হাইড্রার বাহ্যিক গঠন ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Hydra নলাকৃতির বা চোঙ্গাকৃতির ক্ষুদ্র প্রাণী। প্রসারিত অবস্থায় এরা প্রায় ১-৩ সেমি লম্বা এবং এক মিমি চওড়া। পানি থেকে তুলে আনলে এরা একটি নরম ও আকারবিহীন পিন্ডে পরিনত হয়। হাইড্রার দেহ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। হাইপোস্টোম,  দেহ কান্ড  এবং পদতল।

১। হাইপোস্টোমঃ Hypo অর্থ নিচে এবং stoma অর্থ মুখ নিয়ে Hypostome শব্দটি গঠিত। দেহের উপরের প্রান্তে মুখছিদ্র থাকে। মুখছিদ্রের নিচে ছোট ও মোচাকৃতির সংকোচনশীল অঙ্গকে হাইপোস্টোম বলে। মুখছিদ্র খাদ্য, পানি ও অক্সিজেন গ্রহণ করে। ইহা অপাচ্য বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দেয়।

২। দেহকান্ডঃ হাইপোস্টোম ও পদতল ব্যতীত সমগ্র অংশকে দেহকান্ড বলে। দেহকান্ডের বিভিন্ন অংশ-

(i) কর্ষিকাঃ হাইপোস্টোমের গোড়ায় সরু, লম্বা, ফাঁপা ও সংকোচন-প্রসারণশীল ৬-১০টি কর্ষিকা থাকে। প্রতিটি কর্ষিকা দেহের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লম্বা। কর্ষিকার বহিঃপ্রাচীরে টিউমারের মতো ছোট ছোট নেমাটোসিস্ট ব্যাটারী থাকে। কর্ষিকাগুলো একচক্রে অবস্থিত। ইহা খাদ্যগ্রহণ, চলন ও আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

(ii) মুকুলঃ অনুকূল পরিবেশ বা গ্রীষ্মকালে পরিবেশে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকে। হাইড্রা খাদ্য গ্রহণ করে দৈহিক বৃদ্ধি লাভ করে। ফলে দেহের মধ্যবর্তী অঞ্চলে এক বা একাধিক মুকুল সৃষ্টি হয়। প্রতিটি মুকুল পরিপক্ক হয়ে নতুন হাইড্রার জন্ম দেয়। ইহা হাইড্রার অন্যতম অযৌনজনন পদ্ধতি।

(iii) জননাঙ্গঃ হেমন্তকাল ও শীতকালে পরিনত হাইড্রার দেহকান্ডে অস্থায়ী জননাঙ্গ গঠিত হয়। দেহের উপরের দিকে শক্রাশয় এবং নিচের দিকে ডিম্বাশয় থাকে। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে।                          (iv) বৃন্তঃ দেহকান্ড ও পাদচাকতির মাঝখানের অংশ হলো বৃন্ত। ইহা সরু, নিরেট এবং সংকোচনশীল। ইহা দেহকান্ড এবং পাদচাকতিকে সংযুক্ত করে।

৩। পাদচাকতিঃ দেহের নিম্নাংশে গোলাকার ও চাপা অংশ হলো পদতল। পদতল হতে নিঃসৃত আঠালো পদার্থ হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে। বুদবুদ পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। ইহা ক্ষণপদ গঠন করে হাইড্রাকে চলতে সাহায্য করে।  চাকতির সাহায্যে হাইড্রা গ্লাইডিং চলন প্রদর্শন করে।

বাংলাদেশের হাইড্রা প্রজাতি ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পৃথিবীতে ৪০টি মতো হাইড্রা প্রজাতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে ৩টি প্রজাতির হাইড্রা পাওয়া যায়। বর্ণহীন বা হলুদ-বাদামী বর্ণের- Hydra vulgaris, বাদামী বর্ণের- Hydra oligactis (Hydra fusca) এবং সবুজ বর্ণের Hydra viridissima। বাংলাদেশে স্বাদুপানির জলাশয়ে Hydra vulgaris প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

হাইড্রার খাদ্য ।। Hydra Food ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রা মাংসাশী (carnivorous) প্রাণী। পতঙ্গের লার্ভা, ক্ষুদ্র পতঙ্গ, সাইক্লপস, ড্যাফনিয়া/ক্রাস্টাসিয়া, ছোট কৃমি, অ্যানিলিড, মাছের ডিম, ব্যাঙাচি প্রভৃতি হাইড্রার খাদ্য। তবে প্রধান খাদ্য হলো ক্রাস্টাসীয় সন্ধিপদী। দেহ প্রাচীরের সঙ্কোচন-প্রসারণের মাধ্যমে শ^সন ও রেচন সম্পন্ন করে। হাইড্রা কেবল সে সব প্রাণীকে শিকার করে যাদের কলারসে গ্লুটাথিওন থাকে।

হাইড্রার বাসস্থান ।। Hydra Habitat ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পৃথিবীর সর্বত্র বিভিন্ন প্রজাতির হাইড্রা পাওয়া যায়। স্বাদুপানির জলাশয়ে পুকুর, ডোবা, খাল, বিল, হ্রদ, ঝর্ণা প্রভৃতিতে বাস করে। ঘোলা, উঞ্চ ও চলমান পানিতে এদের পাওয়া যায় না। এরা নিমজ্জিত কোন কঠিন বস্তু কিংবা উদ্ভিদের পাতার সাথে নি¤œমুখী হয়ে ঝুলে থাকে। Hydra vulgaris (কমলা-লাল), Hydra oligactisHydra viridissima (সবুজ) বাংলাদেশসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার স্বাদুপানির জলাশয়ে পাওয়া যায়।

হাইড্রা কী ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রা হলো নিডারিয়া পর্বের অতি পরিচিত একটি ক্ষুদ্র প্রাণী। এরা দ্বিস্তরী প্রাণী (Diploblastic animal) এরা মুক্তজীবী প্রাণী এবং স্বাদুপানির পলিপ নামে পরিচিত। সুইস বিজ্ঞানী আব্রাহাম ট্রেমলে (Abraham Trembley, 1700-1784) হাইড্রা আবিষ্কার করেন। ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus, 1758) গ্রীক রুপকথায় বর্ণিত নয় মাথাবিশিষ্ট ড্রাগন হাইড্রার (Hydra) নামানুসারে এর নামকরণ করেন Hydra ড্রাগন হাইড্রার একটি মাথা কেটে দিলে দুইটি মাথা সৃষ্টি হতো। এর কোন অংশ বিছিন্ন হয়ে গেলে সে অংশ থেকে নতুন হাইড্রা সৃষ্টি হতো। অর্থাৎ হাইড্রার পুনরুৎপত্তি ক্ষমতা আছে। মহাবীর হারকিউলিস (Hercules) দানব হাইড্রাকে বধ করেন।

কর্ডাটারা অন্য পর্ব থেকে উন্নত কেন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মেরুদন্ডঃ কর্ডাটাদের ভ্রুণ অবস্থায় অথবা সারাজীবন নটোকর্ড থাকে। উন্নত প্রাণীদের নটোকর্ড মেরুদন্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

২। মস্তিস্কঃ কর্ডাটাদের নার্ভকর্ড থাকে। নার্ভকর্ডের সম্মুখপ্রান্ত মস্তিস্ক গঠন করে।

৩। সুষুষ্মাকান্ডঃ কর্ডাটা প্রাণীদের নার্ভকর্ডের পশ্চাৎ অংশ সুষুষ্মাকান্ড গঠন করে।

৪। গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্রঃ কর্ডাটাদের জীবনের যেকোন দশায় অথবা সারাজীবন গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র থাকে।

৫। হৃৎপিন্ডঃ কর্ডাটা প্রাণীদের সুগঠিত হৃৎপিন্ড উপস্থিত। হৃৎপিন্ড সর্বদা অন্ত্রের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত।

৬। এন্ডোস্টাইলঃ কর্ডাটা প্রাণীদের এন্ডোস্টাইল থাকে। এন্ডোস্টাইল পরে থাইরয়েড গ্রন্থিতে রুপান্তরিত হয়।

৭। পরিপাকতন্ত্রঃ কর্ডাটা প্রাণীদের পরিপাকতন্ত্র সম্পূর্ণ। এতে অন্তঃকোষীয় এবং বহিঃকোষীয় পরিপাক গ্রন্থি থাকে।

৮। লেজঃ কর্ডাটাদের পায়ু পরবর্তী পেশল স্থিতিস্থাপক লেজ থাকে। কখনো কখনো পরিবর্তনের সময় লেজ নষ্ট হতে পারে।

৯। রক্ত সংবহনতন্ত্রঃ কর্ডাটাদের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। ইহা রক্ত, রক্তনালিকা ও রক্তজালক দ্বারা গঠিত। এতে হেপাটিক পোর্টালতন্ত্র বিদ্যমান।

১০। রেচনতন্ত্রঃ কর্ডাটাদের প্রধান রেচনতন্ত্র একজোড়া বৃক্ক দ্বারা গঠিত। এর মাধ্যমে দেহ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য নিস্কাশিত হয়।

১১। দেহ ত্বকঃ কর্ডাটা প্রাণীদের দেহ ত্বক এপিডার্মিস (এক্টোডার্ম উদ্ভ‚ত) এবং ডার্মিস (মেসোডার্ম উদ্ভ‚ত) নিয়ে গঠিত।

১২। অন্তঃকঙ্কালঃ কর্ডাটাদের অন্তঃকঙ্কাল অস্থি বা তরুণাস্থি নির্মিত।

১৩। চক্ষুঃ কর্ডাটাদের চক্ষু সরল প্রকৃতির। ইহা মস্তিষ্ক থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

১৪। জননঃ কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা একলিঙ্গিক। এদের যৌনজনন ঘটে। অযৌন জনন অনুপস্থিত।

১৫। অসমোরেগুলেশনঃ বৃক্কের মাধ্যমে কর্ডাটাদের অসমোরেগুলেশন ঘটে।

১৬। সিলোমঃ কর্ডাটাদের দেহে প্রকৃত সিলোম উপস্থিত। হৃৎপিন্ডের চারপাশে পেরিকার্ডিয়াল গহŸর থাকে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায়, এ পর্বের প্রাণীরা বিবর্তনের মাধ্যমে জীবজগতের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। এদের মস্তিস্ক উন্নত হওয়ায় সর্বত্র প্রভুত্ব কায়েম করছে। পৃথিবীর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এদের গঠন বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন হবে। ফলে এরা বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

সকল মেরুদন্ডী প্রাণীই কর্ডেট, কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদন্ডী নয় ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Chordata পর্বকে তিনটি উপপর্বে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ইউরোকর্ডাটা, সেফালোকর্ডাটা এবং ভার্টিব্রাটা। ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটাকে একত্রে প্রোটোকর্ডাটা বলে। কর্ডেট প্রাণীদের তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো হলো- স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র। এ সব বৈশিষ্ট্য প্রোটোকর্ডাটাদের জীবনের যে কোন দশায় অথবা আজীবন থাকে। কিন্তু ভার্টিব্রাটাদের এ সব বৈশিষ্ট্য ভ্রুণাবস্থায় থাকলেও পরবর্তী জীবনে থাকে না। ভার্টিব্রাটাদের নটোকর্ড মেরুদন্ডে রুপান্তরিত হয়, ফাঁপা স্নায়ু রজ্জু হতে মস্তিস্ক ও সুষুষ্মাকান্ড গঠিত হয় এবং ফুলকা রন্ধ্র বন্ধ হয়ে ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে। এ সব থেকে বুঝা যায়, কর্ডেটের সকল বৈশিষ্ট্য মেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে থাকে, কিন্তু মেরুদন্ডী প্রাণীর সকল বৈশিষ্ট্য কর্ডেটের মধ্যে থাকে না। তাই বলা যায়- সকল মেরুদন্ডী প্রাণীই কর্ডেট, কিন্তু সকল কর্ডেটই মেরুদন্ডী নয়।

মিক্সিনির বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত। Myxini । পেট্রোমাইজনটিডার বৈশিষ্ট্য । সেফালোস্পিডোমর্ফি । Petromyzontida । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

                                    মিক্সিনি (Myxini)

গ্রিক শব্দ myxa অর্থ slime বা পিচ্ছিল আবরণী। এরা হ্যাগফিস নামে পরিচিত। কুৎসিত প্রকৃতির মাছকে স্নাইম ইল (slime eel) বলে। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৭০।

১। এদের দেহ সরু, লম্বাটে, পিচ্ছিল গ্রন্থিযুক্ত এবং জোড়া পাখনাবিহীন।

২। এরা দেখতে ইল বা বাইন মাছের মতো।

৩। মেরুদন্ডে নটোকর্ড তন্তুময় নিউরাল টিউব থাকে।

৪। এদের মুখ প্রান্তীয় এবং জোড়া কর্ষিকাযুক্ত। 

৫। এদের ১৫ জোড়া ফুলকারন্ধ্র থাকে।

৬। এদের নাসিকা থলী মুখ গহ্বরে উন্মুক্ত।

৭। পৃষ্ঠীয় স্নায়ুরজ্জুর অগ্রভাগ মস্তিষ্ক গঠন করে। সেরেবেলাম অনুপস্থিত। ১০ জোড়া করোটিক স্নায়ু বিদ্যমান।

৮। এরা হ্যাগফিস নামে পরিচিত।

৯। এরা অ্যানিলিড, মলাস্ক, ক্রাস্টাসিয়ান, আর্থ্রাপোড বা মৃতপ্রায় মাছ আহার করে।

১০। পরিপাকতন্ত্রে পাকস্থলী থাকে না এবং অন্ত্রে সর্পিল কপাটিকা অনুপস্থিত।

১১। এরা সবাই সামুদ্রিক।

১২। এদের জীবনচক্র লার্ভা দশা নাই।

১৩। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। এদের বহিঃনিষেক ঘটে। ডিম কুসুমযুক্ত এবং বৃহদাকার।

 

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ বাইন, মুখ প্রান্তীয়, কর্ষিকা, ফুলকারন্ধ্র, নাসিকা থলী, হ্যাগফিস]

 

হ্যাগ ফিশ (Hag fish)

বাইন মাছের মতো কুৎসিত প্রকৃতির মাছকে হ্যাগ ফিশ বলে। এদের দেহ সরু, লম্বা এবং পিচ্ছিল ত্বক দ্বারা আবৃত। এরা মিক্সিনি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যেমনMyxine glutinosa

 

পেট্রোমাইজনটিডা বা সেফালোস্পিডোমর্ফি (Petromyzontida)

গ্রিক শব্দ petros অর্থ stone বা পাথর এবং myzon অর্থ sucking বা চোষন নিয়ে Petromyzontida শব্দটি গঠিত। এরা ল্যামপ্রে (lamprey) নামে পরিচিত। সমুদ্র, মোহনায় এবং মিঠাপানিতে বাস করে। মৃতদেহ বা পচা বস্তুর সাথে লেগে থাকে। ল্যারিংক্স দিয়ে সাকশন পুল তৈরী করে পচা বস্তুকে মুখের ভিতরে টেনে নেয়। বয়স্ক প্রাণীরা জীবিত মাছের রক্ত চুষে খেতে পারে। এদের প্রজাতির সংখ্যা ৪১।

মাইজনটিডার বৈশিষ্ট্য

১। এদের দেহ সরু, লম্বাটে এবং জোড়া পাখনাবিহীন। লম্বা ১৩-১০০ সেমি।

২। এরা দেখতে ইল বা বাইন মাছের মতো।

৩। দেহ সবল প্রকৃতির এবং আঁইশবিহীন।

৪। এদের মেরুদন্ডে নটোকর্ড ও নিউরাল নালি (হবঁৎধষ পধহধষ)  থাকে।

৫। মুখে চোষনক্ষম চুঙ্গি এবং কেরাটিন যুক্ত (হর্ণি) দাঁত থাকে।

৬। এদের সাত জোড়া ফুলকারন্ধ্র থাকে।

৭। নাসিকা থলি মুখগহ্বরে উন্মুক্ত নয়।

৮। এরা সামুদ্রিক হলেও ডিম ছাড়ার জন্য মিঠা পানিতে আসে এবং ডিম ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যায়।

৯। এরা ল্যাম্প্রে নামে পরিচিত।

১০। পরিপাকতন্ত্রে পাকস্থলী থাকে না এবং অন্ত্রে সর্পিল কপাটিকা থাকে।১১। বহিঃনিষেক ঘটে। জীবনচক্রে অ্যামোসিট লার্ভা দেখা যায়।

১২। যুগ্ন উপাঙ্গ ও বহিঃকঙ্কাল অনুপস্থিত। পৃষ্ঠীয় পাখনা ও পুচ্ছ পাখনা থাকে।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ বাইন, আঁইশবিহীন, চুঙ্গি, কেরাটিন, ফুলকারন্ধ্র, ল্যাম্প্রে, অ্যামোসিট]

 

উদাহরণঃ পেট্রোমাইজন (Petromyzon marinus), ল্যাম্পেট্রা (Lampetra tridentatus).

পয়কিলোথার্মিক কী ।। বিষম উঞ্চ শোণিত প্রাণী ।। Poikilothermic ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পয়কিলোথার্মিককে এক্টোথার্মিক বলা হয়। যে সব প্রাণীদের দেহের তাপমাত্রা  পরিবেশের তাপমাত্রা সাথে উঠা-নামা করে তাদেরকে পয়কিলোথার্মিক বা এক্টোথার্মিক বলা হয়। অর্থাৎ এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। এরা শীতের আগমনে শীত নিদ্রা বা হাইবারনেশনে যায়। মাছ এবং সরীসৃপ হলো এক্টোথার্মিক।

হোমিওথার্মিক কী ।। সমোঞ্চ শোণিত প্রাণী ।। Homoeothermic ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হোমিওথার্মিককে এন্ডোথার্মিক বলা হয়। যে সব প্রাণীদের দেহের তাপমাত্রা  পরিবেশের তাপমাত্রা সাথে উঠা-নামা করে না তাদেরকে হোমিওথার্মিক বা এন্ডোথার্মিক বলা হয়। অর্থাৎ এরা উঞ্চ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। অ্যাভিস এবং ম্যামালিয়া হলো হোমিওথার্মিক।