ভাজক টিস্যু । প্রারম্ভিক ভাজক টিস্যু কী

যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশের অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে তাকে প্রোমেরিস্টেম বা আদি ভাজক টিস্যু বলে। ইহা উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশে অবস্থান করে। এ টিস্যুর কোষগুলো ছোট, অপরিনত, কোষগহŸরবিহীন এবং কোষপ্রাচীর পাতলা। এ অঞ্চল থেকে উদ্ভিদের প্রথম বৃদ্ধি শুরু হয়। ইহা বিভিন্ন তলে বিভাজিত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গ গঠন করে।

ভাজক টিস্যু । ভাজক টিস্যুর অবস্থান । Meristem । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভাজক টিস্যু থাকে। মূল ও কান্ডের শীর্ষদেশে ভাজক টিস্যু অবস্থান করে। উদ্ভিদের কচিপাতা, পুষ্প, মুকুল, কান্ড, পর্বমধ্য, কান্ডের পরিধি প্রভৃতি অঞ্চলে ভাজক টিস্যু বেশি থাকে। উদ্ভিদের কর্টেক্সে কর্ক ক্যাম্বিয়াম, ভাস্কুলার বান্ডলে ফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম এবং দুইটি ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝে ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম থাকে।

ভাজক টিস্যু । ভাজক টিসু্যর বৈশিষ্ট্য কী কী । Meristem । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম এবং বর্ধিঞ্চু অঞ্চলে থাকে।
২। কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসী এবং ছোট।
৩। কোষ গুলোর বিপাকীয় হার বেশি।
৪। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে না।
৫। ভাজক টিস্যুর কোষগহ্বর থাকে না।
৬। কোষে খাদ্য, ক্ষরিত বস্তু বা বর্জ্য পদার্থ জমা থাকে না।
৭। কোষের সাইটোপ্লাজম ঘন।
৮। কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়।
৯। এদের কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ নির্মিত।
১০। কোষ গুলো আকারে ছোট এবং দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান।
১১। কোষগুলো আয়তাকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজাকার।
১২। এদের প্লাস্টিড গুলো প্রো-প্লাস্টিড অবস্থায় থাকে।
১৩। ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষত পূরণ করে।

ভাজক টিস্যু । ভাজক টিস্যুর অবস্থান । Meristem । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

উদ্ভিদের বিভাজনক্ষম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভাজক টিস্যু থাকে। মূল কান্ডের শীর্ষদেশে ভাজক টিস্যু অবস্থান করে। উদ্ভিদের কচিপাতা, পুষ্প, মুকুল, কান্ড, পর্বমধ্য, কান্ডের পরিধি প্রভৃতি অঞ্চলে ভাজক টিস্যু বেশি থাকে। উদ্ভিদের কর্টেক্সে কর্ক ক্যাম্বিয়াম, ভাস্কুলার বান্ডলে ফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম এবং দুইটি ভাস্কুলার বান্ডলের মাঝে ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম থাকে।

ভাজক টিস্যু ।। ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কী কী ।। Characters of meristem ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম এবং বর্ধিঞ্চু অঞ্চলে থাকে।

২। কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসী এবং ছোট।

৩। কোষ গুলোর বিপাকীয় হার বেশি।

৪। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে না।

৫। ভাজক টিস্যুর কোষগহ্বর থাকে না।

৬। কোষে খাদ্য, ক্ষরিত বস্তু বা বর্জ্য পদার্থ জমা থাকে না।

৭। কোষের সাইটোপ্লাজম ঘন।

৮। কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়।

৯। এদের কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ নির্মিত।

১০। কোষ গুলো আকারে ছোট এবং দৈর্ঘ্যে প্রস্থে সমান।

১১। কোষগুলো আয়তাকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজাকার।

১২। এদের প্লাস্টিড গুলো প্রোপ্লাস্টিড অবস্থায় থাকে।

১৩। ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে ক্ষত পূরণ করে। 

ভাজক টিস্যু কী । Meristem কী

যে টিস্যুর কোষ গুলো বিভাজনে সক্ষম তাকে ভাজক টিস্যু বলে। ভাজক টিস্যুর কোষগুলোকে ভাজক কোষ (meristemetic cell) বলে। ভাজক টিস্যুর অপর নাম মেরিস্টেম। যেমনক্যাম্বিয়াম, কর্ক ক্যাম্বিয়াম, ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম প্রভৃতি।

মালভেসী গোত্র । মালভেসী গোত্রের অর্থনৈতিক গুরুত্ব । Malvaceae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। সবজি হিসেবেঃ মালভেসী গোত্রের উদ্ভিদ সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়। ঢেড়স হলো প্রধান সবজি। নাপা উদ্ভিদ শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২। দড়ি তৈরীঃ মেস্তাপাট কেনাফ মেস্তাপাট থেকে দড়ি তৈরী করা হয়। দড়ি বহুবিদ কাজে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৩। সুতা তৈরীঃ তুলা থেকে উৎকৃষ্ট মানের সুতা পাওয়া যায়। সুতা দ্বারা বস্ত্র তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৪। ওষুধ হিসেবে

(i) জবা ফুলের (Hibiscus rosa-sinensis) রস মাথা ঠান্ডা রাখে, চুল কালো লম্বা করে, চুল পড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ইহা রক্ত আমাশয় অর্শরোগের ভাল ওষুধ। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স 

(ii) বন ওকড়া (Urena lobata) এর তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়।

(iii) বেড়েলা (Sida cordifolia) এর তেল থেকে ওষুধ তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

(iv) ঢেড়স ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগে উপকারী।

৫। খাদ্য তৈরীঃ এই গোত্রের উদ্ভিদ থেকে স্যুপ অন্যান্য রুচিকর খাদ্য তৈরী হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৬। চট বস্তা তৈরীঃ পাটের আঁশ থেকে চট বস্তা তৈরী হয়।

৭। বস্ত্রশিল্পেঃ এই গোত্রের উদ্ভিদ থেকে লেপ, তোষক, ব্যাগ প্রভৃতি তৈরী হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৮। জ্বালানীঃ কাষ্ঠ জাতীয় উদ্ভিদ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়।

৯। ভোজ্য তেলঃ তুলার বীজ থেকে ভোজ্য তেল তৈরী হয়। তুলার বীজ থেকে জ্বালানী তেলও পাওয়া যায়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

১০। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ Kydia calycina  এবং ভারতীয় টিউলিপ বৃক্ষ থেকে পেনসিল, খেলনা কৃষি উপকরণ তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

১১। শোভা বর্ধনকারীঃ জবা, স্থলপদ্ম, পেতারী প্রভৃতি উদ্ভিদকে বাগানে শোভা বর্ধনের জন্য লাগানো হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

মালভেসী গোত্র । মালভেসী গোত্রের উদ্ভিদ থেকে ওষুধ তৈরী । Malvaceae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) জবা ফুলের (Hibiscus rosa-sinensis) রস মাথা ঠান্ডা রাখে, চুল কালো ও লম্বা করে, চুল পড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ইহা রক্ত আমাশয় ও অর্শরোগের ভাল ওষুধ। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(ii) বন ওকড়া (Urena lobata) এর তেল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়।
(iii) বেড়েলা (Sida cordifolia) এর তেল থেকে ওষুধ তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(iv) ঢেড়স ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগে উপকারী।

মালভেসী গোত্র ।। মালভেসী গোত্রের অর্থনৈতিক উদ্ভিদ ।। Malvaceae ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জবা (Hibiscus rosa-sinensis)ঃ ফুলের জন্য জবা বাগানে লাগানো হয়। জবা ফুলের রস মাথা ঠান্ডা রাখে, চুল কালো ও লম্বা করে, চুল পড়া বন্ধ করে, চুল উজ্জ্বল করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। জবা ফুলের কলি কিছুদিন ধরে সকালে খেলে শরীর সুস্থ হয়ে যায়। ইহা কুসুম তেলের উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। ইহা রক্ত আমাশয় ও অর্শরোগের ভাল ওষুধ। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। ঢেড়স (Abelmoschus esculentus)ঃ ঢেড়স প্রধানত সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়। ঢেড়স দিয়ে স্যুপ তৈরী করা যায়। কচি ঢেড়সে লৌহ থাকে বলে নিয়মিত খেলে শারীরিক দুর্বলতা দূর হয়। ইহা ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগের উপকারী উপাদান। এর গাছ থেকে ভাল আঁশ পাওয়া যায়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। কার্পাস (Gossypium herbaceum)ঃ কার্পাসের বীজত্বক থেকে তুলা পাওয়া যায়। তুলা জীবাণু মুক্তকরণ এবং শৈল্য চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। তুলা দিয়ে সুতা, লেপ ও তোষক তৈরী করা হয়। সুতা দিয়ে কাপড় তৈরী করা হয়। তুলা বীজ থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। স্থলপদ্ম (Hibiscus mutabilis)ঃ এই উদ্ভিদের ফুল বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। কেনাফ মেস্তাপাট (Hibiscus cannabinus)ঃ কেনাফ মেস্তাপাটের বাকল থেকে আঁশ পাওয়া যায়। আঁশ দিয়ে দড়ি, শিকা, ব্যাগ, বস্তা প্রভৃতি তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৬। মেস্তাপাট (Hibiscus sabdariffa)ঃ মেস্তাপাটের বাকল থেকে আঁশ পাওয়া যায়। আঁশ দিয়ে দড়ি, শিকা, ব্যাগ, বস্তা প্রভৃতি তৈরী করা হয়।
৭। মরিচ ফুল (Malvaviscus arboreus)ঃ মরিচ ফুল লঙ্কা জবা নামে পরিচিত। ইহা শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে জন্মানো হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৮। ইন্ডিয়ান টিউলিপ (Thespesia populnea)ঃ ইন্ডিয়ান টিউলিপ পরশ পিপুল বা ‘পোরশিয়া ট্রি (Portia tree) নামে পরিচিত। এর কাঠ থেকে কৃষিকাজের উপকরণ, শিক্ষা উপকরণ (পেন্সিল) এবং বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৯। বন ওকড়া (Urena lobata)ঃ এই উদ্ভিদের পাতা ও ফুল ঐতিহ্যগত ভাবে ওষুধি হিসেবে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

মালভেসী গোত্রের আরো কয়েকটি উদ্ভিদঃ ভোলা (Hibiscus tiliaceus), লন্ঠন/ঝুমকা জবা (Hibiscus schizopetatus), নাপাশাক (Malva verticilata), বড়েলা (Sida cordifolia), হলিহক (Alcea rosea) প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

মালভেসী গোত্র ।। মালভেসী গোত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ।। Malvaceae ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। স্বরুপ (Habit) উদ্ভিদ বীরুৎ, গুল্ম বা বৃক্ষ। কচি অংশ পিচ্ছিল পদার্থ যুক্ত। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

২। মূল (Root) প্রধান মূলতন্ত্র। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৩। কান্ড (Stem) কান্ড কাষ্ঠাল, শাখান্বিত এবং বেলনাকার।

৪। পাতা (Leaves) পাতা সরল, একান্তর, জালিকা শিরাবিন্যাস যুক্ত এবং মুক্ত পার্শ্বীয় উপপত্র বিদ্যমান। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৫। পুষ্পবিন্যাস (Inflorescence) একক (সাইমোস)

৬। পুষ্প (Flower) পুষ্প একক, বৃহৎ, পূর্ণাঙ্গ, সমাঙ্গ, উভয়লিঙ্গ এবং গর্ভপাদী। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৭। উপবৃতিঃ উপবৃত্যংশ ১০টি, মুক্ত বা যুক্ত। (Sida, Abutilon উপবৃতি নাই)। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

৮। বৃতিঃ বৃত্যংশ ৫টি, মুক্ত বা যুক্ত এবং ভালভেট।

৯। দলমন্ডলঃ পাপড়ি ৫টি, মুক্ত, পুংকেশরী নালির সাথে যুক্ত এবং টুইস্টেড। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

১০। পুংস্তবক (Androecium) পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন। পরাগধানী একপ্রকোষ্ঠী এবং বৃক্কাকার। পরাগরেণু বৃহৎ কন্টকিত।

১১। স্ত্রীস্তবক (Gynoecium) গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, গর্ভপত্র ১০টি এবং যুক্ত। গর্ভমুন্ডের সংখ্যা গর্ভদন্ডের সমান বা দ্বিগুণ। Abutilon গণে গর্ভপত্র ১৫২০টি এবং Malva গণের গর্ভপত্র অনেক। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

১২। অমরাবিন্যাস (Placentation) অক্ষীয়।

১৩। ফল (Fruit) ক্যাপসিউল। কখনো বেরী বা সাইজোকার্প।

১৪। বীজ (Seed) বীজ রোমশ, সস্যল, তৈলাক্ত এবং বৃক্কাকার।