যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম কোন কোষ বা অঙ্গ সম্পুর্ণ জীবাণু মুক্ত আবাদ মাধ্যমে চাষ করে নতুন চারা বা উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয় তাকে টিস্যু কালচার বলে। উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম কোষ, মেরিস্টেম, পরাগরেণু, ডিম্বক, ভ্রæণ, নিউসেলাস, প্রোটোপ্লাস্ট প্রভৃতি কালচার করে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয় বলে একে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলা হয়। উদ্ভিদের সমগুণসম্পন্ন ক্লোন তৈরী করা হয় বলে একে ক্লোনিং প্রযুক্তিও বলা হয়। বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করা হচ্ছে ভাইরাসের টিকা, হরমোন, ইনসুলিন, অ্যালকালয়েড প্রভৃতি। টিস্যু কালচারে ভিটামিন, এনজাইম, হরমোন, সুগার, খনিজ লবণ প্রভৃতি ব্যবহার হয়।
১৯০১ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী মরগান (Morgan) সর্বপ্রথম প্রতিটি সজীব উদ্ভিদ কোষের সম্পূর্ণ উদ্ভিদে পরিনত হওয়ার ক্ষমতা আছে বলে ধারণা করেন এবং এ ক্ষমতাকে টটিপটেন্সি বলে। ১৯২০ সালে গোটলিয়েব হ্যাবারল্যান্ডট (Gottlieb Haberlandt) সর্বপ্রথম টিস্যু কালচার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এজন্য তাকে টিস্যু কালচারের জনক বলা হয়। ১৯৩৯ সালে গাইথারেট (Gautheret) ও নাবিকোর্ট (Nabercourt) সর্বপ্রথম উদ্ভিদের টিস্যু কালচার করেন।
বায়োটেকনোলজি ।। জীবপ্রযুক্তির সাথে সম্পর্কিত শাখাসমুহ
১। জিনতত্ত¡- Genetics
২। আণবিক জীববিজ্ঞান- Molecular Biology
৩। অণুজীববিজ্ঞান- Microbiology
৪। জৈব রসায়ন- Biochemistry
৫। শারীরবিদ্যা- Physiology
৬। শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা- Taxonomy
৭। চিকিৎসাবিজ্ঞান- Medical Science
৮। জৈব রাসায়নিক প্রযুক্তি- Biochemical Engineering
৯। কৃষিবিজ্ঞান- Agriculture
১০। গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান- Mathematics & Computer Science
১১। অর্থনীতি- Economics
১২। রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজি- Recombinant DNA Technology
১৩। জিনোমিক্স- Genomics
১৪। বায়োমাইনিং- Biomining
১৫। ইনভায়রনমেন্টাল বায়োটেকনোলজি- Environmental Biotechnology
১৬। ফুড টেকনোলজি- Food Technology
১৭। ফার্মেন্টেশন টেকনোলজি- Fermentation Technology
১৮। বায়োমলিকুলার ইঞ্জিনিয়ারিং-Biomolecular Engineering
১৯। অ্যাপ্লায়েড ইমিউনোলজি- Applied Immunology
২০। ওয়েস্ট ইউটিলাইজেশন টেকনোলজি- Waste Utilization Technology
২১। টিস্যু কালচার- Tissue Culture
বায়োটেকনোলজি ।। বায়োইনফরমেটিক্স কী ।। Bioinformatics কী
জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যাকে কম্পিউটার দ্বারা সমাধান ও বিশ্লেষণ করাকে বায়োইনফরমেটিক্স বলে।
বায়োটেকনোলজি ।। চিকিৎসাভিত্তিক জীবপ্রযুক্তি কী ।। Medical biotechnology কী
বংশগত রোগ নিরাময়, ইনসুলিন প্রয়োগ, ইন্টারফেরনের কৌশল, বৃদ্ধি বা গ্রোথ হরমোন প্রয়োগ, ফুসফুসের এমফাইসেমা প্রতিরোধ, জিন থেরাপি, গর্ভের শিশু পরীক্ষা, মলিকুলার ফার্মিং, হিমোফিলিয়া, বংশগত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, হেপাটাইটিস-বি নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। শিল্পভিত্তিক জীবপ্রযুক্তি কী ।। Industrial biotechnology
টিকা বা ভেক্সিন তৈরী, ইন্টারফেরন উৎপাদন, ইনসুলিন উৎপাদন, বৃদ্ধি বা গ্রোথ হরমোন উৎপাদন, এনজাইম উৎপন্ন, মলিকুলার ফার্মিং, বায়োফার্মিং, জৈব শক্তি উৎপাদন, বায়োগ্যাস, ডিটারজেন্ট, চামড়া, দুগ্ধশিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। ওষুধভিত্তিক জীবপ্রযুক্তি কী ।। Pharmaceutical biotechnology কী
পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, ইরাইথ্রোমাইসিন, বায়োমলিকুলার ফার্মিং, ইনসুলিন প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। কৃষিভিত্তিক জীবপ্রযুক্তি কী ।। Agricultural biotechnology কী
রোগ মুক্ত উদ্ভিদ উৎপাদন, উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন, মাইক্রোপ্রোপাগেশন, সোমাটিক হাইব্রিডাইজেশন, পরাগধানী কালচার, সোমাক্লোনাল ভেরিয়েশন, ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি, টিস্যু কালচার প্রভৃতি ক্ষেত্রে কৃষিভিত্তিক জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। নীল জীবপ্রযুক্তি কী ।। Blue biotechnology কী
জলীয় ও সামুদ্রিক ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো নীল জীবপ্রযুক্তি। জলজ পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখা, ট্রান্সজেনিক মাছ উৎপাদন, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি, মাছের অবস্থান নির্ণয়, জলজ উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা প্রভৃতি ক্ষেত্রে নীল জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। শ্বেত জীবপ্রযুক্তি ।। White biotechnology কী
শিল্পক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো শ্বেত জীবপ্রযুক্তি। ইনসুলিন উৎপাদন, হরমোন উৎপাদন, এনজাইম উৎপন্ন, ইন্টারফেরন উৎপাদন, মলিকুলার ফার্মিং, বায়োফার্মিং, জৈব শক্তি উৎপাদন, বায়োগ্যাস, ডিটারজেন্ট, চামড়া, দুগ্ধশিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে শ্বেত জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।
বায়োটেকনোলজি ।। লাল জীবপ্রযুক্তি কী ।। Red biotechnology কী
চিকিৎসাক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ হলো লাল জীবপ্রযুক্তি। রোগ নির্ণয়, বংশগত রোগ নিরাময়, স্বাস্থ্যের উন্নতি, জিন থেরাপি, DNA ভ্যাক্সিন প্রয়োগ, ইনসুলিন উৎপাদন, হরমোন উৎপাদন, এনজাইম উৎপন্ন, ইন্টারফেরন উৎপাদন, ফুসফুসের এমফাইসেমা প্রতিরোধ, হিমোফিলিয়া, মলিকুলার ফার্মিং, বায়োফার্মিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে লাল জীবপ্রযুক্তির অবদান রয়েছে।