নিষেক ছাড়াই সৃষ্ট বীজবিহীন ফলকে পার্থেনোকার্পিক ফল বলে। যেমন- কলা, আঙ্গুর।
সরোসিস । সরোসিস ফল কী
সরোসিস হলো রসালো যৌগিক ফল। পুষ্পবিন্যাসের সকল ফুল মিলে একটি মাত্র ফল গঠন করে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল প্রভৃতি।
পেপো । পেপো ফল কী
পেপো হলো সরস অবিদারী ফল। বহিঃত্বক রসালো ও স্থুল হয় এবং বীজ অমরার সাথে যুক্ত থাকে। যেমন- শশা, লাউ, কুমড়া প্রভৃতি।
হেসপেরিডিয়াম । হেসপেরিডিয়াম ফল কী
হেসপেরিডিয়াম একটি সরস অবিদারী বহুপ্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফল। ফলত্বক রসালো হয় এবং অন্তঃত্বক কতকগুলো কোয়া গঠন করে। যেমন- কমলা, বাতাবীলেবু প্রভৃতি।
ক্যারিওপসিস । ক্যারিওপসিস ফল কী
এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফলের ফলত্বক ও বীজত্বক এক সাথে যুক্ত থাকলে তাকে ক্যারিওপসিস বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্রা প্রভৃতি।
লোমেন্টাম । লোমেন্টাম ফল কী
লোমেন্টাম হলো শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে অনুপ্রস্থে কয়েকটি অংশে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে লোমেন্টাম বলে। যেমন- বাবলা, লজ্জাবতী ইত্যাদি।
লিগিউম । লিগিউম ফল কী
লিগিউম একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে দু’টি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে লিগিউম বলে। যেমন- মটর, শিম প্রভৃতি।
সিলিকুয়া । সিলিকুয়া ফল কী
সিলিকুয়া একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে নিচ থেকে উপরের দিকে দু’টি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে সিলিকুয়া বলে। যেমন- সরিষা, মুলা প্রভৃতি।
ক্যাপসুল । ক্যাপসুল ফল কী
ক্যাপসুল একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে কয়েকটি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে ক্যাপসিউল বলে। যেমন- ঢেঁড়স, ধুতুরা, পাট, কার্পাস প্রভৃতি।
অমরাবিন্যাস কী । প্লাসেন্টেশন কী । অমরাবিন্যাস বা প্লাসেন্টেশন এর প্রকারভেদ । Placentation । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গর্ভাশয়ের ভিতরে যে টিস্যু থেকে ডিম্বক সৃষ্টি হয় তাকে অমরা বা প্লাসেন্টা বলে। গর্ভাশয়ের ভিতরে অমরা গুলো যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অমরাবিন্যাস বলে। বিভিন্ন ধরনের অমরাবিন্যাস হলো-
১। প্রান্তীয় বা মার্জিনালঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো যে কোন এক প্রান্তে যুক্ত থাকলে তাকে প্রান্তীয় বা মার্জিনাল (Marginal) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- মটরশুটি, শিম, অপরাজিতা প্রভৃতি।
২। অক্ষীয় বা অ্যাক্সাইলঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো অক্ষের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে অক্ষীয় বা অ্যাক্সাইল (Axile) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- জবা, বেগুন, ধুতুরা, রজনীগন্ধা, ঢেঁড়স, কলা প্রভৃতি।
৩। মুক্তমধ্য/ফ্রি সেন্ট্রালঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরা গুলো মধ্যঅক্ষের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে মুক্তমধ্য বা ফ্রি সেন্ট্রাল (free central) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- বনধনিয়া, তুঁত, নুনিয়া শাক, ডায়ান্থাস প্রভৃতি।
৪। বহুপ্রান্তীয় বা প্যারাইটালঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো প্রান্তে যুক্ত থাকলে তাকে বহুপ্রান্তীয় বা প্যারাইটাল (Paraietal) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- শসা, লাউ, সরিষা, কুমড়া, পেঁপে প্রভৃতি।
৫। মূলীয় বা বেসালঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো গর্ভাশয়ের গোড়ায় যুক্ত থাকলে তাকে মূলীয় বা বেসাল (Basal) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- ধান, সূর্যমুখী, গাদা, ত্রিধারা প্রভৃতি।
৬। শীর্ষক বা এপিক্যালঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো গর্ভাশয়ের শীর্ষে যুক্ত থাকলে তাকে শীর্ষক বা এপিক্যাল (Apical) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- ধনিয়া, লালপাতা, ক্রোটন প্রভৃতি।
৭। গাত্রীয় বা সুপারফিশিয়ালঃ একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়ে অমরাগুলো গর্ভাশয়ের গাত্রে যুক্ত থাকলে তাকে গাত্রীয় বা সুপারফিশিয়াল (Superficial) অমরাবিন্যাস বলে। যেমন- শাপলা, শালুক, পদ্ম, শিয়ালকাঁটা প্রভৃতি।