কোন উদ্ভিদের জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইট ও স্পোরোফাইট দশার পর্যায়ক্রমে আবির্ভাবকে জনুঃক্রম বলে। Pteris–এর জীবনচক্রে দু’টি পর্যায় রয়েছে। গ্যামিটোফাইট দশা ও স্পোরোফাইট দশা।
১। গ্যামিটোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় গ্যামিট তথা শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয় তাকে গ্যামিটোফাইট দশা বলে। স্পোরোফাইট উদ্ভিদে স্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোর হলো গ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়। অংকুরিত স্পোরটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সবুজ, চ্যাপ্টা ও হৃৎপিন্ডাকার প্রোথ্যালাস গঠন করে। ফার্ন প্রোথ্যালাস হলো গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদ। এর অগ্রস্থ খাঁজের নিচে কলসি বা ফ্লাক্স আকৃতির স্ত্রী জননাঙ্গ আর্কিগোনিয়া এবং থ্যালাসের নিচের দিকে গোলাকার বা ডিম্বাকার পুং জননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। আর্কিগোনিয়ামের মধ্যে ডিম্বাণু এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে মধ্যে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যামিটোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।
২। স্পোরোফাইট দশাঃ উদ্ভিদের জীবনচক্রের যে দশায় স্পোর সৃষ্টি হয় তাকে স্পোরোফাইট দশা বলে। গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হলো স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। জাইগোট প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে জাইগোস্পোরে পরিনত হয়। জাইগোস্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়। অংকুরিত জাইগোস্পোরটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে স্পোরোফাইট উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। স্পোরোফাইটের পাতার কিনারায় সোরাস জন্মে। সোরাসের ভিতরে স্পোরাঞ্জিয়া থাকে। স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে স্পোর উৎপন্ন করে। স্পোর উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেরোফাইট দশার পরিসমাপ্তি ঘটে।