১। শক্তির উৎসঃ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত করে। রাসায়ানিক
শক্তিকে ব্যবহার করে শর্করা উৎপন্ন করে। এই শর্করা পরে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রাণীদেহে আসে। এ কারণে শর্করাকে জীবদেহের জ্বালানী (Bio-fuel) বলে। ড. আবু বকর সিদ্দিক
২। সঞ্চিত খাদ্য
(i) উদ্ভিদদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য হলো স্টার্চ। উদ্ভিদের বীজ, ফল ও কন্দে কার্বোহাইড্রেট স্টার্চ রুপে জমা থাকে।
(ii) সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ, র্যাফিনোজ প্রভৃতি উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।
(iv) সকল প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের কোষে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।
(v) প্রাণীদেহে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্লাইকোজেন হিসেবে যকৃত ও পেশিতে সঞ্চিত থাকে।
(vi) পিঁয়াজ, রসুন ও ডালিয়ায় কার্বোহাইড্রেট ইনুলিন রুপে জমা থাকে।
৩। গাঠনিক উপাদান
(i) উদ্ভিদদেহের শুষ্ক ওজনের ৫০-৮০% শর্করা। ইহা উদ্ভিদদেহ গঠনের প্রধান উপাদান।
(ii) সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিক এসিড প্রভৃতি উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর গঠন করে।
(iii) কাইটিন ছত্রাকের কোষ প্রাচীর ও সন্ধিপদী প্রাণীদের দেহপ্রাচীর গঠন করে।
(iv) পেপটাইডোগ্লাইকেন ব্যাকটেরিয়া ও সায়ানোব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর গঠন করে।
৪। জৈব যৌগ গঠনঃ পেন্টোজ শ্যুগার DNA, RNA, ATP, ADP, NAD, NADP, FAD, GTP, GDP প্রভৃতি জৈব অণুর গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। ড. আবু বকর সিদ্দিক
৫। শিল্পক্ষেত্রেঃ কাগজ ও বস্ত্রশিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পের কাঁচামাল তৈরীতে শর্করা ব্যবহার হয়।
৬। মৌলিক চাহিদা পূরণঃ মানুষের খাদ্য, বস্তু, চিকিৎসা, আশ্রয় প্রভৃতি মৌলিক চাহিদা পূরণে ইহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭। দেহের দৃঢ়তা প্রদানঃ জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান হলো শর্করা। জাইলেম উদ্ভিদ দেহের দৃঢ়তা প্রদান করে। এ কারণে উদ্ভিদ ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙ্গে যায় না। সেলুলোজ উদ্ভিদকে দৃঢ়তা ও সুরক্ষা দান করে এবং ভার বহন করে।
৮। বিপাক ক্রিয়াঃ শর্করা দেহে অ্যামাইনো এসিড ও ফ্যাটি এসিড বিপাকে সাহায্য করে। ইহা পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। কার্বোহাইড্রেটের অনুপস্থিতিতে ফ্যাটি অক্সিডেশন ঘটে না।
৯। লুব্রিকেন্ট হিসেবেঃ হাড়ের সন্ধিস্থলে হায়ালোরনিক এসিড পিচ্ছিল পদার্থ বা লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার হয়।
১০। রক্ত জমাট প্রতিরোধকঃ হেপারিন হলো একটি পলিস্যাকারাইড। হেপারিন দেহে অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। ইহা রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে। তাই রক্তনালির ভিতরে রক্ত চলাচল করতে পারে।
১১। বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনঃ আঁশ জাতীয় কার্বোহাইড্রেট শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে। মল নিষ‹াশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড. আবু বকর সিদ্দিক
১২। মস্তিস্কের কার্য নিয়ন্ত্রণঃ কার্বোহাইড্রেট মস্তিষ্কের চিন্তা, কাজের পদক্ষেপ ও কাজ করার শক্তি দান করে।
১৩। নিউক্লিক এসিডঃ রাইবোজ এবং ডিঅক্সিরাইবোজ হলো পেন্টোজ শ্যুগার। পেন্টোজ শ্যুগার DNA ও RNA গঠন করে।
১৪। গ্লাইকোক্যালিক্স গঠনঃ কার্বোহাইড্রেট প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে গঠন করে গ্লাইকোপ্রোটিন এবং লিপিডের সাথে যুক্ত হয়ে গঠন করে গ্লাইকোলিপিড। গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিডকে একত্রে গ্লাইকোক্যালিক্স বলে।
১৫। অ্যান্টিজেন তৈরীঃ মানুষের রক্ত গ্রুপের বিভিন্ন অ্যান্টিজেন কার্বোহাইড্রেট থেকে উৎপন্ন হয়। অ্যান্টিজেন গ্লাইকোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত বলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ড. আবু বকর সিদ্দিক
১৬। জৈব জ্বালানীঃ জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট। ইহা দেহে বায়ো-ফুয়েল বা জৈব জ¦ালানী হিসেবে কাজ করে। সবাত শ^সনে কার্বোহাইড্রেট অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে পানি ও CO2 সৃষ্টি করে। এতে কোষে শক্তি সরবরাহ হয়। দেহের ৫০-৮০% শক্তির উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট। এই শক্তির পরিমাণ 4.1 Kcal/gm।
১৭। কো-এনজাইমঃ ATP, FAD, NAD, NADP প্রভৃতি কো-এনজাইমের গাঠনিক অংশ হিসেবে অবস্থান করে।
১৮। দেহ গঠন ও মেরামতঃ কার্বোহাইড্রেট দেহে বাড়তি প্রোটিনের যোগান দেয়। বাড়তি প্রোটিন জীবের দেহ গঠন ও মেরামত করে।
১৯। হরমোন ও প্রজননঃ Follicular stimulating hormone (FSH) এবং Leutinizing hormone (LH) গ্লাইকোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত হয়। ইহা প্রাণীর প্রজননে অংশ গ্রহণ করে।
২০। ফ্যাটি অক্সিডেশনঃ জীবদেহের জন্য ফ্যাটি অক্সিডেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাটি অক্সিডেশনের জন্য কার্বোহাইড্রেট অপরিহার্য।
২১। পেরিস্ট্যালসিসঃ পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যের চলনকে পেরিস্ট্যালসিস বলে। সেলুলোজ বা আঁশ জাতীয় খাদ্য পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে। ড. আবু বকর সিদ্দিক