সিস্ট্রোন কী

DNA-এর যে ক্ষুদ্রতম অংশ প্রোটিন তৈরী করে তাকে সিস্ট্রোন বলে। ইহা প্রায় জিনের সমান অর্থ বহন করে। একটি সিস্ট্রোনে একাধিক রিকন ও মিউটন থাকে। তাই সিস্ট্রোনের দৈর্ঘ্য রিকন ও মিউটনের দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক বেশি। E. coli ব্যাকটেরিয়ার একটি সিস্ট্রোনে প্রায় ১৫০০ জোড়া নিউক্লিওটাইড থাকে।

জিনের একক কী কী । Units of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। সিস্ট্রোনঃ DNA-এর যে ক্ষুদ্রতম অংশ প্রোটিন তৈরী করে তাকে সিস্ট্রোন বলে। ইহা প্রায় জিনের সমান অর্থ বহন করে। একটি সিস্ট্রোনে একাধিক রিকন ও মিউটন থাকে। তাই সিস্ট্রোনের দৈর্ঘ্য রিকন ও মিউটনের দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক বেশি। E. coli ব্যাকটেরিয়ার একটি সিস্ট্রোনে প্রায় ১৫০০ জোড়া নিউক্লিওটাইড থাকে।

২। মিউটনঃ DNA-এর যে ক্ষুদ্রতম অংশ মিউটেশন ঘটায় তাকে মিউটন বলে। ইহা এক বা দুই জোড়া নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত।

৩। রিকনঃ DNA-এর যে ক্ষুদ্রতম অংশ রিকম্বিনেশন ঘটায় তাকে রিকন বলে। ইহা এক বা দুই জোড়া নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত।

৪। রেপ্লিকনঃ DNA-এর যে ক্ষুদ্রতম অংশ রেপ্লিকেশন ঘটায় তাকে রেপ্লিকন বলে।

জিনের আধুনিক তথ্য কী কী । Modern information of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জিন হলো ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের একটি অংশ।

২। জিনের সিকুয়েন্স বা বিন্যাস সমগ্র জিনোমে অনুপম ভাবে (encoded) থাকে।

৩। প্রোটিন, tRNA বা rRNA উৎপাদন করতে যে সব উপাদান দরকার হয় তা জিনে সংবদ্ধ (বহপড়ফবফ) থাকে।

৪। পুনর্বিন্যাসের জন্য জিনের মধ্যে ক্রসিংওভার ও মিউটেশন ঘটে।

৫। জিন অন্য বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এরুপ ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

৬। কোন কোন জিন একটি সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। এক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্যটি সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করতে অন্য জিন কাজ করে।

জিনের বৈশিষ্ট্য কী কী । Characteristics of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। জিন হলো DNA-এর ক্ষুদ্রতম অংশ।

২। জিন হলো বংশগতির উপাদান। ইহা  বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।

৩। ইহা স্বপ্রজননক্ষম। অর্থাৎ জিনের আত্মোৎপাদন ক্ষমতা আছে।

৪। ইহা ক্রোমোসোমের লোকাসে অবস্থান করে।

৫। ইহা জীবের প্রকরণ, মিউটেশন ও বিবর্তন ঘটায়।

৬। ইহা নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত।

৭। একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন দায়ি।

৮। জিনের উপাদানগুলো পুনঃবিন্যস্ত করার জন্য নতুন জিন গঠিত হয়।

৯। জিন ক্রোমোসোমে রৈখিক সজ্জাক্রমে বিন্যস্ত থাকে।

১০। ল্যাক্টোজ অপেরনের গাঠনিক জিন ৩টি এবং ট্রিপ্টোফ্যানের গাঠনিক জিন ৫টি।

১১। একাধিক জিন সম্মিলিত ভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। ড্রসোফিলা মাছির চোখের রং ২০টি জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

১২। একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। আ্যালবিনোদের (মানুষ জাতি) চামড়া ও চুলের রং মাত্র একটি জিনের মিউটেশনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

১৩। কোন কোন ভাইরাসের (উদ্ভিদ ভাইরাস) জিন RNA দিয়ে গঠিত।

জিনোম কী । Genome কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

এক সেট ক্রোমোসোমে বিদ্যমান সকল জিনকে একত্রে জিনোম বলে। ১৯২০ সালে জার্মান উদ্ভিদ বিজ্ঞানী Hans Winkler সর্বপ্রথম জিনোম শব্দটি ব্যবহার করেন। মানুষের জিনোমে প্রায় ৩০০০ মিলিয়ন ক্ষারক যুগল (জোড়া) এবং ২০,০০০-২৫,০০০ জিন থাকে। ২০০৭ সালে মানুষের জিনোমে ২৯০০ মিলিয়ন নিউক্লিওটাইড এবং প্রায় ৩০,০০০ হাজার জিন রেকর্ড করা হয়েছে। মানুষের ৯৯.৯ ভাগ জিনোম (জিন) একই রকম। মাত্র ০.১ ভাগ জিনের গঠন ভিন্ন হওয়ার কারণে পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন রকমের মানুষ দেখা যায়। মানুষের মাত্র ২% জিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। বাকি ৯৮% জিন নিস্ক্রিয় থাকে। এই নিস্ক্রিয় জিন গুলোকে (৯৮%) জংক DNA (junk DNA) বলে। Mycoplasma genitalium-এর জিনোমে ৫১৭টি, E. coli -এর জিনোমে ৫৪১৬টি এবং Arabidopsis thaliana -এর জিনোমে ২৫,০০০টি জিন থাকে।

জিনের প্রকৃতি কী । Nature of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

জিন মিউটেশনের মাধ্যমে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি করে। একটি জিন একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। কখনো কখনো একাধিক জিন একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। জিনের প্রকাশ পরিবেশ দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। স্তন্যপায়ীয় কোষে ৫০,০০০ এর অধিক জিন থাকতে পারে। প্রতিটি জিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিউক্লিওটাইড থাকে। ক্ষুদ্রতম জিনে ৭৫টি এবং বৃহত্তম জিনে ৪০,০০০টি নিউক্লিওটাইড রেকর্ড করা হয়েছে।

জিনের কোডিং অংশকে এক্সন এবং নন-কোডিং অংশকে ইন্ট্রন বলে। এক্সন প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। কখনো কখনো এক্সন ইন্ট্রনের মতো সংকেতবিহীন হয়। এধরনের জিনকে স্পিøট জিন বলে।

জিনের সংখ্যা । Number of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

জিনের সংখ্যা প্রজাতিভেদে কয়েক হাজার থেকে কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে। স্তন্যপায়ীর কোষে ৫০,০০০ এর বেশি জিন থাকতে পারে। মানুষের ডিপ্লয়েড কোষে জিনের সংখ্যা ৩০,০০০-৪০,০০০। মানুষের ১নং ক্রোমোসোমে সবচেয়ে বেশি ২৯৬৮টি জিন এবং ২৩নং Y-ক্রোমোসোমে সবচেয়ে কম ২৩১টি জিন থাকে।

জিনের আবিষ্কার । জিনের নামকরণ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির বাহককে কণা বা ফ্যাক্টর নামে অভিহিত করেন। ১৯০৯ সালে Johansen এই কণা বা ফ্যাক্টরকে জিন নামকরণ করেন। ১৯১২ সালে বিজ্ঞানী থমাস হান্ট মরগান প্রমাণ করেন যে, জিন ক্রোমোসোমে অবস্থিত। ভারতীয় বিজ্ঞানী হর গোবিন্দ খোরানা কৃত্রিম জিন আবিষ্কার করে ১৯৬৯ সালে নোবেল পুরুষ্কার পান।

১৯০৮ সালে বিজ্ঞানী Garrol সর্বপ্রথম এক জিন এক এনজাইম মতবাদ চালু করেন। পরবর্তীতে একে বলা হয় এক জিন এক পলিপেপটাইড চেইন মতবাদ। ১৯৪১ সালে বিজ্ঞানী বিডম এবং ট্যাটাম Neurospora crassa নামক ছত্রাক নিয়ে গবেষণা করে বলেন, নির্দিষ্ট জিন নির্দিষ্ট এনজাইম তৈরী করে।

জিন কী । Gene কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

জিন শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক genes অর্থ born শব্দ থেকে। DNA-এর ক্ষুদ্রতম অংশ যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রকরণ, মিউটেশন ও বিবর্তন ঘটায় তাকে জিন বলে। একে জীবনের ব্লু প্রিন্ট বলা হয়। ক্রোমোসোমের যে স্থানে জিন থাকে তাকে লোকাস বলে। ক্রোমোসোমের লোকাসে একই রকম অথবা ভিন্ন রকম দুইটি জিন থাকে। জিন দুটিকে পরস্পরের অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে।