হৃৎযন্ত্রের সাথে যে ত্রিকোণাকার পেশি থাকে তাকে অ্যালারি পেশি বলে। এসব পেশি টার্গামের অঙ্কীয় তল হতে উৎপন্ন হয়। এর প্রশস্ত প্রান্ত হৃৎযন্ত্রের সাথে যুক্ত থাকে। অ্যালারী পেশী (মোট ৬ জোড়া) হৃৎযন্ত্রকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে।
হিমোসিল এর গঠন । Haemocoel । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রিক শব্দ haema অর্থ রক্ত এবং coel অর্থ গহ্বর নিয়ে haemocoel শব্দটি গঠিত। হিমোলিম্ফ দ্বারা পরিপুর্ণ দেহগহ্বরকে হিমোসিল বলে। এদের হিমোসিলকে মিক্সোসিল বলা হয়। ইহা পৃষ্ঠীয় পর্দা ও অংকীয় পর্দা দ্বারা তিনটি প্রকোষ্ঠ বা সাইনাসে বিভক্ত। এগুলো হলো-
(i) পেরিকার্ডিয়াল সাইনাসঃ ইহা পৃষ্ঠীয় পর্দার উপরের অবস্থিত। এতে হৃৎযন্ত্র থাকে।
(ii) পেরিভিসেরাল সাইনাসঃ ইহা পৃষ্ঠীয় পর্দার নিচের অবস্থিত। এতে পৌষ্টিকনালী অবস্থান করে।
(iii) পেরিনিউরাল সাইনাসঃ ইহা অংকীয় পর্দার নিচে অবস্থিত। এতে স্নায়ুরজ্জু থাকে।
হিমোলিম্ফ এর গঠন ও কাজ ।। Hemolymph । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ঘাস ফড়িং-এর রক্ত দুটি উপাদান দ্বারা গঠিত। প্লাজমা ও হিমোসাইট।
(i) প্লাজমা বা রক্তরসঃ রক্তরস হলো বর্ণহীন তরল পদার্থ। এতে হিমোগ্লোবিন থাকে না। এতে প্রোটিন, শর্করা, গিøসারল, অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, জৈব এসিড, এস্টার, স্টেরল, ট্রাইগিøসারাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, নাইট্রোজেন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফেট, হিমোজ্যান্থিন, ট্রিহ্যালোজ, ডাইগিøসারাইড, টাইরোসিন, ট্রাইহ্যালেস প্রভৃতি থাকে।
(ii) হিমোসাইট বা রক্তকণিকাঃ ঘাস ফড়িং-এর রক্তে শুধুমাত্র শ্বেত রক্তকণিকা বা হিমোসাইট (১৫,০০০-৬০,০০০) থাকে। এতে লোহিত রক্তকণিকা থাকে না। হিমোসাইটকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রোহিমোসাইট, ট্রানজিশনাল হিমোসাইট ও বৃহদাকার হিমোসাইট। প্রোহিমোসাইট ৬-৯ mµ (২৩%), ট্রানজিশনাল হিমোসাইট ৯-১৯ mµ (৬৮%) ও বৃহদাকার হিমোসাইট ১৯-২৩ mµ (৯%)।
হিমোলিম্ফের কাজ
(i) হিমোলিম্ফ পানির আধার হিসেবে কাজ করে। এতে ৯২% পানি থাকে।
(ii) ইহা খাদ্যসার, খনিজলবণ, হরমোন রেচন পদার্থ পরিবহন করে।
(iii) দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
(iv) ডানা সঞ্চালন ও খোলস মোচনে সাহায্য করে।
(v) হিমোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ হয়।
(vi) হিমোসাইট রক্ত জমাট বাঁধা এবং দেহের ক্ষত নিরাময় করে।
(vii) হিমোসাইট মিউকোপলিস্যাকারাইড নিঃসরণ করে যোজক কলা গঠন করে।
ঘাস ফড়িং-এর খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া । Grasshopper Digestion system। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ঘাস ফড়িং শাক সবজি ও লতাপাতা খায়। ম্যান্ডিবল ও ম্যাক্সিলা দ্বারা খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হয়। এরপর লালারসের সাথে মিশে পিচ্ছিল হয়। পৌষ্টিকনালীর বিভিন্ন অংশ দ্বারা খাদ্য পরিপাক নিচে আলোচনা করা হলো
১। ক্রপে পরিপাকঃ লালা মিশ্রিত খাদ্য ক্রপের প্রাচীরের সংকোচন ও প্রসারণের কারণে ছোট ছোট কণায় পরিনত হয়। অ্যামাইলোলাইটিক (ইনভার্টেজ, ম্যাল্টেজ, ল্যাক্টেজ) এনজাইমের প্রভাবে শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্লুকোজে পরিনত হয়। প্রোটিওলাইটিক (ট্রিপসিন, প্রোটিয়েজ, পেপটাইডেজ) এনজাইমের প্রভাবে প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়। লাইপোলাইটিক এনজাইম লিপিডকে ফ্যাটি এসিড ও গিøসারলে পরিনত করে।
২। গিজার্ডে পরিপাকঃ গিজার্ডের সংকোচণ ও প্রসারণের ফলে খাদ্যবস্তু অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিনত হয়।
৩। মেসেন্টেরনে পরিপাকঃ মধ্য পৌষ্টিকনালীর হেপাটিক সিকা থেকে বিভিন্ন ধরনের এনজাইম নিঃসৃত হয়। এ সব এনজাইম খাদ্য পরিপাক করে।
(i) ট্রিপসিন এনজাইমের প্রভাবে প্রোটিন ভেঙ্গে পেপটাইডে পরিনত হয়। পেপটাইড পরে ইরেপসিন এনজাইমের সহায়তায় ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়।
(ii) অ্যামাইলেজ এনজাইমের প্রভাবে শর্করা ভেঙ্গে মল্টোজে পরিনত হয়। মল্টোজ পরে মলটেজ এনজাইমের সহায়তায় ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিনত হয়।
(iii) লাইপেজ এনজাইমের প্রভাবে লিপিড ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গিøসারলে পরিনত হয়।
খাদ্যসার শোষণঃ মেসেন্টেরন ও হেপাটিক সিকার প্রাচীরে শোষণকারী কোষ থাকে। এসব কোষ অধিকাংশ খাদ্যসার শোষণ করে। অধিকাংশ গ্লুকোজ শোষিত হয় হেপাটিক সিকায়। রেকটামের প্রাচীর মল থেকে অতিরিক্ত পানি, খনিজলবণ ও অ্যামাইনো এসিড শোষণ করে। দানা আকৃতির মল পায়ুপথে নিষ্কাশিত হয়।
ঘাস ফড়িং-এর পরিপাকতন্ত্র । Grasshopper digestive system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ঘাস ফড়িং–এর পরিপাকতন্ত্র দুইটি অংশ দ্বারা গঠিত। পৌষ্টিকনালী ও পরিপাক গ্রন্থি।
পৌষ্টিকনালী (Alimentary canal)ঃ মুখছিদ্র থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত নলাকার অংশকে পৌষ্টিকনালী বলে। ঘাস ফড়িং–এর পৌষ্টিকনালী তিনটি অংশে বিভক্ত। স্টোমোডিয়াম, মেসেন্টেরন ও প্রোক্টোডিয়াম।
১। স্টোমোডিয়ামঃ মুখছিদ্র হতে গিজার্ড পর্যন্ত অংশকে অগ্র পৌষ্টিকনালী বলে। ইহা ছয়টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো–
(i) মুখছিদ্রঃ পৌষ্টিকনালীর সম্মুখে যে ছিদ্রপথ থাকে তাকে মুখছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তু ভিতরে প্রবেশ করে
(ii) মুখগহ্বরঃ মুখছিদ্রের পরবর্তী মুখোপাঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মুখগহŸর বলে। মুখবিবরে খাদ্যবস্তু লালার সাথে মিশ্রিত হয়। ইহা খাদ্যকে মুখছিদ্র হতে গলবিলে নিয়ে যায়।
(iii) গলবিলঃ মুখবিবরের পিছনে অবস্থিত ছোট, পেশীবহুল, সরু ও নলাকার অংশকে গলবিল বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্য অন্ননালীতে প্রবেশ করে।
(iv) অন্ননালীঃ গলবিলের পরবর্তী সরু, লম্বা ও নলাকার অংশকে অন্ননালী বলে। ইহা পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। ইহা খাদ্যকে ক্রপে পৌছে দেয়।
(v) ক্রপঃ অন্ননালী স্ফীত হয়ে মোচাকার থলীর মতো ক্রপ গঠন করে। ইহা পাতলা প্রাচীর যুক্ত। এতে খাদ্য সাময়িক ভাবে জমা থাকে। এখান থেকে খাদ্য পরিপাক শুরু হয়।
(vi) গিজার্ড বা প্রোভেন্ট্রিকুলাসঃ ক্রপের পরবর্তী প্রসারিত অংশকে গিজার্ড বলে। ইহা পুরু, পেশীবহুল ও ত্রিকোণাকার থলী। এর প্রাচীর শক্ত, পুরু ও বৃত্তাকার পেশী দ্বারা গঠিত। গিজার্ডের সামনের অংশকে আর্মারিয়াম এবং পিছনের অংশকে স্টোমোডিয়াম কপাটিকা বলে। আর্মারিয়ামের প্রাচীর অনুদৈর্ঘ্যভাবে ভাঁজ হয়ে পাতের মতো ছয়টি দাঁত গঠন করে। দাঁতের পিছনে প্যাডের মতো পাত থাকে। এই পাতে সুক্ষ্ম ব্রিসল বা রোম থাকে। অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজের গভীর খাদে ব্রিসল থাকে। গিজার্ডের দাঁত খাদ্যকে চুর্ণ–বিচুর্ণ করে। ব্রিসল বা রোম ছাঁকনির কাজ করে। কপাটিকা খাদ্যের বিপরীত প্রবাহে বাধা দেয়।
২। মধ্য পৌষ্টিকনালী বা মেসেন্টেরনঃ গিজার্ড থেকে প্রোক্টোডিয়াম পর্যন্ত অংশকে মেসেন্টেরন বলে। গিজর্ড ও মেসেন্টেরনের সংযুক্তির স্থানকে কার্ডিয়া (পধৎফরধ) বলে। মেসেন্টেরনকে পাকস্থলী বলা হয়। পাকস্থলীর সম্মুখ ও পশ্চাৎ প্রান্তে পেশী বলয় বা স্ফিংক্টার থাকে। ইহা খাটো ও সমব্যাস যুক্ত। ইহা এন্ডোডার্ম থেকে সৃষ্টি হয় এবং পেরিট্রফিক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। পেরিট্রফিক পর্দা খাদ্যকে অন্ত্রের গায়ে লেগে থাকতে দেয় না। এতে অন্ত্র ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। অগ্র ও মধ্য পৌষ্টিকনালীর সংযোগ স্থলে ৬ জোড়া হেপাটিক বা গ্যাস্ট্রিক সিকা বলে। হেপাটিক সিকা গুলো লম্বা, ফাঁপা ও মোচাকার। পাকস্থলী খাদ্য ধারণ ও খাদ্য পরিপাক করে। হেপাটিক সিকা খাদ্য পরিশোষণে সাহায্য করে।
৩। প্রোক্টোডিয়াম (Proctodaeum)ঃ মধ্য পৌষ্টিকনালীর পরবর্তী অংশ হলো পশ্চাৎ পৌষ্টিকনালী। মধ্য ও পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালীর সংযোগস্থলে ১০–১৫টি মালপিজিয়ান নালিকা থাকে। পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালী চারটি অংশ দ্বারা গঠিত। ইলিয়াম, কোলন, মলাশয় ও পায়ু।
(i) ইলিয়ামঃ ইলিয়াম হলো সরু, ছোট ও নলের মতো অংশ। এর ভিতরের প্রাচীর রোম ও ভাঁজযুক্ত। এই ভাঁজ যুক্ত অংশ গুলো কপাটিকার মতো কাজ করে। ইলিয়াম খাদ্য পরিপাক ও খাদ্যসার শোষণ করে।
(ii) কোলনঃ ইলিয়ামের পরবর্তী লম্বা অসম আকৃতির অংশকে কোলন বলে। কোলনের ব্যাস ইলিয়ামের চেয়ে বেশি। ইহা খাদ্যবস্তু শোষণ করে।
(iii) মলাশয়ঃ পৌষ্টিকনালীর সবচেয়ে পিছনের অংশকে মলাশয় বলে। এটি স্ফীত এবং পুরু প্রাচীর যুক্ত। এর ভিতরের প্রাচীরে ৬টি ভাঁজ রয়েছে। এই ভাঁজ গুলোকে মলাশয় প্যাপিলা বলে। ইহা মল হতে অতিরিক্ত পানি, খনিজ লবণ, অ্যামাইনো এসিড প্রভৃতি শোষণ করে। এছাড়া খাদ্যের অপাচ্য অংশকে সঞ্চিত রাখে।
(iv) পায়ুঃ মলাশয়ের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ছিদ্রপথকে পায়ু বলে। ইহা খাদ্যের অসার অংশকে দেহ হতে অপসারণ করে।
পরিপাক গ্রন্থি (Digestive gland)
ঘাস ফড়িং–এর প্রধান পরিপাক গ্রন্থি দুইটি। যথা– লালা গ্রন্থি ও গ্যাস্ট্রিক সিকা
১। লালা গ্রন্থিঃ পৌষ্টিকনালীর ক্রপের দু’পাশে এক জোড়া যৌগিক পাতার মতো লালাগ্রন্থি থাকে। লালা গ্রন্থি হতে লালারস নিঃসৃত হয়। লালারস খাদ্য পরিপাকে অংশ গ্রহণ করে।
২। গ্যাস্ট্রিক সিকাঃ গিজার্ড ও মেসেন্টেরনের সংযোগস্থলে ৭–৮টি হেপাটিক সিকা থাকে। এদের ভিতরের মুখ পোষ্টিকনালীতে উম্মুক্ত থাকে এবং বাইরের মুখ বন্ধ থাকে। গ্যাস্ট্রিক সিকা হতে উৎসেচক নিঃসৃত হয়। উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
ঘাসফড়িং এর পরিপাক গ্রন্থি । Grasshopper digestive gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ঘাস ফড়িং–এর প্রধান পরিপাক গ্রন্থি দুইটি। যথা– লালা গ্রন্থি ও গ্যাস্ট্রিক সিকা
১। লালা গ্রন্থিঃ পৌষ্টিকনালীর ক্রপের দু’পাশে এক জোড়া যৌগিক পাতার মতো লালাগ্রন্থি থাকে। লালা গ্রন্থি হতে লালারস নিঃসৃত হয়। লালারস খাদ্য পরিপাকে অংশ গ্রহণ করে।
২। গ্যাস্ট্রিক সিকাঃ গিজার্ড ও মেসেন্টেরনের সংযোগস্থলে ৭–৮টি হেপাটিক সিকা থাকে। এদের ভিতরের মুখ পোষ্টিকনালীতে উম্মুক্ত থাকে এবং বাইরের মুখ বন্ধ থাকে। গ্যাস্ট্রিক সিকা হতে উৎসেচক নিঃসৃত হয়। উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
ঘাসফড়িং এর পৌষ্টিকনালী । Grasshopper Alimentary canal । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মুখছিদ্র থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত নলাকার অংশকে পৌষ্টিকনালী বলে। ঘাস ফড়িং–এর পৌষ্টিকনালী তিনটি অংশে বিভক্ত। স্টোমোডিয়াম, মেসেন্টেরন ও প্রোক্টোডিয়াম।
১। স্টোমোডিয়ামঃ মুখছিদ্র হতে গিজার্ড পর্যন্ত অংশকে অগ্র পৌষ্টিকনালী বলে। ইহা ছয়টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো–
(i) মুখছিদ্রঃ পৌষ্টিকনালীর সম্মুখে যে ছিদ্রপথ থাকে তাকে মুখছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তু ভিতরে প্রবেশ করে
(ii) মুখগহ্বরঃ মুখছিদ্রের পরবর্তী মুখোপাঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত অংশকে মুখগহŸর বলে। মুখবিবরে খাদ্যবস্তু লালার সাথে মিশ্রিত হয়। ইহা খাদ্যকে মুখছিদ্র হতে গলবিলে নিয়ে যায়।
(iii) গলবিলঃ মুখবিবরের পিছনে অবস্থিত ছোট, পেশীবহুল, সরু ও নলাকার অংশকে গলবিল বলে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্য অন্ননালীতে প্রবেশ করে।
(iv) অন্ননালীঃ গলবিলের পরবর্তী সরু, লম্বা ও নলাকার অংশকে অন্ননালী বলে। ইহা পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। ইহা খাদ্যকে ক্রপে পৌছে দেয়।
(v) ক্রপঃ অন্ননালী স্ফীত হয়ে মোচাকার থলীর মতো ক্রপ গঠন করে। ইহা পাতলা প্রাচীর যুক্ত। এতে খাদ্য সাময়িক ভাবে জমা থাকে। এখান থেকে খাদ্য পরিপাক শুরু হয়।
(vi) গিজার্ড বা প্রোভেন্ট্রিকুলাসঃ ক্রপের পরবর্তী প্রসারিত অংশকে গিজার্ড বলে। ইহা পুরু, পেশীবহুল ও ত্রিকোণাকার থলী। এর প্রাচীর শক্ত, পুরু ও বৃত্তাকার পেশী দ্বারা গঠিত। গিজার্ডের সামনের অংশকে আর্মারিয়াম এবং পিছনের অংশকে স্টোমোডিয়াম কপাটিকা বলে। আর্মারিয়ামের প্রাচীর অনুদৈর্ঘ্যভাবে ভাঁজ হয়ে পাতের মতো ছয়টি দাঁত গঠন করে। দাঁতের পিছনে প্যাডের মতো পাত থাকে। এই পাতে সুক্ষ্ম ব্রিসল বা রোম থাকে। অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজের গভীর খাদে ব্রিসল থাকে। গিজার্ডের দাঁত খাদ্যকে চুর্ণ–বিচুর্ণ করে। ব্রিসল বা রোম ছাঁকনির কাজ করে। কপাটিকা খাদ্যের বিপরীত প্রবাহে বাধা দেয়।
২। মধ্য পৌষ্টিকনালী বা মেসেন্টেরনঃ গিজার্ড থেকে প্রোক্টোডিয়াম পর্যন্ত অংশকে মেসেন্টেরন বলে। গিজর্ড ও মেসেন্টেরনের সংযুক্তির স্থানকে কার্ডিয়া (পধৎফরধ) বলে। মেসেন্টেরনকে পাকস্থলী বলা হয়। পাকস্থলীর সম্মুখ ও পশ্চাৎ প্রান্তে পেশী বলয় বা স্ফিংক্টার থাকে। ইহা খাটো ও সমব্যাস যুক্ত। ইহা এন্ডোডার্ম থেকে সৃষ্টি হয় এবং পেরিট্রফিক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। পেরিট্রফিক পর্দা খাদ্যকে অন্ত্রের গায়ে লেগে থাকতে দেয় না। এতে অন্ত্র ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। অগ্র ও মধ্য পৌষ্টিকনালীর সংযোগ স্থলে ৬ জোড়া হেপাটিক বা গ্যাস্ট্রিক সিকা বলে। হেপাটিক সিকা গুলো লম্বা, ফাঁপা ও মোচাকার। পাকস্থলী খাদ্য ধারণ ও খাদ্য পরিপাক করে। হেপাটিক সিকা খাদ্য পরিশোষণে সাহায্য করে।
৩। প্রোক্টোডিয়াম (Proctodaeum)ঃ মধ্য পৌষ্টিকনালীর পরবর্তী অংশ হলো পশ্চাৎ পৌষ্টিকনালী। মধ্য ও পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালীর সংযোগস্থলে ১০–১৫টি মালপিজিয়ান নালিকা থাকে। পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালী চারটি অংশ দ্বারা গঠিত। ইলিয়াম, কোলন, মলাশয় ও পায়ু।
(i) ইলিয়ামঃ ইলিয়াম হলো সরু, ছোট ও নলের মতো অংশ। এর ভিতরের প্রাচীর রোম ও ভাঁজযুক্ত। এই ভাঁজ যুক্ত অংশ গুলো কপাটিকার মতো কাজ করে। ইলিয়াম খাদ্য পরিপাক ও খাদ্যসার শোষণ করে।
(ii) কোলনঃ ইলিয়ামের পরবর্তী লম্বা অসম আকৃতির অংশকে কোলন বলে। কোলনের ব্যাস ইলিয়ামের চেয়ে বেশি। ইহা খাদ্যবস্তু শোষণ করে।
(iii) মলাশয়ঃ পৌষ্টিকনালীর সবচেয়ে পিছনের অংশকে মলাশয় বলে। এটি স্ফীত এবং পুরু প্রাচীর যুক্ত। এর ভিতরের প্রাচীরে ৬টি ভাঁজ রয়েছে। এই ভাঁজ গুলোকে মলাশয় প্যাপিলা বলে। ইহা মল হতে অতিরিক্ত পানি, খনিজ লবণ, অ্যামাইনো এসিড প্রভৃতি শোষণ করে। এছাড়া খাদ্যের অপাচ্য অংশকে সঞ্চিত রাখে।
(iv) পায়ুঃ মলাশয়ের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ছিদ্রপথকে পায়ু বলে। ইহা খাদ্যের অসার অংশকে দেহ হতে অপসারণ করে।
ঘাসফড়িং এর প্রোক্টোডিয়াম । Grasshopper Proctodaeum । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মধ্য পৌষ্টিকনালীর পরবর্তী অংশ হলো পশ্চাৎ পৌষ্টিকনালী। মধ্য ও পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালীর সংযোগস্থলে ১০–১৫টি মালপিজিয়ান নালিকা থাকে। পশ্চাৎ পৌষ্টিক নালী চারটি অংশ দ্বারা গঠিত। ইলিয়াম, কোলন, মলাশয় ও পায়ু।
(i) ইলিয়ামঃ ইলিয়াম হলো সরু, ছোট ও নলের মতো অংশ। এর ভিতরের প্রাচীর রোম ও ভাঁজযুক্ত। এই ভাঁজ যুক্ত অংশ গুলো কপাটিকার মতো কাজ করে। ইলিয়াম খাদ্য পরিপাক ও খাদ্যসার শোষণ করে।
(ii) কোলনঃ ইলিয়ামের পরবর্তী লম্বা অসম আকৃতির অংশকে কোলন বলে। কোলনের ব্যাস ইলিয়ামের চেয়ে বেশি। ইহা খাদ্যবস্তু শোষণ করে।
(iii) মলাশয়ঃ পৌষ্টিকনালীর সবচেয়ে পিছনের অংশকে মলাশয় বলে। এটি স্ফীত এবং পুরু প্রাচীর যুক্ত। এর ভিতরের প্রাচীরে ৬টি ভাঁজ রয়েছে। এই ভাঁজ গুলোকে মলাশয় প্যাপিলা বলে। ইহা মল হতে অতিরিক্ত পানি, খনিজ লবণ, অ্যামাইনো এসিড প্রভৃতি শোষণ করে। এছাড়া খাদ্যের অপাচ্য অংশকে সঞ্চিত রাখে।
(iv) পায়ুঃ মলাশয়ের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ছিদ্রপথকে পায়ু বলে। ইহা খাদ্যের অসার অংশকে দেহ হতে অপসারণ করে।
ঘাসফড়িং এর মেসেন্টেরন । মধ্য পৌষ্টিকনালী । Midgut, Mesenteron । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গিজার্ড থেকে প্রোক্টোডিয়াম পর্যন্ত অংশকে মেসেন্টেরন বলে। গিজর্ড ও মেসেন্টেরনের সংযুক্তির স্থানকে কার্ডিয়া (পধৎফরধ) বলে। মেসেন্টেরনকে পাকস্থলী বলা হয়। পাকস্থলীর সম্মুখ ও পশ্চাৎ প্রান্তে পেশী বলয় বা স্ফিংক্টার থাকে। ইহা খাটো ও সমব্যাস যুক্ত। ইহা এন্ডোডার্ম থেকে সৃষ্টি হয় এবং পেরিট্রফিক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। পেরিট্রফিক পর্দা খাদ্যকে অন্ত্রের গায়ে লেগে থাকতে দেয় না। এতে অন্ত্র ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। অগ্র ও মধ্য পৌষ্টিকনালীর সংযোগ স্থলে ৬ জোড়া হেপাটিক বা গ্যাস্ট্রিক সিকা বলে। হেপাটিক সিকা গুলো লম্বা, ফাঁপা ও মোচাকার। পাকস্থলী খাদ্য ধারণ ও খাদ্য পরিপাক করে। হেপাটিক সিকা খাদ্য পরিশোষণে সাহায্য করে।
ঘাসফড়িং এর গিজার্ড । প্রোভেন্ট্রিকুলাস । । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ক্রপের পরবর্তী প্রসারিত অংশকে গিজার্ড বলে। ইহা পুরু, পেশীবহুল ও ত্রিকোণাকার থলী। এর প্রাচীর শক্ত, পুরু ও বৃত্তাকার পেশী দ্বারা গঠিত। গিজার্ডের সামনের অংশকে আর্মারিয়াম এবং পিছনের অংশকে স্টোমোডিয়াম কপাটিকা বলে। আর্মারিয়ামের প্রাচীর অনুদৈর্ঘ্যভাবে ভাঁজ হয়ে পাতের মতো ছয়টি দাঁত গঠন করে। দাঁতের পিছনে প্যাডের মতো পাত থাকে। এই পাতে সুক্ষ্ম ব্রিসল বা রোম থাকে। অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজের গভীর খাদে ব্রিসল থাকে। গিজার্ডের দাঁত খাদ্যকে চুর্ণ–বিচুর্ণ করে। ব্রিসল বা রোম ছাঁকনির কাজ করে। কপাটিকা খাদ্যের বিপরীত প্রবাহে বাধা দেয়।