিয় ও সবল অথবা নগ্ন ও দুর্বল প্রকৃতির।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ পালক, ডানা, গ্রীবা, চঞ্চু, বায়ুগহŸর, বায়ুথলী, সিরিঙ্কস, এন্ডোথার্মিক, হৃৎপিন্ড, পরিপাকতন্ত্র, অক্সিপিটাল কন্ডাইল, কীল, দ্বিপদ, অঙ্গুল, ডিম]
অ্যাভিস কী ।। Aves।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ল্যাটিন শব্দ Avis অর্থ bird বা পাখি। যে সব মেরুদন্ডী প্রাণী পানি ও ডাঙা ছেড়ে আকাশচারী হয়েছে তাদেরকে পাখি নামে অভিহিত করা হয়। এদের দেহ উড্ডয়নের জন্য অভিযোজিত এবং এরা উড্ডয়ন যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাখিদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য মেসোজোয়িক যুগের আর্কোসরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এদর প্রজাতি সংখ্যা ১০,০০০। বাংলাদেশে অ্যাভিস শ্রেণীর ২১টি বর্গ এবং ৭০৬টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।
রেপটাইলিয়া । রেপটাইলয়ার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ বিস্তারিত । Reptilia । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রিক শব্দ rep অর্থ বুকে হাঁটা Reptilia শ্রেণীর নামকরণ করা হয়েছে। Reptilia অর্থ সরীসৃপ। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে। সাড়ে ১৬ কোটি বছর পূর্বের মেসোজোয়িক যুগকে সরীসৃপের যুগ বলা হয়। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৯,৮৩১। বাংলাদেশে রেপটাইলিয়া শ্রেণীর ৩টি বর্গ, ২৫টি গোত্র এবং ১৬৭টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।
রেপটাইলিয়ার বৈশিষ্ট্য
১। দেহ শুষ্ক এবং এপিডার্মিস থেকে সৃষ্ট আঁইশ বা শক্ত প্লেট দ্বারা গঠিত।
২। প্রতি পায়ে নখর যুক্ত ৫ টি করে আঙ্গুল থাকে।
৩। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত। মাথা, গ্রীবা ও দেহ।
৪। এদের হৃৎপিন্ডের নিলয় অসম্পুর্ণ ভাবে দ্বিধা বিভক্ত (ব্যতিক্রম– কুমির)।
৫। এরা এক্টোথার্মিক স্থলচর প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা উঠা–নামার সাথে এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়।
৬। এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। তাই শীতকালে হাইবারনেশনে যায়।
৭। এরা বুকের উপর ভর দিয়ে চলে।
৮। এদের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪টি।
৯। এরা ডিম পাড়ে। অর্থাৎ ওভিপোরাস। ডিম চামড়ার মতো চুনময় খোলস দ্বারা আবৃত থাকে।
১০। মাথার করোটি একটি অক্সিপিটাল কন্ডাইল দ্বারা মেরুদন্ডের সাথে যুক্ত থাকে।
১১। অবসারণী ছিদ্র আড়াআড়ি ভাবে অবস্থিত।
১২। ভ্রæণের পরিস্ফুটনকালে চারটি বহিঃভ্রæণীয় ঝিল্লি (অ্যামনিয়ন, কোরিওন, কুসুমথলী অ্যালানটয়েস) সৃষ্টি হয়।
১৩। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। অন্তঃনিষেক ঘটে। পুরুষের পেশিময় সঙ্গম অঙ্গ বিদ্যমান।
১৪। এদের কোন লার্ভা দশা নাই।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ এপিডার্মিস, শক্ত প্লেট, আঙ্গুল, হৃৎপিন্ডের, এক্টোথার্মিক, হাইবারনেশন, বুকের উপর ভর, ক্রানিয়াল স্নায়ু, ওভিপোরাস, অক্সিপিটাল কন্ডাইল, অবসারণী ছিদ্র, সঙ্গম অঙ্গ, লার্ভা]
রেপটাইলিয়া শ্রেণীর কয়েকটি প্রাণী
টিকটিকি- Hemidactylus frenatus
উড়ন্ত টিকটিকি– Chameleon vulgaris
কচ্ছপ– Trionyx gangeticus
সামুদ্রিক কাছিম– Caretta caretta
তক্ষক– Gekko gecko
ঘড়িয়াল– Gavialis gangeticus
গোখরা সাপ– Naja naja
গুইসাপ– Varanus komodoensis
গিরগিটি– Calotes versicolor
কুমির– Crocodylus porosus
স্বাদু পানির কুমির– Crocodylus palustris
রেপটাইলিয়া শ্রেণীর কয়েকটি প্রাণী ।। Reptilia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
টিকটিকি- Hemidactylus frenatus
উড়ন্ত টিকটিকি– Chameleon vulgaris
কচ্ছপ– Trionyx gangeticus
সামুদ্রিক কাছিম– Caretta caretta
তক্ষক– Gekko gecko
ঘড়িয়াল– Gavialis gangeticus
গোখরা সাপ– Naja naja
গুইসাপ– Varanus komodoensis
গিরগিটি– Calotes versicolor
কুমির– Crocodylus porosus
স্বাদু পানির কুমির– Crocodylus palustris
রেপটাইলিয়ার বৈশিষ্ট্য ।। Reptilia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। দেহ শুষ্ক এবং এপিডার্মিস থেকে সৃষ্ট আঁইশ বা শক্ত প্লেট দ্বারা গঠিত।
২। প্রতি পায়ে নখর যুক্ত ৫ টি করে আঙ্গুল থাকে।
৩। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত। মাথা, গ্রীবা ও দেহ।
৪। এদের হৃৎপিন্ডের নিলয় অসম্পুর্ণ ভাবে দ্বিধা বিভক্ত (ব্যতিক্রম– কুমির)।
৫। এরা এক্টোথার্মিক স্থলচর প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা উঠা–নামার সাথে এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়।
৬। এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। তাই শীতকালে হাইবারনেশনে যায়।
৭। এরা বুকের উপর ভর দিয়ে চলে।
৮। এদের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪টি।
৯। এরা ডিম পাড়ে। অর্থাৎ ওভিপোরাস। ডিম চামড়ার মতো চুনময় খোলস দ্বারা আবৃত থাকে।
১০। মাথার করোটি একটি অক্সিপিটাল কন্ডাইল দ্বারা মেরুদন্ডের সাথে যুক্ত থাকে।
১১। অবসারণী ছিদ্র আড়াআড়ি ভাবে অবস্থিত।
১২। ভ্রæণের পরিস্ফুটনকালে চারটি বহিঃভ্রæণীয় ঝিল্লি (অ্যামনিয়ন, কোরিওন, কুসুমথলী অ্যালানটয়েস) সৃষ্টি হয়।
১৩। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। অন্তঃনিষেক ঘটে। পুরুষের পেশিময় সঙ্গম অঙ্গ বিদ্যমান।
১৪। এদের কোন লার্ভা দশা নাই।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ এপিডার্মিস, শক্ত প্লেট, আঙ্গুল, হৃৎপিন্ডের, এক্টোথার্মিক, হাইবারনেশন, বুকের উপর ভর, ক্রানিয়াল স্নায়ু, ওভিপোরাস, অক্সিপিটাল কন্ডাইল, অবসারণী ছিদ্র, সঙ্গম অঙ্গ, লার্ভা]
রেপটাইলিয়া কী ।। Reptilia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রিক শব্দ rep অর্থ বুকে হাঁটা Reptilia শ্রেণীর নামকরণ করা হয়েছে। Reptilia অর্থ সরীসৃপ। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে। সাড়ে ১৬ কোটি বছর পূর্বের মেসোজোয়িক যুগকে সরীসৃপের যুগ বলা হয়। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৯,৮৩১। বাংলাদেশে রেপটাইলিয়া শ্রেণীর ৩টি বর্গ, ২৫টি গোত্র এবং ১৬৭টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।