শারীরতত্ত্ব ।। শারীরতত্ত্ব কাকে বলে ।। Physiology ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ Physis অর্থ প্রকৃতি (nature) এবং logos অর্থ আলোচনা বা জ্ঞান (discourse) থেকে Physiology শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। Physiology এর অর্থ হলো প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় উদ্ভিদের বিভিন্ন ধরনের জৈবিক কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ও অধ্যায়ন করা হয় তাকে উদ্ভিদ শারীরতত্ত¡ বা Plant physiology বলে। ১৭২৭ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্টিফেন হেলস্ (Stephen Hales) বলেন, উদ্ভিদ বায়ুমন্ডল থেকে কিছু খাদ্য গ্রহণ করে এবং সূর্যালোক এতে অংশ গ্রহণ করে। এ কারণে তাকে উদ্ভিদ শারীরতত্তে¡র জনক বলা হয়।
উদ্ভিদ শারীরতত্ত¡কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১। পুষ্টি ও বিপাকীয় শারীরতত্ত¡
২। বৃদ্ধি, বিকাশ ও প্রজননিক শারীরতত্ত¡
৩। পরিবেশগত শারীরতত্ত¡
উদ্ভিদ শারীরতত্তে¡ উদ্ভিদকোষে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক ক্রিয়া এবং বিপাকীয় কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয়। উদ্ভিদ দেহের শারীরতাত্তি¡ক প্রক্রিয়াগুলো হলো- পানি পরিশোষণ, ব্যাপন, অভিস্রবণ, ইমবাইবিশন, খনিজ লবণ পরিশোষণ, প্রস্বেদন, সালোকসংশ্লেষণ, নাইট্রোজেন আত্তীকরণ, শ^সন ও পুষ্পায়ন।

কান্ড ।। দ্বিবীজপত্রী কান্ড । দ্বিবীজপত্রী কান্ডের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। কান্ডত্বকে কিউটিকল উপস্থিত।

২। কান্ডরোম বহুকোষী।

৩। অধঃত্বক কোলেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।

৪। কর্টেক্সকে বহিঃস্টিলী এবং অন্তঃস্টিলী অঞ্চলে ভাগ করা যায়।

৫। পেরিসাইকল বহুস্তর বিশিষ্ট।

৬। এর ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় এবং মুক্ত।

৭। এর মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এন্ডার্ক।

৮। ভাস্কুলার বান্ডল চক্রাকার বা বৃত্তাকারে অবস্থিত।

৯। জাইলেম লম্বা ভাবে অবস্থিত।

১০। মজ্জা মজ্জারশ্মি থাকে।

কান্ড ।। দ্বিবীজপত্রী কান্ড ।। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিশেন্স

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে নি¤œলিখিত অংশ দেখা যায়।

১। এপিডার্মিস বা বহিঃত্বকঃ বহিঃত্বক একস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং কোষাবকাশ অনুপস্থিত। এতে বহুকোষী কান্ডরোম বিদ্যমান। ত্বকের বাইরে কিউটিকল উপস্থিত।

২। অধঃত্বকঃ বহিঃত্বকের নিচে অধঃত্বক অবস্থিত। ইহা স্তরবিশিষ্ট এবং কোলেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। এতে কোষাবকাশ নাই। কিছু কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।

৩। কর্টেক্সঃ ইহা অধঃত্বকের নিচে / স্তরবিশিষ্ট। ইহা ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো বড় এবং গোলাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে। ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

৪। এন্ডোডার্মিস বা অন্তঃত্বকঃ কর্টেক্সের ভিতরের স্তরকে অন্তঃত্বক বলে। ইহা একস্তরবিশিষ্ট এবং পিপাকৃতির প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং ফাঁকবিহীন। এন্ডোডার্মিসে প্রচুর শ্বেতসার দানা জমা থাকে বলে একে স্টার্চ সীথ বা শ্বেতসার আবরণী (Starch sheath) বলে।

৫। স্টিলীঃ অন্তঃত্বকের নিচ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটি স্টিলী নামে পরিচিত। স্টিলীর বিভিন্ন অঞ্চল হলো

(i) পেরিসাইকল বা পরিচক্রঃ পরিচক্র স্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা বা স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ভাস্কুলার বান্ডলের মাথায় স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত পরিচক্র টুপির মতো অবস্থান করে। একে গুচ্ছটুপি বা হার্ড বাস্ট বা Bundle cap বলে। শীর্ষক ভাজক টিস্যু হতে পরিচক্রের উৎপত্তি।

(ii) ভিত্তি টিস্যুঃ পরিচক্রের নিচে বহুস্তর বিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা ভিত্তি টিস্যু গঠিত। কোষগুলো বড় এবং প্রাচীর খুব পাতলা। এই স্তরের মধ্যে ভাস্কুলার বান্ডল অবস্থিত।

(iii) ভাস্কুলার বান্ডলঃ ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা অনেক এবং বলয়াকারে দুই সারিতে সাজানো। ইহা সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় এবং মুক্ত। এর উপাদান গুলো হলো

জাইলেমঃ মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এন্ডার্ক। বহিঃক্যাম্বিয়াম এবং অন্তঃক্যাম্বিয়াম এর মাঝখানে জাইলেম অবস্থিত। ইহা পানি পরিবহন করে। জাইলেম নষ্ট হয়ে লাইসিজেনাস গহŸ সৃষ্টি করেছে।

ফ্লোয়েমঃ জাইলেমের উভয় পাশে ফ্লোয়েম অবস্থিত। জাইলেমের বাইরের দিকের ফ্লোয়েমকে বহিঃফ্লোয়েম এবং ভিতরের দিকের ফ্লোয়েমকে অন্তঃফ্লোয়েম বলে। ইহা খাদ্য পরিবহন করে।

ক্যাম্বিয়ামঃ জাইলেমের উভয় পাশে ক্যাম্বিয়াম অবস্থিত। জাইলেমের বাইরের দিকের ক্যাম্বিয়ামকে বহিঃক্যাম্বিয়াম এবং ভিতরের দিকের ক্যাম্বিয়ামকে অন্তঃক্যাম্বিয়াম বলে। ইহা নতুন কোষ সৃষ্টি করে।

কান্ড ।। একবীজপত্রী কান্ড ।। একবীজপত্রী কান্ডের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। কান্ডত্বকে কিউটিকল উপস্থিত।

২। কান্ডরোম অনুপস্থিত।

৩। অধঃত্বক স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।

৪। কর্টেক্সকে বহিঃস্টিলী এবং অন্তঃস্টিলী অঞ্চলে ভাগ করা যায় না।

৫। ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় বদ্ধ।

৬। এর মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এন্ডার্ক।

৭। ভাস্কুলার বান্ডল বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে।

৮। জাইলেম Y বা V আকৃতির।

৯। মজ্জা মজ্জারশ্মি থাকে না।

কান্ড ।। একবীজপত্রী কান্ড ।। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে নি¤œলিখিত অংশ দেখা যায়।

১। এপিডার্মিস বা বহিঃত্বকঃ বহিঃত্বক একস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। এতে কান্ডরোম এবং কোষাবকাশ অনুপস্থিত। কিউটিকল উপস্থিত।

২। অধঃত্বকঃ বহিঃত্বকের নিচে অধঃত্বক অবস্থিত। ইহা একাধিক স্তরবিশিষ্ট এবং স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। এতে কোষাবকাশ নাই।

৩। গ্রাউন্ড টিস্যুঃ অধঃত্বকের নিচ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত গ্রাউন্ড টিস্যু বিস্তৃত। ইহা বহুস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে।

৪। ভাস্কুলার বান্ডলঃ ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা অনেক এবং বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়ানো। ইহা সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় এবং বদ্ধ। এতে ক্যাম্বিয়াম থাকে না। ভাস্কুলার বান্ডলের চারিদিকে স্কে¬রেনকাইমা কোষের একটি আবরণী থাকে। একে বান্ডল আবরণী বলে। এর উপাদান গুলো হলো

(i) জাইলেমঃ মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এন্ডার্ক। জাইলেম দেখতে অনেকটা Y বা V অক্ষরের মতো। জাইলেম নষ্ট হয়ে লাইসিজেনাস গহ্বর সৃষ্টি করেছে।

(ii) ফ্লোয়েমঃ Y আকৃতির জাইলেম টিস্যুর দুই বাহুর মাঝখানে ফ্লোয়েম অবস্থিত। এতে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা অনুপস্থিত।

মূল ।। দ্বিবীজপত্রী মূল।। দ্বিবীজপত্রী মূলের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মূলত্বকে কিউটিকল অনুপস্থিত।

২। এর মূলরোম এককোষী।

৩। এর অধঃত্বক নাই।

৪। কর্টেক্স বিভিন্ন স্তরে সজ্জিত নয়।

৫। অন্তঃত্বক একসারি কোষ দ্বারা গঠিত এবং কোষে ক্যাসপেরিয়ান ফিতা আছে।

৬। পেরিসাইকল একসারি কোষ দ্বারা গঠিত।

৭। ভাস্কুলার বান্ডল অরীয়।

৮। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং   মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এক্সার্ক।

৯। এর জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা ৬।

১০। মজ্জা খুব ছোট।

মূল ।। দ্বিবীজপত্রী মূল ।। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের অন্তর্গঠন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল এবং অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল।

১। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চলঃ স্টিলীর বাইরের অঞ্চলকে বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) এপিবেøমা বা মূলত্বকঃ মূলের সবচেয়ে বাইরের স্তরটির নাম হলো এপিবেøমা বা মূলত্বক। মূলত্বক একস্তরবিশিষ্ট। এর প্রাচীর পাতলা। এতে এককোষী মূলরোম আছে। ইহা পানি খনিজ লবণ পরিশোষণ করে।

(ii) কর্টেক্সঃ কর্টেক্স বহুস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার বা ডিম্বাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা জাতীয় কোষ এবং প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা।

(iii) এন্ডোডার্মিস বা অন্তঃত্বকঃ ইহা একস্তরবিশিষ্ট এবং পিপাকৃতির কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং ফাঁকবিহীন। কোষগুলোর প্রস্থপ্রাচীরে ক্যাসপেরিয়ান ফিতা বিদ্যমান। এতে কয়েকটি প্যাসেজ কোষ আছে। এই স্তর খাদ্য সঞ্চয় করে, স্টিলী অঞ্চলকে রক্ষা করে এবং প্যাসেজ কোষের মাধ্যমে পানি দ্রবীভ পদার্থ প্রবেশ করে।

২। অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চলঃ পেরিসাইকল থেকে মজ্জা পর্যন্ত অঞ্চলকে স্টিলী বা অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) পেরিসাইকল বা পরিচক্রঃ অন্তঃত্বকের নিচে একস্তর পেরিসাইকল থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত এবং কোষপ্রাচীর অত্যন্ত পাতলা।

(ii) ভাস্কুলার বান্ডলঃ জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা চারটি। এরা অরীয় ভাবে এবং চক্রাকারে সাজানো। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এক্সার্ক। ইহা পানি খাদ্য পরিবহন করে। 

(iii) মজ্জাঃ মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত ভাস্কুলার বান্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মজ্জা বলে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার, পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট এবং কোষাবকাশযুক্ত।

(iv) মজ্জারশ্মিঃ ভাস্কুলার বান্ডলের মধ্য দিয়ে মজ্জা থেকে পেরিসাইকল পর্যন্ত অংশকে মজ্জারশ্মি বলে। ইহা সরু লম্বা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

মূল ।। একবীজপত্রী মূল । একবীজপত্রী মূলের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মূলত্বকে কিউটিকল অনুপস্থিত।

২। এর মূলরোম এককোষী।

৩। এর অধঃত্বক থাকে না।

৪। এতে কর্টেক্স বিভিন্ন স্তরে সজ্জিত নয়।

৫। পেরিসাইকল একস্তর বিশিষ্ট।

৬। এর ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় এবং একান্তর ভাবে সজ্জিত।

৭। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এক্সার্ক।

৮। এর জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা এর অধিক।

৯। মজ্জা বেশ বড় এবং সুস্পষ্ট

মূল ।। একবীজপত্রী মূল ।। একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের অন্তর্গঠন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল।

১। বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল (Extra stelar region) স্টিলীর বাইরের অঞ্চলকে বহিঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) মূলত্বক বা এপিবেøমা (Epiblema) মূলত্বক একস্তরবিশিষ্ট। এতে এককোষী মূলরোম থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা পানি খনিজ লবণ শোষণ করে এবং অভ্যন্তরীণ অংশকে রক্ষা করে।

(ii) কর্টেক্স (Cortex) কর্টেক্স বহুস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে (কখনো কখনো অ্যারেনকাইমা বা বায়ুকুঠুরী থাকতে পারে) ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

(iii) অন্তঃত্বক (Endodermis) ইহা একস্তরবিশিষ্ট এবং পিপাকৃতির কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং ফাঁকবিহীন। কোষগুলোর পার্শ্বপ্রাচীর এবং বাইরের প্রাচীর পুরু। পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট পারণ কোষ বা প্যাসেজ কোষ থাকে। ইহা পানি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।

২। অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল (Intra stelar region) মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত পেরিসাইকল থেকে মজ্জা পর্যন্ত অঞ্চলকে স্টিলী বা অন্তঃস্টিলীয় অঞ্চল বলে। এর বিভিন্ন অংশ হলো

(i) পরিচক্র (Pericycle) অন্তঃত্বকের নিচে একস্তরবিশিষ্ট পেরিসাইকল থাকে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো খুব ঘনসন্নিবেশিত।

(ii) ভাস্কুলার বান্ডল (Vascular bundle) জাইলেম বা ফ্লোয়েম গুচ্ছের সংখ্যা ছয়এর অধিক। ইহা অরীয় ভাবে এবং চক্রাকারে সাজানো থাকে। প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এক্সার্ক। ইহা পানি, খনিজ লবণ খাদ্য পরিবহন করে। 

(iii) মজ্জা (Pith) মূলের কেন্দ্রে অবস্থিত ভাস্কুলার বান্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মজ্জা বলে। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো গোলাকার, পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট এবং কোষাবকাশযুক্ত। কচু মূলে বড় মজ্জা থাকে। ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।

(iv) মজ্জারশ্মি (Medullary ray) ভাস্কুলার বান্ডলের মধ্য দিয়ে মজ্জা থেকে পেরিসাইকল পর্যন্ত অংশকে মজ্জা রশ্মি বলে। ইহা সরু, লম্বা পাতলা প্রাচীরযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ইহা জাইলেম ফ্লোয়েমকে পৃথক করে রাখে এবং মজ্জা পেরিসাইকলের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে।

ভাস্কুলার বান্ডল ।। মূল শনাক্তকরণে ভাস্কুলার বান্ডলের ভূমিকা ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ভাবে বান্ডল গঠন করলে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা পাঁচ এর কম হলে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল হবে।

২।  জাইলেম ও ফ্লোয়েম পৃথক পৃথক ভাবে বান্ডল গঠন করলে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলে। অরীয় ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা ছয় এর বেশি হলে একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল হবে।