রক্তবাহিকা আলোচনা । ধমনীর বৈশিষ্ট্য । শিরার বৈশিষ্ট্য । Blood vessels। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব নালিকার মধ্য দিয়ে রক্ত হৃৎপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে এবং দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে পুনরায় হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাকে রক্ত বাহিকা বলে। রক্তবাহিকা তিন ধরনের। ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকা।

১। ধমনী (Artery)

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছায় তাকে ধমনী বলে। ধমনীর বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) ধমনীর প্রাচীর পুরু, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা হৃৎপিন্ড হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহŸর ছোট।

(v) এতে কপাটিকা থাকে না।

(vi) ধমনী উচ্চ রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা O2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

২। শিরা (Veins)

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে। শিরার বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) শিরার প্রাচীর পাতলা ও অস্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা দেহকোষ হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহ্বর বড়।

(v) এতে কপাটিকা থাকে।

(vi) ধমনী নিম্ন রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

৩। কৈশিক জালিকা (Capillaries)

সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যে সব রক্তবাহিকা ধমনী ও শিরার সংযোগ স্থলে জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাকে রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা বলে। কৈশিকজালিকার মাধ্যমে খাদ্যসার, শ^সন বায়ু, রেচনদ্রব্য প্রভৃতির আদান-প্রদান ঘটে।   যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে।

কৈশিক জালিকা কী । Capillaries কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যে সব রক্তবাহিকা ধমনী ও শিরার সংযোগ স্থলে জালিকাকারে বিন্যস্ত থাকে তাকে রক্তজালক বা কৈশিক জালিকা বলে। কৈশিকজালিকার মাধ্যমে খাদ্যসার, শ^সন বায়ু, রেচনদ্রব্য প্রভৃতির আদান-প্রদান ঘটে।   যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে।

শিরা কী । শিরার বৈশিষ্ট্য কীকী । Veins কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে পৌছে তাকে শিরা বলে। শিরার বৈশিষ্ট্য হলো-
(i) শিরার প্রাচীর পাতলা ও অস্থিতিস্থাপক।
(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।
(iii) ইহা দেহকোষ হতে উৎপন্ন হয়।
(iv) এদের লুমেন বা গহ্বর বড়।
(v) এতে কপাটিকা থাকে।
(vi) ধমনী নিম্ন রক্তচাপে রক্ত বহন করে।
(vii) ইহা CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

ধমনী কী । ধমনীর বৈশিষ্ট্য কী কী । Artery । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে O2 যুক্ত রক্ত হৃৎপিন্ড হতে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছায় তাকে ধমনী বলে। ধমনীর বৈশিষ্ট্য হলো-

(i) ধমনীর প্রাচীর পুরু, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক।

(ii) এর প্রাচীর তিনটি স্তরে বিভক্ত। টিউনিকা এক্সটার্না, টিউনিকা মিডিয়া ও টিউনিকা ইন্টিমা।

(iii) ইহা হৃৎপিন্ড হতে উৎপন্ন হয়।

(iv) এদের লুমেন বা গহŸর ছোট।

(v) এতে কপাটিকা থাকে না।

(vi) ধমনী উচ্চ রক্তচাপে রক্ত বহন করে।

(vii) ইহা O2 যুক্ত রক্ত বহন করে।

মায়োজেনিক হার্ট কী । Myogenic heart কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে হৃৎপিন্ডে হৃৎস্পন্দন পেসমেকার দ্বারা উৎপন্ন হয় তাকে মায়োজেনিক হার্ট বলে। যেমনমানুষের হৃৎপিন্ড।

মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণের উপায় । কার্ডিয়াক চক্র নিয়ন্ত্রণের উপায়। হার্ট বিট নিয়ন্ত্রণের উপায় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

বাইরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়াকে মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ বলে। স্তন্যপায়ীর হৃৎপিন্ড বিছিন্ন করে O2 সমৃদ্ধ লবণের দ্রবণে ৩৭ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় রেখে দিলে বাইরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই হার্টবিট চলতে থাকে। হৃৎপিন্ডের প্রাচীরের রুপান্তরিত পেশি মায়োজেনিক প্রকৃতির জন্য দায়ি। এরা সম্মিলিত ভাবে মায়োজেনিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে।

Kitch ও  Flack-এর মতে, ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত SAN থাকে। ইহা বাইরের কোন উদ্দীপনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে  ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল সৃষ্টি করে। এই ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল ডান অলিন্দের প্রাচীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ডান অলিন্দ থেকে বাম অলিন্দে পৌছে। ফলে অলিন্দ দুইটি একই সাথে সংকুচিত হয়। অতঃপর ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল SAN থেকে AVN-এ আসে। AVN থেকে সিগন্যাল বান্ডল অব হিজে পৌছে। এরপর বান্ডল অব হিজ থেকে সিগন্যাল নিলয়ের পারকিনজি ফাইবারে পৌছে। পারকিনজি সূত্রকের মাধ্যমে উদ্দীপনা নিলয়ের প্রাচীরে সঞ্চারিত হয়। ফলে নিলয় সংকুচিত হয়।

কার্ডিয়াক চক্র কী । কার্ডিয়াক চক্র আলোচনা । হৃদস্পন্দনের দশা আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতিটি হার্টবিট সম্পন্ন করতে হৃৎপিন্ডে পর পর যে সব ঘটনা সংঘটিত হয় সে গুলোর সমষ্টিকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয় তবে কার্ডিয়াক চক্রের সময় কাল ৬০÷৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড।

কার্ডিয়াক চক্রের ধাপ

হৃৎপিন্ডের কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এ গুলো হলো-

১। অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোলঃ এ সময় অলিন্দ দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা দুটি বন্ধ থাকে। অলিন্দ দুটির মধ্যবর্তী চাপ  কমে যায়। ফলে দেহের উপরের অংশ হতে সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা এবং নিচের অংশ হতে ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। একই সময়ে ফুসফুসীয় শিরার মধ্য দিয়ে  O2 যুক্ত রক্ত বাম অলিন্দে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৭ সেকেন্ড।

২। অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোলঃ এ সময় অলিন্দ দুটি সংকুচিত হয়। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়। তবে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ থাকে। অলিন্দ দুটির মধ্যবর্তী চাপ  বেড়ে যায়। ফলে ডান অলিন্দ হতে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে এবং বাম অলিন্দ হতে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.১ সেকেন্ড। এর মধ্যে প্রথম ০.০৫ সেকেন্ড সঙ্কোচন সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। একে ডায়নামিক পর্যায় বলে। দ্বিতীয় ০.০৫ সেকেন্ড ক্ষীণতর হতে হতে প্রশমিত হয়। একে অ্যাডায়নামিক পর্যায় বলে।

৩। নিলয় বা ভেন্ট্রিকলের সিস্টোলঃ এ সময় নিলয় দুটি রক্তপূর্ণ অবস্থায় সংকুচিত হয়। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খোলা থাকে। নিলয় দুটির মধ্যবর্তী চাপ বেড়ে যায়। ফলে ডান নিলয় হতে CO2 যুক্ত রক্ত পালমোনারী ধমনীতে এবং বাম নিলয় হতে O2 যুক্ত রক্ত মহাধমনী বা অ্যাওর্টায় প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৩ সেকেন্ড।

৪। নিলয় বা ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোলঃ এ সময় নিলয় দুটি প্রসারিত বা শিথিল অবস্থায় থাকে। বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খোলা থাকে। তবে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ থাকে। নিলয় দুটির মধ্যবর্তী চাপ  কমে যায়। ফলে ডান অলিন্দ হতে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে  এবং বাম অলিন্দ হতে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে। এ দশার সময় কাল ০.৫ সেকেন্ড।

একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোল-এর সমন্বয়ে প্রতি (০.৭+০.১=০.৮ অথবা ০.৩+০.৫= ০.৮) ০.৮ সেকেন্ডে একটি হৃৎস্পন্দন বা কার্ডিয়াক চক্র সম্পন্ন হয়। হৃৎস্পন্দনের সময় যে শব্দ শোনা যায় তাকে লাব-ডাব (Lub-dub) বলে।

কার্ডিয়াক চক্র কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতিটি হার্টবিট সম্পন্ন করতে হৃৎপিন্ডে পর পর যে সব ঘটনা সংঘটিত হয় সে গুলোর সমষ্টিকে কার্ডিয়াক চক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয় তবে কার্ডিয়াক চক্রের সময় কাল ৬০÷৭৫ = ০.৮ সেকেন্ড।

হার্ট বিট কী । Heart beat কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ছন্দময় গতিতে হৃৎপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণকে একত্রে হার্ট বিট বলে। পূর্ণবয়স্ক মানুষের হৃৎপিন্ড প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার স্পন্দিত হয় (গড়ে ৭৫ বার)। সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু এবং অ্যাড্রেনালিন ও থাইরক্সিন হরমোন হৃদস্পন্দন হার বৃদ্ধি করে। প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ু হৃদস্পন্দন হার কমায়। হার্ট বিট দু’ধরনের। –

১। লাবঃ সিস্টোলের শুরুতে অলিন্দ-নিলয় কপাটিকা (বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড) বন্ধ হওয়ার সময় যে শব্দ হয় তাকে লাব বলে।

২। ডাবঃ সিস্টোলের শেষে সেমিলুনার কপাটিকা বন্ধ হওয়ার সময় যে শব্দ হয় তাকে ডাব বলে।

হৃৎপিন্ডের গঠন আলোচনা । Structure of heart । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। পেরিকার্ডিয়াম আবরণী

হৃৎপিন্ড দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বাইরের অংশকে তন্তুময় আবরণী এবং ভিতরের অংশকে সেরাস আবরণী বলে। সেরাস আবরণীর দুইটি স্তর থাকে। প্যারাইটাল স্তর ভিসেরাল স্তর। বাইরের স্তরকে প্যারাইটাল স্তর এবং ভিতরের স্তরকে ভিসেরাল স্তর বলে। স্তর দুটির মাঝখানে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে। এই তরল পদার্থ হৃৎপিন্ডকে তাপ, চাপ ঘর্ষণজনিত আঘাত থেকে রক্ষা করে।

২। হৃৎপিন্ডের প্রাচীর

হৃৎপিন্ডের প্রাচীর হৃৎপেশী দ্বারা গঠিত। এর তিনটি স্তর থাকে। গুলো হলো

(i) এপিকার্ডিয়ামঃ হৃৎপ্রাচীরের বাইরের স্তরকে এপিকার্ডিয়াম বলে। ইহা চর্বিযুক্ত।

(ii) মায়োকার্ডিয়ামঃ  হৃৎপ্রাচীরের মধ্যবর্তী স্তরকে মায়োকার্ডিয়াম বলে। ইহা সংকোচনপ্রসারণক্ষম।

(iii) এন্ডোকার্ডিয়ামঃ হৃৎপ্রাচীরের ভিতরের স্তরকে এন্ডোকার্ডিয়াম বলে। ইহা কপাটিকা গুলোকে ঢেকে রাখে।

৩। হৃৎপিন্ডের প্রকোষ্ঠ

মানুষের হৃৎপিন্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। গুলো হলো

(i) ডান অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামঃ ডান অ্যাট্রিয়াম বড় এবং পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এর উপরের দিকে উর্ধ্ব মহাশিরা বা সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা এবং নিচের দিকে নিম্ন মহাশিরা বা ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভা থাকে। ইহা ট্রাইকাসপিড কপাটিকার মাধ্যমে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে পৌছে দেয়।

(ii) বাম অলিন্দ বা অ্যাট্রিয়ামঃ বাম অলিন্দ সামান্য ছোট এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। এর সাথে ফুসফুসীয় শিরা যুক্ত থাকে। ইহা বাইকাসপিড কপাটিকার মাধ্যমে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয়ে পৌছে দেয়। অলিন্দ দুটির মাঝখানে আন্তঃঅলিন্দ পর্দা থাকে।

(iii) ডান নিলয় বা ভেন্ট্রিকলঃ ডান নিলয় সামান্য বড় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। এর একদিকে  ট্রাইকাসপিড কপাটিকা এবং অপরদিকে সেমিলুনার কপাটিকা থাকে। ইহা সেমিলুনার কপাটিকার মাধ্যমে CO2 যুক্ত রক্ত পালমোনারী ধমনীতে পৌছে দেয়।

(iv) বাম নিলয় বা ভেন্ট্রিকলঃ বাম নিলয় সামান্য ছোট এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। এর প্রাচীর ডান নিলয়ের প্রাচীর অপেক্ষা তিনগুণ পুরু। নিলয়ের প্রাচীর হতে মাংসল কলামনি কর্নি সৃষ্টি হয়। এর একদিকে বাইকাসপিড কপাটিকা এবং অপরদিকে সেমিলুনার কপাটিকা থাকে। ইহা সেমিলুনার কপাটিকার মাধ্যমে O2 যুক্ত রক্ত মহাধমনী বা অ্যাওর্টায় পৌছে দেয়। নিলয় দুটির মাঝখানে আন্তঃনিলয় পর্দা থাকে।

৪। হৃৎপিন্ডের কপাটিকা

(i) দ্বিপত্রী বা বাইকাসপিড কপাটিকাঃ বাম অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝখানে বাইকাসপিড কপাটিকা অবস্থিত। একে মিট্রাল কপাটিকা বলা হয়। ইহা কর্ডা টেন্ডনি তন্তু দ্বারা কলামনি কর্নির সাথে যুক্ত থাকে। এর আয়তন ৪-৬ বর্গসেমি। ইহা O2 যুক্ত রক্তকে বাম অলিন্দ হতে বাম নিলয়ে আসতে দেয়।

(ii) ত্রিপত্রী বা ট্রাইকাসপিড কপাটিকাঃ ডান অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝখানে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা অবস্থিত। ইহা কর্ডা টেন্ডনি তন্তু দ্বারা কলামনি কর্নির সাথে যুক্ত থাকে। এর আয়তন ৭-৯ বর্গ সেমি। ইহা CO2 যুক্ত রক্তকে ডান অলিন্দ হতে ডান নিলয়ে আসতে দেয়।

(iii) পালমোনারী সেমিলুনার কপাটিকাঃ ডান নিলয় ও পালমোনারী ধমনীর মাঝখানে যে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা থাকে তাকে পালমোনারী সেমিলুনার কপাটিকা বলে। ইহা ত্রি-পর্দা বিশিষ্ট। তবে দ্বি-পর্দা বিশিষ্ট (১-২) হতে পারে। এই কপাটিকার মাধ্যমে CO2 যুক্ত রক্ত ডান নিলয় থেকে পালমোনারী ধমনীতে প্রবেশ করে।

(iv) অ্যাওর্টিক সেমিলুনার কপাটিকাঃ বাম নিলয় ও অ্যাওর্টিক ধমনীর মাঝখানে যে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা থাকে তাকে অ্যাওর্টিক সেমিলুনার কপাটিকা বলে। ইহা ত্রি-পর্দা বিশিষ্ট। এই কপাটিকার মাধ্যমে O2 যুক্ত রক্ত বাম নিলয় থেকে অ্যাওর্টিক ধমনীতে প্রবেশ করে।

(v) করোনারি বা থিবোসিয়ান কপাটিকাঃ করোনারী সাইনাস এবং ডান অলিন্দের মাঝখানে থিবেসিয়ান কপাটিকা থাকে। এটি ভ্রুণীয় সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকার ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ। অনেকক্ষেত্রে ইহা অনুপস্থিত থাকে।

(vi) ইউস্টেশিয়ান কপাটিকাঃ ইহা নিম্ন মহাশিরা ও ডান অলিন্দের মাঝখানে অবস্থিত। এই কপাটিকার মধ্য দিয়ে CO2 যুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। ইটালিয়ান চিকিৎসক Bartolomeo Eustachi এ কপাটিকা আবিষ্কার করেন।

৫। সংযোগকারী কলা (Junction tissue)

হৃৎপিন্ডের প্রাচীরের রুপান্তরিত পেশিকে মায়োজেনিক বা সংযোগী টিস্যু বলে।  হৃৎপিন্ডের মায়োজেনিক টিস্যু হলো-

(i) সাইনো-অ্যাট্রিয়াম নোড (SAN) বা পেসমেকার ঃ উর্ধ্ব মহাশিরা বা সুপিরিয়র ভেনাক্যাভা ও ডান অলিন্দের মাঝখানে একগুচ্ছ বিশেষায়িত হৃৎপেশি থাকে। একে SAN বলে। এর দৈর্ঘ্য ১০-১৫ mm, প্রস্থ ৩ mm এবং পুরু ১ mm। SAN থেকে হৃৎপিন্ডের সংকোচন-প্রসারণের উদ্দীপনা বা অ্যাকশন পোটেনসিয়াল সৃষ্টি হয়। তাই SA নোডকে প্রাথমিক গতির উৎপাদক বলা হয়। উত্তেজনার ঢেউ সৃষ্টি এবং ঢেউ সৃষ্টির উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে বলে SAN-কে পেসমেকার বলা হয়। ইহা প্রতি মিনিটে ১০০ বিট হৃদস্পন্দন ঘটায়। দেহ হতে হৃৎপিন্ড বিচ্ছিন্ন করা হলেও এর সঙ্কোচন চলতে থাকে। এর কার্যকারীতা কমে গেলে ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট হয়। একে ইশকেমিয়া বলে। মার্টিন ফ্লাক (১৯০৭) এটি আবিষ্কার করেন।

(ii) অ্যাট্রিও ভেন্ট্রিকুলার নোড (AVN)ঃ হৃৎপিন্ডের ডান অলিন্দ-নিলয়ের মধ্যবর্তী পর্দায় AVN অবস্থিত। ইহা হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত। একে সংরক্ষিত পেসমেকার বলা হয়। কারণ SAN যদি বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয় তাহলে উহা সৃষ্টি করে। এটি SAN থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে বান্ডল অব হিজ-এ সঞ্চারিত করে। SAN থেকে উদ্দীপনা AVN পৌছাতে ০.০৩ সেকেন্ড সময় লাগে। কিন্তু AVN-এ উদ্দীপনা  আসতে ০.০৯ সেকেন্ড বিলম্ব হয়। একে AV Nodal Delay বলে। এরপর AVN ঠঘ থেকে ভেন্ট্রিকলের পেশিতে পৌছাতে আরও ০.০৪ সেকেন্ড সময় লাগে। অর্থাৎ AVN থেকে উদ্দীপনা ভেন্ট্রিকলের পেশিতে পৌছাতে মোট (০.০৩+০.০৯+০.০৪) ০.১৬ সেকেন্ড সময় লাগে।

(iii) বান্ডল অব হিজঃ AVN এর পিছনে বান্ডল অব হিজ অবস্থিত। ইহা বহুমাত্রিক ক্ষুদ্র ফসিকল দ্বারা গঠিত। এর দুইটি শাখার মধ্যে একটি বাম নিলয় এবং অপরটি ডান নিলয়ের প্রাচীর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সুইস কার্ডিওলজিস্ট উইলহেলম হিজ (১৮৯৩) এটি আবিষ্কার করেন।

(vi) পারকিনজি তন্তুঃ বান্ডল অব হিজের শেষ প্রান্ত সুক্ষ্ম তন্তুতে পরিনত হয় এবং নিলয়ের প্রাচীরে জালক সৃষ্টি করে। একে পারকিনজি তন্তু বলে। ইহা বিশেষায়িত হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত এবং দ্রুত ও কার্যকরভাবে হৃদক্রিয়া পরিবাহিত করে। এর গতি প্রতি মিনিটে ৪০-৬০ বার। ইহা নিলয়ের প্রাচীরের সংকোচন ঘটায়। জন ইভানজেলিস্ট পারকিনজি (১৮৩৯) এটি আবিষ্কার করেন।