(i) অ্যানজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে ধমনীর বøক অপসারণ করায় রোগীর বুকের ব্যথা উপশম হয়।
(ii) হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দূর হয়।
(iii) রোগী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা কাজকর্ম করতে পারে।
(iv) দীর্ঘকালিন সতর্কতার প্রয়োজন হয় না।
(v) এক মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
Educational Website
(i) অ্যানজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে ধমনীর বøক অপসারণ করায় রোগীর বুকের ব্যথা উপশম হয়।
(ii) হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দূর হয়।
(iii) রোগী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা কাজকর্ম করতে পারে।
(iv) দীর্ঘকালিন সতর্কতার প্রয়োজন হয় না।
(v) এক মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
১। লেজার অ্যানজিপ্লাস্টি শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
২। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য কুঁচকি বা বাহুর ত্বকে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অবশ করা হয়।
৩। মোটা সুঁই দিয়ে কুঁচকি অথবা বাহুর প্রধান রক্তনালিতে একটি ছিদ্র করা হয়।
৪। ছিদ্রের মধ্য দিয়ে একটি গাইড ক্যাথেটার (সরু, নমনীয় ও লম্বা নল) প্রবেশ করানো হয়।
৫। গাইড ক্যাথেটারের প্রান্তটি করোনারী ধমনীর অ্যাথারোমা অংশে প্রবেশ করানো হয়।
৬। গাইড ক্যাথেটারের মাধ্যমে একটি লেজার ক্যাথেটার পাঠানো হয়।
৭। ধমনীর প্লাক অঞ্চল চিহ্নিত করার জন্য ক্যাথেটারের ভিতরে রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। এ পদ্ধতিকে ফ্লুরোস্কোপি (fluoroscopy) বলে। ক্যাথেটার সুনির্দিষ্ট স্থানে পৌছালো কিনা তা পর্যবেক্ষণে রঞ্জক পদার্থ সহায়তা করে। X-ray মনিটর দ্বারা ইহা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
৮। ধমনীর প্লাকযুক্ত অংশে পৌঁছার পর লেজার রশ্মি স্তরে স্তরে প্লাক ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংস প্রাপ্ত প্লাক বাষ্পীভূত হয়ে যায়।
৯। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
১। অ্যানজিওগ্রাম করে নিশ্চিত হওয়ার পর সার্জারী করা হয়।
২। অ্যানজিপ্লাস্টি শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
৩। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য কুঁচকি বা বাহুর ত্বকে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অবশ করা হয়।
৪। মোটা সুঁই দিয়ে কুঁচকি অথবা বাহুর প্রধান রক্তনালিতে একটি ছিদ্র করা হয়।
৫। ছিদ্রের মধ্য দিয়ে একটি গাইড ক্যাথেটার (সরু, নমনীয় ও লম্বা নল) প্রবেশ করানো হয়।
৬। গাইড ক্যাথেটারের প্রান্তটি করোনারী ধমনীর অ্যাথারোমা অংশে প্রবেশ করানো হয়।
৭। গাইড ক্যাথেটারের মাধ্যমে স্ট্যান্ট দ্বারা আবৃত একটি বেলুন ক্যাথেটার পাঠানো হয়।
৮। ধমনীর প্লাক অঞ্চল চিহ্নিত করার জন্য ক্যাথেটারের ভিতরে রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। এপদ্ধতিকে ফ্লুরোস্কোপি (fluoroscopy) বলে। ক্যাথেটার সুনির্দিষ্ট স্থানে পৌছালো কিনা তা পর্যবেক্ষণে রঞ্জক পদার্থ সহায়তা করে। মনিটরের সাহায্যে ইহা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
৯। ধমনীর অ্যাথারোমা অংশে বেলুন ও স্ট্যান্ট পৌছানোর ৩০–৬০ সেকেন্ডের মধ্যে বেলুনটি ফুলানো হয়।এতে অ্যাথারোমা অংশের চর্বি চেপে যায় এবং ধমনীর সরু পথ প্রসারিত হয়।
১০। বেলুন দ্বারা ধমনীর প্রসারিত অংশে ধাতব স্ট্যান্ট বা রিংটি স্থাপন করা হয়। রিং স্থাপনের পর বেলুনসহ ক্যাথেটার বের করে আনা হয়।
১১। রিংটিতে ওষুধের প্রলেপ থাকে যা সর্বদা ধমনীতে মুক্ত হয়। মুক্ত ওষুধ ধমনীর চর্বিকে গলায় এবং পুনরায় বøক তৈরীতে বাঁধা দেয়।
১২। একবার অ্যানজিওপ্লাস্ট করতে ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে এবং রোগীকে একদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়।
অনেকসময় বেলুনের চাপে ধমনীর সরু স্থান প্রসারিত হয় না। ফলে অ্যানজিওপ্লাস্টি সম্ভব হয় না এবং রোগীকে ঈঅইএ সার্জারি করানো হয়।
১। বেলুন অ্যানজিওপ্লাস্টি (Ballon angioplasty)
২। স্টেনটিং বা রিং অ্যানজিওপ্লাস্টি (Stenting angioplasty)
৩। লেজার অ্যানজিওপ্লাস্টি (Laser angioplasty)
৪। করোনারী অ্যাথেরেকটমী (Coronary atherectomy)
Angio অর্থ রক্তনালি এবং plasty অর্থ পুননির্মাণ নিয়ে Angioplasty শব্দটি গঠিত। ধমনীতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে বøক বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যান্ত্রিক উপায়ে তা প্রশস্ত করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করাকে এনজিওপ্লাস্টি বলে। একে পারকিউটেনাস করোনারী ইন্টারভেনশন (PCI) বলা হয়। করোনারী ধমনীতে দীর্ঘদিন ধরে কোলেস্টেরল জমা হয়ে প্ল্যাক গঠন করে। প্ল্যাক পুরু হয়ে অ্যাথারোমা গঠন করে যাকে করোনারী বøক বলে। করোনারী ধমনীতে ৭০-৮০% বøক হয়। ১৯৭৭ সালে সুইজারল্যান্ডের ডাঃ আনড্রেস গ্রয়েনজিগ সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।
যে নালিকা হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে রক্ত প্রদান করে তাকে করোনারী ধমনী বলে। করোনারী ধমনীতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে শক্ত পদার্থে পরিনত হয়। পুঞ্জিভূত এই পদার্থ গুলোকে অ্যাথেরোমেটাস প্ল্যাক বলে। এ প্রক্রিয়াটিকে আর্টারিওস্কে¬রোসিস বলে। অন-পাম্প অথবা অফ-পাম্প অথবা বিটিং হার্ট সার্জারীর মাধ্যমে করোনারী বাইপাস করা হয়। চিকিৎসক রোগীর বয়স, করোনারী ধমনীর সমস্যা, লক্ষণ, অন্যান্য সমস্যা প্রভৃতি বিবেচনা করে করোনারী বাইপাস করে থাকেন।
করোনারী বাইপাস বা CABG সার্জারী পদ্ধতি
করোনারী বাইপাস হার্ট স্পন্দিত অবস্থায় বা বিটিং হার্টে করা যায়। একে অবক্যাব (OPCAB) বলে। বর্তমানে হৃৎস্পন্দন বন্ধ করে বুকের বাম পাশে ছোট করে কেটে করোনারী বাইপাস করা হয়। একে মিডক্যাব (MIDCAB) বলে।
১। করোনারী বাইপাস শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
২। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়।
৩। হার্ট-লাংস মেশিন দ্বারা রোগীর রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
৪। রোগীর বুক কেটে হৃৎপিন্ড বের করা হয়।
৫। হাত বা পায়ের ধমনী কেটে নিয়ে হৃৎপিন্ডের সাথে যুক্ত করা হয়। ফলে বিকল্প পথে হৃৎপিন্ডে রক্ত চলাচল করে।
৬। এক্ষেত্রে সময় লাগে ৩-৫ ঘন্টা। রোগীকে ২-৩ দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দুই মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
রোগীর প্রতি সাবধানতা
১। করোনারী বাইপাস রোগীর কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলতে হয়।
২। ধুমপান না করা।
৩। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
৪। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা।
৫। কোলেস্টেরলের চিকিৎসা করানো।
৬। নিয়মিত ব্যায়াম করা।
৭। শরীরের ওজন ঠিক রাখা।
৮। মানসিক চাপে না থাকা।
৯। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।
১। করোনারী বাইপাস রোগীর কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলতে হয়।
২। ধুমপান না করা।
৩। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
৪। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা।
৫। কোলেস্টেরলের চিকিৎসা করানো।
৬। নিয়মিত ব্যায়াম করা।
৭। শরীরের ওজন ঠিক রাখা।
৮। মানসিক চাপে না থাকা।
৯। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।
করোনারী বাইপাস হার্ট স্পন্দিত অবস্থায় বা বিটিং হার্টে করা যায়। একে অবক্যাব (OPCAB) বলে। বর্তমানে হৃৎস্পন্দন বন্ধ করে বুকের বাম পাশে ছোট করে কেটে করোনারী বাইপাস করা হয়। একে মিডক্যাব (MIDCAB) বলে।
১। করোনারী বাইপাস শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
২। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়।
৩। হার্ট-লাংস মেশিন দ্বারা রোগীর রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
৪। রোগীর বুক কেটে হৃৎপিন্ড বের করা হয়।
৫। হাত বা পায়ের ধমনী কেটে নিয়ে হৃৎপিন্ডের সাথে যুক্ত করা হয়। ফলে বিকল্প পথে হৃৎপিন্ডে রক্ত চলাচল করে।
৬। এক্ষেত্রে সময় লাগে ৩-৫ ঘন্টা। রোগীকে ২-৩ দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দুই মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
যে নালিকা হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে রক্ত প্রদান করে তাকে করোনারী ধমনী বলে। করোনারী ধমনীতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে শক্ত পদার্থে পরিনত হয়। পুঞ্জিভূত এই পদার্থ গুলোকে অ্যাথেরোমেটাস প্ল্যাক বলে। এ প্রক্রিয়াটিকে আর্টারিওস্কে¬রোসিস বলে। অন-পাম্প অথবা অফ-পাম্প অথবা বিটিং হার্ট সার্জারীর মাধ্যমে করোনারী বাইপাস করা হয়। চিকিৎসক রোগীর বয়স, করোনারী ধমনীর সমস্যা, লক্ষণ, অন্যান্য সমস্যা প্রভৃতি বিবেচনা করে করোনারী বাইপাস করে থাকেন।
রোগীর বুক কেটে হৃৎপিন্ড উন্মুক্ত করে অন্তর্গঠনে অস্ত্রোপচার করাকে ওপেন হার্ট সার্জারী বলে । হৃৎপিন্ডে জন্মগত ত্রæটি, প্রতিস্থাপন, কপাটিকা মেরামত, পেসমেকার স্থাপন কিংবা ধমনীতে বøক সৃষ্টি হলে ওপেন হার্ট সার্জারী করা হয়।
ওপেন হার্ট সার্জারী প্রধানত তিন ভাবে হয়।
১। অন-পাম্প সার্জারীঃ এ ধরণের সার্জারীতে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহ এবং হৃদস্পন্দন বন্ধ রাখা হয়। হার্ট-লাংস (Heart-Lung) মেশিন দ্বারা দেহে রক্ত পাম্প করা হয়।
২। অফ-পাম্প বা বিটিং হার্ট সার্জারীঃ এ ধরণের সার্জারীতে ওষুধ প্রয়োগ বা অন্য কোন উপায়ে হৃদস্পন্দন হার কমিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
৩। রোবট সহযোগী সার্জারীঃ এ ধরণের সার্জারীতে রোবটের যান্ত্রিক হাত ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসক কম্পিউটারে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখে নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করেন।
ওপেন হার্ট সার্জারী পদ্ধতি Open Heart Surgery
(i) ওপেন হার্ট সার্জারী শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
(ii) রোগীর ব্যথা রোধের জন্য অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়।
(iii) রোগীর রক্তকে তরল রাখার জন্য হেপারিন ইনজেকশন দেয়া হয়।
(iv) বুকের মাংস ও স্টার্ণাম কেটে আলাদা করা হয়।
(v) বিশেষ যন্ত্র ফাঁক করে হৃৎপিন্ড বের করা হয়।
(vi) হৃৎপিন্ডকে হার্ট-লাংস মেশিনের নলের সাথে যুক্ত করা হয়। মহাধমনীর রক্ত চলাচল বন্ধ করে হার্ট-লাংস মেশিন দ্বারা রক্ত প্রবাহ চালানো হয়।
(vii) হার্ট-লাংস মেশিন পুরোপুরি কাজ করলে হৃৎপিন্ডের সার্জারী বা ভালভ বদলানো হয়।
ওপেন হার্ট সার্জারীর সাবধানতা
(i) ওপেন হার্ট সার্জারীর পর রোগীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (ICU) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা।
(ii) রোগীর বক্ষগহ্বরে সঞ্চিত তরল বের করার জন্য ২-৩টি নল লাগাতে হবে।
(iii) নিয়মিত হাঁটা ও চলাফেরা করতে হবে।
(iv) চর্বিযুক্ত খাবার ও ধুমপান বর্জন করা।
(v) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
(vi) রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।