১৯৬৬ সালে D. Koshland এনজাইমের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আবেশিত মতবাদ উপস্থাপন করেন। আবেশিত মতবাদকে তালা-চাবি মতবাদের সংশোধিত সংস্করণও বলা যেতে পারে। এই মতবাদে এনজাইমের গঠন পরিবর্তনশীল। এরুপ এনজাইমকে অ্যালোস্টেরিক বলে। আবেশিত মতবাদটি আলোচনা করা হলো-
বিশেষ ধরনের প্রোটিনই হলো এনজাইম। অ্যাপো এনজাইমের যে স্থানে সাবষ্ট্রেট যুক্ত হয়ে বিক্রিয়া ঘটায় তাকে সক্রিয় স্থান বা বিক্রিয়া কেন্দ্র বলে। এনজাইমে এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান থাকে। সাবস্ট্রেটের আকার এবং এনজাইমের সক্রিয় স্থানের আকার ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আবেশিত মতবাদ অনুসারে, এনজাইমের সক্রিয় স্থানে যুক্ত হওয়ার জন্য সাবষ্ট্রেটের নির্দিষ্ট গঠন বা সংযোগের প্রয়োজন নাই। বরং সাবষ্ট্রেট অণুর যুক্ত হওয়ার জন্য এনজাইমের সক্রিয় স্থানের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। এরুপ পরিবর্তনের ফলে সক্রিয় স্থানটি সাবষ্ট্রেটের জন্য ফিট হয়ে যায়। ফলে সাবষ্ট্রেট এনজাইমের সক্রিয় স্থানে যুক্ত হয়। সাবষ্ট্রেটের সাথে যুক্ত হওয়ার পর এনজাইমটি তার সর্বোচ্চ ক্যাটালাইটিক আকৃতি ধারণ করে। এরপর সাবষ্ট্রেট ও এনজাইম হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে এনজাইম-সাবষ্ট্রেট কমপ্লেক্স গঠন করে। এনজাইম-সাবষ্ট্রেট কমপ্লেক্স গঠিত হলে এনজাইম সাবষ্ট্রেটকে সহজেই ভেঙ্গে ফেলে। বিক্রিয়া শেষে উৎপাদিত পদার্থ বন্ধনী মুক্ত হয়ে দূরে সরে যায় এবং এনজাইম অপরিবর্তিত অবস্থায় মুক্ত হয়। মুক্ত এনজাইমটি নতুন বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে।
আবেশিত মতবাদটি অনেক বিজ্ঞানীর নিকট গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। এ মডেলের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কার্বোক্সিপেপটাইডেজ-A এবং অন্যান্য কতিপয় এনজাইমের এক্স-রে পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
[কোশল্যান্ড (D. Koshland)-এর মতে, এনজাইমের সক্রিয় স্থানে দুইটি অংশ থাকে। বাট্রেসিং গ্রুপ এবং ক্যাটালিটিক গ্রুপ। বাট্রেসিং গ্রুপ সাবস্ট্রেটকে ধরে রাখে এবং ক্যাটালিটিক গ্রুপ সাবস্ট্রেটের বিভিন্ন বস্তুকে দুর্বল করে বিক্রিয়ালব্ধ পদার্থে পরিনত হতে সাহায্য করে]