আর্থ্রোপোডা পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Arthropoda ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ arthros অর্থ সন্ধিযুক্ত এবং podos অর্থ পা নিয়ে Arthropoda শব্দটি গঠিত। যে সব প্রাণীদের দেহ সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, মুক্ত সংবহনতন্ত্র বিশিষ্ট্য, হিমোসিলযুক্ত এবং বহিঃকঙ্কাল কাইটিন যুক্ত তাদেরকে আর্থ্রোপোডা বলে। প্রাণিজগতের সবচেয়ে বড় পর্ব হলো Arthropoda। প্রাণিজগতে ৮০% প্রাণী হলো আথ্রোপোডা। প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০টি। এরা তৃণভোজী (herbivours), মাংসাশী (carnivours) বা সর্বভূক (omnivours)। ভন সিবোল্ড (Von Siebold, ১৮৪৫) এ পর্বের নাম করেন Arthropoda।

আর্থ্রোপোডা পর্বের বৈশিষ্ট্য

১। এরা ট্রিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং খন্ডকায়িত।

২। দেহ ট্যাগমাটায় বিভক্ত। দেহ মস্তক, বক্ষ ও উদরে বিভক্ত।

৩। এরা সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিশিষ্ট প্রাণী। মাথায় একজোড়া অ্যান্টেনা এবং একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে।

৪। দেহের উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ সৃষ্টি হয়। ইহা খাদ্য গ্রহণ করে।

৫। বহিঃকংকাল কিউটিক্ল নির্মিত এবং নিয়মিত নির্মোচন  বা মোল্টিং হয়।

৬। দেহগহŸর হিমোসিল নামে পরিচিত। ইহা রক্ত দ্বারা পুর্ণ থাকে।

৭। এদের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো মালপিজিয়ান নালিকা। তবে সবুজ গ্রন্থি, সিলোম, কক্সাল গ্রন্থি, অ্যান্টেনাল গ্রন্থি ও ম্যাক্সিলারী গ্রন্থি দ্বারাও রেচন সম্পন্ন হয়।

৮। রক্ত সংবহনতন্ত্র উন্মুক্ত ধরনের। ইহা হৃৎযন্ত্র, ধমনী ও হিমোসিল নিয়ে গঠিত।

৯। এদের ট্রাকিয়া, ফুলকা, দেহ ত্বক, বুকগিল   অথবা বুক লাঙ দ্বারা শ্বসন সম্পন্ন হয়।

১০। পুরুষ-স্ত্রী পৃথক প্রাণী। এদের অন্তঃনিষেক ঘটে। পরিস্ফুটনে রুপান্তর ঘটে।

১১। জীবনচক্রে উথিকা, পিউপা ও নিম্ফ দশা দেখা যায়।

১২। এরা স্থলচর, জলচর, নিশ্চল, মুক্তজীবী, পরজীবী বা সহবাসী হিসেবে বাস করে।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ ট্রিপ্লোব্লাস্টিক, ট্যাগমাটা, পুঞ্জাক্ষি, মোল্টিং, হিমোসিল, মালপিজিয়ান নালিকা, বুক লাঙ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq