হৃৎপেশীর গঠন । Cardiac muscle

হৃৎপেশীর কোষ গুলো দেখতে লম্বা, নলাকার শাখান্বিত। এর দৈর্ঘ্য . মিমি এবং ব্যাস ১২১৫ মাইক্রোমিটার।

১। সারকোলেমাঃ ইহা সারকোলেমা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

২। সারকোপ্লাজমঃ পেশির সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। এতে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে।

৩। নিউক্লিয়াসঃ প্রতিটি কোষের কেন্দ্রভাগে একটি নিউক্লিয়াস। ইহা কোষের জৈবিক কাজ করে।

৪। মায়োফাইব্রিলঃ কোষের দৈর্ঘ্য বরাবর মায়োফাইব্রিল তন্তু থাকে। মায়োফাইব্রিলের গায়ে ডোরাকাটা দাগ থাকে।

৫। ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কঃ পাশাপাশি অবস্থিত দুটি সারকোলেমা মিলিত হয়ে একটি ডিস্ক গঠন করে। এক ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক বলে। ইহা হৃৎপেশির অন্যতম শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।

হৃৎপেশী বা কার্ডিয়াক পেশী কী । Cardiac muscle

যে পেশী হৃৎপিন্ডের প্রাচীর গঠন করে তাকে হৃৎপেশী বা কার্ডিয়াক পেশী বলে। ইহা এক ধরনের অনৈচ্ছিক পেশী। হৃৎপেশির মধ্যবর্তী স্থানে অ্যারিওলার যোজক কলা থাকে। ইহা কখনো অবসাদগ্রস্থ হয় না।

অনৈচ্ছিক পেশির কাজ/গুরুত্ব/ভূমিকা

১। এই পেশির সঙ্কোচনপ্রসারণ ক্ষমতা ধীর এবং দীর্ঘ স্থায়ী।

২। ইহা অঙ্গের ছন্দময় ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

৩। ইহা পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তুর যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে।

৪। রক্তনালি, শ্বাসনালি, রেচননালি প্রভৃতির সঙ্কোচনপ্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে।

অনৈচ্ছিক পেশির অবস্থান । Involuntary muscle

অনৈচ্ছিক পেশি পৌষ্টিকনালী, রক্তনালী, শ্বাসনালী, মূত্রনালী, জরায়ু প্রভৃতি স্থানে থাকে।

অনৈচ্ছিক পেশীর গঠন । Involuntary muscle

অনৈচ্ছিক পেশি দেখতে মাকু আকৃতির। অর্থাৎ এর মধ্যভাগ চওড়া এবং উভয় প্রান্ত সরু। এর দৈর্ঘ্য ১৫-২০০ মাইক্রোমিটার এবং ব্যাস ৮-১০ মাইক্রোমিটার।
১। সারকোলেমাঃ পেশির আবরণীকে সারকোলেমা বলে। অনৈচ্ছিক পেশিতে সারকোলেমা অস্পষ্ট।
২। সারকোপ্লাজমঃ পেশির সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। সাইকোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। এর সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। প্রতিটি কোষে একটি করে নিউক্লিয়াস এবং অসংখ্য মায়োফাইব্রিল নামক তন্তু থাকে।
৩। নিউক্লিয়াসঃ প্রতিটি পেশিকোষে একটি নিউক্লিয়াস। ইহা কোষের জৈবিক কাজ করে।
৪। মায়োফাইব্রিলঃ কোষের দৈর্ঘ্য বরাবর মায়োফাইব্রিল তন্তু থাকে। মায়োফাইব্রিল তন্তুগুলো অ্যাকটিন ও মায়োসিন ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত। অ্যাকটিন ও মায়োসিন ফিলামেন্ট গুলোকে একত্রে সারকোমিয়ার বলে।

অনৈচ্ছিক পেশি কী । Involuntary muscle কী

যে পেশীর কার্যাবলী প্রাণীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয় না তাকে অনৈচ্ছিক পেশী বলে। ইহা বিভিন্ন অঙ্গের (নাড়ীভূঁড়ি) প্রাচীরে থাকে বলে এদেরকে ভিসেরাল পেশীও বলা হয়।

ঐচ্ছিক পেশির কাজ/গুরুত্ব/ভূমিকা

১। মানুষের চলন এই পেশির মাধ্যমে হয়।

২। সংকোচনপ্রসারণের মাধ্যমে দেহের অঙ্গকে পরিচালনা করে।

৩। দেহের ভঙ্গিমা পেশি টান নিয়ন্ত্রণ করে।

৪। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ঐচ্ছিক পেশীর গঠন । Voluntary muscle

ইহা লম্বা নলাকার পেশী। এর দৈর্ঘ্য সেমি এবং ব্যাস ১০৪০ মাইক্রোমিটার। কোষ গুলোকে সুক্ষ্ম তন্তুর মতো মনে হয় বলে একে পেশীতন্তু নামেও আখ্যায়িত করা হয়।

১। সারকোলেমাঃ পেশী কলা সারকোলেমা নামক আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।

২। সারকোপ্লাজমঃ এর সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। সাইকোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। কারণ এসব কোষে প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়।

৩। নিউক্লিয়াসঃ প্রতিটি পেশিকোষে একাধিক নিউক্লিয়াস। ইহা কোষের জৈবিক কাজ করে।

৪। মায়োফাইব্রিলঃ কোষের দৈর্ঘ্য বরাবর মায়োফাইব্রিল তন্তু থাকে। মায়োফাইব্রিল তন্তুগুলো অ্যাকটিন মায়োসিন ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত। অ্যাকটিন মায়োসিন ফিলামেন্ট গুলোকে একত্রে সারকোমিয়ার বলে।  মায়োফাইব্রিলে দুই ধরনের রেখা বা ব্যান্ড থাকে। অ্যানাইসোট্রপিক ব্যান্ড (A) এবং আইসোট্রপিক ব্যান্ড (I) গাঢ় ব্যান্ড গুলোকে অ্যানাইসোট্রপিক বা A ব্যান্ড এবং হালকা ব্যান্ড গুলোকে আইসোট্রপিক বা I ব্যান্ড বলে।                                   

৫। অনুপ্রস্থ রেখাঃ ঐচ্ছিক পেশীতে কতক গুলো অনুপ্রস্থ রেখা দেখা যায়। রেখা গুলোর জন্য একে রৈখিক পেশী বা চিহ্নিত পেশী বলা হয়।

৬। ফ্যাসিকুলাসঃ পেশিতন্তু গুলো গুচ্ছবদ্ধ ভাবে অবস্থান করে। প্রতিটি গুচ্ছকে ফ্যাসিকুলাস বলে। প্রতিটি ফ্যাসিকুলাস পেরিমাইসিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। অনেক গুলো ফ্যাসিকুলী মিলিত হয়ে বড় গুচ্ছ গঠন করে। প্রতিটি বড় গুচ্ছ এপিমাইসিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে।

ঐচ্ছিক পেশি কী ।। Voluntary muscle কী

যে পেশীর কার্যাবলী প্রাণীর ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ঐচ্ছিক পেশী বলে। একে কঙ্কাল বা রৈখিক বা অমসৃন বা চিহ্নিত পেশীও বলা হয়। মানবদেহে ৬৫৬টি ঐচ্ছিক পেশি রয়েছে।