এমফাইসেমা হলো ফুসফুসের একটি মরণব্যাধী। এই রোগ প্রতিরোধে AAT প্রোটিন ব্যবহার হয়। জিন প্রকৌশল প্রক্রিয়ায় AAT প্রোটিন বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে। তাই ফুসফুসের এমফাইসেমা রোগ প্রতিরোধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। বৃদ্ধি হরমোন উৎপাদনে রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। growth homone production
মানুষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী সোমাটোট্রফিন হরমোন রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয়। এটি বামনত্ব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। প্রতি সপ্তাহে ৬-১০ মিলি গ্রাম গ্রোথ হরমোন প্রয়োগে প্রথম বছরেই ৬ সেন্টিমিটারের বেশি লম্বা হয়।
জিন প্রকৌশল ।। ইন্টারফেরন উৎপাদনে জিন প্রকৌশল ।। Interferon production
ইন্টারফেরন হলো উচ্চ আণবিক ওজন বিশিষ্ট প্রোটিন। ইহা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিরোধ করে এবং ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে E. coli ও ঈস্ট হতে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা হয়। ইহা হেপাটাইটিস-বি, হার্পিস, প্যাপিলোমা, জলাতঙ্ক প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। ১৯৫৭ সালে অ্যালেক ইস্যাক ও জ্যাঁ লিনডেনম্যান ইন্টারফেরন আবিষ্কার করেন।
রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। ইনসুলিন উৎপাদনে রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। Insulin production
ইনসুলিন হলো একপ্রকার হরমোন। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক ভাবে ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়। ইহা রক্তের গ্লুকোজ গ্রহণ মাত্রা ত্বরান্বিত করে মানুষের ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন গ্রহণ করে।
রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। বংশগত রোগ নিরাময়ে রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। Control of birth diseases
বংশগত রোগ নিরাময় করা দুষ্কর। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক ছাগলের দুধ থেকে অ্যান্টিথ্রম্বিন-III এবং ট্রান্সজেনিক খরগোসের দুধ থেকে III C12 esterase inhibitor ওষুধ তৈরী করা হয়েছে। অ্যান্টিথ্রম্বিন-III ওষুধ মানুষের অ্যান্টিথ্রম্বিন ডিফিসিয়েন্সী রোগের চিকিৎসায় এবং III C12 esterase inhibitor ওষুধ মানুষের অ্যানজিওডেমা এর চিকিৎসায় ব্যবহার হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো ওষুধ আবিষ্কারের মাধ্যমে বংশগত রোগ নির্মূলের চেষ্টা চলছে। মানুষের প্রতিটি কোষে ২৫০০০ পর্যন্ত (আরও বহু জিন অজানা রয়েছে) কর্মক্ষম জিন আছে। কোন একটি জিনে ডিস্অর্ডার হলে রোগ সৃষ্টি হতে পারে। মানুষের দেহে প্রায় ৩৫০০টি জেনেটিক ডিস্অর্ডার জানা গেছে। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় করা যাবে।
টিকা তৈরী ।। টিকা তৈরীতে জিন প্রকৌশল । । Vaccine
জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরনের রোগের টিকা বা ভেক্সিন তৈরী করা হয়। এসব টিকা হাম, পোলিও, বসন্ত, যক্ষ্মা, জলাতঙ্ক, কলেরা, মাম্পস, হেপাটাইটিস-বি প্রভৃতি সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে করোনাসহ বিভিন্ন রোগের কার্যকরী ভ্যাক্সিন তৈরীর চেষ্টা চলছে। নতুন নতুন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রিকম্বিন্যান্ট DNA ।। পীড়ন প্রতিরোধী জাত সৃষ্টিতে রিকম্বিন্যান্ট DNA এর ভূমিকা
(i) সয়াবিন থেকে Pyrroline-5 Carboxylase Syntase জিন পৃথক করে তামাক গাছে সংযুক্ত করার পর দেখা গেল উহা দশগুণ বেশি লবণাক্ত জমিতে জন্মাতে পারে।
(ii) উত্তর মেরু অঞ্চলের ছোট ছোট মাছ (Flounder) থেকে শৈত্য প্রতিরোধক AF জিন পৃথক করে ফসলী উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে শৈত্য সহনশীল ফসল সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন– টমেটো, গোল আলু ইত্যাদি।
(iii) Bacillus subtilis ব্যাকটেরিয়া থেকে csPB জিন নিয়ে ভূট্রা উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে খরা প্রতিরোধী ভূট্রা সৃষ্টি করা হয়েছে।
(iv) Arabidopsis থেকে At NHXI জিন নিয়ে পীনাট উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে লবণাক্ত সহিঞ্চু পীনাট সৃষ্টি করা হয়েছে।
(v) প্রাকৃতিক পরিবেশে তাপ, ঠান্ডা, ভারী ধাতু, ফাইটোহরমোন ইত্যাদি পীড়ন প্রতিরোধী জিন শনাক্ত করা হয়েছে। এ সব জিন উদ্ভিদ দেহে প্রবেশের চেষ্টা চলছে।
আগাছানাশক প্রতিরোধী উদ্ভিদ সৃষ্টি ।। Weed resistant
আগাছানাশক জমিতে প্রয়োগ করলে ফসলী উদ্ভিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। Streptomyces নামক ব্যাকটেরিয়া হতে Bar gene পৃথক করে টমেটো, আলু, তামাক, ভূট্রা, গম প্রভৃতি গাছে প্রয়োগ করে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ ফসফিনোথ্রিসিন নামক আগাছানাশক প্রতিরোধ করতে পারে।
নাইট্রোজেন সংবন্ধন কী ।। Nitrogen fixing কী
নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী Rhizobium ব্যাকটেরিয়া হতে নিফ জিন পৃথক করে ধান গাছের ক্রোমোজোমে প্রবেশ করানো হয়েছে। এই ধান গাছ নাইট্রোজেন সংবন্ধন করতে পারে এবং ইউরিয়া সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।
ট্রান্সজেনেসিস পদ্ধতি ।। Transgenesis
ট্রান্সজেনেসিস প্রক্রিয়ায় Agrobacterium থেকে নিমাটোড স্পেসিফিক জিন নিয়ে উদ্ভিদ কোষে প্রবেশ করানো হয়। এতে উদ্ভিদ কোষে সেন্স এবং অ্যান্টিসেন্স RNA তৈরী হয়। এরা পরস্পর পরিপূরক হওয়ায় দ্বিসূত্রক RNA গঠন করে। ইহা ডাইসার এনজাইম দ্বারা ২১-২৩টি খন্ডে বিভক্ত হয়। প্রতিটি খন্ডকে Small interfering RNA (siRNA) বলে। siRNA এবং RNA মিলে RNA Induced Splicing Complex (RISC) গঠন করে। RISC নেমাটোডের mRNA-কে বিশ্লিষ্ট করে দেয়। ফলে ট্রান্সজেনিক পোষকে নিমাটোড মারা যায়।