যে প্রক্রিয়ায় কোষের বহিঃস্থ কোন উৎস হতে কোষাভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করে তাকে পানি পরিশোষণ বলে। উচ্চ শ্রেণীর উদ্ভিদ মূল দ্বারা, নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ রাইজয়েড দ্বারা এবং জলজ উদ্ভিদ সমগ্র দেহ দ্বারা পানি পরিশোষণ করে। মূলরোম হলো উদ্ভিদের পানি পরিশোষণের মুখ্য অঙ্গ। মূলরোম মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে বিস্তৃত থাকে। অপরদিকে, মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর পরিমাণে কৈশিক পানি থাকে। মাটির কণার ফাঁকে অবস্থিত কৈশিক পানির ঘনত্ব মূলরোমের কোষ রসের ঘনত্ব অপেক্ষায় কম হওয়ায় ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থাৎ DPD কমে যায়। এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির সমতা আনার জন্য অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি মূলরোমে প্রবেশ করে। এতে মুলরোম ও মূলত্বকের কোষরসের ঘনত্ব কমে যায়। কিন্তু কর্টেক্স কোষের কোষরসের ঘনত্ব বেশি থাকে। এ কারণে মুলত্বক ও কর্টেক্স কোষের মধ্যে ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা দেয়। এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির সমতা আনার জন্য পানি মূলত্বক হতে কর্টেক্সের প্রথম কোষে প্রবেশ করে। এরপর কর্টেক্সের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রভৃতি কোষের মধ্য দিয়ে পানি শেষ পর্যন্ত অন্তঃত্বকে পৌছে। এতে অন্তঃত্বকের কোষরসের ঘনত্ব কমে যায়, কিন্তু পেরিসাইকলের কোষরসের ঘনত্ব বেশি থাকে। ফলে একটি ব্যাপন চাপ ঘাটতি দেখা দেয়। এই চাপের ঘাটতির সমতা আনয়নের জন্য পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় অন্তঃত্বক হতে পেরিসাইকলের ভিতর দিয়ে জাইলেমের ভেসেল গহ্বরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে জাইলেমের ভিতর দিয়ে পানি উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় অংশে পৌছে যায়।