প্রতিসাম্যতা কী ।। প্রতিসাম্যতার প্রকারভেদ ।। Symmetry । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স    

জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের সুষম বন্টনকে প্রতিসাম্যতা বলে।

(i) অপ্রতিসম্য (Asymmetry)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বা অক্ষ বরাবর ভাগ করে দু’টি সমান অংশ পাওয়া না গেলে তাকে অপ্রতিসম্য বলে। যেমন- শামুক (Pila globosa), অ্যামিবা (Amoeba proteus), স্পঞ্জিলা (Spongilla proliferens), স্পঞ্জ (Cliona celata) প্রভৃতি।

(ii) দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসম্য (Bilaterally symmetrical)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বরাবর ভাগ করে দু’টি সমান অংশ পাওয়া গেলে তাকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম্য বলে। এদের শ্রেণীতাত্তি¡ক ধাপ হলো বাইলেটারিয়া। Platyhelminthes, Arthropoda I Chordata পর্বের প্রাণীরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম্য। যেমন- মানুষ (Homo sapiens), তেলাপোকা (Periplaneta americana), ব্যাঙ (Duttaphrynus melanostictus), প্রজাপতি (Pieris brassicae), ইঁলিশ  (Tenualosa ilisha), কবুতর (Columba livia),  যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica) প্রভৃতি।

(iii)  দ্বি-অরীয় প্রতিসম্য (Biradial symmetrical)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে অক্ষ বরাবর লম্বালম্বি ভাবে ভাগ করে দু’টি সমান অংশ পাওয়া গেলে তাকে দ্বিঅরীয় প্রতিসম্য বলে। এক্ষেত্রে ছেদন তল দু’টি সমকোণে থাকে বলে চারটি সমান অংশ পাওয়া যায়। এরুপ প্রতিসম্যকে Tetramerous symmetry বলে। যেমন-  Anthozoa, Ctenophora, Ceoloplana প্রভৃতি।

(iv) অরীয় প্রতিসম্য (Radial symmetrical)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বরাবর ভাগ করে দুইয়ের বেশি সমান অংশ পাওয়া গেলে তাকে অরীয় প্রতিসম্য বলে। এদের শ্রেণীতাত্তি¡ক ধাপ হলো রেডিয়াটা। যেমন-হাইড্রা (Hydra vulgaris), জেলি ফিস (Aurelia aurita), সী অ্যানিমন (Metridium dianthus), সমুদ্র তাঁরা (Astropecten auranciacus).

(v) গোলীয় প্রতিসম্য (Spherical symmetry)ঃ কোন প্রাণীর দেহকে কেন্দ্র বরাবর বার বার ভাগ করলে প্রতিবারই সমান দু’টি অংশ পাওয়া গেলে তাকে গোলীয় প্রতিসম্য বলে। যেমন- Volvox globactor, Radiolaria (Acrosphaera trepanata), Haliozoa (Gymnosphaera albida) প্রভৃতি।

মেরুদন্ড ।। Vertebral column ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) অমেরুদন্ডী প্রাণী (Invertebrate)ঃ যে সব প্রাণীর দেহে মেরুদন্ড নাই তাদেরকে অমেরুদন্ডী প্রাণী বলে। Protozoa, Metazoa, Porifera, Cnidaria, Platyhelminthes, Nematoda, Mollusca, Annelida, Arthropoda I Echinodermata পর্বের প্রাণীরা অমেরুদন্ডী। যেমন- শামুক (Pila globosa), মাছি (Musca domestica), কেঁচো (Metaphire posthuma) প্রভৃতি।

(ii)  মেরুদন্ডী প্রাণী (Vertebrate)ঃ যে সব প্রাণীর দেহে মেরুদন্ড আছে তাদেরকে মেরুদন্ডী প্রাণী বলে। Chordata পর্বের প্রাণীরা মেরুদন্ডী। যেমন- সিংহ (Panthera leo), বাঘ (Panthera tigris), গোখরা (Naja naja), গরু (Bos indicus) প্রভৃতি।

নটোকর্ড ।। Notochord ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) নন-কর্ডাটা (None chordata) ঃ যে সব প্রাণীদের নটোকর্ড থাকে না তাদেরকে নন-কর্ডাটা বলে। Protozoa, Metazoa, Porifera, Cnidaria, Platyhelminthes, Nematoda, Mollusca, Annelida, Arthropoda I Echinodermata পর্বের প্রাণীরা নন-কর্ডাটা। যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris), তেলাপোকা (Periplaneta americana), ফিতা কৃমি (Taenia solium), শামুক (Pila globosa), সমুদ্রতারা (Asterias rubens) প্রভৃতি।

(ii) কর্ডাটা (Chordata) ঃ যে সব প্রাণীদের দেহে নটোকর্ড থাকে তাদেরকে কর্ডাটা বলে। Chordata পর্বের সকল প্রাণীদের নটোকর্ড থাকে। কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদেরকে তিনটি উপপর্বে ভাগ করা হয়েছে।

  • ইউরোকর্ডাটাঃ ইউরোকর্ডাটাদের শুধুমাত্রা লার্ভা দশায় লেজ অঞ্চলে নটোকর্ড থাকে। যেমন- অ্যাসিডিয়া।
  • সেফালোকর্ডাটাঃ সেফালোকর্ডাটাদের নটোকর্ড মাথার শীর্ষ থেকে পুচ্ছ অঞ্চল পর্যন্ত থাকে। এদের নটোকর্ড সারাজীবন থাকে। যেমন- ব্রাঙ্কিওস্টোমা (Branchiostoma)।
  • ভার্টিব্রাটাঃ ভার্টিব্রাটাদের নটোকর্ড মেরুদন্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। যেমন- অ্যাসিডিয়া।

ভ্রুণস্তর ।। ভ্রুণস্তরের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ ।। Embryo layer ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিষেকের পর জাইগোট ক্লিভেজ (cleavage) প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ব্লাস্টোমিয়ার (blastomere) সৃষ্টি করে। ব্লাস্টোমিয়ার কোষগুলো সজ্জিত হয়ে নিরেট মরুলা (morula) দশা গঠন করে। পরে মরুলা দশার কোষগুলো ফাঁপা ব্লাস্টুলা (blastula) সৃষ্টি করে। ব্লাস্টুলা কোষগুলো দ্বিস্তরী বা ত্রিস্তরী গ্যাস্ট্রুলায় (gastrula) পরিনত হয়।

বিজ্ঞানী Heinz Christian Pander ভ্রুণস্তর আবিষ্কার করেন। ভ্রুণস্তরের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী প্রাণীদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

(i) দ্বিস্তরী  প্রাণী (Diploblastic animal)ঃ যে সব প্রাণীদের ভ্রুণে দুইটি স্তর থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। এদের ভ্রুণে এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামক দুটি স্তর থাকে।  এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝে মেসোগিøয়া নামক অকোষীয় স্তর থাকে।  Cnidaria পর্বের প্রাণীরা দ্বিস্তরী। যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris), জেলি ফিস (Aurelia aurita), ওবেলিয়া (Obelia geniculata) প্রভৃতি।

(ii) ত্রিস্তরী  প্রাণী (Triploblastic animal)ঃ যে সব প্রাণীদের ভ্রুণে তিনটি স্তর থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। বাইরের স্তরটি এক্টোডার্ম, মাঝের স্তরটি মেসোডার্ম এবং ভিতরের স্তরটি এন্ডোডার্ম। Platyhelminthes, Nematoda, Mollusca, Annelida, Arthropoda, Echinodermata ও Chordata পর্বের প্রাণীরা ত্রিস্তরী।

প্রজাতির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও শনাক্তকরণের উপায় ।। Species ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স     

দৈহিক দিক থেকে সর্বাধিক মিল সম্পন্ন এক দল জীব গোষ্ঠি যারা নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম, কিন্তু অন্য গোষ্ঠির সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে অসক্ষম তাদেরকে প্রজাতি বলে। ১৬৮৬ সালে John Ray সর্বপ্রথম Species শব্দটি ব্যবহার করেন।

 

প্রজাতির বৈশিষ্ট্য (Characteristics of species)

১। প্রতিটি প্রজাতির বৈশিষ্ট্য স্বতন্ত্র।

২। প্রজাতি হলো একটি জিন ভান্ডারের আঁধার।

৩। সর্বদা পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হওয়ার চেষ্টা করে।

৪। এরা পরস্পরের মধ্যে জিনের বিনিময় ঘটায়।

৫। এদের নতুন প্রজাতি সৃষ্টির ক্ষমতা আছে।

৬। একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি বৈশিষ্ট্যের মিল থাকে।

৭। একই প্রজাতির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম।

৮। এক প্রজাতির জীব অন্য প্রজাতির জীবের সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে অক্ষম। অস্বাভাবিক যৌন জননে ঘোড়া ও গাধার মিলনে খচ্চর এবং বাঘ ও সিংহের মিলনে লাইগার সৃষ্টি হয়।

৯। একই প্রজাতিভুক্ত বিভিন্ন জীবের মধ্যে বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য থাকলেও তা হবে continuous বা নিরবচ্ছিন্ন।

১০। একটি প্রজাতিভুক্ত জীবসমুহ একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত।

 

প্রজাতি শনাক্তকরণের উপায় (Species identification)

১। অভিন্ন উৎপত্তিঃ একটি প্রজাতির সকল সদস্যরা প্রাকৃতিক ভাবে অভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

২। সুনির্দিষ্ট ও ক্ষুদ্রতম জীবগোষ্ঠীঃ অঙ্গসংস্থানিক ও ক্রোমোসোমীয় বৈশিষ্ট্যের আলোকে প্রজাতি হলো ক্ষুদ্রতম ও সুনির্দিষ্ট জীবগোষ্ঠী।

৩। প্রজনন পদ্ধতিঃ প্রজাতি নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম।

৪। বাস্তুতান্ত্রিক এককঃ প্রত্যেক প্রজাতির সুনির্দিষ্ট বাস্তুতান্ত্রিক নীশ থাকে।

৫। জেনেটিক এককঃ । প্রজাতি হলো একটি জিন ভান্ডারের আঁধার।

প্রজাতি শনাক্তকরণের উপায় ।। Species identification ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। অভিন্ন উৎপত্তিঃ একটি প্রজাতির সকল সদস্যরা প্রাকৃতিক ভাবে অভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

২। সুনির্দিষ্ট ও ক্ষুদ্রতম জীবগোষ্ঠীঃ অঙ্গসংস্থানিক ও ক্রোমোসোমীয় বৈশিষ্ট্যের আলোকে প্রজাতি হলো ক্ষুদ্রতম ও সুনির্দিষ্ট জীবগোষ্ঠী।

৩। প্রজনন পদ্ধতিঃ প্রজাতি নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম।

৪। বাস্তুতান্ত্রিক এককঃ প্রত্যেক প্রজাতির সুনির্দিষ্ট বাস্তুতান্ত্রিক নীশ থাকে।

৫। জেনেটিক এককঃ । প্রজাতি হলো একটি জিন ভান্ডারের আঁধার।

জীববৈচিত্র্যতা ।। জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ ও গুরুত্ব ।। Biodiversity ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ Bios অর্থ জীব বা জীবন এবং diversity অর্থ বৈচিত্র্যতা বা ভিন্নতা নিয়ে Biodiversity শব্দটি গঠিত। জীবের জীবন বৈচিত্র্যময়তাকেই জীববৈচিত্র্যতা বলে। কোন নির্দিষ্ট সময়ে কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসকারী সকল জীবের মধ্যে যে পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি বলে। সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে বিজ্ঞানী Walter G. Rosen জীববৈচিত্র্য বা Biodiversity শব্দটি ব্যবহার করেন। জীববৈচিত্র্যতা তিন প্রকার।

 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetics diversity) ঃ একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে জিনগত জীববৈচিত্র্য বা জেনেটিক ডাইভারসিটি বলে। একে অন্তঃপ্রজাতিক (intraspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। এসব প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে অন্তঃজনন (inbreeding) ঘটে। যে প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বেশি তার অভিযোজন ক্ষমতাও বেশি। জিন রোগের প্রতি সংবেদনশীল হলে তা বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয়। মানুষ একই প্রজাতির (Homo sapien) হওয়া সত্তে¡ও জিনগত কারণে আকার, আকৃতি, গায়ের রং, চুলের বর্ণ প্রভৃতিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। প্রজাতিতে জিনের অ্যালিল ভিন্নতার কারণে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। মিউটেশনের কারণে জিনের নতুন অ্যালিল সৃষ্টি হতে পারে।

 

জিনগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of genetics diversity)

(i) কোনো প্রজাতিতে অধিক পরিমান জিনগত বৈচিত্র্য থাকলে অধিক প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ফলে জীবে পরিবর্তনশীল পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়তা করে।

(ii) জিনগত বৈচিত্র্য জীবদেহে নানা ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্য আনয়ন করে। তাই প্রকৃতিতে টিকে থাকা এবং অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

(iii) জিনগত বৈচিত্র্য বংশগতিয় অনাকাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের পুনঃআবির্ভাব হ্রাস করে।

(iv) কম জিনগত বৈচিত্র্য বিশিষ্ট জীব সর্বদা হুমকিতে থাকে।

(v) জিনগত বৈচিত্র্য পরজীবী, বালাই ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

(vi) জিনগত বৈচিত্র্য প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে। কারণ এতে বেঁেচ থাকার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

 

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity) দুই বা ততোধিক প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য যভ স্পেসিস ডাইভারসিটি বলে। একে আন্তঃপ্রজাতিক (interspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। প্রজাতি বৈচিত্র্যের প্রধান উপাদান দুইটি। প্রজাতি সমৃদ্ধ (species richness) এবং প্রজাতি সমতা (species evenness) প্রজাতি বস্তুতন্ত্রে যে ভূমিকা রাখে তাকে পরিবেশগত কুলুঙ্গি (ecological niche) বলে। যে অঞ্চলে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বেশি সে অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে অঞ্চলে পুষ্টি উপাদান আবহাওয়া অনুক সে অঞ্চলে প্রজাতি বৈচিত্র্য বেশি। যেমনগ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল।

 

প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপ (Measurement of species diversity) প্রজাতি বৈচিত্র্য সূচক দ্বারা প্রাণীর প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপ করা হয়। প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপের সর্বাধিক ব্যবহৃত সূচক হলো সিম্পসন ডাইভাসিটি ইনডেক্স (Simpson’s Diversity Index) একে D = ∑(n/N)2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়। n হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা, N হলো সকল প্রাণী প্রজাতির সমাহার এবং D  হলো প্রাণী বৈচিত্র্যের মান। D এর মান পর্যন্ত। কোনো স্থানে D এর মান যত বেশি হবে প্রাণী বৈচিত্র্য তত বেশি হবে। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানী নরম্যান মায়ার (Norman Myer, 1990) পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য বিশিষ্ট এলাকাকে হট স্পট নামে অভিহিত করেন।

 

প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of species diversity)

(i) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রে শক্তি আহরণ সঞ্চয়, জৈববস্তু উৎপাদন বিয়োজন এবং পানি পুষ্টি উপাদানের আবর্তন ঘটায়।

(ii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

(iii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ভূমিক্ষয়রোধ বালাই নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বায়ুমন্ডলে গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity) বিভিন্ন ধরনের জীবের মধ্যে যে পরিবেশ বা বাস্তুসংস্থানিক  পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে পরিবেশগত বৈচিত্র্য বা ইকোসিস্টেম ডাইভারসিটি বলে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভৌত, জৈব রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তন ঘটলে বাস্তুতাস্ত্রিক বৈচিত্র্যের উদ্ভব ঘটে। যেমনমরু বায়োম, বনভুমির বায়োম, তৃণভুমির বায়োম, তুন্দ্রা বায়োম প্রভৃতি।

 বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of species diversity)

(i) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বর্জ্য পদার্থের বিয়োজন ঘটায় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

(ii) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য উদ্ভিদের পরাগায়ন শিকারশিকারী নিয়ন্ত্রণ করে।

(iii) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য উৎপাদনশীলতা এবং পীড়ন বা চাপ সহনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য জীবজগতের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যোগান দেয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব ।। Ecosystem diversity ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

বিভিন্ন ধরনের জীবের মধ্যে যে পরিবেশ বা বাস্তুসংস্থানিক  পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে পরিবেশগত বৈচিত্র্য বা ইকোসিস্টেম ডাইভারসিটি বলে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভৌত, জৈব রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তন ঘটলে বাস্তুতাস্ত্রিক বৈচিত্র্যের উদ্ভব ঘটে। যেমনমরু বায়োম, বনভুমির বায়োম, তৃণভুমির বায়োম, তুন্দ্রা বায়োম প্রভৃতি।

 

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of species diversity)

(i) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বর্জ্য পদার্থের বিয়োজন ঘটায় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

(ii) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য উদ্ভিদের পরাগায়ন শিকারশিকারী নিয়ন্ত্রণ করে।

(iii) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য উৎপাদনশীলতা এবং পীড়ন বা চাপ সহনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য জীবজগতের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যোগান দেয়।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের সংজ্ঞা, পরিমাপ ওগুরুত্ব ।। Species diversity।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

দুই বা ততোধিক প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য যভ স্পেসিস ডাইভারসিটি বলে। একে আন্তঃপ্রজাতিক (interspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। প্রজাতি বৈচিত্র্যের প্রধান উপাদান দুইটি। প্রজাতি সমৃদ্ধ (species richness) এবং প্রজাতি সমতা (species evenness) প্রজাতি বস্তুতন্ত্রে যে ভূমিকা রাখে তাকে পরিবেশগত কুলুঙ্গি (ecological niche) বলে। যে অঞ্চলে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বেশি সে অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে অঞ্চলে পুষ্টি উপাদান আবহাওয়া অনুক সে অঞ্চলে প্রজাতি বৈচিত্র্য বেশি। যেমনগ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল।

 

প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপ (Measurement of species diversity

প্রজাতি বৈচিত্র্য সূচক দ্বারা প্রাণীর প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপ করা হয়। প্রজাতি বৈচিত্র্য পরিমাপের সর্বাধিক ব্যবহৃত সূচক হলো সিম্পসন ডাইভাসিটি ইনডেক্স (Simpson’s Diversity Index) একে D = ∑(n/N)2 দ্বারা প্রকাশ করা হয়। n হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা, N হলো সকল প্রাণী প্রজাতির সমাহার এবং D  হলো প্রাণী বৈচিত্র্যের মান। D এর মান পর্যন্ত। কোনো স্থানে D এর মান যত বেশি হবে প্রাণী বৈচিত্র্য তত বেশি হবে। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানী নরম্যান মায়ার (Norman Myer, 1990) পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য বিশিষ্ট এলাকাকে হট স্পট নামে অভিহিত করেন।

 

প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of species diversity)

(i) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রে শক্তি আহরণ সঞ্চয়, জৈববস্তু উৎপাদন বিয়োজন এবং পানি পুষ্টি উপাদানের আবর্তন ঘটায়।

(ii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

(iii) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ভূমিক্ষয়রোধ বালাই নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বায়ুমন্ডলে গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

জিনগত বৈচিত্র্যের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব ।। Genetics diversity ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে জিনগত জীববৈচিত্র্য বা জেনেটিক ডাইভারসিটি বলে। একে অন্তঃপ্রজাতিক (intraspesific) বৈচিত্র্যও বলা হয়। এসব প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে অন্তঃজনন (inbreeding) ঘটে। যে প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্য বেশি তার অভিযোজন ক্ষমতাও বেশি। জিন রোগের প্রতি সংবেদনশীল হলে তা বংশ পরস্পরায় সঞ্চারিত হয়। মানুষ একই প্রজাতির (Homo sapien) হওয়া সত্তে¡ও জিনগত কারণে আকার, আকৃতি, গায়ের রং, চুলের বর্ণ প্রভৃতিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। প্রজাতিতে জিনের অ্যালিল ভিন্নতার কারণে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। মিউটেশনের কারণে জিনের নতুন অ্যালিল সৃষ্টি হতে পারে।

 

জিনগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব (Importance of genetics diversity)

(i) কোনো প্রজাতিতে অধিক পরিমান জিনগত বৈচিত্র্য থাকলে অধিক প্রকরণ সৃষ্টি হয়। ফলে জীবে পরিবর্তনশীল পরিবেশে টিকে থাকতে সহায়তা করে।

(ii) জিনগত বৈচিত্র্য জীবদেহে নানা ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্য আনয়ন করে। তাই প্রকৃতিতে টিকে থাকা এবং অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

(iii) জিনগত বৈচিত্র্য বংশগতিয় অনাকাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের পুনঃআবির্ভাব হ্রাস করে।

(iv) কম জিনগত বৈচিত্র্য বিশিষ্ট জীব সর্বদা হুমকিতে থাকে।

(v) জিনগত বৈচিত্র্য পরজীবী, বালাই ও রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

(vi) জিনগত বৈচিত্র্য প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে। কারণ এতে বেঁেচ থাকার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।