ওপেন হার্ট সার্জারীর সাবধানতা কী কী । Open Heart Surgery । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) ওপেন হার্ট সার্জারীর পর রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (ICU) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা।

(ii) রোগীর বক্ষগহ্বরে সঞ্চিত তরল বের করার জন্য ২-৩টি নল লাগাতে হবে।

(iii) নিয়মিত হাঁটা ও চলাফেরা করতে হবে।

(iv) চর্বিযুক্ত খাবার ও ধুমপান বর্জন করা।

(v) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

(vi) রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ওপেন হার্ট সার্জারী পদ্ধতি । Open Heart Surgery। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) ওপেন হার্ট সার্জারী শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

(ii) রোগীর ব্যথা রোধের জন্য অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়।

(iii) রোগীর রক্তকে তরল রাখার জন্য হেপারিন ইনজেকশন দেয়া হয়।

(iv) বুকের মাংস ও স্টার্ণাম কেটে আলাদা করা হয়।

(v) বিশেষ যন্ত্র ফাঁক করে হৃৎপিন্ড বের করা হয়।

(vi) হৃৎপিন্ডকে হার্ট-লাংস মেশিনের নলের সাথে যুক্ত করা হয়। মহাধমনীর রক্ত চলাচল বন্ধ করে হার্ট-লাংস মেশিন দ্বারা রক্ত প্রবাহ চালানো হয়।

(vii) হার্ট-লাংস মেশিন পুরোপুরি কাজ করলে হৃৎপিন্ডের সার্জারী বা ভালভ বদলানো হয়।

ওপেন হার্ট সার্জারী কত প্রকার ও কী কী । Open Heart Surgery । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ওপেন হার্ট সার্জারী প্রধানত তিন ভাবে হয়।
১। অন-পাম্প সার্জারীঃ এ ধরণের সার্জারীতে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহ এবং হৃদস্পন্দন বন্ধ রাখা হয়। হার্ট-লাংস (Heart-Lung) মেশিন দ্বারা দেহে রক্ত পাম্প করা হয়।
২। অফ-পাম্প বা বিটিং হার্ট সার্জারীঃ এ ধরণের সার্জারীতে ওষুধ প্রয়োগ বা অন্য কোন উপায়ে হৃদস্পন্দন হার কমিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
৩। রোবট সহযোগী সার্জারীঃ এ ধরণের সার্জারীতে রোবটের যান্ত্রিক হাত ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসক কম্পিউটারে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখে নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করেন।

ওপেন হার্ট সাজারী কী । Open Heart Surgery কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রোগীর বুক কেটে হৃৎপিন্ড উন্মুক্ত করে অন্তর্গঠনে অস্ত্রোপচার করাকে ওপেন হার্ট সার্জারী বলে । হৃৎপিন্ডে জন্মগত ত্রæটি, প্রতিস্থাপন, কপাটিকা মেরামত, পেসমেকার স্থাপন কিংবা ধমনীতে বøক সৃষ্টি হলে ওপেন হার্ট সার্জারী করা হয়।

কৃত্রিম পেসমেকার ব্যবহারে সতর্কতা কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। নিয়মিত নাড়ীর গতি পর্যবেক্ষণ  এবং ওষুধ সেবন করতে হবে।

২। কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপনের পর কমপক্ষে আট সপ্তাহ দৌড়-ঝাঁপ, লাফালাফি ও ব্যায়াম করা যাবে না।

৩। বুকে যে স্থানে পেসমেকার লাগানো থাকে সেখানে চাপ না দেয়া।

৪। পেসমেকারের নিকটে সেলুলার ফোন না রাখা।

৫। বুকের যে দিকে পেসমেকার বসানো থাকে তার বিপরীত দিক থেকে মোবাইল ফোন রিসিভ করা।

৬। নিরাপত্তার জন্য সব সময় পেসমেকার সংক্রান্ত পরিচিত কার্ড বহন করা।

৭। মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও বৈদ্যুতিক জেনারেটর ব্যবহারের সময় সতর্ক হতে হবে।

৮। এক্স-রে ও MRI মেশিনে শরীর পরীক্ষা করার সময় সাবধান থাকতে হবে।

কৃত্রিম পেসমেকার । যান্ত্রিক পেসমেকার । কৃত্রিম পেসমেকারের গঠন আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পেসমেকার হলো একটি বায়ুরোধী বদ্ধ গতি উৎপাদনকারী যন্ত্র। অকেজো হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক করার জন্য বুক বা উদরের চামড়ার নিচে যে ছোট যন্ত্র স্থাপন করা হয় তাকে কৃত্রিম বা যান্ত্রিক পেসমেকার বলে। কৃত্রিম পেসমেকার হলো টিটিনিয়াম নির্মিত একটি ধাতব বাক্স। ধাতব বাক্সের ভিতরে লিথিয়াম ব্যাটারী, জেনারেটর এবং শীর্ষে তারযুক্ত সেন্সর থাকে। সেন্সর গুলোকে ইলেকট্রোড বলে। জেনারেটরটি তার বা লিড দ্বারা হৃৎপিন্ডের সাথে যুক্ত থাকে। পেসমেকারের দুইটি তারের মধ্যে একটি ডান অলিন্দে এবং অপরটি ডান নিলয়ে যুক্ত থাকে। পেসমেকার স্থাপন করতে ৩০-৬০ মিনিট সময় লাগে। লিথিয়াম ব্যাটারীর কার্যকারীতা ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

কৃত্রিম পেসমেকারের চেতনা বা বোধ বর্ধক রয়েছে। এর ব্যাটারী জেনারেটরকে শক্তি সরবরাহ করে। জেনারেটর বৈদুত্যিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। বৈদুত্যিক উদ্দীপনা লিড বা তারের মাধ্যমে হৃৎপিন্ডের ডান অলিন্দে এবং ডান নিলয়ে পৌছায়। এতে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হয়। ফলে বিপদজনক হার্টবিট long QT syndrome (LQTS) নিয়ন্ত্রিত হয়। বর্তমানে হৃৎযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে আরো আধুনিক যন্ত্র ICD ব্যবহার করা হয়।

পেসমেকার সাধারনত তিন ধরনের হয়। যথা-

১। এক প্রকোষ্ঠ পেসমেকারঃ ইহা হৃৎপিন্ডের যে কোন একটি প্রকোষ্ঠের গতি সৃষ্টি করে।

২। দুই প্রকোষ্ঠ পেসমেকারঃ ইহা হৃৎপিন্ডের দুইটি প্রকোষ্ঠের গতি সৃষ্টি করে। অলিন্দ এবং নিলয়ে।

৩। তিন প্রকোষ্ঠ বা গতি সাড়াদায়ক পেসমেকার ইহা রোগীর শারীরিক কর্মকান্ডে সাড়া দেয় এবং স্বয়ংক্রিয় ভাবে হৃৎস্পন্দনের গতি ঠিক রাখে। ইহা তিনটি তার দ্বারা ডান অলিন্দ, ডান নিলয় এবং বাম নিলয়ে বিদ্যুৎ তরঙ্গ বহন করে।

পেসমেকারের গুরুত্ব আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হৃৎপিন্ডের উর্ধ্ব মহাশিরা ও ডান অলিন্দের সংযোগস্থলে সাইনো-অ্যাট্রিয়াম নোড (SAN) বা পেসমেকার অবস্থিত। SAN থেকে ডান অলিন্দে ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল সৃষ্টি হয়। এই ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল অলিন্দের প্রাচীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অলিন্দের সংকোচন ঘটায়। SAN থেকে এই সিগন্যাল AVN-এ আসে। AVN থেকে সিগন্যাল বান্ডল অব হিজে পৌছে। অতঃপর বান্ডল অব হিজ থেকে সিগন্যাল নিলয়ের পারকিনজি ফাইবারে পৌছে। পারকিনজি সূত্রকের মাধ্যমে উদ্দীপনা নিলয়ের প্রাচীরে সঞ্চারিত হয়। ফলে নিলয়ের সংকোচন ঘটে।

পেসমেকার কী । Pacemaker কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হৃৎপিন্ডের উর্ধ্ব মহাশিরা এবং ডান অলিন্দের মাঝখানে যে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী  অঙ্গ বা সাইনো-অ্যাট্রিয়াম নোড (SAN) থাকে তাকে পেসমেকার বলে। SAN বা SA Node হলো প্রাকৃতিক পেসমেকার। বার্ধক্য, জন্মগত হৃৎরোগ, হার্ট অ্যাটাক, ওপেন হার্ট সার্জারী প্রভৃতি কারণে প্রাকৃতিক পেসমেকার নষ্ট বা অকেজো হয়ে যেতে পারে। প্রাকৃতিক পেসমেকার নষ্ট হয়ে গেলে কৃত্রিম বা যান্ত্রিক পেসমেকার ব্যবহার করা হয়। হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হলে তাকে অ্যারিথমিয়া (arrhythmia) বলে। আমেরিকান বিজ্ঞানী William Chardack এবং Wilson Greatbatch (১৯৬৯) দেহে স্থাপনযোগ্য পেসমেকার আবিষ্কার করেন।

হৃৎরোগ নির্ণয় উপায় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। X-ray বুকের Ki X-ray করে হৃৎপিন্ডের অবস্থান জানা যায়।

২। ইসিজি (Electrocardiogram) ইসিজি করে হৃৎপিন্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয় করা হয়।

৩। ইটিটি (Exercise Tolerance Test) ইটিটি দ্বারা হৃৎপিন্ডের অবস্থা বা কার্যক্ষমতা জানা যায়।

৪। রক্তের BNP (Brain Natriuretic Peptide) t BNP দ্বারা হার্ট ফেইলর সম্পর্কে জানা যায়।

৫। MRI (Magnetic Resonance Imaging) t MRI দ্বারা হৃৎপিন্ডের পেশির অবস্থা জানা যায়।

৬। করোনারী এনজিওগ্রামঃ করোনারী এনজিওগ্রাম দ্বারা রক্তনালির ø নির্ণয় করা হয়।

মেকানিক্যাল হার্ট কী । Mechanical Heart কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হৃৎপিন্ড অকার্যকর হয়ে পড়লে সুস্থ হৃৎপিন্ড প্রতিস্থাপন করা হয়। সুস্থ হৃৎপিন্ড পাওয়া না গেলে মেকানিক্যাল হার্ট স্থাপন করা হয়। এতে রোগীর হৃৎপিন্ড বিশ্রাম পায় এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। উন্নত দেশে মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট করা হয়