মাতৃঅক্ষ কী । Axis কী

যে অক্ষ হতে পুষ্প সৃষ্টি হয় তাকে মাতৃঅক্ষ বলে। পুষ্প যে স্থানে সংযুক্ত থাকে তার বিপরীত পাশের অংশকে মাতৃঅক্ষ বলে।

মালভেসী গোত্রের পুষ্প প্রতীক । জবা ফুলের পুষ্প প্রতীক ব্যাখ্যা

উপবৃত্যংশ ৫টি এবং মুক্ত, বৃত্যংশ ৫টি, যুক্ত, এবং ভালভেট, পাপড়ি ৫টি, মুক্ত এবং টুয়েস্টেড, পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন, পরাগধানী মুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, গর্ভপত্র ৫টি এবং যুক্ত, অমরাবিন্যাস অক্ষীয়। পুষ্প প্রতীক থেকে প্রতীয়মান হয় ফুলটি বহুপ্রতিসম, উভয়লিঙ্গ এবং পেন্টামেরাস।

পোয়েসী গোত্রের পুষ্প প্রতীক । ধান ফুলের পুষ্প প্রতীক। ধান ফুলের পুষ্প প্রতীক ব্যাখ্যা

মঞ্জরিপত্র এবং উপমঞ্জরিপত্র উপস্থিত, পুষ্পপুট ২টি এবং মুক্ত, পুংকেশর ৬টি, ৩টি করে দুই আবর্তে অবস্থিত এবং মুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং গর্ভপত্র ১টি। অমরাবিন্যাস মূলীয়। পুষ্প প্রতীক থেকে প্রতীয়মান হয় ফুলটি একপ্রতিসম, উভয়লিঙ্গ এবং ট্রাইমেরাস।

পুষ্পপ্রতীক । পুষ্পপ্রতীককী । Floral Diagram কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে চিত্রের সাহায্যে মাতৃঅক্ষের তুলনায় পুষ্পের লিঙ্গ, বিভিন্ন স্তবক, প্রত্যেক স্তবকের সদস্য সংখ্যা অবস্থান, তাদের সমসংযোগ বা অসমসংযোগ, মঞ্জরিপত্রের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, পুষ্পপত্রবিন্যাস, অমরাবিন্যাস প্রভৃতি তথ্য দেখানো হয় তাকে পুষ্প প্রতীক বা Floral diagram বলে। ১৭৭৮ সালে জার্মান উদ্ভিদ বিজ্ঞানী অগাস্ট উইলহেলম আইখার সর্বপ্রথম পুষ্প প্রতীকের বর্ণনা দেন।

মালভেসী গোত্রের পুষ্পসংকেত । জবা ফুলের পুষ্পসংকেত । জবা ফুলের পুষ্পসংকেত ব্যাখ্যা

ফুলটি বহুপ্রতিসম এবং উভয় লিঙ্গ, উপবৃত্যংশ ৫টি এবং মুক্ত, বৃত্যংশ ৫টি এবং যুক্ত, পাপড়ি ৫টি এবং মুক্ত, পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক এবং দললগ্ন, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, গর্ভপত্র ৫টি এবং যুক্ত।

পুষ্পসংকেত ।পোয়েসী গোত্রের পুষ্পসংকেত। ধান ফুলের পুষ্পসংকেত ব্যাখ্যা

মঞ্জরীপত্র এবং উপমঞ্জরীপত্র উপস্থিত, ফুলটি একপ্রতিসম এবং উভয় লিঙ্গ, পুষ্পপুট ২টি এবং মুক্ত, পুংকেশর ৬টি, ৩টি করে দুই আবর্তে সজ্জিত এবং মুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, ১ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং গর্ভপত্র ১টি।

পুষ্প সংকেত । পুষ্প সংকেত লেখার নিয়ম কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। প্রথমে উপমঞ্জরীপত্রের বর্ণমালা লেখতে হবে।
২। তারপর মঞ্জরীপত্রের বর্ণমালা লেখতে হবে।
৩। পুষ্প এক প্রতিসম বা বহুপ্রতিসম তার সংকেত লেখতে হবে।
৪। ফুলটি একলিঙ্গ না উভয়লিঙ্গ তার সংকেত।
৫। উপবৃত্যংশের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা উল্লেখ করা।
৬। বৃত্যংশের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা লেখা হয়।
৭। দলমন্ডলের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা উল্লেখ করা।
৮। পুষ্পপুটের বর্ণমালা, সংখ্যা এবং যুক্ত না মুক্ত তা লেখতে হবে।
৯। পুংকেশরের বর্ণমালা, সংখ্য এবং যুক্ত না মুক্ত তা উল্লেখ করা।
১০। অধিগর্ভ না অধোগর্ভ তার সংকেত।
১১। বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক অনুপস্থিত থাকলে শুন্য (০) লেখা হয়।
১২। ফুলটি সমসংযোগ না অসমসংযোগ তার সংকেত।

পুষ্পসংকেত । পুষ্পসংকেত কী । Floral Formula কী

যে সংকেতের সাহায্যে পুষ্পের লিঙ্গ, বিভিন্ন স্তবক, প্রত্যেক স্তবকের সদস্য সংখ্যা অবস্থান, তাদের সমসংযোগ বা অসমসংযোগ, মঞ্জরিপত্রের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি প্রভৃতি তথ্য প্রকাশ করা হয় তাকে পুষ্প সংকেত বা Floral formula বলে।

বীজ । বীজ কী । বীজের প্রকারভেদ । Seed কী

পরিপক্ক নিষিক্ত ডিম্বককে বীজ বলে। ইহা বীজত্বক দ্বারা আবৃত থাকে। বীজ অংকুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন ধরনের বীজ হলো-
১। একবীজপত্রী বীজঃ যে বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে তাকে একবীজপত্রী বীজ বলে। যেমন- ধান, গম, ভূট্রা, নারিকেল প্রভৃতি।
২। দ্বিবীজপত্রী বীজঃ যে বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে তাকে দ্বিবীজপত্রী বীজ বলে। যেমন- ছোলা, মটর, কুমড়া, আম প্রভৃতি।
৩। বহুবীজপত্রী বীজঃ যে বীজে তিন বা ততোধিক বীজপত্র থাকে তাকে বহুবীজপত্রী বীজ বলে। যেমন- পাইন, সাইকাস প্রভৃতি।
৪। সস্যল বীজঃ যে বীজে সস্য সঞ্চিত থাকে তাকে সস্যল বীজ বলে। যেমন- ধান, গম, ভূট্রা, পাট, শালুক প্রভৃতি।
৫। অসস্যল বীজঃ যে বীজে সস্য সঞ্চিত থাকে না তাকে অসস্যল বীজ বলে। যেমন- আম, ছোলা, ওল, মটর প্রভৃতি।

ফল । ফলের প্রকারভেদ আলোচনা । Friut

১। প্রকৃত ফলঃ ফুলের গর্ভাশয় থেকে যে ফল সৃষ্টি হয় তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন- আম, জাম, লিচু, পেয়ারা।
২। অপ্রকৃত ফলঃ ফুলের গর্ভাশয় ব্যতীত অন্যান্য অংশ থেকে যে ফল সৃষ্টি হয় তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন- আপেল, চালতা, ডুমুর, কাঁঠাল, আনারস প্রভৃতি।
৩। একক ফলঃ একটি পুষ্প হতে একটি ফল সৃষ্টি হলে তাকে একক ফল বলে। যেমন- আম, জাম, লিচু, ধান।
৪। গুচ্ছ ফলঃ ফুলের প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিনত হলে তাকে গুচ্ছ ফল বলে। যেমন- আতা, স্ট্রবেরী প্রভৃতি।
৫। যৌগিক ফলঃ একটি সম্পূর্ণ পুষ্পবিন্যাস থেকে একটি ফল সৃষ্টি হলে তাকে যৌগিক ফল বলে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর প্রভৃতি।
৬। বিদারী ফলঃ যে ফলের ত্বক শুষ্ক এবং ফলত্বক বিদারিত হয়ে বীজ বের হয়ে যায় তাকে বিদারী ফল বলে। যেমন- মটর, শিম প্রভৃতি।
৭। অবিদারী ফলঃ যে সব ফল রসালো এবং ফলত্বক বিদারিত হয় না তাকে অবিদারী ফল বলে। যেমন- আম, জাম, ধান, লিচু প্রভৃতি।
৮। ক্যাপসুলঃ ক্যাপসুল একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে কয়েকটি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে ক্যাপসিউল বলে। যেমন- ঢেঁড়স, ধুতুরা, পাট, কার্পাস প্রভৃতি।
৯। সিলিকুয়াঃ সিলিকুয়া একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে নিচ থেকে উপরের দিকে দু’টি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে সিলিকুয়া বলে। যেমন- সরিষা, মুলা প্রভৃতি।
১০। লিগিউমঃ লিগিউম একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে দু’টি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে লিগিউম বলে। যেমন- মটর, শিম প্রভৃতি।
১১। লোমেন্টামঃ লোমেন্টাম হলো শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে অনুপ্রস্থে কয়েকটি অংশে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে লোমেন্টাম বলে। যেমন- বাবলা, লজ্জাবতী ইত্যাদি।
১২। ক্যারিওপসিসঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফলের ফলত্বক ও বীজত্বক এক সাথে যুক্ত থাকলে তাকে ক্যারিওপসিস বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্রা প্রভৃতি।
১৩। নাটঃ নাট হলো নিরস বিদারী ফল। এর ফলত্বক স্থুল ও কাষ্ঠল। যেমন- গর্জন, কাজু বাদাম, সুপারী প্রভৃতি।
১৪। ড্রুপঃ ড্রুপ হলো সরস অবিদারী ফল। ফলত্বক খোসা গঠন করে এবং একটি মাত্র বীজ থাকে। এর বহিঃত্বক পাতলা, মধ্যঃত্বক রসালো ও পুরু এবং অন্তঃত্বক কাষ্ঠল। যেমন- নারিকেল, আম, আমড়া, কুল প্রভৃতি।
১৫। সাইজোকার্পঃ সাইজোকার্প হলো একটি শুষ্ক অবিদারী ফল। যেমন- ধনে, গাজর, লজ্জাবতী প্রভৃতি।
১৬। বেরীঃ বেরী হলো সরস অবিদারী ফল। ফলত্বক রসালো হয় এবং ফলে অসংখ্য বীজ থাকে। যেমন- টমেটো, বেগুন, কলা, পেয়ারা প্রভৃতি।
১৭। হেসপেরিডিয়ামঃ হেসপেরিডিয়াম একটি সরস অবিদারী বহুপ্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফল। ফলত্বক রসালো হয় এবং অন্তঃত্বক কতকগুলো কোয়া গঠন করে। যেমন- কমলা, বাতাবীলেবু প্রভৃতি।
১৮। পেপোঃ পেপো হলো সরস অবিদারী ফল। বহিঃত্বক রসালো ও স্থুল হয় এবং বীজ অমরার সাথে যুক্ত থাকে। যেমন- শশা, লাউ, কুমড়া প্রভৃতি।
১৯। সরোসিসঃ সরোসিস হলো রসালো যৌগিক ফল। পুষ্পবিন্যাসের সকল ফুল মিলে একটি মাত্র ফল গঠন করে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল প্রভৃতি।
২০। গুচ্ছিত ফলঃ একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয় থেকে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হলে তাকে গুচ্ছিত ফল বলে। যেমন- আতাফল।
২১। সিপসেলাঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফলে একটি মাত্র বীজ থাকে। এর ফলত্বক ও বীজত্বক পৃথক থাকে। যেমন- গাঁদা, সূর্যমুখী প্রভৃতি।
২২। পোমঃ ফলটি রসালো এবং একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। ফলের বহিঃত্বক, মধ্যত্বক এবং পুষ্পাক্ষ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- আপেল, নাসপতি প্রভৃতি।
২৩। পার্থেনোকার্পিক ফলঃ নিষেক ছাড়াই সৃষ্ট বীজবিহীন ফলকে পার্থেনোকার্পিক ফল বলে। যেমন- কলা, আঙ্গুর।