১। মানুষের খাদ্যঃ Pteris–এর কচি পাতা সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়। স্টার্চযুক্ত ফার্নের কান্ড ও রাইজোম খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। ঢেঁকি শাক ও শুষনি শাক একটি প্রিয় সবজি।
২। পশু খাদ্যঃ Pteris এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত Pteris ভক্ষণ করলে গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। এ জন্য অনেক সময় Pteris–কে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত আগাছা বলা হয়।
৩। জ্বালানীঃ বৃক্ষ জাতীয় ফার্নের জীবাশ্ম থেকে কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় যা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়।
৪। ওষুধ তৈরী
(i) Lycopodium, Equisetum প্রভৃতি হলো ঔষধি ফার্ন। ইহা থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করা হয়।
(ii) ফার্ন থেকে ইউনানি হারবাল ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। এসব ওষুধ আলসার, বাতজ্বর, অন্ত্রের ক্ষত প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
(iii) ফার্নের কচি কান্ড কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহার হয়।
(iv) Marsilea থেকে প্রাপ্ত মারসিলিন স্নায়ুরোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়।
(v) Selaginella botryoides থেকে যকৃত রোগের ওষুধ তৈরী করা হয়।
(vi) Equisetum arvense থেকে প্রাপ্ত হার্বা ইকুইসিনি ওষুধ রক্ত বিশোধন এবং মূত্রনালির রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।
(vii) Equisetum debile থেকে গনোরিয়া রোগের ওষুধ তৈরী করা হয়।
৫। সৌন্দর্য বৃদ্ধিঃ বিভিন্ন অনুষ্ঠান, গৃহ সজ্জা, বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি প্রভৃতিতে ফার্ন উদ্ভিদের ব্যবহার দেখা যায়। ‘ক্রিসমাস গ্রিন’ নামে পরিচিত Lycopodium obscurum ক্রিসমাস উৎসবে সৌন্দর্যবর্ধক রুপে ব্যবহার হয়। Lycopodium, Selaginella প্রভৃতি গৃহসজ্জায় ব্যবহার হয়।
৬। রাসায়নিক পদার্থ তৈরীঃ ফার্ন থেকে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করা যায়। Dryopteris থেকে পটাশ এবং Equisetum থেকে সিলিকন পাওয়া যায়। সাবান ও কাঁচ তৈরীতে পটাশ ব্যবহার হয়।
৭। সার হিসেবেঃ টেরিসের কোন কোন প্রজাতি জমিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৮। আসবাবপত্র পালিশঃ কাঠের আসবাবপত্র পালিশে Equisetum ব্যবহার হয়।
৯। আতশবাজি তৈরীঃ Lycopodium এর রেণু দাহ্য এবং বর্ণময় আলোকছটা বিচ্ছুরণ করে। তাই একে ‘চকমকি উদ্ভিদ’ বলা হয়। চকমকি উদ্ভিদ আতশবাজি তৈরীতে ব্যবহার হয়।
১০। দুষণরোধেঃ Pteri মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিক শোষণ করে। তাই আর্সেনিকজনিত দুষণরোধে ইহা ব্যবহার করা যেতে পারে।