DNA এর রেপ্লিকেশন কী । DNA এর রেপ্লিকেশন এর প্রকারভেদ । Replication of DNA । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় একটি ডবল হেলিক্স DNA হতে হুবহু একই প্রকৃতির দু’টি নতুন DNA তৈরী হয় তাকে DNA রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন বলে। ব্যাকটেরিয়ার বৃত্তাকার DNA অণুতে প্রতিলিপনে মিনিটে ১০ লক্ষ বেসপেয়ার যুক্ত হতে পারে। প্রকৃত কোষের লম্বা উঘঅ অণুতে প্রতিলিপনে মিনিটে ৫০০-৫০০০ বেসপেয়ার যুক্ত হতে পারে। প্রকৃত কোষের DNA এর কোন প্রান্তেই অনুলিপন শুরু হয় না।
১৯৫৬ সালে লেভিয়েন্থান এবং ক্রেন DNA অণুর রেপ্লিকেশন সম্পর্কে তিনটি অনুকল্প প্রস্তাব করেন। এগুলো হলো-সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া, বিচ্ছুরণশীল প্রক্রিয়া ও অর্ধসংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া।
১। সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া (Conservative hypothesis)ঃ সংরক্ষণশীল প্রক্রিয়ায় DNA এর সূত্র দু’টি পৃথক হয়ে যায়। প্রতিটি সূত্র ছাঁচ হিসেবে কাজ করে এবং নতুন সূত্র সৃষ্টি করে। এরপর পুরাতন সূত্র দু’টি একত্রে এবং নতুন সূত্র দু’টি একত্রে অবস্থান করে। ফলে দুইটি DNA সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ একটি DNA এর দু’টি সূত্রই পুরাতন এবং অপর DNA এর দু’টি সূত্রই নতুন।
২। বিচ্ছুরণশীল প্রক্রিয়া (Dispersive hypothesis)ঃ বিচ্ছুরণশীল প্রক্রিয়ায় DNA এর সূত্র দু’টি খন্ডিত হয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন পরিমাণে পুরাতন ও নতুন খন্ডক গুলো সংযুক্ত হয়ে দু’টি DNA অণু সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াটি গ্রহণযোগ্য নয়।
৩। অর্ধসংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া (Semiconservative hypothesis)ঃ যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃ DNA থেকে দুইটি নতুন DNA সৃষ্টি হয় এবং নতুন DNA দু’টির প্রত্যেকটিতে একটি মাতৃসূত্র এবং একটি নতুন সূত্র থাকে তাকে অর্ধসংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া বলে। ১৯৫৭ সালে বিজ্ঞানী স্টেন্ট সর্বপ্রথম অর্ধসংরক্ষণশীল শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৯৫৮ সালে মেসেলসন-স্টাহল (Mathew Meselson & Franklin Stahl) E. coli ব্যাকটেরিয়াতে অর্ধসংরক্ষণশীল অনুকল্পটি প্রমাণ করেন। ১৯৬০ সালে হার্বাট টেইলর (Herbert Taylor) শিম গাছের মূলের কোষ পরীক্ষা করে অর্ধসংরক্ষণশীল রেপ্লিকেশন প্রমাণ করেন। ১৯৬০ সালে বিজ্ঞানী সুয়েকা মানব হেলা কোষে অর্ধসংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া প্রমাণ করেন। ১৯৬১ সালে বিজ্ঞানী সাইমন (Symon) Chlamydomonas শৈবালে অর্ধসংরক্ষণশীল প্রক্রিয়া প্রমাণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *