জীবন্ত নগ্নবীজী উদ্ভিদকে ৪টি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
১। জিঙ্কগোফাইটা (Ginkgophyta)ঃ জিঙ্কগোফাইটা বিভাগের একমাত্র প্রজাতি Ginkgo biloba জীবিত আছে। এটি বিশে^র সবচেয়ে প্রাচীন বীজযুক্ত উদ্ভিদ যা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীতে টিকে আছে। এদের পাতা বৃহদাকৃতির এবং দেখতে পাখার মতো। এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত এবং গতিশীল। এসব উদ্ভিদ ভীষণভাবে পরিবেশ দূষণ করে। এরা রোগ ও পোকা-মাকড় প্রতিরোধী।ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
২। সাইকাডোফাইটা (Cycadophyta)ঃ সাইকাডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদকে সাইকাড বলা হয়। ২০০ মিলিয়ন বছর পূর্বের এই বিভাগটি বর্তমানে ১০০টি প্রজাতি নিয়ে টিকে আছে। এরা পাম বৃক্ষ জাতীয় কাষ্ঠল উদ্ভিদ। এদের পাতা চর্মবৎ পালক সদৃশ্য। এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত। এরা বিষুবীয় অঞ্চলে বিস্তৃত। শুষ্ক অনার্দ্র এবং জলাভূমির আর্দ্র পরিবেশে এরা জন্মে। সাইকাডোফাইটা বিভাগ তিনটি বর্গ নিয়ে গঠিত। Cycadofilicales, Bennettitales ও Cycadales। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নগ্নবীজী উদ্ভিদ হলো জামিয়া (Zamia pygmaea) সাইকাড।ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
৩। কনিফেরোফাইটা (Coniferophyta)ঃ কনিফেরোফাইটা বিভাগে ৬টি গোত্রের ৫৫০টি প্রজাতি আছে। শীতপ্রধান উত্তর গোলার্ধে কনিফার বন রয়েছে। রাশিয়াতে কনিফার বন আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ কনিফার বনাঞ্চল সাইবেরিয়ায় অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ বায়োম। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বৃক্ষ ব্রিসলকোন পাইন। এর বয়স ৫০০০ বছর। এটি নাভানা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পাওয়া যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ হাইপেরিয়ান (সেকুয়া, Sequoia sempervirens) এর উচ্চতা ± ৪০০ ফুট এবং কোস্ট রেডউড (সেকুয়া, Sequoia gigantea) ৩২৪ ফুট।
৪। নিটোফাইটা (Gnetophyta)ঃ নিটোফাইটা বিভাগে প্রায় ৭০টি প্রজাতি আছে। আবৃতবীজী উদ্ভিদের সাথে এদের সর্বাধিক মিল রয়েছে। এদের পাতা আবৃতবীজী উদ্ভিদের মতো। এদের জাইলেমে ভেসেল থাকে এবং শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাবিহীন। Welwitschia উদ্ভিদের দুইটি পাতা থাকে এবং পুং কোন্ দেখতে ফুলের মতো (Welwitschia নামিবিয়া মরুভূমিতে পাওয়া যায়)। এই বিভাগের Ephedra উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক ঘটে। Ephedra উদ্ভিদ থেকে শ্বাসকষ্টের ওষুধ ইফেড্রিন পাওয়া যায়।ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
নিটোফাইটা (Gnetophyta)ঃ নিটোফাইটা বিভাগে প্রায় ৭০টি প্রজাতি আছে। আবৃতবীজী উদ্ভিদের সাথে এদের সর্বাধিক মিল রয়েছে। এদের পাতা আবৃতবীজী উদ্ভিদের মতো। এদের জাইলেমে ভেসেল থাকে এবং শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাবিহীন। Welwitschia উদ্ভিদের দুইটি পাতা থাকে এবং পুং কোন্ দেখতে ফুলের মতো (Welwitschia নামিবিয়া মরুভূমিতে পাওয়া যায়)। এই বিভাগের Ephedra উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক ঘটে। Ephedra উদ্ভিদ থেকে শ্বাসকষ্টের ওষুধ ইফেড্রিন পাওয়া যায়।
কনিফেরোফাইটা কী । Coniferophyta কী
কনিফেরোফাইটা বিভাগে ৬টি গোত্রের ৫৫০টি প্রজাতি আছে। শীতপ্রধান উত্তর গোলার্ধে কনিফার বন রয়েছে। রাশিয়াতে কনিফার বন আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ কনিফার বনাঞ্চল সাইবেরিয়ায় অবস্থিত এবং এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ বায়োম। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বৃক্ষ ব্রিসলকোন পাইন। এর বয়স ৫০০০ বছর। এটি নাভানা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পাওয়া যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ হাইপেরিয়ান (সেকুয়া, Sequoia sempervirens) এর উচ্চতা ± ৪০০ ফুট এবং কোস্ট রেডউড (সেকুয়া, Sequoia gigantea) ৩২৪ ফুট।
সাইকাডোফাইটা কী । Cycadophyta কী
সাইকাডোফাইটা বিভাগের উদ্ভিদকে সাইকাড বলা হয়। ২০০ মিলিয়ন বছর পূর্বের এই বিভাগটি বর্তমানে ১০০টি প্রজাতি নিয়ে টিকে আছে। এরা পাম বৃক্ষ জাতীয় কাষ্ঠল উদ্ভিদ। এদের পাতা চর্মবৎ পালক সদৃশ্য। এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত। এরা বিষুবীয় অঞ্চলে বিস্তৃত। শুষ্ক অনার্দ্র এবং জলাভূমির আর্দ্র পরিবেশে এরা জন্মে। সাইকাডোফাইটা বিভাগ তিনটি বর্গ নিয়ে গঠিত। Cycadofilicales, Bennettitales ও Cycadales। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নগ্নবীজী উদ্ভিদ হলো জামিয়া (Zamia pygmaea) সাইকাড।
জিঙ্কগোফাইটা কী । Ginkgophyta কী
জিঙ্কগোফাইটা বিভাগের একমাত্র প্রজাতি Ginkgo biloba জীবিত আছে। এটি বিশে^র সবচেয়ে প্রাচীন বীজযুক্ত উদ্ভিদ যা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীতে টিকে আছে। এদের পাতা বৃহদাকৃতির এবং দেখতে পাখার মতো। এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত এবং গতিশীল। এসব উদ্ভিদ ভীষণভাবে পরিবেশ দূষণ করে। এরা রোগ ও পোকা-মাকড় প্রতিরোধী।
নগ্নবীজী উদ্ভিদের আবাসভূমি । Gymnosperm । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
নগ্নবীজী উদ্ভিদ সর্বদাই স্থলজ। এরা মরুজ বৈশিষ্ট্য বহন করে। পৃথিবীতে নগ্নবীজী উদ্ভিদের প্রায় ১২টি গোত্র, ৮৩টি গণ এবং ৭২১টি (কারও মতে ১০৮০টি) প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে নগ্নবীজী উদ্ভিদের ৫টি প্রজাতি জন্মে। Cycas pectinata চট্রগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ে, Podocarpus nerifolius (বাঁশপাতা) চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম ও সিলেটে জন্মে, Gnetum চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারে জন্মে এবং Pinus carribeana চট্রগ্রামে জন্মে। বাংলাদেশে Gnetum-এর ৩টি প্রজাতি জন্মে। Gnetum latifolium, Gnetum montenum এবং Gnetum oblongum। কয়েকটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ হলো- Pinus, Aurucaria, Cupressus, Thuja প্রভৃতি।
নগ্নবীজী উদ্ভিদের ইতিহাস । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১৮২৫ সালে রবার্ট ব্রাউন নগ্নবীজী উদ্ভিদকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ থেকে পৃথক করেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস সর্বপ্রথম Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে Gymnosperm ব্যবহার করেন। নগ্নবীজী উদ্ভিদ ৩০ কোটি বছর পূর্বে প্যালিওজোয়িক মহাযুগের ডেভোনিয়ান যুগে উৎপত্তি লাভ করে এবং মেসোজোয়িক যুগে সারা পৃথিবীব্যাপী বিস্তার লাভ করে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ হাইপেরিয়ান (সেকুয়া, Sequoia sempervirens) এবং জেনারেল শেরম্যান বা রেড উড ট্রি (সেকুয়া, Sequoia gigantea)। সবচেয়ে প্রাচীন বৃক্ষ ব্রিসলকোন পাইন হলো নগ্নবীজী উদ্ভিদ। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম নগ্নবীজী উদ্ভিদ হলো জামিয়া (Zamia pygmaea)।
নগ্নবীজী উদ্ভিদ কাকে বলে । Gymnosperm । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রিক শব্দ Gymnos অর্থ নগ্ন বা ব্যক্ত এবং sperm অর্থ বীজ নিয়ে Gymnosperm শব্দটি গঠিত। Gymnosperm শব্দের অর্থ নগ্নবীজী। যে সব উদ্ভিদের ফুল হয়, বীজ হয় এবং ফুলে গর্ভাশয় না থাকায় ফল উৎপন্ন হয় না, তাই বীজ নগ্ন বা ব্যক্ত থাকে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা স্পার্মাটোফাইটা বা সবীজ উদ্ভিদ। স্পার্মাটোফাইটাকে দুইটি উপগোষ্ঠীতে ভাগ করা হয়েছে। নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। জীবিত সকল নগ্নবীজী উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। নগ্নবীজী উদ্ভিদকে পূর্বে পুষ্পক উদ্ভিদ বলা হলেও বর্তমানে তা বলা হয় না। কারণ নগ্নবীজীর স্পোরোফিল এবং পুষ্পক উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে কোন মিল নাই।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
Pteridophyta এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব । Pteris এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব
১। মানুষের খাদ্যঃ Pteris–এর কচি পাতা সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়। স্টার্চযুক্ত ফার্নের কান্ড ও রাইজোম খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ঢেঁকি শাক ও শুষনি শাক একটি প্রিয় সবজি।
২। পশু খাদ্যঃ Pteris এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত Pteris ভক্ষণ করলে গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। এ জন্য অনেক সময় Pteris–কে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত আগাছা বলা হয়।
৩। জ্বালানীঃ বৃক্ষ জাতীয় ফার্নের জীবাশ্ম থেকে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় যা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়।
৪। ওষুধ তৈরী
(i) Lycopodium, Equisetum প্রভৃতি হলো ঔষধি ফার্ন। ইহা থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করা হয়।
(ii) ফার্ন থেকে ইউনানি হারবাল ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। এসব ওষুধ আলসার, বাতজ্বর, অন্ত্রের ক্ষত প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
(iii) ফার্নের কচি কান্ড কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়।
(iv) Marsilea থেকে প্রাপ্ত মারসিলিন স্নায়ুরোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়।
(v) Selaginella botryoides থেকে যকৃত রোগের ওষুধ তৈরী করা হয়।
(vi) Equisetum arvense থেকে প্রাপ্ত হার্বা ইকুইসিনি ওষুধ রক্ত বিশোধন এবং মূত্রনালির রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।
(vii) Equisetum debile থেকে গনোরিয়া রোগের ওষুধ তৈরী করা হয়।
৫। সৌন্দর্য বৃদ্ধিঃ বিভিন্ন অনুষ্ঠান, গৃহ সজ্জা, বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি প্রভৃতিতে ফার্ন উদ্ভিদের ব্যবহার দেখা যায়। ‘ক্রিসমাস গ্রিন’ নামে পরিচিত Lycopodium obscurum ক্রিসমাস উৎসবে সৌন্দর্যবর্ধক রুপে ব্যবহার হয়। Lycopodium, Selaginella প্রভৃতি গৃহসজ্জায় ব্যবহার হয়।
৬। রাসায়নিক পদার্থ তৈরীঃ ফার্ন থেকে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করা যায়। Dryopteris থেকে পটাশ এবং Equisetum থেকে সিলিকন পাওয়া যায়। সাবান ও কাঁচ তৈরীতে পটাশ ব্যবহার হয়।
৭। সার হিসেবেঃ টেরিসের কোন কোন প্রজাতি জমিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৮। আসবাবপত্র পালিশঃ কাঠের আসবাবপত্র পালিশে Equisetum ব্যবহার হয়।
৯। আতশবাজি তৈরীঃ Lycopodium এর রেণু দাহ্য এবং বর্ণময় আলোকছটা বিচ্ছুরণ করে। তাই একে ‘চকমকি উদ্ভিদ’ বলা হয়। চকমকি উদ্ভিদ আতশবাজি তৈরীতে ব্যবহার হয়।
১০। দুষণরোধেঃ Pteri মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিক শোষণ করে। তাই আর্সেনিকজনিত দুষণরোধে ইহা ব্যবহার করা যেতে পারে।
টেরিডোফাইটা থেকে ওষুধ তৈরী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) Lycopodium, Equisetum প্রভৃতি হলো ঔষধি ফার্ন। ইহা থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করা হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(ii) ফার্ন থেকে ইউনানি হারবাল ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। এসব ওষুধ আলসার, বাতজ্বর, অন্ত্রের ক্ষত প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(iii) ফার্নের কচি কান্ড কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়।
(iv) Marsilea থেকে প্রাপ্ত মারসিলিন স্নায়ুরোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়।
(v) Selaginella botryoides থেকে যকৃত রোগের ওষুধ তৈরী করা হয়।
(vi) Equisetum arvense থেকে প্রাপ্ত হার্বা ইকুইসিনি ওষুধ রক্ত বিশোধন এবং মূত্রনালির রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(vii) Equisetum debile থেকে গনোরিয়া রোগের ওষুধ তৈরী করা হয়।