১৯৬৯ সালে জীববিজ্ঞানী Robert H. Whittaker ব্যাকটেরিয়া ও অন্যন্য অণুজীবকে অন্তর্ভুক্ত করে সমগ্র জীবজগতকে ৫টি জগত বা রাজ্যে বিভক্ত করে ‘পাঁচ জগৎ শ্রেণীবিন্যাস’ প্রস্তাব করেন। ১৯৭৪ সালে জীববিজ্ঞানী ড. লিন মারগিউলিস Symbiotic Planet গ্রন্থে পাঁচ জগৎ শ্রেণীবিন্যাস পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত করে আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস প্রবর্তন করেন। তিনি উদ্ভিদ ও প্রাণীকে একত্রে জীবজগত বিবেচনা করেন। জীবজগতকে দুইটি সুপার কিংডম ও পাঁচটি জগতে বিভক্ত করেন। এ করণে, একে পাঁচ জগত শ্রেণীবিন্যাস বলা হয়। এগুলো হলো-
সুপার কিংডম- প্রোক্যারিওটা এবং সুপার কিংডম- ইউক্যারিওটা
সুপার কিংডম- ১ প্রোক্যারিওটাঃ এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এরা এককোষী ও আণুবীক্ষনিক। প্রোক্যারিওটা একটি মাত্র জগত মনেরা নিয়ে গঠিত।
১। জগত-১ঃ মনেরা (Monera)
(i) এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়্যাল।
(ii) কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নাই।
(iii) ক্রোমাটিন বডিতে DNA আছে, কিন্তু প্রোটিন নাই।
(iv) কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ড্রোপ্লাজমিক জালিকা, লাইসোজোম প্রভৃতি থাকে না।
(v) কোষ প্রাচীর পলিস্যাকারাইড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
(vi) কোষ বিভাজন ঘটে অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায়।
(vii) প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এরা ফটোসিনথেটিক বা কেমোসিনথেটিক।
(viii) মনেরা ১৫টি পর্ব নিয়ে গঠিত।
উদাহরণঃ Nostoc linka, Anabaena, Spirulina, Esherichia coli, Bacillus albus.
সুপার কিংডম- ২ ইউক্যারিওটাঃ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা এককোষী বা বহুকোষী। ইউক্যারিওটা ৪টি জগত নিয়ে গঠিত।
২। জগত-২ঃ প্রোটকটিস্টা (Protoctista)
(i) এরা এককোষী বা বহুকোষী এবং একক বা কলোনিয়াল।
(ii) এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে।
(iii) ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA ও প্রোটিন আছে।
(iv) কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ড্রোপ্লাজমিক জালিকা, লাইসোজোম প্রভৃতি থাকে।
(v) কোষ বিভাজন ঘটে মাইটোসিস ও মিয়োসিস প্রক্রিয়ায়।
(vi) এরা অধিকাংশই জলজ।
(vii) এদের পুষ্টি ভক্ষণ বা শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
(viii) এদের জীবনচক্রে বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি হয় না।
(ix) এরা সবুজ, স্বভোজী ও স্বাবলম্বী। অর্র্থাৎ ফটোসিনেথেটিক পিগমেন্ট থাকে।
(x) শৈবাল প্রধানত গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ।
(xi) এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত।
(xii) এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।
(xiii) এদের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না (ব্যতিক্রম- Chara)।
(xiv) এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার।
(xv) যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস।
(xvi) এদের জীবন ধারণের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য।
(xvii) প্রোটকটিস্টা ৭টি পর্ব নিয়ে গঠিত।
উদাহরণঃ Spirogyra hyalina, Amoeba proteus, Ulothrix, Chlamydomonas.
৩। জগত-৩ঃ ফানজাই (Fungi)
(i) এরা বর্ণহীন, পরজীবী বা মৃতজীবী।
(ii) এরা এককোষী বা বহুকোষ এবং মাইসেলিয়াল।
(iii) এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত।
(iv) পরিবহন কলা নাই এবং ভ্রুণ সৃষ্টি হয় না।
(v) এদের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
(vi) কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
(vii) এদের ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে।
(viii) এদের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না।
(ix) এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার।
(x) এদের কোষ বিভাজন অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস ও মিয়োসিস প্রকৃতির।
(xi) যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস ধরনের।
(xii) এদের জীবন ধারণের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য না।
(xiii) এদের সঞ্চিত খাদ্য গøাইকোজেন ও তেল বিন্দু।
(xiv) এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত কাইটিন নির্মিত।
(xv) এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
(xvi) এদের অভিযোজন ক্ষমতা তীব্র (৫-৫০ডিগ্রী সে)।
৪। জগত- ৪ঃ প্ল্যান্টি (Plantae)
(i) প্রধান উদ্ভিদ দেহ স্পোরোফাইট।
(ii) এরা এককোষী বা বহুকোষী এবং সুকেন্দ্রীক উদ্ভিদ।
(iii) টিস্যু বিন্যাস উন্নত এবং কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
(iv) সঞ্চিত খাদ্য শ্বেতসার।
(v) যৌনজনন অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস প্রকৃতির।
(vi) এরা ভাস্কুলার। অর্থাৎ ভাস্কুলার বান্ডল থাকে।
(vii) এদের বীজ সৃষ্টি হয়।
(viii) এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন।
(ix) জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুঃক্রম থাকে।
উদাহরণঃ ধান, গম, আখ, ভূট্রা প্রভৃতি।
প্ল্যান্টি রাজ্যকে দুইটি গ্রেড-এ ভাগ করা হয়েছে। ব্রায়োফাইটা ও ট্রাকিওফাইটা
গ্রেড-১ঃ ব্রায়োফাইটা (Bryophyta)
(i) উদ্ভিদ গ্যামিটোফাইটিক।
(ii) এরা অভাস্কুলার উদ্ভিদ। অর্থাৎ পরিবহন টিস্যু নাই।
উদাহরণঃ Semibarbula orientalis
গ্রেড-২ঃ ট্রাকিওফাইটা (Tracheophyta)
(i) উদ্ভিদ স্পোরোফাইটিক।
(ii) এরা ভাস্কুলার উদ্ভিদ। অর্থাৎ পরিবহন টিস্যু আছে।
উদাহরণঃ Oryza sativa
৫। জগত-৫ঃ অ্যানিম্যালিয়া (Animalia)
(i) এরা বহুকোষী এবং সুকেন্দ্রীক প্রাণী।
(ii) এদের পুষ্টি হলোজোয়িক ধরনের।
(iii) ক্লোরোফিল না থাকায় এরা পরনির্ভরশীল।
(iv) কোষ প্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষ গহ্বর থাকে না।
(v) মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজন ঘটে।
উদাহরণঃ Homo sapiens, Panthera tigris, Labeo rohita, Bombyx mori|