Hydra নলাকৃতির বা চোঙ্গাকৃতির ক্ষুদ্র প্রাণী। প্রসারিত অবস্থায় এরা প্রায় ১-৩ সেমি লম্বা এবং এক মিমি চওড়া। পানি থেকে তুলে আনলে এরা একটি নরম ও আকারবিহীন পিন্ডে পরিনত হয়। হাইড্রার দেহ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। হাইপোস্টোম, দেহ কান্ড এবং পদতল।
১। হাইপোস্টোমঃ Hypo অর্থ নিচে এবং stoma অর্থ মুখ নিয়ে Hypostome শব্দটি গঠিত। দেহের উপরের প্রান্তে মুখছিদ্র থাকে। মুখছিদ্রের নিচে ছোট ও মোচাকৃতির সংকোচনশীল অঙ্গকে হাইপোস্টোম বলে। মুখছিদ্র খাদ্য, পানি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে। ইহা অপাচ্য বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দেয়।
২। দেহকান্ডঃ হাইপোস্টোম ও পদতল ব্যতীত সমগ্র অংশকে দেহকান্ড বলে। দেহকান্ডের বিভিন্ন অংশ-
(i) কর্ষিকাঃ হাইপোস্টোমের গোড়ায় সরু, লম্বা, ফাঁপা ও সংকোচন-প্রসারণশীল ৬-১০টি কর্ষিকা থাকে। প্রতিটি কর্ষিকা দেহের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লম্বা। কর্ষিকার বহিঃপ্রাচীরে টিউমারের মতো ছোট ছোট নেমাটোসিস্ট ব্যাটারী থাকে। কর্ষিকাগুলো একচক্রে অবস্থিত। ইহা খাদ্যগ্রহণ, চলন ও আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।
(ii) মুকুলঃ অনুকূল পরিবেশ বা গ্রীষ্মকালে পরিবেশে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকে। হাইড্রা খাদ্য গ্রহণ করে দৈহিক বৃদ্ধি লাভ করে। ফলে দেহের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এক বা একাধিক মুকুল সৃষ্টি হয়। প্রতিটি মুকুল পরিপক্ক হয়ে নতুন হাইড্রার জন্ম দেয়। ইহা হাইড্রার অন্যতম অযৌনজনন পদ্ধতি।
(iii) জননাঙ্গঃ হেমন্তকাল ও শীতকালে পরিনত হাইড্রার দেহকান্ডে অস্থায়ী জননাঙ্গ গঠিত হয়। দেহের উপরের দিকে শক্রাশয় এবং নিচের দিকে ডিম্বাশয় থাকে। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে। (iv) বৃন্তঃ দেহকান্ড ও পাদচাকতির মাঝখানের অংশ হলো বৃন্ত। ইহা সরু, নিরেট এবং সংকোচনশীল। ইহা দেহকান্ড এবং পাদচাকতিকে সংযুক্ত করে।
৩। পাদচাকতিঃ দেহের নিম্নাংশে গোলাকার ও চাপা অংশ হলো পদতল। পদতল হতে নিঃসৃত আঠালো পদার্থ হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে। বুদবুদ পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। ইহা ক্ষণপদ গঠন করে হাইড্রাকে চলতে সাহায্য করে। চাকতির সাহায্যে হাইড্রা গ্লাইডিং চলন প্রদর্শন করে।