হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের নেমাটোসিস্টের গঠন ও কাজ ।। Nematocyst ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিডোসাইট কোষে অবস্থিত প্যাচানো সূত্রকসহ ক্ষুদ্র থলীকে নেমাটোসিস্ট বলে। স্বাভাবিক অবস্থায় সূত্রকটি বাট ও কাঁটাসহ থলী বা ক্যাপসুলের ভিতর ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না। ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী ভার্নার (Werner) নিডেরিয়া জাতীয় প্রাণীদের দেহে ২৩ ধরনের নেমাটোসিস্ট শনাক্ত করেছেন। তবে হাইড্রাতে চার প্রকার নেমাটোসিস্ট দেখা যায়।

১। স্টেনোটিল বা পেনিট্র্যান্টঃ হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে স্টিনোটিল সবচেয়ে বড়। এর ক্যাপসুল বিষাক্ত হিপনোটক্সিন নামক তরল দ্বারা পুর্ণ থাকে। এর বাট মোটা। বাটে তিনটি বড় কাঁটা থাকে। একে বার্ব বলে। বাটে তিন সারি বার্বিউল থাকে।

স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্টের কাজ

(i) ইহা হিপনোটক্সিন দ্বারা শিকারকে অবশ করে।

(ii) এর সূত্রক শিকারকে আঁকড়ে ধরে।

২। স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট বা হলোট্রাইকাস আইসোরাইজাঃ স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট মাঝারী ধরনের নেমাটোসিস্ট। এর ক্যাপসুল ছোট এবং বাট সুগঠিত নয়। এতে বার্ব নাই, তবে বার্বিউল থাকে। এর সূত্রক লম্বা, কাঁটাযুক্ত এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে প্যাচিয়ে ধরে।

(ii) চলনে সাহায্য করে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

৩। স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট বা অ্যাট্রাইকাস আইসোরাইজাঃ স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট হলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট। এদের বাট সুগঠিত নয়। বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রক ছোট, কাঁটাবিহীন এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(ii) হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

(iv) শিকারকে আটকে ধরে।

৪। ভলভেন্ট বা ডেসমোনিমঃ ভলভেন্ট হলো অপেক্ষাকৃত ছোট নেমাটোসিস্ট। এদের বাট, বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রকটি মোটা, খাটো, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন ও শীর্ষদেশ বন্ধ। এর ক্যাপসুলের ভিতরে সূত্রকের একটি মাত্র প্যাচ থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়া অবস্থায়ও সূত্রকটি প্যাচানো থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্ক-স্ক্রুর মতো অনেকগুলো প্যাঁচের সৃষ্টি করে।

ভলভেন্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে জড়িয়ে ধরে।

(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

ভলভেন্ট এর কাজ ।। ডেসমোনিম এর কাজ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ভলভেন্ট হলো অপেক্ষাকৃত ছোট নেমাটোসিস্ট। এদের বাট, বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রকটি মোটা, খাটো, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন ও শীর্ষদেশ বন্ধ। এর ক্যাপসুলের ভিতরে সূত্রকের একটি মাত্র প্যাচ থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়া অবস্থায়ও সূত্রকটি প্যাচানো থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্ক-স্ক্রুর মতো অনেকগুলো প্যাঁচের সৃষ্টি করে।
ভলভেন্টের কাজ
(i) ইহা শিকারকে জড়িয়ে ধরে।
(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট এর কাজ ।। অ্যাট্রাইকাস আইসোরাইজার কাজ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রিওলিন গ্লুটিন্যান্ট হলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট। এদের বাট সুগঠিত নয়। বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রক ছোট, কাঁটাবিহীন এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(ii) হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

(iv) শিকারকে আটকে ধরে।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট এর কাজ ।। হলোট্রাইকাস আইসোরাইজার কাজ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট মাঝারী ধরনের নেমাটোসিস্ট। এর ক্যাপসুল ছোট এবং বাট সুগঠিত নয়। এতে বার্ব নাই, তবে বার্বিউল থাকে। এর সূত্রক লম্বা, কাঁটাযুক্ত এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে প্যাচিয়ে ধরে।

(ii) চলনে সাহায্য করে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

স্টেনোটিল এর কাজ । পেনিট্র্যান্ট । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে স্টিনোটিল সবচেয়ে বড়। এর ক্যাপসুল বিষাক্ত হিপনোটক্সিন নামক তরল দ্বারা পুর্ণ থাকে। এর বাট মোটা। বাটে তিনটি বড় কাঁটা থাকে। একে বার্ব বলে। বাটে তিন সারি বার্বিউল থাকে।

স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্টের কাজ

(i) ইহা হিপনোটক্সিন দ্বারা শিকারকে অবশ করে।

(ii) এর সূত্রক শিকারকে আঁকড়ে ধরে।

নিডোব্লাস্ট কোষের গঠন ও কাজ । নিডোসাইট কোষ  । Cnidoblast । Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ nettle এবং blastos অর্থ germ নিয়ে Cnidoblast শব্দটি গঠিত। হাইড্রার বহিঃত্বকে কলসি বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির যে কোষ থাকে তাকে নিডোব্লাস্ট কোষ বলে। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, নাশপাতি, পেয়ালা বা লাটিম আকৃতির হতে পারে। পদতল ছাড়া দেহের সর্বত্র নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে। তবে কর্ষিকায় এর সংখ্যা অধিক। কখনো কখনো কোষগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এদের গুচ্ছকে ব্যাটারী বলে।

১। আবরণীঃ প্রতিটি নিডোব্লাস্ট কোষ দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। ইহা প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে।

২। নেমাটোসিস্টঃ  নিডোব্লাস্ট কোষে বিদ্যমান প্যাচানো সুত্রকসহ ক্ষুদ্র থলিকে নেমাটোসিস্ট বলে। নেমাটোসিস্টের থলীকে ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুলে বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন থাকে। হিপনোটক্সিন প্রোটিন ও ফেনল দ্বারা গঠিত। হিপনোটক্সিন বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির। অর্থাৎ শিকারের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে। এই বিষের মাত্রা ৭৫% গোখরা বা কোবরা সাপের বিষের মতো। নেমাটোসিস্টের অগ্রপ্রান্তে লম্বা ও ফাঁপা সূত্রক থাকে। সূত্রকের গোড়ার প্রশস্ত অংশকে বাট বা শ্যাফট বলে। বাটের উপর বার্ব নামক তিনটি বড় কাঁটা থাকে। বাটে সর্পিলাকারে সজ্জিত ছোট ছোট বার্বিউল কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্ট বাট ও কাঁটাসহ থলির ভিতরে ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না।

৩। অপারকুলামঃ  নেমাটোসিস্টের মুখে ঢাকনার মতো একটি অংশ থাকে। একে অপারকুলাম বলে। উন্মুক্ত অবস্থায় ইহা পাশে সরে যায়।

৪। নিডোসিলঃ নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে শক্ত, দৃঢ়, ক্ষুদ্র ও অতিসংবেদনশীল একটি ফাঁপা কাঁটা থাকে। একে নিডোসিল বলে। ইহা একটি রুপান্তরিত সিলিয়াম। ইহা ট্রিগারের মতো কাজ করে। ফলে প্যাচানো সূত্রক বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।

৫। পেশিসূত্র ও ল্যাসো (গঁংপষব ভরনৎব ্ খধংংড়) ঃ  নেমাটোসিস্টের নি¤œ প্রান্ত হতে কতক গুলো পেশী সূত্র নির্গত হয়। এছাড়া নি¤œ প্রান্তে ল্যাসো নামক একটি প্যাচানো সুতা থাকে।

নিডোব্লাস্টের কাজ

১। আত্মরক্ষাঃ  নেমাটোসিস্টের ভিতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে। হাইড্রা এই বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা আত্মরক্ষা করে।

২। শিকার ধরাঃ  নেমাটোসিস্টের সূত্রক দ্বারা হাইড্রা খাদ্যকে আকড়ে ধরে। এরপর শিকারকে অবশ করে।

৩। চলনঃ নিমাটোসিস্ট কোষ হাইড্রাকে চলনে সাহায্য করে। হাইড্রায় বিভিন্ন ধরনের চলন ঘটে।

৪। দেহকে আটকে রাখাঃ  নেমাটোসিস্ট আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে । ইহা দ্বারা হাইড্রা কোন বস্তুর সাথে আটকে থাকে।

নিডোব্লাস্টের কাজ । Cnidoblast । Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। আত্মরক্ষাঃ  নেমাটোসিস্টের ভিতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে। হাইড্রা এই বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা আত্মরক্ষা করে।

২। শিকার ধরাঃ  নেমাটোসিস্টের সূত্রক দ্বারা হাইড্রা খাদ্যকে আকড়ে ধরে। এরপর শিকারকে অবশ করে।

৩। চলনঃ নিমাটোসিস্ট কোষ হাইড্রাকে চলনে সাহায্য করে। হাইড্রায় বিভিন্ন ধরনের চলন ঘটে।

৪। দেহকে আটকে রাখাঃ  নেমাটোসিস্ট আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে । ইহা দ্বারা হাইড্রা কোন বস্তুর সাথে আটকে থাকে।

নিডোব্লাস্ট কোষের গঠন । নিডোসাইট কোষের গঠন । Cnidoblast/Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ nettle এবং blastos অর্থ germ নিয়ে Cnidoblast শব্দটি গঠিত। হাইড্রার বহিঃত্বকে কলসি বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির যে কোষ থাকে তাকে নিডোব্লাস্ট কোষ বলে। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, নাশপাতি, পেয়ালা বা লাটিম আকৃতির হতে পারে। পদতল ছাড়া দেহের সর্বত্র নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে। তবে কর্ষিকায় এর সংখ্যা অধিক। কখনো কখনো কোষগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এদের গুচ্ছকে ব্যাটারী বলে।
১। আবরণীঃ প্রতিটি নিডোব্লাস্ট কোষ দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। ইহা প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে।
২। নেমাটোসিস্টঃ নিডোব্লাস্ট কোষে বিদ্যমান প্যাচানো সুত্রকসহ ক্ষুদ্র থলিকে নেমাটোসিস্ট বলে। নেমাটোসিস্টের থলীকে ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুলে বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন থাকে। হিপনোটক্সিন প্রোটিন ও ফেনল দ্বারা গঠিত। হিপনোটক্সিন বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির। অর্থাৎ শিকারের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে। এই বিষের মাত্রা ৭৫% গোখরা বা কোবরা সাপের বিষের মতো। নেমাটোসিস্টের অগ্রপ্রান্তে লম্বা ও ফাঁপা সূত্রক থাকে। সূত্রকের গোড়ার প্রশস্ত অংশকে বাট বা শ্যাফট বলে। বাটের উপর বার্ব নামক তিনটি বড় কাঁটা থাকে। বাটে সর্পিলাকারে সজ্জিত ছোট ছোট বার্বিউল কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্ট বাট ও কাঁটাসহ থলির ভিতরে ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না।
৩। অপারকুলামঃ নেমাটোসিস্টের মুখে ঢাকনার মতো একটি অংশ থাকে। একে অপারকুলাম বলে। উন্মুক্ত অবস্থায় ইহা পাশে সরে যায়।
৪। নিডোসিলঃ নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে শক্ত, দৃঢ়, ক্ষুদ্র ও অতিসংবেদনশীল একটি ফাঁপা কাঁটা থাকে। একে নিডোসিল বলে। ইহা একটি রুপান্তরিত সিলিয়াম। ইহা ট্রিগারের মতো কাজ করে। ফলে প্যাচানো সূত্রক বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।
৫। পেশিসূত্র ও ল্যাসোঃ নেমাটোসিস্টের নিম্ন প্রান্ত হতে কতক গুলো পেশী সূত্র নির্গত হয়। এছাড়া নিম্ন প্রান্তে ল্যাসো নামক একটি প্যাচানো সুতা থাকে।

মেসোগ্লিয়ার কাজ ।। Mesogloea ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিডারিয়া জাতীয় প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে যে জেলীর মতো আঠালো অকোষীয় স্তর থাকে তাকে মেসোগিøয়া বলে। ইহা পাতলা, বর্ণহীন ও স্থিতিস্থাপক। এর ব্যাস ০.১ মাইক্রন।
মেসোগ্লিয়ার কাজ
১। মেসোগ্লিয়া বহিঃত্বক ও অন্তঃত্বকের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
২। ইহা সংযুক্তি তল হিসেবে কাজ করে।
৩। ইহা দেহকে সংকোচন-প্রসারণ করে।
৪। দেহের নমনীয় কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে।
৫। ইহা মায়োফাইব্রিল ধারণ করে।

 হাইড্রার অন্তঃগঠন ।। এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস।। Hydra।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Hydra-র লম্বচ্ছেদ বা প্রস্থচ্ছেদে দেহপ্রাচীর এবং গ্যাস্ট্রভাস্কুলর বা সিলেনটেরন দেখা যায়। দেহপ্রাচীর দুইটি কোষীয় স্তর নিয়ে গঠিত। এপিডার্মিস (ভ্রুণীয় এক্টোডার্ম) ও গ্যাস্ট্রোডার্মিস (ভ্রুণীয় এন্ডোডার্ম)।

দেহপ্রাচীরের বাইরের দিকের কোষ স্তরকে এপিডার্মিস বলে। এপিডার্মিসের পুরুত্ব দেহপ্রাচীরের এক-তৃতীয়াংশ। এতে সাত ধরনের কোষ থাকে। পেশী আবরণী কোষ, ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ, সংবেদী কোষ, স্নায়ু কোষ, গ্রন্থি কোষ, জনন কোষ এবং নিডোব্লাস্ট।

১। পেশি আবরণী কোষ (Musculo-Epithelial cell)ঃ পেশি আবরণী কোষ বহিঃত্বকের সমগ্র অংশ জুড়ে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে স্তম্ভাকার। প্রতিটি কোষের বাইরের দিক চওড়া ও মুক্ত এবং ভিতরের দিক বদ্ধ ও সরু। ভিতরের দিকে দুটি পেশি প্রবর্ধক থাকে। একে পেশী লেজও বলা হয়। পেশি লেজের ভিতরে সংকোচনশীল সূত্রক মায়োনিম থাকে। কোষের সাইটোপ্লাজমে একটি নিউক্লিয়াস, মিউকাস বস্তু ও গ্রানিউলার গ্রন্থি থাকে। কর্ষিকার পেশি আবরণী কোষ গুলো বড়, চ্যাপ্টা এবং নিডোসাইট বহন করে। মিউকাস বস্তু হতে মিউসিন এবং গ্রানিউলার গ্রন্থি হতে গ্রানিউল নিঃসৃত হয়। পেশি আবরণী কোষ গুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি অবিচ্ছেদ্য আবরণী সৃষ্টি করে।

পেশি আবরণীর কাজ

(i) পেশি আবরণী দেহ আবরণী সৃষ্টি করে দেহকে রক্ষা করে।

(ii) মায়োনিম সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে দেহের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটায়।

(iii) মিউকাস গ্রন্থির নিঃসরণ দেহকে পিচ্ছিল রাখে।

(iv) ইহা নেমাটোসিস্ট বহন করে।

(v) ইহা সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চলনে সাহায্য করে।

(vi) মিউকাস দানা নিঃসৃত রস কিউটিকল গঠন করে।

(vii) ইহা নিডোব্লাস্ট ধারণ করে।

(viii) দেহকে কোন বস্তুর সাথে আবদ্ধ রাখে।

(ix) মিউকাস দানা সমৃদ্ধ অংশ শ^সনে অংশ নেয়।

২। ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell) ঃ পেশি আবরণী কোষের মাঝখানে গুচ্ছাকারে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ অবস্থান করে। একে সংরক্ষিত কোষ (Reserve cell) বা স্টেম কোষ (Stem cell) বা মাল্টিপোটেন্ট কোষ (multipotent cell) বলা হয়। কোষ গুলো দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার বা ত্রিকোণাকার। প্রতিটি কোষে একটি নিউক্লিয়াস, অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে। ইহা টটিপটেন্সি ক্ষমতা সম্পন্ন। তাই ইহা প্রয়োজনে অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হয়। কোষগুলোর ব্যাস ৫ μm।

ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের কাজ

(i) এ কোষ অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হতে পারে।

(ii) ইহা হাইড্রার পুনরুৎপত্তি, বৃদ্ধি, গোনাড ও মুকুল সৃষ্টিতে অংশ নেয়।

(iiii) ৪৫ দিন পর পর দেহ কোষ নষ্ট হয়ে গেলে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ সে স্থান পুরণ করে।

৩। সংবেদী কোষ (Sensory cell)ঃ  পেশী আবরণী কোষের ফাঁকে ফাঁকে বিক্ষিপ্ত ভাবে সংবেদী কোষ অবস্থান করে। তবে কর্ষিকা, হাইপোস্টোম, পদতলে ইহা অসংখ্য। কোষ গুলো দেখতে সরু, লম্বা ও মাকু আকৃতির।  অর্থাৎ মধ্যভাগ প্রশস্ত এবং উভয় প্রান্ত সরু। প্রতিটি কোষে সাইটোপ্লাজম ও স্ফীত নিউক্লিয়াস থাকে। এর বাইরের দিকে সংকোচনশীল রোম এবং ভিতরের দিকে সংবেদনশীল স্নায়ু থাকে। ইহা আলো, তাপ, স্পর্শ, রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতির প্রতি সংবেদনশীল।

সংবেদী কোষের কাজ

(i) ইহা পরিবেশ হতে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা গ্রহণ করে।

(ii) ইহা আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

(iii) ইহা বাসস্থান নির্বাচনে সাহায্য করে।

(iv) ইহা খাদ্য বাছাই করে।

৪। স্নায়ু কোষ (Nerve cell)ঃ স্নায়ু কোষ গুলো এপিডার্মিসের নিচে মেসোগিøয়া ঘেঁষে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে মাকু আকৃতির বা বহুভুজাকার। কোষে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস বিদ্যমাণ। প্রতিটি কোষে দুই বা ততোধিক শাখাযুক্ত স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে। স্নায়ুতন্ত্র গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে স্নায়ু জালিকা গঠন করে।

স্নায়ু কোষের কাজ

(i) ইহা সংবেদী কোষ হতে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

(ii) ইহা বিভিন্ন কোষের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

৫।  গ্রন্থি কোষ (Gland cell)ঃ  গ্রন্থি কোষ গুলো পাদচাকতি, হাইপোস্টোম ও কর্ষিকায় অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে নলাকার, দানাযুক্ত বা ডিম্বাকার হতে পারে। ইহাতে মিউকাস গ্রন্থি, এনজাইম গ্রন্থি ও আঠালো রস নিঃসরণকারী গ্রন্থি রয়েছে।

গ্রন্থি কোষের কাজ

(i) এ কোষ খাদ্য গলাধঃকরণে সাহায্য করে।

(ii) নিঃসৃত আঠালো রস হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) ইহা ক্ষণপদ সৃষ্টি করে চলনে সাহায্য করে।

(iv) বুদবুদ সৃষ্টি করে হাইড্রাকে পানিতে ভাসতে সাহায্য করে।

৬। জনন কোষ (Germ cell)ঃ  প্রজনন ঋতুতে হাইড্রার দেহ কান্ডে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ হতে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়  সৃষ্টি হয়। শুক্রাশয় উপরে এবং ডিম্বাশয় নিচে থাকে। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু অতি ক্ষুদ ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। ইহা মস্তক, মধ্যখন্ড ও চলনক্ষম লেজ দ্বারা গঠিত। ডিম্বাণু বড়, গোলাকার ও তিনটি পোলার বডি যুক্ত।

জনন কোষের কাজঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে।

৭। নিডোব্লাস্ট (Cnidocyte cell)ঃ  হাইড্রার পদতল ছাড়া সর্বত্র নিডোবøাস্ট কোষ বিস্তৃত। ইহা পেশি আবরণী কোষের ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার, ফ্ল্যাক্স আকৃতির, পেয়ালাকার বা নাসপাতির মতো। প্রতিটি কোষ দ্বি-আবরণী বিশিষ্ট এবং একটি মাত্র নিউক্লিয়াস যুক্ত। কোষের ভিতরে প্যাচানো সুতাযুক্ত নেমাটোসিস্ট থাকে।

নিডোব্লাস্টের কাজ

(i) ইহা খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে।

(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(iii) আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

(iv) শিকার ধরা ও অসার করে।

(v) প্রাণীকে কোন বস্তুর সাথে আকড়ে ধরতে সাহায্য করে।

(vi) ইহা শ্রেণীতাত্তি¡ক গুরুত্ব বহন করে।

 

হাইড্রার অন্তঃত্বক বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস (Gastrodermis)

দেহপ্রাচীরের ভিতরের দিকের কোষ স্তরকে গ্যাস্ট্রোডার্মিস বলে। গ্যাস্ট্রোডার্মিসের পুরুত্ব দেহপ্রাচীরের দুইতৃতীয়াংশ। এতে ধরণের কোষ থাকে। পুষ্টি কোষ, গ্রন্থি কোষ, ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ, ¯œায়ু কোষ এবং সংবেদী কোষ।

 ১। পুষ্টি কোষ বা পেশি আবরণী কোষ (Nutritive cell) পুষ্টি কোষ গ্যাস্ট্রোডার্মিসের বেশির ভাগ অংশজুড়ে অবস্থান করে। ইহা দেখতে স্তম্ভাকার। প্রতিটি কোষে একটি বড় নিউক্লিয়াস গহŸ থাকে। এতে সংকোচনশীল তন্তুযুক্ত পেশিলেজ সৃষ্টি হয়। পুষ্টি কোষকে দুভাগে ভাগ করা যায়। ফ্ল্যাজেলীয় কোষ এবং ক্ষণপদীয় কোষ।

(i) ফ্ল্যাজেলীয় কোষঃ কোষের মুক্ত প্রান্তে ৪টি সুতার মতো ফ্ল্যাজেলা থাকে।

(ii) ক্ষণপদীয় কোষঃ কোষের মুক্ত প্রান্তে ক্ষণপদ থাকে।

পুষ্টি কোষের কাজ

(i) ইহা সংকোচনপ্রসারণের মাধ্যমে দেহকে সরু মোটা করে।  

(ii) ফ্ল্যাজেলা খাদ্য বস্তুকে কণায় পরিনত করে।

(iii) মুখছিদ্রখোলা বন্ধ করতে স্ফিংক্টারের মতোকাজ করে।

(iv) ইহা মুখ ছিদ্রে পানি প্রবেশ করায়।

(v) খাদ্যকে গলাধঃকরণ করে।

 

২। ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell) ঃ পেশি আবরণী কোষের মাঝখানে গুচ্ছাকারে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ অবস্থান করে। একে সংরক্ষিত কোষ (Reserve cell) বা স্টেম কোষ (Stem cell) বা মাল্টিপোটেন্ট কোষ (multipotent cell) বলা হয়। কোষ গুলো দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার বা ত্রিকোণাকার। প্রতিটি কোষে একটি নিউক্লিয়াস, অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে। ইহা টটিপটেন্সি ক্ষমতা সম্পন্ন। তাই ইহা প্রয়োজনে অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হয়। কোষগুলোর ব্যাস ৫ μm।

ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের কাজ

(i) এ কোষ অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হতে পারে।

(ii) ইহা হাইড্রার পুনরুৎপত্তি, বৃদ্ধি, গোনাড ও মুকুল সৃষ্টিতে অংশ নেয়।

(iiii) ৪৫ দিন পর পর দেহ কোষ নষ্ট হয়ে গেলে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ সে স্থান পুরণ করে।

৩। সংবেদী কোষ (Sensory cell)ঃ  পেশী আবরণী কোষের ফাঁকে ফাঁকে বিক্ষিপ্ত ভাবে সংবেদী কোষ অবস্থান করে। তবে কর্ষিকা, হাইপোস্টোম, পদতলে ইহা অসংখ্য। কোষ গুলো দেখতে সরু, লম্বা ও মাকু আকৃতির।  অর্থাৎ মধ্যভাগ প্রশস্ত এবং উভয় প্রান্ত সরু। প্রতিটি কোষে সাইটোপ্লাজম ও স্ফীত নিউক্লিয়াস থাকে। এর বাইরের দিকে সংকোচনশীল রোম এবং ভিতরের দিকে সংবেদনশীল স্নায়ু থাকে। ইহা আলো, তাপ, স্পর্শ, রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতির প্রতি সংবেদনশীল।

সংবেদী কোষের কাজ

(i) ইহা পরিবেশ হতে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা গ্রহণ করে।

(ii) ইহা আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

(iii) ইহা বাসস্থান নির্বাচনে সাহায্য করে।

(iv) ইহা খাদ্য বাছাই করে।

৪। স্নায়ু কোষ (Nerve cell)ঃ স্নায়ু কোষ গুলো এপিডার্মিসের নিচে মেসোগিøয়া ঘেঁষে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে মাকু আকৃতির বা বহুভুজাকার। কোষে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস বিদ্যমাণ। প্রতিটি কোষে দুই বা ততোধিক শাখাযুক্ত স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে। স্নায়ুতন্ত্র গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে স্নায়ু জালিকা গঠন করে।

স্নায়ু কোষের কাজ

(i) ইহা সংবেদী কোষ হতে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

(ii) ইহা বিভিন্ন কোষের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

৫।  গ্রন্থি কোষ (Gland cell)ঃ  গ্রন্থি কোষ গুলো পাদচাকতি, হাইপোস্টোম ও কর্ষিকায় অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে নলাকার, দানাযুক্ত বা ডিম্বাকার হতে পারে। ইহাতে মিউকাস গ্রন্থি, এনজাইম গ্রন্থি ও আঠালো রস নিঃসরণকারী গ্রন্থি রয়েছে।

গ্রন্থি কোষের কাজ

(i) এ কোষ খাদ্য গলাধঃকরণে সাহায্য করে।

(ii) নিঃসৃত আঠালো রস হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) ইহা ক্ষণপদ সৃষ্টি করে চলনে সাহায্য করে।

(iv) বুদবুদ সৃষ্টি করে হাইড্রাকে পানিতে ভাসতে সাহায্য করে।