Pteris-এর জনুঃক্রম আলোচনা । Alternation of generation

কোন উদ্ভিদের জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট স্পোরোফাইট দশার পর্যায়ক্রমে আবির্ভাবকে জনুঃক্রম বলে। Pterisএর জীবনচক্রে দু’টি পর্যায় রয়েছে। গ্যামিটোফাইট দশা ও  স্পোরোফাইট দশা।

১। গ্যামিটোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় গ্যামিট তথা শুক্রাণু ডিম্বাণু সৃষ্টি হয় তাকে গ্যামিটোফাইট দশা বলে। স্পোরোফাইট উদ্ভিদে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর হলো গ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়। অংকুরিত স্পোরটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সবুজ, চ্যাপ্টা হৃৎপিন্ডাকার প্রোথ্যালাস গঠন করে। ফার্ন প্রোথ্যালাস হলো গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদ। এর অগ্রস্থ খাঁজের নিচে কলসি বা ফ্লাক্স আকৃতির স্ত্রী জননাঙ্গ আর্কিগোনিয়া এবং থ্যালাসের নিচের দিকে গোলাকার বা ডিম্বাকার পুং জননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। আর্কিগোনিয়ামের মধ্যে ডিম্বাণু এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে মধ্যে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যামিটোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।  

২। স্পোরোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় স্পোর সৃষ্টি হয় তাকে স্পোরোফাইট দশা বলে। গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদে শুক্রাণু ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হলো স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। জাইগোট প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে জাইগোস্পোরে পরিনত হয়। জাইগোস্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়। অংকুরিত জাইগোস্পোরটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে স্পোরোফাইট উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। স্পোরোফাইটের পাতার কিনারায় সোরাস জন্মে। সোরাসের ভিতরে স্পোরাঞ্জিয়া থাকে। স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে স্পোর উৎপন্ন করে। স্পোর উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেরোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।  

Pteris-এর জীবন চক্র । Life cycle of Pteris

উদ্ভিদের জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট দশা ও স্পোরোফাইট দশার পর্যায়ক্রমিক আবির্ভাবকে জনুঃক্রম বলে। টেরিস-এর জীবনচক্রে দু’টি  দশা বিদ্যমান। স্পোরোফাইট দশা এবং গ্যামিটোফাইট দশা।

১। স্পোরোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় স্পোর উৎপন্ন হয় তাকে স্পোরোফাইটিক দশা বলে। গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হলো স্পোরোফাইট দশার প্রথম কোষ। জাইগোট প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে উস্পোর বা জাইগোস্পোরে পরিনত হয়। জাইগোস্পোর অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়। অঙ্কুরিত জাইগোস্পোরটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজনের মাধ্যমে স্পোরোফাইট উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। স্পোরোফাইট উদ্ভিদের পাতার কিনারা বরাবর স্পোরাঞ্জিয়া সৃষ্টি হয়। প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতর ১৬টি করে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে স্পোর উৎপন্ন করে। এই অবস্থাকে টেট্রাড বলে। ফলে প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামে ৬৪টি করে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর পরিনত হলে স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রাচীর বিদীর্ণ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। স্পোর উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পোরোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।

২। গ্যামিটোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় গ্যামিট তথা শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় তাকে গ্যামিটোফাইটিক দশা বলে। স্পোরোফাইট উদ্ভিদে স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর হলো গ্যামিটোফাইট দশার প্রথম কোষ। স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে ৪-৬ কোষ বিশিষ্ট প্রোটোনেমা গঠন করে। প্রোটোনেমার দুই পাশের কোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজনের মাধ্যমে সবুজ বর্ণের হৃৎপিন্ডাকার প্রোথ্যালাস সৃষ্টি করে। Pteris-হলো সহবাসী উদ্ভিদ। এদের অগ্রস্থ খাঁজের নিচে কলসী বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির আর্কিগোনিয়া এবং থ্যালাসের নিচের দিকে গোলাকার বা ডিম্বাকার অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। প্রতিটি আর্কিগোনিয়ামের মধ্যে একটি করে ডিম্বাণু এবং অ্যান্থেরিডিয়ামের মধ্যে ২০-৫০টি করে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যামিটোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।

জাইগোট অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে স্পোরোফাইট গঠন করে। স্পোরোফাইটে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর অংকুরিত হয়ে আবার গ্যামিটোফাইট গঠন করে। এভাবে স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট দশার পর্যায়ক্রমে আবির্ভাব ঘটে।

Pteris এর যৌন জনন । Sexual reproduction । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ফার্ন প্রোথ্যালাস হলো সহবাসী উদ্ভিদ। অর্থাৎ পুংজননাঙ্গ এবং স্ত্রীজননাঙ্গ একই থ্যালাসে উৎপন্ন হয়। এর যৌনজনন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো।

(i) শুক্রাণু সৃষ্টিঃ অ্যান্থেরিডিয়ামের ভিতরে ২০-৫০টি শুক্রাণু মাতৃকোষ বা অ্যান্ড্রোসাইট কোষ থাকে। প্রতিটি শুক্রাণু মাতৃকোষ প্যাচানো বহু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শুক্রাণুতে পরিনত হয়। শুক্রাণু অ্যান্থেরিডিয়ামের শীর্ষভাগের ঢাকনা কোষ বিদীর্ণ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।

(ii) ডিম্বাণু সৃষ্টিঃ আর্কিগোনিয়ামের ভিতরে কয়েকটি গ্রীবা নালিকা কোষ, একটি উদরীয় নালিকা কোষ এবং একটি বৃহদাকার ডিম্বাণু কোষ থাকে। ডিম্বাণু কোষটি ডিম্বাণুতে পরিনত হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iii) নিষেকঃ পরিনত আর্কিগোনিয়ামের নালি পথ মিউসিলেজ এবং ম্যালিক এসিড দ্বারা পূর্ণ থাকে। বৃষ্টির পানি বা শিশির বিন্দুর সাহায্যে শুক্রাণু আর্কিগোনিয়ামে পৌছে। আর্কিগোনিয়ামের ম্যালিক এসিড শুক্রাণুকে আকৃষ্ট করে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iv) অংকুরোদগমঃ জাইগোট প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে উস্পোরে পরিনত হয়। উস্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয় এবং মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে নতুন স্পোরোফাইট গঠন করে।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ফার্ন প্রোথ্যালাস কী। গ্যামিটোফাইট বা ফার্ন প্রোথ্যালাসের গঠন । Fern prothalus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ফার্ন স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে ৪-৬ কোষ বিশিষ্ট প্রোটোনেমা গঠন করে। প্রোটোনেমার দুই পাশের কোষ বার বার বিভাজিত হয়ে যে সবুজ, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ, চ্যাপ্টা ও বহুকোষী হৃৎপিন্ডাকার গঠন সৃষ্টি করে তাকে ফার্ন প্রোথ্যালাস বলে। ফার্ন প্রোথ্যালাসের গঠন বর্ণনা করা হলো।
১। থ্যালাসঃ ফার্ন প্রোথ্যালাস হলো গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ। এর দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না। অর্থাৎ এরা থ্যালাস আকৃতির। থ্যালাস সবুজ, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ, চ্যাপ্টা, বহুকোষী ও হৃৎপিন্ডাকার। এর অগ্রভাগে একটি বড় খাঁজ থাকে। একে অগ্রস্থ খাঁজ বলে। প্রোথ্যালাস সবুজ হওয়ায় সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করতে পারে।
২। রাইজয়েডঃ থ্যালাসের নিম্নতল হতে সরু, সূত্রাকার, শাখা-প্রশাখাবিহীন, বর্ণহীন ও এককোষী রাইজয়েড উৎপন্ন হয়। রাইজয়েড দুই ধরনের। মসৃণ ও অমসৃণ রাইজয়েড। রাইজয়েড থ্যালাসকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ করে।
৩। স্কেলঃ থ্যালাসের নিম্নাংশ হতে সরু, সুত্রাকার, শাখা-প্রশাখাবিহীন, বর্ণহীন ও বহুকোষী স্কেল উৎপন্ন্ হয়। ইহা থ্যালাসকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ করে। স্কেল থ্যালাসকে প্রতিকূল পরিবেশে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।
৪। জননাঙ্গঃ Pteris-হলো সহবাসী উদ্ভিদ। এদের পুংজননাঙ্গ ও স্ত্রীজননাঙ্গ একই থ্যালাসে অবস্থান করে। এর পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়াম এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়াম বলে।
(i) অ্যান্থেরিডিয়ামঃ থ্যালাসের নিচের দিকে গোলাকার বা ডিম্বাকার কতক গুলো পুংজননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। এর গোড়ায় দুইটি বলয় কোষ এবং একটি ঢাকনা কোষ থাকে। অ্যান্থেরিডিয়ামের ভিতরে ২০-৫০টি শুক্রাণু মাতৃকোষ বা অ্যান্ড্রোসাইট থাকে। প্রতিটি শুক্রাণু মাতৃকোষ প্যাচানো বহু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শুক্রাণুতে পরিনত হয়।
(ii) আর্কিগোনিয়ামঃ অগ্রস্থ খাঁজের নিচে কলসী বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির কতক গুলো স্ত্রীজননাঙ্গ আর্কিগোনিয়া জন্মে। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। গ্রীবা এবং উদর। গ্রীবা সামান্য বাঁকানো এবং কয়েকটি গ্রীবা নালিকা কোষ দ্বারা গঠিত। উদরে একটি ডিম্বাণু এবং একটি উদরীয় নালিকা কোষ থাকে। পরিনত আর্কিগোনিয়ামের গ্রীবা নালিকা কোষ এবং উদরীয় নালিকা কোষ গলে গিয়ে একটি নালি পথ গঠন করে। নালি পথটি মিউসিলেজ এবং ম্যালিক এসিড দ্বারা পূর্ণ থাকে।

ফার্ন প্রোথ্যালাসের বৈশিষ্ট্য

১। এটি সবুজ এবং হৃৎপিন্ডাকার।

২। থ্যালাসের উপরের দিকে অগ্রস্থ খাজ বিদ্যমান।

৩। থ্যালাসের নিম্নাংশ থেকে রাইজয়েড সৃষ্টি হয়েছে।

৪। থ্যালাসে পুংজননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়াম এবং স্ত্রীজননাঙ্গ আর্কিগোনিয়াম রয়েছে।

ফার্ন প্রোথ্যালাস কী । Fern prothalus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ফার্ন স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে ৪-৬ কোষ বিশিষ্ট প্রোটোনেমা গঠন করে। প্রোটোনেমার দুই পাশের কোষ বার বার বিভাজিত হয়ে যে সবুজ, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ, চ্যাপ্টা ও বহুকোষী হৃৎপিন্ডাকার গঠন সৃষ্টি করে তাকে ফার্ন প্রোথ্যালাস বলে।

Pteris-এর অযৌন জনন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Pteris-এর পত্রকের নিচের দিকে কিনারা বরাবর স্পোরাঞ্জিয়া উৎপন্ন হয়। স্পোরাঞ্জিয়া গুলো মিলে বাদামী বর্ণের বৃক্কাকার সোরাস গঠন করে। স্পোরাঞ্জিয়ামের উপরের অংশকে ক্যাপসিউল বলে। ক্যাপসিউলের ভিতরে স্পোরোজেনাস কোষ থাকে। স্পোরোজেনাস কোষ হতে ১৬টি স্পোর মাতৃকোষ উৎপন্ন হয়। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ১৬টি স্পোর মাতৃকোষ থেকে ৬৪টি স্পোর সৃষ্টি হয়। পরিনত স্পোর গাঢ় বাদামী বর্ণের এবং একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। ইহা দ্বি-স্তরী এবং জার্মপোর যুক্ত। স্পোর উৎপন্ন হলে স্পোরাঞ্জিয়ামের পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং শুষ্ক হয়ে যায়। এতে অ্যানুলাসে টান পড়ে এবং স্টোমিয়াম আড়াআড়ি ভাবে ফেটে যায়। ফলে স্পোর বাইরে নির্গত হয়। স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদ গঠন করে।

Pteris-এর স্পোরাঞ্জিয়ামের গঠন । Structure of Pteris Sporangium

Pterisএর পত্রকের নিচের দিকে কিনারা বরাবর প্লাসেন্টা বা অমরা হতে স্পোরাঞ্জিয়া উৎপন্ন হয়। স্পোরাঞ্জিয়া গুলো মিলে বাদামী বর্ণের বৃক্কাকার সোরাস গঠন করে। প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়াম দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।

১। বৃন্ত বা স্পোরাঞ্জিওফোরঃ প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামের গোড়ায় খাটো অংশ থাকে। একে বৃন্ত বা স্পোরাঞ্জিওফোর বলে।

২। ক্যাপসিউলঃ স্পোরাঞ্জিয়ামের উপরের অংশকে ক্যাপসিউল বলে। ক্যাপসিউলের অংশ হলো-

(i) অ্যানুলাসঃ ক্যাপসিউলের প্রাচীরে কাইটিন নির্মিত যে পুরু আবরণী থাকে তাকে অ্যানুলাস বলে। ইহা একস্তর বিশিষ্ট, স্থিতিস্থাপক এবং পানিগ্রাহী।

(ii) স্টোমিয়ামঃ ক্যাপসিউলের প্রাচীরে পাতলা আবরণী বিশিষ্ট যে বলয় থাকে তাকে স্টোমিয়াম বলে। ইহা স্পোর নির্গমণে সাহায্য করে।

(iii) স্পোরঃ ক্যাপসিউলের ভিতরে স্পোরোজেনাস কোষ থাকে। স্পোরোজেনাস কোষ হতে ১৬টি স্পোর মাতৃকোষ উৎপন্ন হয়। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৪টি করে স্পোর সৃষ্টি করে। অর্থাৎ ১৬টি স্পোর মাতৃকোষ থেকে ৬৪টি স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর গুলো গাঢ় বাদামী বর্ণের, দ্বিস্তরী এবং জার্মপোরযুক্ত। স্পোরগুলো সমরেণুপ্রসু বা হোমোস্পোরাস।

Pteris-এর অভ্যন্তরীণ গঠন। Pteris Internal structure

১। কান্ড বা রাইজোমের গঠন

(i) এপিডার্মিসঃ রাইজোমের বাইরের স্তরকে এপিডার্মিস বা বহিঃত্বক বলে। ইহা একস্তর বিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।

(ii) হাইপোডার্মিসঃ এপিডার্মিসের ভিতরের স্তরকে হাইপোডার্মিস বা অধঃত্বক বলে। ইহা দুইটি স্তরে সজ্জিত। স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।

(iii) কর্টেক্সঃ হাইপোডার্মিসের ভিতরের স্তরকে কর্টেক্স বলে। ইহা বহুস্তর বিশিষ্ট। ইহা প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। এতে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে না।

(iv) ভাস্কুলার বান্ডলঃ কর্টেক্সে একাধিক ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। এর ভাস্কুলার বান্ডল হ্যাড্রোসেন্ট্রিক অর্থাৎ জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং এর চারিদিকে ফ্লোয়েম থাকে।

২। র‌্যাকিসের গঠন

(i) এপিডার্মিসঃ র‌্যাকিসের বাইরের স্তরকে এপিডার্মিস বা বহিঃত্বক বলে। ইহা একস্তর বিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।

(ii) হাইপোডার্মিসঃ এপিডার্মিসের ভিতরের স্তরকে হাইপোডার্মিস বা অধঃত্বক বলে। ইহা স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।

(iii) কর্টেক্সঃ হাইপোডার্মিসের ভিতরের স্তরকে কর্টেক্স বলে। ইহা বহুস্তর বিশিষ্ট। কর্টেক্সে অশ্বক্ষুরাকৃতির স্টিলি বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে। এর ভাস্কুলার বান্ডল হ্যাড্রোসেন্ট্রিক অর্থাৎ জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং এর চারিদিকে ফ্লোয়েম থাকে।

৩। পিনা বা পত্রকের গঠন

(i) উর্ধ্বত্বকঃ পত্রকের উপরের স্তরকে উর্ধ্বত্বক বলে। ইহা একসারি কোষ দ্বারা গঠিত। উর্ধ্বত্বকে কিউটিকল থাকে।

(ii) নিম্নত্বকঃ নিম্নত্বক একসারি কোষ দ্বারা গঠিত। নিম্নতলে কিনারা বরাবর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্পোরাঞ্জিয়া থাকে। স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর উৎপন্ন হয়। নিম্নœত্বকে পত্ররন্ধ্র থাকে।

(iii) মেসোফিল টিস্যুঃ উভয় ত্বকের মাঝখানে মেসোফিল টিস্যু থাকে। ইহা স্পঞ্জি ও প্যালিসেড প্যারেনকাইমা দ্বারা গঠিত। প্যারেনকাইমা কোষগুলো ক্লোরোফিলযুক্ত ও বায়ু গহ্বরবিশিষ্ট। এর স্টিলি হ্যাড্রোসেন্ট্রিক।

Pteris-এর পিনা বা পত্রকের গঠন

(i) উর্ধ্বত্বকঃ পত্রকের উপরের স্তরকে উর্ধ্বত্বক বলে। ইহা একসারি কোষ দ্বারা গঠিত। উর্ধ্বত্বকে কিউটিকল থাকে।

(ii) নিম্নত্বকঃ নিম্নত্বক একসারি কোষ দ্বারা গঠিত। নিম্নতলে কিনারা বরাবর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্পোরাঞ্জিয়া থাকে। স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর উৎপন্ন হয়। নিম্নœত্বকে পত্ররন্ধ্র থাকে।

(iii) মেসোফিল টিস্যুঃ উভয় ত্বকের মাঝখানে মেসোফিল টিস্যু থাকে। ইহা স্পঞ্জি ও প্যালিসেড প্যারেনকাইমা দ্বারা গঠিত। প্যারেনকাইমা কোষগুলো ক্লোরোফিলযুক্ত ও বায়ু গহ্বরবিশিষ্ট। এর স্টিলি হ্যাড্রোসেন্ট্রিক।