রসস্ফীতি বা টারজিডিটির কারণে প্রোটোপ্লাজম কোষ প্রাচীরের উপর যে চাপ দেয় তাকে রসস্ফীতি চাপ বা টারগার প্রেসার বলে।
রসস্ফীতি কী ।। Turgidity কী
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কোষে পানি প্রবেশ করলে কোষের আয়তন বেড়ে যায় এবং কোষ স্ফীত হয়। এই অবস্থাকে রসস্ফীতি বা টারজিডিটি বলে। রসস্ফীতির কারণে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (diffusion pressure deficit-DPD) দেখা দেয়।
প্লাজমোলাইসিস কী ।। Plasmolysis কী
কোষ থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে গেলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয় একে প্লাজমোলাইসিস বলে। প্লাইমোলাইজকৃত কোষে পানি প্রবেশ করলে প্রোটোপ্লাজম প্রসারিত হয় একে ডিপ্লাজমোলাইসিস বলে।
অভিস্রবণিক চাপ কী ।। Osmosis pressure কী
একই বায়ুমন্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় ভিন্ন ঘনত্বের দুটি দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক করে রাখলে কম ঘনত্ব এলাকা থেকে দ্রাবক পদার্থ বেশি ঘনত্ব এলাকায় প্রবেশ করার ক্ষমতাকে অভিস্রবণিক চাপ বলে।
অভিস্রবণ কী ।। Osmosis কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
একই বায়ুমন্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় ভিন্ন ঘনত্বের দুটি দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক করে রাখলে কম ঘনত্ব এলাকা থেকে দ্রাবক পদার্থ বেশি ঘনত্ব এলাকায় প্রবেশ করাকে অভিস্রবণ বলে। অভিস্রবণ দুধরনের। অন্তঃঅভিস্রবণ ও বহিঃঅভিস্রবণ। দ্রাবক পদার্থ কোষের বাইরে থেকে কোষের ভিতরে প্রবেশ করাকে অন্তঃঅভিস্রবণ এবং দ্রাবক পদার্থ কোষের ভিতর থেকে কোষের বাইরে বেরিয়ে যাওয়াকে বহিঃঅভিস্রবণ বলে। যে দ্রব্যের কারণে কোষে পানি প্রবেশ করে তাকে অভিস্রবণিক কর্মক্ষম দ্রব্য বলা হয়।
ব্যাপন চাপ ঘাটতি কী ।। Diffution Pressure Deficit ।। DPD
যে চাপের কারণে কোষে পানি প্রবেশ করে তাকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বলে। আধুনিক ভাষায় একে পানি বিভব বলা হয়। কোষের পানি শোষণ ক্ষমতা DPD এর উপর নির্ভরশীল। DPD = OP-TP।
ব্যাপন চাপ কী ।। Diffution pressure কী
একই বায়ুমন্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় পদার্থের অণু গুলোর বেশি ঘনত্ব এলাকা থেকে কম ঘনত্ব এলাকায় বিস্তার লাভের প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ডিফিউশন চাপ বা ব্যাপন চাপ বলে।
ব্যাপন কী ।। Diffution কী
একই বায়ুমন্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় পদার্থের অণু গুলোর বেশি ঘনত্ব এলাকা থেকে কম ঘনত্ব এলাকায় বিস্তার লাভ করাকে ব্যাপন বা ডিফিউশন বলে।
ইমবাইবিশন কী ।। Imbibition কী
যে প্রক্রিয়ায় কলয়েড জাতীয় শুষ্ক বা আংশিক শুষ্ক পদার্থ দ্বারা তরল পদার্থ শোষিত হয় তাকে ইমবাইবিশন বলে। যে সব পদার্থ পানি শোষণ করে স্ফীত হয় তাদেরকে হাইড্রোফিলিক পদার্থ বলে। যেমন– আঠা, সেলুলোজ, জেলাটিন, প্রোটিন, স্টার্চ ইত্যাদি।
পানি পরিশোষণ বর্ণনা ।। Water absorption
যে প্রক্রিয়ায় কোষের বহিঃস্থ কোন উৎস হতে কোষাভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করে তাকে পানি পরিশোষণ বলে। উচ্চ শ্রেণীর উদ্ভিদ মূল দ্বারা, নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ রাইজয়েড দ্বারা এবং জলজ উদ্ভিদ সমগ্র দেহ দ্বারা পানি পরিশোষণ করে। মূলরোম হলো উদ্ভিদের পানি পরিশোষণের মুখ্য অঙ্গ। মূলরোম মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে বিস্তৃত থাকে। অপরদিকে, মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর পরিমাণে কৈশিক পানি থাকে। মাটির কণার ফাঁকে অবস্থিত কৈশিক পানির ঘনত্ব মূলরোমের কোষ রসের ঘনত্ব অপেক্ষায় কম হওয়ায় ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থাৎ DPD কমে যায়। এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির সমতা আনার জন্য অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি মূলরোমে প্রবেশ করে। এতে মুলরোম ও মূলত্বকের কোষরসের ঘনত্ব কমে যায়। কিন্তু কর্টেক্স কোষের কোষরসের ঘনত্ব বেশি থাকে। এ কারণে মুলত্বক ও কর্টেক্স কোষের মধ্যে ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা দেয়। এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির সমতা আনার জন্য পানি মূলত্বক হতে কর্টেক্সের প্রথম কোষে প্রবেশ করে। এরপর কর্টেক্সের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রভৃতি কোষের মধ্য দিয়ে পানি শেষ পর্যন্ত অন্তঃত্বকে পৌছে। এতে অন্তঃত্বকের কোষরসের ঘনত্ব কমে যায়, কিন্তু পেরিসাইকলের কোষরসের ঘনত্ব বেশি থাকে। ফলে একটি ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা দেয়। এই চাপের ঘাটতির সমতা আনয়নের জন্য পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় অন্তঃত্বক হতে পেরিসাইকলের ভিতর দিয়ে জাইলেমের ভেসেল গহ্বরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে জাইলেমের ভিতর দিয়ে পানি উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় অংশে পৌছে যায়।