অমরাবিন্যাস কী । প্লাসেন্টেশন কী । Placentation কী

গর্ভাশয়ের ভিতরে যে টিস্যু থেকে ডিম্বক সৃষ্টি হয় তাকে অমরা বা প্লাসেন্টা বলে। গর্ভাশয়ের ভিতরে অমরা গুলো যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অমরাবিন্যাস বলে।

পরাগধানী । পরাগধানীর প্রকারভেদ । Anther । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। পাদলগ্ন পরাগধানীঃ যে পরাগধানীর পাদদেশে পুংদন্ড যুক্ত থাকে তাকে পাদলগ্ন পরাগধানী বলে।
২। পৃষ্ঠলগ্ন পরাগধানীঃ যে পরাগধানীর পৃষ্ঠদেশে পুংদন্ড যুক্ত থাকে তাকে পৃষ্ঠলগ্ন পরাগধানী বলে।
৩। পার্শ্বলগ্ন পরাগধানীঃ যে পরাগধানীর সমগ্র পৃষ্ঠদেশে পুংদন্ড যুক্ত থাকে তাকে পার্শ্বলগ্ন পরাগধানী বলে।
৪। সর্বমুখ পরাগধানীঃ যে পরাগধানী এদিক সেদিক দুলতে থাকে এবং সর্বদিকে মুখ করে অবস্থান করে তাকে সর্বমুখ পরাগধানী বলে। যেমন- ধান।
৫। দললগ্ন পরাগধানীঃ পুংকেশর পাপড়ীর সাথে সংযুক্ত থাকলে তাকে দললগ্ন পরাগধানী বলে। যেমন-ধুতুরা, বেগুন।
৬। বৃক্কাকার পরাগধানীঃ পরাগধানী দেখতে বৃক্কের মতো হলে তাকে বৃক্কাকার পরাগধানী বলে। জবা, কার্পাস প্রভৃতি।
৭। রেখাকার পরাগধানীঃ পরাগধানী সরু ও লম্বা হলে তাকে রেখাকার পরাগধানী বলে।

পুষ্পপত্রবিন্যাস কী । এস্টিভেশন কী । Aestivation । এস্টিভেশন আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে পুষ্পপত্রবিন্যাস বা এস্টিভেশন বলে। এস্টিভেশন কয়েক প্রকার হতে পারে। এগুলো হলো

১। ওপেন বা মুক্তঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর মুক্ত অবস্থায় থাকলে তাকে ওপেন এস্টিভেশন বলে। যেমনজবার উপবৃতি, গন্ধরাজের বৃতি প্রভৃতি।

২। ভালভেট বা প্রান্তস্পর্শীঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর প্রান্ত দ্বারা যুক্ত থাকলে তাকে ভালভেট বা প্রান্তস্পর্শী বলে। যেমনজবা ফুলের বৃতি, আকন্দ, বাবলা, আতা প্রভৃতি।

৩। টুইস্টেড বা পাকানোঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর মোড়ানো বা পাকানো অবস্থায় থাকলে তাকে টুইস্টেড বা পাকানো বলে। যেমনজবা, করবী প্রভৃতি।

৪। ইমব্রিকেটঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে একটির উভয় প্রান্ত বাইরে, একটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকি গুলো মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে ইমব্রিকেট বলে। যেমনকৃঞ্চচূড়া, কালকাসুন্দা, বাদরলাঠি প্রভৃতি।

৫। কুইনকানসিয়ালঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে দুইটির উভয় প্রান্ত বাইরে, দুইটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকিটি মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে কুইনকানসিয়াল বলে। যেমনপেয়ারা, সরিষা, আকন্দ ইত্যাদি।

৬। ভেক্সিলারীঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি পাশের দুটিকে এবং পাশের দুটি নিচের ছোট তরীদল দুটিকে ঢেকে রাখে তাকে ভেক্সিলারী বলে। যেমনমটরশুটি, শিম, অপরাজিতা, অতসী, বকফুল ইত্যাদি।

৭। কনভ্যুলুটঃ মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো সংযুক্ত সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকলে তাকে কনভ্যুলুট বলে। যেমনভুঁই আকড়া।

কনভ্যুলুট । কনভ্যুলুট কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো সংযুক্ত ও সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকলে তাকে কনভ্যুলুট বলে। যেমন- ভুঁই আকড়া।

ভেক্সিলারী । ভেক্সিলারী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি পাশের দু’টিকে এবং পাশের দু’টি নিচের ছোট তরীদল দু’টিকে ঢেকে রাখে তাকে ভেক্সিলারী বলে। যেমন- মটরশুটি, শিম, অপরাজিতা, অতসী, বকফুল ইত্যাদি।

কুইনকানসিয়াল । কুইনকানসিয়াল কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে দুইটির উভয় প্রান্ত বাইরে, দুইটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকিটি মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে কুইনকানসিয়াল বলে। যেমন- পেয়ারা, সরিষা, আকন্দ ইত্যাদি।

ইমব্রিকেট । ইমব্রিকেট কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলোর মধ্যে একটির উভয় প্রান্ত বাইরে, একটির উভয় প্রান্ত ভিতরে এবং বাকি গুলো মোড়ানো অবস্থায় থাকলে তাকে ইমব্রিকেট বলে। যেমন-কৃঞ্চচূড়া, কালকাসুন্দা, বাদরলাঠি প্রভৃতি।

টুইস্টেড কী । পাকানো কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর মোড়ানো বা পাকানো অবস্থায় থাকলে তাকে টুইস্টেড বা পাকানো বলে। যেমন- জবা, করবী প্রভৃতি।

ভালভেট কী । প্রান্তস্পর্শী কী

মুকুল অবস্থায় ফুলের বৃত্যংশ অথবা দলমন্ডল গুলো পরস্পর প্রান্ত দ্বারা যুক্ত থাকলে তাকে ভালভেট বা প্রান্তস্পর্শী বলে। যেমন- জবা ফুলের বৃতি, আকন্দ, বাবলা, আতা প্রভৃতি।

পুষ্পবিন্যাস । পুষ্পবিন্যাস কী । পুষ্পবিন্যাসের প্রকারভেদ । Inflorescence । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পুষ্প গুলো শাখার উপর যে ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে পুষ্পবিন্যাস বলে। পুষ্পবিন্যাস দুই ধরনের। অনিয়ত বা রেসিমোস এবং নিয়ত বা সাইমোস

১। রেসিমোস (Racemose)ঃ অনিয়ত বর্ধনশীল মঞ্জরিদন্ডযুক্ত পুষ্পমঞ্জরিকে রেসিমোস বলে। বিভিন্ন ধরনের রেসিমোস হলো-

(i) রেসিমঃ মঞ্জরিদন্ড লম্বা ও অনিয়ত এবং পুষ্প অগ্রোন্মুখ ভাবে সজ্জিত থাকে। যেমন- সরিষা, তাল, আম, নিম, মূলা প্রভৃতি।

(ii) স্পাইকঃ মঞ্জরিদন্ড লম্বা ও অনিয়ত এবং অবৃন্তক পুষ্প মঞ্জরিদন্ডের সাথে যুক্ত থাকে। যেমন- রজনীগন্ধা।

(iii) স্পাইকলেটঃ মঞ্জরিদন্ড সংক্ষিপ্ত এবং অনেকটা স্পাইকের মতো হয়। এতে দুইটি শুকনা গ্লুম থাকে। একে শুন্য গ্লুম বলে। শুন্য গ্লুম-১ এবং শুন্য গ্লুম-২। দুইটি সপুষ্পক গ্লুম থাকে। লেমা এবং প্যালিয়া। পুষ্পক গ্লুম দু’টির মধ্যে নিচেরটিকে লেমা এবং উপরেরটিকে প্যালিয়া বলে। প্যালিয়ার উপরে পুষ্প থাকে। যেমন- ধান, গম, ভূট্রা, আখ, ঘাস প্রভৃতি।

(iv) ক্যাপিচুলামঃ মঞ্জরিদন্ড স্থুল, স্ফীত ও প্রশস্ত হয়ে পুষ্পাধার গঠন করে। পুষ্পাধারে দুই ধরনের পুষ্প থাকে। বাইরের দিকে রে-পুষ্পিকা এবং ভিতরের দিকে ডিস্ক-পুষ্পিকা। যেমন- গাঁদা, সূর্যমুখী, ডালিয়া, ত্রিধারা, কসমস।

(v) স্প্যাডিক্সঃ মঞ্জরীদন্ড খাটো ও রসালো। ফুল অবৃন্তক এবং একলিঙ্গ। মঞ্জরিদন্ডটি এক বা একাধিক বৃহদাকার স্প্যাথি দ্বারা আবৃত থাকে। যেমন- নারিকেল, কচু, কলা, সুপারি প্রভৃতি।

(vi) ক্যাটকিনঃ মঞ্জরিদন্ড সরু, লম্বা ও স্থিতিস্থাপক। ইহা কান্ড শীর্ষ থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকে। যেমন- মুক্তঝুরি।

(vii) করিম্বঃ মঞ্জরিদন্ডে অবস্থিত সকল ফুলের বৃন্ত সমান। তাই ফুলগুলো একই তলে অবস্থান করে। যেমন- কালকাসুন্দা।

(viii) আম্বেলঃ মঞ্জরিদন্ড খাটো এবং এর শীর্ষে সমবৃন্তক ফুল সৃষ্টি হয়। যেমন- ধনে, গাজর প্রভৃতি।

(ix) ক্যাপিটেটঃ মঞ্জরিদন্ড খাটো এবং এর শীর্ষে অবৃন্তক ফুল এমন ভাবে সাজানো থাকে যেন গোটা মঞ্জরি গোলাকার দেখায়। যেমন- লজ্জাবতী, বাবলা প্রভৃতি।

২। সাইমোস (Cymose)ঃ নিয়ত বর্ধনশীল মঞ্জরিদন্ডযুক্ত পুষ্পমঞ্জরিকে সাইমোস বলে। বিভিন্ন ধরনের সাইমোস হলো-

(i) ভার্টিসিল্যাস্টারঃ প্রতিমুখ পাতার কক্ষে অনেকগুলো পুষ্প আবর্তাকারে প্রস্ফুটিত হয়ে সম্পূর্ণ পর্বকে বেষ্টন করে রাখলে তাকে ভার্টিসিল্যাস্টার বলে। যেমন- শ্বেতদ্রোণ।

(ii) সায়াথিয়ামঃ সায়াথিয়ামে পুষ্পাধার সংক্ষিপ্ত এবং মঞ্জরিপত্রগুলো পরস্পর সংযুক্ত হয়ে পেয়ালাকৃতির ইনভোলুক্রি গঠন করে। পুষ্পাধারের মাঝখানে একটি মাত্র স্ত্রীপুষ্প এবং চারিদিকে পুংপুষ্প থাকে। যেমন- লালপাতা।

(iii) হাইপ্যানথোডিয়ামঃ প্রধান অক্ষ রুপান্তরিত হয়ে হুক্কার খোলের মতো গঠন সৃষ্টি করে যার মাথায় একটি ছিদ্র থাকে। অবৃন্তক ক্ষুদ্র পুংপুষ্পগুলো ছিদ্রের নিকটে এবং স্ত্রীপুষ্পগুলো তলদেশে অবস্থান করে। যেমন-বট, ডুমুর প্রভৃতি।