ডায়াফ্রাম কী ।। মধ্যচ্ছদা ।। Diaphragm ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝখানে যে পেশিবহুল পর্দা থাকে তাকে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা বলে। ইহা শ্বসন কার্যে সহায়তা করে। ইহা সঙ্কোচন-প্রসারণের মাধ্যমে বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের আয়তনের পরিবর্তন ঘটায়।

ইউথেরিয়ার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ । অমরাধর স্তন্যপায়ী । Eutheria । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ eu অর্থ nature বা প্রকৃত এবং ther অর্থ mammal বা স্তন্যপায়ী নিয়ে Eutheria শব্দটি গঠিত। যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণীরা প্রকৃত অমরা ধারণ করে তাদেরকে অমরাধর স্তন্যপায়ী বা ইউথেরিয়া বলে। এরা সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তৃত।

(i) এরা প্রকৃত অমরাবিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এদের ভ্রæণে কোরিওন ও অ্যালানটয়েস থাকে।

(ii) এদের পরিস্ফুটনকালে অমরা পুষ্টিদান করে। গর্ভধারণ সময় দীর্ঘ স্থায়ী।

(iii) এদের ভ্রæণ কিছুকাল জরায়ুতে অবস্থান করে এবং পরিনত নবজাতকের জন্ম দেয়।

(iv) স্ত্রী প্রাণীদের স্তনগ্রন্থি অত্যন্ত সুগঠিত। এতে নিপল থাকে।

(v) এদের যোনী একটি। শুক্রাশয় স্ক্রোটাল থলী-তে অবস্থান করে।

উদাহরণঃ মানুষ (Homo sapiens), শুশুক (Platanista gangetica), নেংটি ইঁদুর (Mus musculus), রুসা হরিণ (Rusa unicolor), বাঘ (Panthera tigris), ফল বাদুর (Pteropus giganteus).

ইউথেরিয়া কী । অমরাধর স্তন্যপায়ী । Eutheria । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ eu অর্থ nature বা প্রকৃত এবং ther অর্থ mammal বা স্তন্যপায়ী নিয়ে Eutheria শব্দটি গঠিত। যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণীরা প্রকৃত অমরা ধারণ করে তাদেরকে অমরাধর স্তন্যপায়ী বা ইউথেরিয়া বলে। এরা সমগ্র পৃথিবীতে বিস্তৃত।

মার্সুপিয়াল কী ।। মার্সুপিয়ালের বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ বিস্তারিত ।। Metatheria।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ meta অর্থ medium বা মধ্যম এবং ther অর্থ mammal বা স্তন্যপায়ী নিয়ে Metatheria শব্দটি গঠিত। যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মারসুপিয়াম নামক থলী থাকে তাদেরকে মার্সুপিয়াল বা মেটাথেরিয়া বলে। এরা অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, নিউগিনি, মধ্য ও দক্সিণ আমেরিকা অঞ্চলে বসবাস করে।

(i) এরা সরল ধরনের অমরাবিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী।

(ii) এরা অতি অপরিনত নবজাতকের জন্ম দেয়।

(iii) স্ত্রী প্রাণীতে মারসুপিয়াম (marsupium) নামক থলী থাকে। এই থলীতে নবজাতকেরা পূর্ণতা লাভ করে। তাই এদেরকে মারসুপিয়াল (marsupials) বলা হয়।

(iv) স্তনবৃন্তসহ স্তনগ্রন্থিগুলো মারসুপিয়ামে উন্মুক্ত থাকে।

(v) এদের দুইটি জরায়ু এবং দুইটি যোনী থাকে।

উদাহরণঃ লাল ক্যাঙ্গারু (Osphranter rufus/Macropus rufus), ভার্জিনিয়া অপোসোম (Didelphis virginiana), কোয়ালা (Phascolarctos cinereus).

মার্সুপিয়াল কী । Metatheria । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ meta অর্থ medium বা মধ্যম এবং ther অর্থ mammal বা স্তন্যপায়ী নিয়ে Metatheria শব্দটি গঠিত। যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মারসুপিয়াম নামক থলী থাকে তাদেরকে মার্সুপিয়াল বা মেটাথেরিয়া বলে। এরা অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, নিউগিনি, মধ্য ও দক্সিণ আমেরিকা অঞ্চলে বসবাস করে।

প্রোটোথেরিয়া কী । প্রোটোথেরিয়ার বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ বিস্তারিত। ডিম প্রসবকারী । Prototheria । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ protos অর্থ first বা প্রথম এবং ther অর্থ mammal বা স্তন্যপায়ী নিয়ে Prototheria শব্দটি গঠিত। যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণী ডিম প্রসব করে করে তাদেরকে ডিম প্রসবকারী বা প্রোটোথেরিয়া বলে। এরা অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি অঞ্চলে বসবাস করে।
(i) এরা আদি প্রকৃতির ডিমপাড়া স্তন্যপায়ী। এদের অমরা থাকে না।
(ii) এরা চামড়ার মতো আবরণযুক্ত ডিম প্রসব করে। ডিম থেকে নবজাতকের জন্ম হয়।
(iii) নবজাতকেরা মাতৃদুগ্ধ চুষে পান করে। কারণ এদের স্তনগ্রন্থিতে নিপল থাকে না।
(iv) এদের ঠোঁট তুন্ডাকার, দাঁত ও বহিকর্ণ নাই।
(v) রেচন, জনন ও পরিপাকতন্ত্রের জন্য একটি মাত্র ক্লেয়েকা ছিদ্রপথ থাকে। তাই এদেরকে মনোট্রিম বলা হয়।
উদাহরণঃ হংসতুন্ড প্লাটিপাস (Ornithorhynchus anatinus), খাটোতুন্ড একিডনা (Tachyglossus aculeatus)

প্রোটোথেরিয়া কী । ডিম প্রসবকারী । Prototheria। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ protos অর্থ first বা প্রথম এবং ther অর্থ mammal বা স্তন্যপায়ী নিয়ে Prototheria শব্দটি গঠিত। যে সব স্তন্যপায়ী প্রাণী ডিম প্রসব করে করে তাদেরকে ডিম প্রসবকারী বা প্রোটোথেরিয়া বলে। এরা অস্ট্রেলিয়া ও নিউগিনি অঞ্চলে বসবাস করে।

ম্যামালিয়া প্রাণীর উদাহরণ ।। স্তন্যপায়ীর উদাহরণ ।। Mammalia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মানুষ- Homo sapiens

বাঘ- Panthera tigris

সিংহ- Panthera leo

হরিণ- Axis axis

গিনিপিগ- Cavia  porcellus

খরগোশ- Sylvilagus audubonii

ডলফিন- Delphinus capensis

বাদুর- Pteropus giganteus

ক্যাঙ্গারু- Macropus giganteus

প্লাটিপাস- Ornithorhynchus anatinus

কাঠবিড়ালী- Funambulus palmarium

উট- Camelus dromedaries

রেসাস বানর- Macana mulatta

গরু- Bos indicus

ছাগল- Capra hircus

ভেড়া- Ovis aries

মহিষ- Bubalus bubalis

হনুমান- Trachypithecus phayrei

ইঁদুর- Bandicota indica

কুকুর- Canis lupus familiaris

বিড়াল- Felis catus

গিনিপিগ- Cavia porcellus

শুকর- Sus scrofa

জল হস্তী- Hippopotamus amphibius

গরিলা- Gorilla gorilla

শিয়াল- Canis aureus

হাতি- Elephas maximus

গন্ডার- Rhinoceros unicomis

ভালুক- Melarsus ursinus

জিরাফ- Giraffa camelopardalis

তিমি- Balaenoptera musculus

ম্যামালিয়ার বৈশিষ্ট্য ।। স্তন্যপায়ীর বৈশিষ্ট্য।। Mammalia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এদের দেহত্বক লোম দ্বারা আবৃত থাকে।

২। বহিঃকর্ণ পিনা যুক্ত। মধ্যকর্ণে ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস থাকে। অন্তঃকর্ণে কক্লিয়া বিদ্যমান।

৩। পরিনত স্ত্রী প্রাণীতে সক্রিয় স্তন গ্রন্থি থাকে। শাবকেরা মাতৃদুগ্ধ পান করে।

৪। বক্ষ ও উদর গহŸরের মাঝখানে মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম নামক পর্দা থাকে।

৫। মাথার করোটি দুইটি অক্সিপিটাল কন্ডাইল দ্বারা মেরুদন্ডের সাথে যুক্ত থাকে।

৬। এদের ঘর্ম গ্রন্থি ও গন্ধ গ্রন্থি থাকে।

৭। এরা এন্ডোথার্মিক বা উঞ্চ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা উঠা-নামার সাথে এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয় না।

৮। এদের লোহিত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াস বিহীন (ব্যতিক্রম- উট)।

৯। এদের মস্তক উন্নত এবং সকল তন্ত্র আছে।

১০। এদের ১২ জোড়া বা ২৪টি ক্রানিয়াল স্নায়ু থাকে।

১১। এদের উভয় চোয়ালে দাঁত থাকে।

১২। হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুইটি অলিন্দ এবং দুইটি নিলয়।

১৩। রক্ত সংবহনতন্ত্র উন্নত ধরনের। দ্বি-চক্রী বা ডবল সারকুলেশন। সিস্টেমিক ও পালমোনারী চক্র দেখা যায়।

১৪। এদের ল্যারিংস-এ ভোকাল কার্ড থাকে। গøটিসে এপিগøটিস নামক ঢাকনা থাকে।

১৫। এদের নিষেক অভ্যন্তরীণ। এরা জরায়ুজ এবং বাচ্চা প্রসব করে।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ লোম, পিনা, কর্ণাস্থি, কক্লিয়া, স্তন গ্রন্থি, ডায়াফ্রাম, ঘর্মগ্রন্থি, গন্ধ গ্রন্থি, এন্ডোথার্মিক, লোহিত রক্তকণিকা, ক্রানিয়াল স্নায়ু, দাঁত, হৃৎপিন্ড, রক্ত সংবহনতন্ত্র, ভোকাল কার্ড, জরায়ুজ]

ম্যামালিয়া কী ।। Mammalia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ল্যাটিন শব্দ Mamma থেকে Mammalia নামকরণ করা হয়েছে। Mammalia শব্দের অর্থ হলো স্তন্যপায়ী। এরা ক্ষুদ্র থাই বাদুর (১.৫ গ্রাম) থেকে সর্ববৃহৎ নীল তিমি (১৩০ মেট্রিক টন) পর্যন্ত হতে পারে। এরা পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দখল করেছে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ এই শ্রেণীর প্রাণী। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৬,০০০। বাংলাদেশে ম্যামালিয়া শ্রেণীর ১০টি বর্গ, ৩৫টি গোত্র এবং ১৩৮টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।