বিভিন্ন ধরনের দাঁদ রোগ দাদরোগ বা রিং ওয়ার্ম বা ডার্মাটোফাইটোসিস নাম । Ring worm । Dermatophytosis । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স 

১। মাথার ত্বকে দাদ (Tinea Capitis) মাথার ত্বকে যে দাদ হয় তাকে টিনিয়া ক্যাপিটিস বলে। সংক্রমণ অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের বেশি ঘটে। আক্রান্ত স্থানের চুল পড়ে যায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

২। এথলেটস ফুট (Athlets Foot) হাত পায়ের ত্বকে যে দাদ হয় তাকে এথলেটস ফুট বলে। হাতের তালুর ভাঁজে, আঙ্গুলের পাশে এবং পায়ের মাঝে রোগের সংক্রমণ বেশি হয়। ত্বক শুষ্ক হয়, লালচে খসখসে হয় এবং খোসপাঁচড়ার মতো চুলকায়। মাঝে মাঝে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়।

৩। শরীরে দাদ (Tinea Corporis) শরীরের ত্বকে যে দাদ হয় তাকে টিনিয়া কর্পোরিস বলে। হাত, পা, পেট পিঠে লালচে রিং বা গোলাকার দাগ দেখা যায়। রিং এর কিনারা আঁইশের মতো এবং মাঝের অংশ পরিষ্কার।

৪। কুঁচকির দাদ (Tinea Cruris) কুঁচকির ত্বকে যে দাদ হয় তাকে টিনিয়া ক্রুরিস বলে। একে Jock Itch বলা হয়। যেসব পুরুষ বেশি ঘামে তাদের চর্মরোগ বেশি হয়। কুঁচকি চুলকায় এবং লাল ফুসকুড়ি দেখা যায়।

দাদ রোগের কারণ । Ring worm রোগের কারণ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Trichophyton rubrum, Trichophyton tonsurans, Trichophyton interdigitale, Trichophyton mentagrophytes, Microsporum canis I  Epidermophyton floccosum নামক ছত্রাকের কারণে মানুষের দাদ বা রিং ওয়ার্ম  রোগ হয়।

দাদরোগ বা রিং ওয়ার্ম রোগ সংক্রমণ বা বিস্তার । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

দাদ হলো ছোয়াচে রোগ। অতি সহজেই একদেহ থেকে অন্য দেহে বিস্তার লাভ করে। অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন শরীর, ঘামে ভেজা শরীর, দীর্ঘ সময় ভেজা শরীর, ত্বকে ক্ষতস্থান থাকলে সহজে রোগাক্রান্ত হয়। দাদ রোগে ছোট ছেলে-মেয়েরা বেশি আক্রান্ত হয়। এতিমখানা, হেফজখানা, হাসপাতাল অথবা অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক ছেলে বা মেয়ে বসবাস করলে সেখানে রোগটি দ্রæত বিস্তার লাভ করে। রোগীর গামছা, লুঙ্গি, প্যান্ট, শার্ট, চিরুনী, তোয়ালে, চাদর, বিছানা, থালা-বাসন প্রভৃতি দ্বারা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। পোষা প্রাণী দ্বারা রোগ ছড়ায়। উঞ্চু ও ভেজা স্থানে জীবাণুর সংক্রমণ বেশি হয়। জীবাণুর সুপ্তিকাল ৩-৫ দিন। রোগ সংক্রমণের ৩-৫ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। দেহের যেকোন স্থানে দাদরোগ হতে পারে। মুখমন্ডল ও হাতে রোগ লক্ষণ অধিক দেখা যায়। মাথার খুলিতে মারাত্বক হয়। উরু ও নখও আক্রান্ত হয়। উঞ্চ আর্দ্র পরিবেশে রোগটি দ্রæত বিস্তার লাভ করে।

দাদরোগ কী । রিং ওয়ার্ম কী । ডার্মাটোফাইটোসিস কী । Ring worm কী । Dermatophytosis কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

দাদ একটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক চর্মরোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে টিনিয়া বলে। Trichophyton ছত্রাকের কারণে হয় বলে রোগটিকে Trichophytina বা Trichophytosis বলা হয়। ছত্রাকের আক্রমণে ত্বকের কেরাটিন প্রোটিন ধ্বংস হয়ে লাল বৃত্তাকার দাদ রোগ সৃষ্টি করে। তাই এরা কেরাটিনোফিলিক ছত্রাক নামে পরিচিত। দাদ রোগের সংক্রমণকে ডারমাটোফাইটোসিস বলে। যেসব ছত্রাক দাদ রোগ সৃষ্টি করে তাদেরকে ডারমাটোফাইটস্ বলে। ত্বকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বৃত্তাকার এই উপসর্গের জন্য রিং ওয়ার্ম (ring worm) নামকরণ করা হয়েছে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার । Late blight। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

আলুর লেট ব্লাইট রোগের কারণঃ Phytophthora infestans ছত্রাকের কারণে আলুর লেট ব্লাইট রোগ হয়। (তবে Alternaria solani ছত্রাকের কারণে আলুর আর্লি ব্লাইট রোগ হয়)
লেট ব্লাইট রোগের বিস্তার
রোগাক্রান্ত আলু থেকে রোগের প্রাথমিক সংক্রমণ ঘটে। রোগাক্রান্ত আলু থেকে চারা গাছে সুপ্ত মাইসেলিয়াম উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ছত্রাকের মাইসেলিয়াম থেকে কনিডিওফোর উৎপন্ন হয়। কনিডিওফোরে কনিডিয়া সৃষ্টি হয়। কনিডিয়া পানি ও বাতাসের সাহায্যে বিস্তার লাভ করে এবং নতুন উদ্ভিদকে আক্রমণ করে।
এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, ওশেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, নিউক্যালিডোনিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। শীতকালে তাপমাত্রা খুব নিম্ন হলে বাংলাদেশে এ রোগের সম্ভাবনা থাকে।

Phytophthora infestans ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য
১। ছত্রাকের মাইসেলিয়াম বর্ণহীন সাদা তুলার মতো।
২ ছত্রাকের মাইসেলিয়াম অধিক শাখান্বিত এবং সিনোসাইটিক।
৩। এরা মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে বাস করে।
৪। পোষকদেহের আন্তঃকোষীয় ফাঁকে অবস্থান করে এবং হস্টোরিয়া দ্বারা খাদ্য শোষণ করে।
৫। স্পোরাঞ্জিওফোরের শাখায় লেবু আকৃতির স্পোরাঞ্জিয়াম উৎপন্ন হয়।
৬। স্পোরাঞ্জিয়ামে দ্বি-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত স্পোর উৎপন্ন হয়।
৭। কনিডিওফোরের প্রতিটি শাখার শীর্ষে একটি করে কনিডিয়াম উৎপন্ন হয়।
৮। কনিডিয়াগুলো ডিম্বাকার, পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট, দানাদার প্রোটোপ্লাজম এবং একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত।
৯। ইহা ডিপ্লয়েড প্রকৃতির ছত্রাক। এর কোষে ১১-১৩টি ক্রোমোসোম থাকে। এতে ২৪০ মিলিয়ন ক্ষারকযুগল এবং ১৮০০০ জিন রয়েছে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের লক্ষণ
১। পাতায় রোগের লক্ষণ
(i) পাতার আগা ও কিনারায় সবুজ-ধুসর বর্ণের দাগ দেখা যায়। দাগগুলো গোলাকার বা অসম আকৃতির।
(ii) দাগ গুলো বড় হয়, হালকা বাদামী বর্ণের হয় এবং শেষে লালচে কালো বা কালো বাদামী বর্ণ ধারণ করে।
(iii) পাতায় কালচে ভেজা দাগসহ পচন সৃষ্টি হয়।
(iv) আক্রান্ত স্থানে মখমলের মতো আস্তরণ সৃষ্টি হয়।
(v) পাতার নি¤œতলে সূত্রাকার মাইসেলিয়াম ও কনিডিওফোর দেখা যায়।
(vi) দাগ গুলো পাতার বোটা বা পত্রবৃন্তে বিস্তার লাভ করে।
(vii) রোগাক্রান্ত পাতা ঝলসে যাওয়ার মতো শুকিয়ে যায়।
(viii) টিউবারে শুষ্ক পচন (Dry rot) ধরে।
২। কান্ডে রোগের লক্ষণ
(i) মেঘলা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দাগ পাতা থেকে কান্ডে বিস্তার লাভ করে এবং গাছ ঢলে পড়ে।
(ii) ১২-২৫০ সে তাপমাত্রায় দাগ গাছের সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে।
(iii) আক্রমণ তীব্র হলে আক্রান্ত গাছ হতে পচা ডিমের ন্যায় দুর্গন্ধ বের হয়।
(iv) রোগাক্রান্ত গাছ মরে কালো হয়ে যায়।
৩। আলুতে রোগের লক্ষণ
(i) রোগাক্রান্ত আলু বা টিউবারে লালচে-বাদামী ছোপ দেখা যায়।
(ii) রোগাক্রান্ত আলুর খোসায় লালচে বাদামী কালো দাগ দেখা যায়।
(iii) টিউবারে আর্দ্র পচন ধরে।
(iv) টিউবারে শুষ্ক পচন (Dry rot) ধরে।
(v) আলু বা টিউবারের ফলন কমে যায়।
আলুর লেট ব্লাইট রোগের প্রতিকার
১। রোগ প্রতিরোধী জাতকে বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কুফরি সিন্দুরি, কুফরি চন্দ্রমুখী, কুফরি চমৎকার, RKM, অ্যাবানাকি, বেলচিপ, ব্যাক কিং, সুপেরিয়র প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধী আলুর জাত ব্যবহার করতে হবে।
২। রোগ মুক্ত এলাকা থেকে আলু বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
৩। বীজ আলু প্রখর রোদে শুকাতে হবে।
৪। উঁচু স্থানে আলুর চাষ করতে হবে।
৫। আলু গাছের গোঁড়ার মাটি উঁচু করে দিতে হবে।
৬। জমির মাটি বেশী ভেজা না থাকা।
৭। জমির আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৮। ১% বোর্দোমিশ্রণ বা কপার-লাইম দ্বারা জমির মাটি ভালভাবে শোধন করতে হবে।
৯। খোলামেলা জমিতে আলু চাষ করতে হবে এবং আলু গাছের সারির মাঝখানে ফাঁক রাখতে হবে।
১০। গাছ ৬-১০ সেমি হলে একবার, এরপর ১৫ দিন পর পর ডায়াথন এম-৪৫ ছিটাতে হবে।
১১। Bordeaux mixture, Mancozeb 0.2% ও Copper oxychloride দ্বারা রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
১২। সাইনক্স বা অ্যামোনিয়াম থায়োসায়ানেট ছিটিয়ে রোগাক্রান্ত পাতা ঝরিয়ে ফেলতে হবে।
১৩। শুকনো আবহাওয়ায় আলু সংগ্রহ করতে হবে।
১৪। আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে হবে। হিমাগারে ৫০ সে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
১৫। জমিতে সেচ ও নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
১৬। শস্য আবর্তন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে।
১৭। কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের প্রতিকার ।। Late blight ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। রোগ প্রতিরোধী জাতকে বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কুফরি সিন্দুরি, কুফরি চন্দ্রমুখী, কুফরি চমৎকার, RKM, অ্যাবানাকি, বেলচিপ, ব্যাক কিং, সুপেরিয়র প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধী আলুর জাত ব্যবহার করতে হবে।

২। রোগ মুক্ত এলাকা থেকে আলু বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

৩। বীজ আলু প্রখর রোদে শুকাতে হবে।

৪। উঁচু স্থানে আলুর চাষ করতে হবে।

৫। আলু গাছের গোঁড়ার মাটি উঁচু করে দিতে হবে।

৬। জমির মাটি বেশী ভেজা না থাকা।

৭। জমির আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

৮। ১% বোর্দোমিশ্রণ বা কপার-লাইম দ্বারা জমির মাটি ভালভাবে শোধন করতে হবে।

৯। খোলামেলা জমিতে আলু চাষ করতে হবে এবং আলু গাছের সারির মাঝখানে ফাঁক রাখতে হবে।

১০। গাছ ৬-১০ সেমি হলে একবার, এরপর ১৫ দিন পর পর ডায়াথন এম-৪৫ ছিটাতে হবে।

১১। Bordeaux mixture, Mancozeb 0.2% ও Copper oxychloride দ্বারা রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

১২। সাইনক্স বা অ্যামোনিয়াম থায়োসায়ানেট ছিটিয়ে রোগাক্রান্ত পাতা ঝরিয়ে ফেলতে হবে।

১৩। শুকনো আবহাওয়ায় আলু সংগ্রহ করতে হবে।

১৪। আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে হবে। হিমাগারে ৫০ সে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

১৫। জমিতে সেচ ও নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।

১৬। শস্য আবর্তন পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে।

১৭। কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের লক্ষণ । Late blight । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। পাতায় রোগের লক্ষণ

(i) পাতার আগা ও কিনারায় সবুজ-ধুসর বর্ণের দাগ দেখা যায়। দাগগুলো গোলাকার বা অসম আকৃতির।

(ii) দাগ গুলো বড় হয়, হালকা বাদামী বর্ণের হয় এবং শেষে লালচে কালো বা কালো বাদামী বর্ণ ধারণ করে।

(iii) পাতায় কালচে ভেজা দাগসহ পচন সৃষ্টি হয়।

(iv) আক্রান্ত স্থানে মখমলের মতো আস্তরণ সৃষ্টি হয়।

(v) পাতার নি¤œতলে সূত্রাকার মাইসেলিয়াম ও কনিডিওফোর দেখা যায়।

(vi) দাগ গুলো পাতার বোটা বা পত্রবৃন্তে বিস্তার লাভ করে।

(vii) রোগাক্রান্ত পাতা ঝলসে যাওয়ার মতো শুকিয়ে যায়।

(viii) টিউবারে শুষ্ক পচন (Dry rot) ধরে।

২। কান্ডে রোগের লক্ষণ

(i) মেঘলা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দাগ পাতা থেকে কান্ডে বিস্তার লাভ করে এবং গাছ ঢলে পড়ে।

(ii) ১২-২৫০ সে তাপমাত্রায় দাগ গাছের সমস্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

(iii) আক্রমণ তীব্র হলে আক্রান্ত গাছ হতে পচা ডিমের ন্যায় দুর্গন্ধ বের হয়।

(iv) রোগাক্রান্ত গাছ মরে কালো হয়ে যায়।

৩। আলুতে রোগের লক্ষণ

(i) রোগাক্রান্ত আলু বা টিউবারে লালচে-বাদামী ছোপ দেখা যায়।

(ii) রোগাক্রান্ত আলুর খোসায় লালচে বাদামী কালো দাগ দেখা যায়।

(iii) টিউবারে আর্দ্র পচন ধরে।

(iv) টিউবারে শুষ্ক পচন (Dry rot) ধরে।

(v) আলু বা টিউবারের ফলন কমে যায়।

Phytophthora  infestans ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ছত্রাকের মাইসেলিয়াম বর্ণহীন সাদা তুলার মতো।

২ ছত্রাকের মাইসেলিয়াম অধিক শাখান্বিত এবং সিনোসাইটিক।

৩। এরা মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে বাস করে।

৪। পোষকদেহের আন্তঃকোষীয় ফাঁকে অবস্থান করে এবং হস্টোরিয়া দ্বারা খাদ্য শোষণ করে।

৫। স্পোরাঞ্জিওফোরের শাখায় লেবু আকৃতির স্পোরাঞ্জিয়াম উৎপন্ন হয়।

৬। স্পোরাঞ্জিয়ামে দ্বি-ফ্ল্যাজেলাযুক্ত স্পোর উৎপন্ন হয়।

৭। কনিডিওফোরের প্রতিটি শাখার শীর্ষে একটি করে কনিডিয়াম উৎপন্ন হয়।

৮। কনিডিয়াগুলো ডিম্বাকার, পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট, দানাদার প্রোটোপ্লাজম এবং একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত।

৯। ইহা ডিপ্লয়েড প্রকৃতির ছত্রাক। এর কোষে ১১-১৩টি ক্রোমোসোম থাকে। এতে ২৪০ মিলিয়ন ক্ষারকযুগল এবং ১৮০০০ জিন রয়েছে।

লেট ব্লাইট রোগের বিস্তার। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রোগাক্রান্ত আলু থেকে রোগের প্রাথমিক সংক্রমণ ঘটে। রোগাক্রান্ত আলু থেকে চারা গাছে সুপ্ত মাইসেলিয়াম উজ্জীবিত হয়ে উঠে। ছত্রাকের মাইসেলিয়াম থেকে কনিডিওফোর উৎপন্ন হয়। কনিডিওফোরে কনিডিয়া সৃষ্টি হয়। কনিডিয়া পানি ও বাতাসের সাহায্যে বিস্তার লাভ করে এবং নতুন উদ্ভিদকে আক্রমণ করে।

এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, ওশেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, নিউক্যালিডোনিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। শীতকালে তাপমাত্রা খুব নিম্ন হলে বাংলাদেশে এ রোগের সম্ভাবনা থাকে।

আলুর লেট ব্লাইট রোগের কারণ

Phytophthora  infestans ছত্রাকের কারণে আলুর লেট ব্লাইট রোগ হয়। (তবে Alternaria solani  ছত্রাকের কারণে আলুর আর্লি ব্লাইট রোগ হয়)