প্রাণীদেহে পৌষ্টিক নালী ও দেহ প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পেরিটোনিয়াম নামক আবরণী দ্বারা আবৃত এবং সিলোমিক রস দ্বারা পুর্ণ দেহগহ্বরকে সিলোম বলে। ইহা ভ্রুণীয় মেসোডার্ম হতে সৃষ্টি হয়। সিলোমের প্রকৃতি অনুসারে প্রাণীদেরকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
(i) অ্যাসিলোমেট (Acoelomate)ঃ যে সব প্রাণীদের সিলোম থাকে না তাদেরকে অ্যাসিলোমেট বলে। এদের ফাঁকা স্থানটি স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা পুর্ণ থাকে। Porifera, Platyhelminthes, Cnidaria ও Ctenophora পর্বের প্রাণীরা অ্যাসিলোমেট। যেমন- ফিতা কৃমি (Taenia solium), হাইড্রা (Hydra viridis), যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica) প্রভৃতি।
(ii) সিউডোসিলোমেট (Pseudocoelomate)ঃ যে সব প্রাণীদের পৌষ্টিক নালী ও দেহ প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত দেহ গহ্বর পেরিটোনিয়ামের আবরণী দ্বারা আবৃত নয় তাদেরকে সিউডোসিলোমেট বলে। Nematoda, Rotifera, Acanthocephola, Ectoprocta ও Kinorhyncha পর্বের প্রাণীরা সিউডোসিলোমেট। যেমন- গোল কৃমি (Ascaris lumbricoides), চোখের কৃমি (Loa loa), হুক কৃমি (Ancylostoma duodenale) প্রভৃতি।
(iii) সিলোমেট (Coelomate)ঃ যে সব প্রাণীদের পৌষ্টিক নালী ও দেহ প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত দেহ গহ্বর পেরিটোনিয়ামের আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাদেরকে সিলোমেট বলে। Annelida, Arthropoda, Echinodermata, Mollusca, Hemichordata ও Chordata পর্বের প্রাণীরা সিলোমেট। যেমন- কেঁচো (Metaphire posthuma), মানুষ (Homo sapiens), মশা (Culex pipiens), সমুদ্র তারা (Asterias vulgare), ইলিশ (Tenualosa ilisha), ঝিনুক (Unio marginalis) প্রভৃতি।
ভ্রুণীয় বিকাশের ভিত্তিতে সিলোমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) সাইজোসিলাস সিলোমঃ ভ্রুণীয় মেসোডার্মাল কলা থেকে যে সিলোম সৃষ্টি হয় তাকে সাইজোসিলাস সিলোম বলে। যেমন- Annelida, Arthropoda ও Mollusca পর্ব।
(ii) এন্টারোসিলাস সিলোমঃ ভ্রুণীয় মেসোডার্মাল থলী থেকে যে সিলোম সৃষ্টি হয় তাকে এন্টারোসিলাস সিলোম বলে। যেমন- Echinodermata ও Chordata পর্ব।