ঘাসফড়িং এর স্টোমোডিয়াম । Grasshopper Stomodaeum । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুখছিদ্র হতে গিজার্ড পর্যন্ত অংশকে অগ্র পৌষ্টিকনালী বলে। ইহা ছয়টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো

(i) মুখছিদ্রঃ পৌষ্টিকনালীর সম্মুখে যে ছিদ্রপথ থাকে তাকে মুখছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তু ভিতরে প্রবেশ করে

(ii) মুখগহ্বরঃ মুখছিদ্রের পরবর্তী মুখোপাঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মুখগহŸ বলে। মুখবিবরে খাদ্যবস্তু লালার সাথে মিশ্রিত হয়। ইহা খাদ্যকে মুখছিদ্র হতে গলবিলে নিয়ে যায়।

(iii) গলবিলঃ মুখবিবরের পিছনে অবস্থিত ছোট, পেশীবহুল, সরু নলাকার অংশকে গলবিল বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্য অন্ননালীতে প্রবেশ করে।

(iv) অন্ননালীঃ গলবিলের পরবর্তী সরু, লম্বা নলাকার অংশকে অন্ননালী বলে। ইহা পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। ইহা খাদ্যকে ক্রপে পৌছে দেয়।

(v) ক্রপঃ অন্ননালী স্ফীত হয়ে মোচাকার থলীর মতো ক্রপ গঠন করে। ইহা পাতলা প্রাচীর যুক্ত। এতে খাদ্য সাময়িক ভাবে জমা থাকে। এখান থেকে খাদ্য পরিপাক শুরু হয়।

(vi) গিজার্ড বা প্রোভেন্ট্রিকুলাসঃ ক্রপের পরবর্তী প্রসারিত অংশকে গিজার্ড বলে। ইহা পুরু, পেশীবহুল ত্রিকোণাকার থলী। এর প্রাচীর শক্ত, পুরু বৃত্তাকার পেশী দ্বারা গঠিত। গিজার্ডের সামনের অংশকে আর্মারিয়াম এবং পিছনের অংশকে স্টোমোডিয়াম কপাটিকা বলে। আর্মারিয়ামের প্রাচীর অনুদৈর্ঘ্যভাবে ভাঁজ হয়ে পাতের মতো ছয়টি দাঁত গঠন করে। দাঁতের পিছনে প্যাডের মতো পাত থাকে। এই পাতে সুক্ষ্ম ব্রিসল বা রোম থাকে। অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজের গভীর খাদে ব্রিসল থাকে। গিজার্ডের দাঁত খাদ্যকে চুর্ণবিচুর্ণ করে। ব্রিসল বা রোম ছাঁকনির কাজ করে। কপাটিকা খাদ্যের বিপরীত প্রবাহে বাধা দেয়।

ঘাস ফড়িং-এর মুখোপাঙ্গ । Grasshopper Mouth parts । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুখের চারদিকে যে নড়নক্ষম সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ থাকে তাকে মুখোপাঙ্গ বলে। ঘাস ফড়িং-এর মুখোপাঙ্গ কচিপাতা বা কচিকান্ড চর্বনে ব্যবহৃত হয় বলে একে চর্বন উপযোগী বা ম্যান্ডিবুলেট মুখোপাঙ্গ বলে। ইহা পাঁচটি অংশ দ্বারা গঠিত। ল্যাব্রাম, ম্যান্ডিবল, ম্যাক্সিলা, ল্যাবিয়াম ও  হাইপোফ্যারিংক্স।

১। ল্যাব্রাম (Labrum)ঃ মস্তকের পৃষ্ঠদেশে ক্লাইপিয়াসের সাথে যুক্ত যে গোলাকার, প্রশস্ত, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও চ্যাপ্টাকৃতির অঙ্গ থাকে তাকে ল্যাব্রাম বলে। একে উপরের ঠোটও বলা হয়। ইহা সংবেদনশীল। ইহা ম্যান্ডিবলকে ঢেকে রাখে এবং খাদ্য বস্তুকে ধরতে সাহায্য করে।

২। ম্যান্ডিবল (Mandible)ঃ মুখছিদ্রের উভয় পার্শ্বে শক্ত, খাটো ও ত্রিকোণাকৃতির এক জোড়া ম্যান্ডিবল বা চোয়াল থাকে। প্রতিটি ম্যান্ডিবলের ভিতরের দিকে কালো বর্ণের কয়েকটি খাঁজ থাকে। এই খাঁজ গুলোকে মোলার প্রসেস বা ডেন্টিকল বা দন্তক বলে। প্রতিটি ম্যান্ডিবলে দুই ধরনের পেশি থাকে। এ গুলো হলো-

(i) অ্যাডাক্টার পেশিঃ ম্যান্ডিবলের ভিতরের দিকের পেশিকে অ্যাডাক্টার পেশি বলে। ইহা সংকুচিত হয়ে ম্যান্ডিবলকে ভিতরের দিকে টেনে আনে।

(ii) অ্যাবডাক্টার পেশিঃ ম্যান্ডিবলের বাইরের দিকের পেশিকে অ্যাবডাক্টার পেশি বলে। ইহা সংকুচিত হয়ে ম্যান্ডিবলকে বাইরের দিকে টেনে আনে। ম্যান্ডিবলের কাজ হলো খাদ্য বস্তু কাঁটা এবং পেষণ করা।

৩। ম্যাক্সিলা (Maxilla)ঃ মুখছিদ্রের উভয় পাশে ম্যান্ডিবল বরাবর বহুখন্ড বিশিষ্ট এক জোড়া ম্যাক্সিলা থাকে। ইহা দু’টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। কার্ডো ও স্টাইপ্স। ম্যাক্সিলার গোড়ার অংশকে কার্ডো বলে। কার্ডোর উপরের লম্বা ও দন্ডাকার অংশকে স্টাইপ্স বলে। স্টাইপসের মাথায় গ্যালিয়া ও ল্যাসিনিয়া থাকে। এছাড়া স্টাইপসের বাইরের দিকে পাঁচ খন্ড বিশিষ্ট একটি ম্যাক্সিলারী পাল্প থাকে। ম্যাক্সিলারী পাল্প সংবেদনশীল। ম্যাক্সিলার কাজ হলো খাদ্য বাছাই করা, খাদ্য ধরা, খাদ্য মুখে প্রবেশ করানো এবং সামনের পা পরিষ্কার করা।

৪। ল্যাবিয়াম (Labium)ঃ মুখছিদ্রের নিচে অবস্থিত একাধিক সন্ধিবিশিষ্ট বৃহদাকার যৌগিক উপাঙ্গকে ল্যাবিয়াম বলে। ইহা খাদ্যের গুণাগুণ বুঝা, খাদ্যকে মুখে প্রবেশ করানো এবং মুখকে ঢেকে রাখা। ল্যাবিয়াম দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। সাবমেন্টাম এবং মেন্টাম।

(i) সাবমেন্টাম (Submentum)ঃ ল্যাবিয়ামের গোড়ার অংশকে সাব মেন্টাম বলে। ইহা চ্যাপ্টা ও প্রশস্ত। ইহা ল্যাবিয়ামকে মস্তকের সাথে যুক্ত রাখে।

(ii) মেন্টাম (Mentum)ঃ সাব মেন্টাম ও প্রি-মেন্টামের মধ্যবর্তী অংশকে মেন্টাম বলে। ইহা ছোট এবং প্রায় গোলাকার। বাইরের দিকে দুইটি ল্যাবিয়াল পাল্প থাকে। প্রতিটি ল্যাবিয়াল পাল্প তিনটি খন্ডক যুক্ত। মেন্টামের অগ্রভাগে একটি লিগুলা থাকে। লিগুলার ভিতরের দিকে গ্লোসা এবং বাইরের দিকে প্যার গ্লোসা থাকে।

৫। উপজিহ্বা (Hypopharynx)ঃ ল্যাব্রাম ও ল্যাবিয়ামের মাঝে যে লম্বা, নরম ও মাংসাল উপাঙ্গ বিদ্যমান তাকে উপজিহ্বা বা লিঙ্গয়া  বলে। এর গোড়া ভাঁজ যুক্ত এবং কিউটিকল দ্বারা আবৃত থাকে। উপজিহ্বা খাদ্যকে নাড়াচাড়া ও খাদ্য গলাধঃকরণের কাজ করে।

ঘাস ফড়িং-এর বাহ্যিক গঠন । Grasshopper External features । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাস ফড়িং আকারে বড়। এরা লম্বায় ৮-৯ সেমি। এদের দেহ লম্বাটে, সুচালো এবং দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। দেহের রং অনেকটা হলদে-সবুজ (হলুদাভ) অথবা বাদামী বর্ণের। তবে কিছু প্রজাতি উজ্জ্বল নীল হলুদ বর্ণের হয় (Poekilocerus pictus)। এদের দেহে ডোরাকাটা দাগ থাকায় সহজেই পরিবেশের সাথে মিশে যায় এবং শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পায়। ঘাস ফড়িং-এর দেহ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। মাথা, বক্ষ ও উদর।
১। মাথা (Head)ঃ পতঙ্গের মস্তক সম্মুখ প্রান্তে নিচের দিকে নির্দেশিত অবস্থায় থাকে বলে একে হাইপোগন্যাথাস্ বলা হয়। মস্তক নাশপাতি আকৃতির। মস্তকের বহিঃকঙ্কালকে হেড ক্যাপসুল বা এপিক্রেনিয়াম বলে। ইহা ছয়টি খন্ডক নিয়ে গঠিত। তবে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে খন্ডক গুলোর কোন চিহ্ন নাই এবং একক গঠন বলে মনে হয়। এবং । মস্তকের পৃষ্ঠীয় ত্রিকোনাকার অঞ্চলকে ভার্টেক্স, পিছনের দিকের পাতের মতো অংশকে অক্সিপুট, সামনের অংশকে ফ্রন্স, পার্শ্বীয় অঞ্চলকে জেনা এবং নিচের আয়তাকার পাতকে ক্লাইপিয়াস বলে। মস্তকের উপাঙ্গ গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
(i) অ্যান্টেনা (Antenna)ঃ মাথার দু’পাশে পুঞ্জাক্ষির সামনে দুটি সংবেদনশীল অ্যান্টেনা থাকে। ইহা নলাকার, সূত্রাকার, অশাখ এবং বহু খন্ডযুক্ত। প্রতিটি অ্যান্টেনা তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। স্কেপ, পেডিসেল ও ফ্লাজেলাম। অ্যান্টেনার গোড়ার অংশ হলো স্কেপ। পেডিসেল খাটো ও অবিভক্ত। ফ্লাজেলাম লম্বা এবং ২০-২৫টি খন্ডকে বিভক্ত। প্রতিটি খন্ডকে সংবেদী কোষ ও স্নায়ুরোম থাকে। অ্যান্টেনা স্পর্শ, ঘ্রাণ ও শব্দ তরঙ্গ অনুভব করে।
(ii) পুঞ্জাক্ষি (Compound eye)ঃ মাথার দু’পাশে অবৃন্তক এবং সীমের বীজের মতো দু’টি পুঞ্জাক্ষি থাকে (কালো, উত্তল, বৃহৎ)। প্রতিটি পুঞ্জাক্ষিতে অসংখ্য বহুকোণা বিশিষ্ট প্রকোষ্ঠ থাকে। এদের প্রতিটিকে ওমাটিডিয়াম বলে। ঘাস ফড়িং-এর দৃষ্টি শক্তি যে কোন আর্থ্রোপোড অপেক্ষা উন্নত। এরা পুঞ্জাক্ষি দিয়ে রং শনাক্ত করতে পারে।
(iii) ওসেলাস (Ocelli)ঃ দু’টি পুঞ্জাক্ষির মাঝখানে তিনটি সরলাক্ষি বা ওসেলাস থাকে। প্রতিটি ওসেলাস লেন্স ও এক গুচ্ছ আলোক সংবেদী কোষ দ্বারা গঠিত। প্রতিটি লেন্স পুরু, স্বচ্ছ ও কিউটিকল দ্বারা গঠিত। সংবেদী কোষ গুলো রঞ্জক পদার্থ যুক্ত। এতে কনিয়াজেন কোষ, রেটিনুলার কোষ, র‌্যাবডোম, রঞ্জক আরবণ ও স্নায়ুকোষ থাকে। ওসেলাসের সাহায্যে ঘাসফড়িং আলোর তীব্রতার পরিবর্তন অনুধাবন করে। অনেকে মনে করেন, এর মাধ্যমে একক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
(iv) মুখোপাঙ্গ (Mouth parts)ঃ মুখের চারদিকে যে নড়নক্ষম সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ থাকে তাকে মুখোপাঙ্গ বলে। ঘাস ফড়িং-এর মুখোপাঙ্গ কচিপাতা বা কচিকান্ড চর্বনে ব্যবহৃত হয় বলে একে চর্বন উপযোগী বা ম্যান্ডিবুলেট মুখোপাঙ্গ বলে। ইহা পাঁচটি অংশ দ্বারা গঠিত। ল্যাব্রাম, ম্যান্ডিবল, ম্যাক্সিলা, ল্যাবিয়াম ও হাইপোফ্যারিংক্স।
২। বক্ষ (Thorax)ঃ ম্যান্ডিবলের পরবর্তী অংশকে বক্ষ বলে। ইহা তিনটি অংশে বিভক্ত। অগ্রবক্ষ বা প্রোথোরাক্স, মধ্যবক্ষ বা মেসোথোরাক্স ও পশ্চাৎ বক্ষ বা মেটাথোরাক্স। প্রতিটি অংশ কাইটিন নির্মিত কিউটিক্ল দ্বারা আবৃত থাকে। একে স্কেরাইট বলে। বক্ষের স্কেরাইট তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। টার্গাম, প্লিউরন এবং স্টার্ণাম।
(i) টার্গামঃ বক্ষের পৃষ্ঠীয় স্কেরাইটকে টার্গাম বলে। বক্ষের টার্গাগুলোকে নোটাম বলে। প্রোথোরাক্স-এর টার্গামকে প্রোনোটাম, মেসোথোরাক্স-এর টার্গামকে মেসোনোটাম ও মেটাথোরাক্স-এর টার্গামকে মেটানোটাম বলে। প্রোনোটাম বড়, চওড়া ও প্রসারিত। পৃষ্ঠীয় টার্গাম চারটি স্কে¬রাইট নিয়ে গঠিত। প্রিস্কুটাম, স্কুটাম, স্কুটেলাম ও পোস্টস্কুটেলাম।
(ii) প্লিউরনঃ বক্ষের পার্শ্বীয় স্কেরাইটকে প্লিউরন বলে। প্রতি পাশের প্লিউরন তিনটি স্কেরাইট নিয়ে গঠিত। এপিস্টার্নাম, এপিমেরন এবং প্যারাটেরন।
(iii) স্টার্ণামঃ বক্ষের অংকীয় স্কেরাইটকে স্টার্ণাম বলে। স্টার্ণাম একটিমাত্র স্কেরাইট নিয়ে গঠি।
ঘাসফড়িং এর বক্ষ অঞ্চলের উপাঙ্গ গুলো উল্লেখ করা হলো।
(i) শ্বাসরন্ধ্র (Spiracle)ঃ বক্ষ অঞ্চলে দুই জোড়া শ্বাসরন্ধ্র থাকে। অগ্র ও মধ্য বক্ষের মাঝে এক জোড়া শ্বাসরন্ধ্র এবং মধ্য ও পশ্চাৎ বক্ষের মাঝে আরেক জোড়া শ্বাসরন্ধ্র থাকে। এর মধ্যে দিয়ে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
(ii) ডানা (Wings)ঃ ঘাস ফড়িং-এর বক্ষ অঞ্চলে দুই জোড়া ডানা থাকে। মধ্যবক্ষীয় বা সামনের ডানা এবং পশ্চাৎ বক্ষীয় বা পিছনের ডানা। সামনের ডানা দুটি ছোট, সরু ও শক্ত। এরা উড়তে সাহায্য করে না। এ গুলো শুধু মাত্র পিছনের ডানাকে ঢেকে রাখে। তাই এদের এলিট্রা বা ডানার আবরণ বা টেগমিনা বলে। পিছনের ডানা দুটি বড়, চওড়া, স্বচ্ছ এবং পর্দার মতো। এরা উড়তে সাহায্য করে। বিশ্রামের সময় পিছনের ডানা দুটি গুটানো অবস্থায় থাকে। প্রতিটি ডানা অসংখ্য ছোট নালি ও রক্তপুর্ণ শিরা-উপশিরা দ্বারা গঠিত। এদেরকে নার্ভিউর বলে।
(iii) পা (Legs)ঃ বক্ষ অঞ্চলের তিন জোড়া হাঁটিয়ে পা থাকে। পতঙ্গের দেহে ছয়টি পা থাকে বলে এদেরকে হেক্সাপোডা বলা হয়। প্রতি পায়ে পাঁচটি খন্ডক থাকে। কক্সা, ট্রোক্যান্টার, ফিমার, টিবিয়া ও টার্সাস। কক্সা স্থুল ও ত্রিকোণাকার। ট্রোক্যান্টার ক্ষুদ্র ও ত্রিভুজাকার। ফিমার লম্বা, নলাকার ও দৃঢ়। ফিমার বড় ও মাংসাল। টার্সাস তিনটি ছোট ছোট উপখন্ডে বিভক্ত। এ উপখন্ড গুলোকে টার্সোমেয়ার বলে। দুটি টার্সোমেয়ারের সংযুক্ত স্থানে প্লান্টুলা নামক মখমলের মতো নরম গদি থাকে। টার্সাসের শেষ খন্ডকে প্রিটার্সাস বলে। প্রিটার্সাসের অগ্রভাগে একজোড়া বাঁকা নখর থাকে। নখর দুটির মাঝখানে পালভিলাস নামক নরম ও রোমযুক্ত গদি থাকে। এদের পায়ের ফিমার লম্বা ও মাংসল হয় যা লাফিয়ে চলার উপযোগী। এই ধরনের পা কে স্যালটাটোরিয়াল পা বলে।
৩। উদর (Abdomen)ঃ ঘাস ফড়িং-এর দেহের শেষ অংশকে উদর বলে। ইহা লম্বা, সরু, নরম ও খন্ডক যুক্ত। এর উদর ১১টি খন্ডক দ্বারা গঠিত। উদরের পৃষ্ঠদেশে টার্গাম এবং অংকীয়দেশে স্টার্ণাম থাকে। তবে এত প্লিউরন থাকে না। এর প্রথম খন্ডকটি অসম্পুর্ণ। এতে শুধু টার্গাম থাকে। উদর অঞ্চলের অঙ্গ গুলো হলো-
(i) টিম্পেনাম (Tympanum)ঃ প্রথম উদরীয় খন্ডকে শ্রবণ থলী বা টিম্পেনাম থাকে। শ্রবণ থলীকে ঘিরে একটি ডিম্বাকার টিম্পেনিক পর্দা থাকে।
(ii) শ্বাসরন্ধ্র (Spiracle)ঃ উদরের প্রথম থেকে অষ্টম খন্ড পর্যন্ত প্রতিটি খন্ডকে এক জোড়া করে মোট ৮ জোড়া শ্বাসরন্ধ্র থাকে। এর মধ্যে দিয়ে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
(iii) পায়ু ও জনন অঙ্গঃ পুরুষের নবম খন্ডকে সাবজেনিটাল প্লেট, ১০ম খন্ডকে অ্যানাল সারকি এবং ১১তম সুপ্রা অ্যানাল প্লেট ও পায়ু ছিদ্র থাকে।
থাকে। তবে কোন অ্যানাল স্টাইল থাকে না। উদরের ১১তম খন্ডকে পায়ু ছিদ্র এবং অ্যানাল প্লেট থাকে। স্ত্রীফড়িং-নবম খন্ডকে ডিম পাড়ার অঙ্গ ওভিপজিটর থাকে। ওভিপোজিটর ৪টি সুচালো কপাটিকা দ্বারা গঠিত।

ঘাস ফড়িং কেন Insecta বা পতঙ্গ শ্রেণীভুক্ত প্রাণী । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ঘাস ফড়িং এর দেহ কাইটিনময় এবং মস্তক, বক্ষ ও উদরে বিভক্ত

২। বক্ষে একজোড়া সন্ধিযুক্ত পা এবং একজোড়া ডানা থাকে

৩। শাখা-প্রশাখাযুক্ত ট্রাকিয়ালতন্ত্র আছে

৪। বায়ু নালিকা দ্বারা শ^সন সম্পন্ন করে

৫। মুক্ত রক্ত সংবহনতন্ত্র বিদ্যমান

৬। মালপিজিয়ান নালি দ্বারা রেচন সম্পন্ন করে

অর্থোপটেরোলজি ।। Orthopterology । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রাণিবিজ্ঞানের যে শাখায় ঘাসফড়িং (Grasshoppers), পঙ্গপাল (Locust) ও ঝিঝি পোকা (Crickets) নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে অর্থোপটেরোলজি বলে।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত ঘাসফড়িং । Hydra । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পৃথিবীতে প্রায় ২০,০০০ প্রজাতির ঘাসফড়িং শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে ২০ প্রজাতির ঘাসফড়িং পাওয়া গিয়েছে।

1| Acrida exaltata

2| Aulacobothrus luteipes

3| Atractomorpha crenulata

4| Choroedocus robustus

5| Chondracris rosea

6| Cyrtacanthacris tatarica

7| Chrotogonus trachypterus

8| Eyprepocnemis rosea

9| Gastrimargus marmoratus

10| Gesonula punctifrons

11| Hieroglyphus banian

12| Oedaleus abruptus

13| Oxya fuscovittata

14| Phlaoba infumata

15| Poekilocerus pictus

16| Sphingonotus longipennis

17| Spathosternumprasiniferum

18| Trilophidia annulata

19| Xenocatantops humilis

 

পঙ্গপাল । locust । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাস ফড়িং হলো দিবাচর ও গোগ্রাসী তৃণভোজী পতঙ্গ। এরা গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। অধিকাংশ সময়ে এরা দল বেঁধে চলে। এরা দল বেঁধে মাঠের ফসল খেয়ে সাবাড় করে দেয়। তাই এদেরকে আপদ পোকা বা পঙ্গপাল বলে। পরিচিত পঙ্গপাল হলো- Schistocerca americana, Romalea microptera,  Poekilocerus pictus প্রভৃতি।

ঘাসফড়িং এর খাদ্য । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাসফড়িং হলো তৃণভোজী বা শাকাশী (Herbivorous) প্রাণী। এর প্রধান খাদ্য হলো ঘাস, পাতা, শস্য ইত্যাদি। নিম্ফ অবস্থায় কোমল শাখা-প্রশাখাযুক্ত সহজপাচ্য ঘাস খায়। খোলস মোচনের পর শক্ত উদ্ভিদ খেয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

ঘাসফড়িং এর বাসস্থান ।। Grasshopper ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাসফড়িং মূলত সব ধরনের আবাসে অবস্থান করে। তৃণভ‚মি, চারণভ‚মি, মাঠ, জলাশয়, বারিবন, মরুভ‚মিসহ সর্বত্র দেখা যায়। যেখানে পানি বেশি উঠা-নামা করে এবং ডিম পাড়ার স্থান ডুবে যায় সে জায়গায় এরা কম থাকে। প্রতিকুল আবহাওয়ায় এরা পরিযায়ী বা migratory হয়। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। তখন দিনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার যেতে পারে।

ঘাসফড়িং কী । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অর্থোপটেরা বর্গের ক্যালিফেরা উপপর্বের প্রাণীদেরকে ফাসফড়িং বলা হয়। টেটিনোনিডি (Tettinonidae) গোত্রের ঘাসফড়িং লম্বা অ্যান্টেনাযুক্ত এবং অ্যাক্রিডিডি (Acrididae) গোত্রের ঘাসফড়িং খাটো অ্যান্টেনাযুক্ত। এরা একক বা নির্জন (solitary phase) অথবা দলবদ্ধ (gregrarius phase) ভাবে অবস্থান করে