সেলোবায়োজ ।। Cellobiose

সেলোবায়োজ একটি ডাইস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এর আণবিক সংকেত C12H22O11। সেলুলোজ বা লিগনিন-এর আংশিক ভাঙ্গনের ফলে সেলোবায়োজ তৈরী হয়। দুই অণু গ্লুকোজ β-1, 4 লিংকেজ দিয়ে সংযুক্ত হয়ে সেলোবায়োজ গঠন করে। ইমালসিন এনজাইম ও এসিডের প্রভাবে সেলোবায়োজ ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিনত হয়। ব্রোমিন পানি দিয়ে সেলোবায়োজকে জারিত করলে সেলোবায়োনিক এসিড উৎপন্ন হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কাজঃ সেলোবায়োজ কোষ প্রাচীরের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

ল্যাক্টোজ ।। Lactose

ল্যাক্টোজ হলো একটি ডাইস্যাকারাইড। এর আণবিক সংকেত C12H22O11। দুধে ২-৪% ল্যাক্টোজ থাকে। এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু গ্যালাক্টোজ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে ল্যাক্টোজ গঠন করে। ল্যাকটেজ এনজাইম ল্যাক্টোজকে ভেঙ্গে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে পরিনত করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সুক্রোজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, গঠন ও ব্যবহার ।। Sucrose

ল্যাটিন শব্দ Sucrose অর্থ Sugar বা চিনি। সুক্রোজ একটি ডাইস্যাকারাইড। ইহা একটি নন-রিডিউসিং শ্যুগার। সুক্রোজকে চিনি বা ইক্ষু চিনি বা বিট চিনি বলা হয়। আখ, বীট, গাজর, ফুলের নেকটার, আনারস প্রভৃতিতে সুক্রোজ থাকে। মধুর প্রধান কাঁচামাল হলো সুক্রোজ। আখে ১৫% সুক্রোজ থাকে। ইহা গ্লুকোজের চেয়ে দ্বিগুণ মিষ্টি। উদ্ভিদের পাতায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বোহাইড্রেট উৎপন্ন হয় এবং তা সুক্রোজ হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গে পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ সুক্রোজ সারা উদ্ভিদ দেহে ট্রান্সপোর্ট হয়। চিনি একটি সুক্রোজ। চিনিকে বিশ্লেষণ করলে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ উৎপন্ন হয়। প্রতি বছর বিশে^ প্রায় ১৭০ মিলিয়ন টন চিনি উৎপাদিত হয়। ইংরেজ রসায়নবিদ উইলিয়াম মিলার (William Miller, 1857) sucrose শব্দটি ব্যবহার করেন।

 

সুক্রোজের রাসায়নিক গঠন

সুক্রোজ একটি ডাইস্যাকারাইড এবং এর আণবিক সংকেত C12H24O11। গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ মিলে সুক্রোজ অণু গঠন করে। α-D গ্লুকোজের ১নং কার্বনের -OH গ্রুপ এবং β-D গ্লুকোজের ২নং কার্বনের OH গ্রুপ মিলে গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী গঠন করে। গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী তৈরী হওয়ার সময় এক অণু পানি বের হয়ে যায়। ফলে অ্যালডিহাইড ও কিটোন গ্রুপ নষ্ট হয়ে যায়। তাই গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ রিডিউসিং শ্যুগার হলেও সুক্রোজ নন-রিডিউসিং শ্যুগার।

 

সুক্রোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম

(i) সুক্রোজ সাদা দানাদার কঠিন পদার্থ।

(ii) ইহা পানিতে দ্রবণীয়, কিন্তু বিশুদ্ধ অ্যালকোহল ও ইথারে অদ্রবণীয়।

(iii) এটি স্বাদে গ্লুকোজের চেয়ে দ্বিগুণ মিষ্টি।

(iv) এর গলনাঙ্ক ১৮৮ ডিগ্রী সে.।

(v) একে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায়।

(vi) ইহা একটি বিজারক শর্করা।

(vii) ইহা একটি নন-রিডিউসিং শ্যুগার।

 

সুক্রোজের ব্যবহার

(i) মিষ্টি হিসেবেঃ সুমিষ্টি খাদ্য তৈরীতে সুক্রোজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়।

(ii) শক্তি উৎপন্নঃ শ্বসনের উপাদান হিসেবে ইহা শক্তি উৎপন্ন করে।

(iii) সাবান তৈরীঃ ইহা স্বচ্ছ সাবান তৈরীতে ব্যবহার হয়।

(iv) বাণিজ্যিক ব্যবহারঃ বাণিজ্যিক ভাবে গ্লুকোজ ও অক্সালিক এসিড তৈরীতে সুক্রোজ ব্যবহার হয়।

(v) পলিস্যাকারাইড গঠনঃ ইহা পলিস্যাকারাইড তৈরীতে সাহায্য করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(vi) সঞ্চিত শক্তিঃ সুক্রোজ উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত শক্তির আধার হিসেবে কাজ করে।

(vii) টোপ হিসেবেঃ মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়াসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক পতঙ্গ সুক্রোজ দ্বারা আকৃষ্ট হয়। এদের মারার বিষ টোপ হিসেবে সুক্রোজ ব্যবহার হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(viii) এসিড তৈরীঃ অক্সালিক এসিড তৈরীতে সুক্রোজ ব্যবহার হয়।

(ix) মধু উৎপাদনঃ মধুর প্রধান কাঁচামাল হলো সুক্রোজ।

(x) সংরক্ষক দ্রব্য হিসেবেঃ সুক্রোজ হলো একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষক। ইহা খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে ব্যবহার হয়।

(xi) গাঁজন প্রক্রিয়াঃ সুক্রোজ ছত্রাকের প্রধান খাদ্য। ছত্রাক গাঁজন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এ কারণে গাঁজন প্রক্রিয়ায় কাঁচামালের সাথে চিনি ব্যবহার হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(xii) উদ্যান পালনেঃ সুক্রোজ মাটিতে নেমাটোড কৃমির জন্য অনাতিথেয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই বাগানের মাটিতে সুক্রোজ ব্যবহার করা হয়।

গ্যালাক্টোজ ।। Galactose

গ্যালাক্টোজ একটি মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি অ্যালডোহেক্সোজ শ্যুগার। এটি গ্লুকোজের C-2 ইপিমার। গ্যালাক্টোজের আণবিক সংকেত C6H12O6। ইহা কালচার মিডিয়া তৈরীতে ব্যবহার হয়।

ম্যানোজ ।। Mannose

ম্যানোজ একটি মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি অ্যালডোহেক্সোজ শ্যুগার। এটি গ্লুকোজের C-2 ইপিমার। ম্যানোজের আণবিক সংকেত C5H10O5। ইহা মানবদেহে বিপাকীয় কাজ করে। ইহা প্রোটিনের গ্লাইকোসাইলেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আপেক্ষিক মিষ্টতা

আপেক্ষিক মিষ্টতা

ল্যাক্টোজ-১৬, মল্টোজ-৩২, গ্লুকোজ-৭৪, সুক্রোজ-১০০, ফ্রুক্টোজ-১৭৩, স্যাকারিন-৫০০, মন্যালেলিন-২০০০। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পাইরানোজ ।। ফিউরানোজ

* পাইরানোজঃ পাইরানোজ ষড়ভূজাকৃতির এবং এর বলয়ে ৫টি কার্বন ও ১টি অক্সিজেন থাকে।

* ফিউরানোজঃ ফিউরানোজ পঞ্চভূজাকৃতির এবং এর বলয়ে ৪টি কার্বন ও ১টি অক্সিজেন থাকে।

ফ্রুক্টোজ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেন

মানুষের যকৃত কোষে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ফ্রুক্টোজ বিপাক হয়। উচ্চ ক্যালরী যুক্ত এবং উচ্চ ফ্রুক্টোজ যুক্ত খাবার গ্রহণ করলে যকৃত সকল ফ্রুক্টোজকে বিপাক করতে পারে না। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ চর্বিতে রুপান্তরিত হয় এবং জমা থাকে। সঞ্চিত চর্বি মানুষের স্থুলতা, ডায়াবেটিস টাইপ-২, ক্যান্সার, হৃৎরোগ প্রভৃতি সৃষ্টি করে। তাই ফ্রুক্টোজ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ফ্রুক্টোজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, শ্রেণীবিভাগ ও ব্যবহার ।। Fuctose

ফ্রুক্টোজ হলো ছয় কার্বনবিশিষ্ট একটি মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এতে একটি কিটো গ্রুপ থাকে বলে একে কিটোহেক্সোজ বলে। ফ্রুক্টোজ সর্বপ্রথম ফল বা Fruit থেকে শনাক্ত করা হয়েছিল বলে এরুপ নামকরণ করা হয়েছে। আখ, বীট, পাঁকা ফল, নেকটার এবং মধুতে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। পাঁকা ফলে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে বলে একে Fruit sugar বা ফলের শর্করা বা লেভুলোজ বলা হয়। এর আপেক্ষিক মিষ্টতা ১৭৩। উদ্ভিদদেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। ১৮৪৭ সালে Augustin Pierre Dubrunfaut ইহা আবিষ্কার করেন। বিশ্বে প্রতিবছর ২,৪০,০০০ টন ফ্রুক্টোজ উৎপাদন করা হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

ফ্রুক্টোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম

(i) ফ্রুক্টোজ একটি সরল শর্করা।

(ii) ইহা সাদা দানাদার পদার্থ।

(iii) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।

(iv) ইহা পানিতে দ্রবণীয়।

(v) ইহা গরম অ্যালকোহলে দ্রবণীয়।

(vi) এতে কিটো গ্রুপ থাকে।

(vii) একে কিটোজ সুগার বলা হয়।

(viii) ইহা একটি বিজারক শর্করা।

 

ফ্রুক্টোজের ব্যবহার

(i) মিষ্টি তৈরীতে ফ্রুক্টোজ ব্যবহার হয়।

(ii) বেভারেজ, কেক, জুস প্রভৃতি তৈরীতে ব্যবহার হয়।

(iii) ইহা শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

(iv) ইহা অসুস্থ মানুষের উপাদেয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।

(v) ডায়াবেটিস রোগীর ইক্ষু শর্করার বিকল্প হিসেবে ফ্রুক্টোজ ব্যবহার হয়।

(vi) ইহা ফসফোরিক এসিডের সাথে যুক্ত হয়ে এস্টার গঠন করে।

(vii) ইহা কালচার মিডিয়াম তৈরীতে ব্যবহার হয়।

(viii) পুরুষের বীর্যে ফ্রুক্টোজ থাকে। তাই মাহিলাদের জননাঙ্গে ফ্রক্টোজের উপস্থিতি পরীক্ষা করে যৌন হয়রানি প্রমাণ করা যায়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

ফ্রুক্টোজের রাসায়নিক গঠন

ফ্রুক্টোজ হলো ছয় কার্বন বিশিষ্ট একটি রাসায়নিক যৌগ এবং এর আণবিক সংকেত C6H12O6। -OH গ্রুপের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ফ্রুক্টোজ দুই ধরনের হতে পারে। এ গুলো হলো D ও L ফ্রুক্টোজ। ফ্রুক্টোজের ৫নং কার্বনের -OH গ্রুপটি ডান দিকে থাকলে তাকে dextrorotatory বা D ফ্রুক্টোজ এবং ফ্রুক্টোজের ৫নং কার্বনের -OH গ্রুপটি বাম দিকে থাকলে তাকে Laevorotatory বা L ফ্রুক্টোজ বলে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্লুকোজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম, শ্রেণীবিভাগ ও ব্যবহার ।। Glucose

গ্লুকোজ হলো ছয় কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এর আণবিক সংকেত । এতে অ্যালডিহাইড মূলক থাকায় একে অ্যালডোহেক্সোজ বলে। পাঁকা ফল এবং মধুতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। পাকা ফলে ১২-৩০% গ্লুকোজ থাকে বলে একে গ্রেইপ শ্যুগার বা আঙ্গুরের শর্করা বলা হয়। একে ডেক্সট্রোজ, কর্ন শ্যুগার, গ্রেপ শ্যুগার, রক্ত শর্করা ও D-গ্লুকোজ নামে অভিহিত করা হয়। এর আপেক্ষিক মিষ্টতা ৭৪। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। তবে উদ্ভিদদেহে শর্করা কখনো জমা থাকে না। ইহা শ্বসনের প্রাথমিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

 

গ্লুকোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম

(i) গ্লুকোজ একটি সরল শর্করা।

(ii) ইহা সাদা দানাদার পদার্থ।

(iii) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।

(iv) ইহা পানিতে দ্রবণীয়।

(v) ইহা অ্যালকোহলে সামান্য দ্রবণীয়, কিন্তু ইথারে অদ্রবণীয়।

(vi) এতে অ্যালডিহাইড গ্রুপ থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(vii) একে অ্যালডোজ সুগার বলা হয়।

(viii) ইহা একটি বিজারক শর্করা।

(ix) প্রাণীদেহে গ্লুকোজ প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে।

(x) ইহা ফসফোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এস্টার গঠন করে।

(xi) এর গলনাঙ্ক ১৪৬ ডিগ্রী সে. (α- D গ্লুকোজ) এবং ১৫০ ডিগ্রী সে. (β- D গ্লুকোজ)।

 

বিভিন্ন ধরনের গ্লুকোজ

(i) D গ্লুকোজ (Dextrorotatory)ঃ গ্লুকোজের ৫নং কার্বনের ডান দিকে হাইড্রোক্সিল  (OH) মূলক যুক্ত  থাকলে

তাকে dextrorotatory বা D গ্লুকোজ বলে। এর ঘূর্ণনের দিক কাইরাল কেন্দ্রের ডানে। ইহা আলোক সক্রিয়ক। প্রাকৃতিক সকল গ্লুকোজই D গ্লুকোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(ii) L গ্লুকোজ (Laevorotatory)ঃ গ্লুকোজের ৫নং কার্বনের বাম দিকে হাইড্রোক্সিল (OH) মূলক যুক্ত থাকলে তাকে Laevorotatory বা L গ্লুকোজ বলে। এর ঘূর্ণনের দিক কাইরাল কেন্দ্রের বামে। ইহা আলোক সক্রিয়ক। ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং এন্ডোস্কোপির কাজে ব্যবহারের জন্য L গ্লুকোজ কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা হয়। (যে কেন্দ্র বরাবর কার্বন অণুগুলো পরস্পর যুক্ত থাকে তাকে কাইরাল কেন্দ্র বলে)। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iii) α- D গ্লুকোজ এবং β- D গ্লুকোজঃ গ্লুকোজের ১নং কার্বন ৫নং কার্বনের নিকটে আসলে একটি অক্সিজেন সেতু তৈরী হয়। ফলে একটি রিং স্ট্রাকচার সৃষ্টি হয়। রিং স্ট্রাকচারের কারণে একটি -OH গ্রুপ উৎপন্ন হয়। -OH গ্রুপটি গ্লুকোজের ১নং কার্বনের নিচের দিকে থাকলে তাকে α- D গ্লুকোজ এবং গ্লুকোজের ১নং কার্বনের উপরের দিকে থাকলে তাকে β- D গ্লুকোজ বলে। α-গ্লুকোজ গঠন করে স্টার্চ এবং β-গ্লুকোজ গঠন করে সেলুলোজ। উদ্ভিদ দেহে সব সময়ই D গ্লুকোজ থাকে।

 

গ্লুকোজের ব্যবহার

(i) গ্লুকোজ রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। দ্রæত রোগীর শক্তি যোগায়।

(ii) ইহা ফল সংরক্ষণে ব্যবহার হয়। ফলের পচনরোধ করে।

(iii) রিচস্টিন প্রক্রিয়ায় জীবাণু থেকে ভিটামিন সি তৈরীতে D-গ্লুকোজ ব্যবহার হয়।

(iv) ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ওষুধ তৈরীতে গ্লুকোজ ব্যবহার হয়।

(v) জীবদেহে কার্বোহাইড্রেট বিপাকে এর ভুমিকা রয়েছে।

(vi) সাইট্রিক এসিড, গ্লুকোনিক এসিড,বায়ো-ইথানল, সারবিটাল প্রভৃতি তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়।

(vii) ইহা অসুস্থ মানুষের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(viii) গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিড তৈরী হয়।

(ix) গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ব্যবহার হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।