গ্রিক শব্দ rep অর্থ বুকে হাঁটা Reptilia শ্রেণীর নামকরণ করা হয়েছে। Reptilia অর্থ সরীসৃপ। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে। সাড়ে ১৬ কোটি বছর পূর্বের মেসোজোয়িক যুগকে সরীসৃপের যুগ বলা হয়। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৯,৮৩১। বাংলাদেশে রেপটাইলিয়া শ্রেণীর ৩টি বর্গ, ২৫টি গোত্র এবং ১৬৭টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।
রেপটাইলিয়ার বৈশিষ্ট্য
১। দেহ শুষ্ক এবং এপিডার্মিস থেকে সৃষ্ট আঁইশ বা শক্ত প্লেট দ্বারা গঠিত।
২। প্রতি পায়ে নখর যুক্ত ৫ টি করে আঙ্গুল থাকে।
৩। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত। মাথা, গ্রীবা ও দেহ।
৪। এদের হৃৎপিন্ডের নিলয় অসম্পুর্ণ ভাবে দ্বিধা বিভক্ত (ব্যতিক্রম– কুমির)।
৫। এরা এক্টোথার্মিক স্থলচর প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা উঠা–নামার সাথে এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়।
৬। এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। তাই শীতকালে হাইবারনেশনে যায়।
৭। এরা বুকের উপর ভর দিয়ে চলে।
৮। এদের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪টি।
৯। এরা ডিম পাড়ে। অর্থাৎ ওভিপোরাস। ডিম চামড়ার মতো চুনময় খোলস দ্বারা আবৃত থাকে।
১০। মাথার করোটি একটি অক্সিপিটাল কন্ডাইল দ্বারা মেরুদন্ডের সাথে যুক্ত থাকে।
১১। অবসারণী ছিদ্র আড়াআড়ি ভাবে অবস্থিত।
১২। ভ্রæণের পরিস্ফুটনকালে চারটি বহিঃভ্রæণীয় ঝিল্লি (অ্যামনিয়ন, কোরিওন, কুসুমথলী অ্যালানটয়েস) সৃষ্টি হয়।
১৩। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। অন্তঃনিষেক ঘটে। পুরুষের পেশিময় সঙ্গম অঙ্গ বিদ্যমান।
১৪। এদের কোন লার্ভা দশা নাই।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ এপিডার্মিস, শক্ত প্লেট, আঙ্গুল, হৃৎপিন্ডের, এক্টোথার্মিক, হাইবারনেশন, বুকের উপর ভর, ক্রানিয়াল স্নায়ু, ওভিপোরাস, অক্সিপিটাল কন্ডাইল, অবসারণী ছিদ্র, সঙ্গম অঙ্গ, লার্ভা]
রেপটাইলিয়া শ্রেণীর কয়েকটি প্রাণী
টিকটিকি- Hemidactylus frenatus
উড়ন্ত টিকটিকি– Chameleon vulgaris
কচ্ছপ– Trionyx gangeticus
সামুদ্রিক কাছিম– Caretta caretta
তক্ষক– Gekko gecko
ঘড়িয়াল– Gavialis gangeticus
গোখরা সাপ– Naja naja
গুইসাপ– Varanus komodoensis
গিরগিটি– Calotes versicolor
কুমির– Crocodylus porosus
স্বাদু পানির কুমির– Crocodylus palustris