এনজাইমের প্রভাবক

১। তাপমাত্রাঃ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে এনজাইমের কার্যকারীতা বৃদ্ধি পায়, তবে অধিক তাপে ইহা নষ্ট হয়ে যায়। এনজাইমের জন্য উত্তম তাপমাত্রা হলো ৩৫-৪০ ডিগ্রী সে.। ০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় অধিকাংশ এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাপমাত্রা ৪৫ডিগ্রী সে. এর উপরে হলে এনজাইম বিকলন বা ডিন্যাচুরেশন হয়ে যায়।
২। পানিঃ পানিশুন্য অবস্থায় এনজাইম নিষ্ক্রিয়। পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এনজাইমের ক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায়।
৩। pH : এনজাইমের কার্যকারীতা pH দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এনজাইমের অপটিমাম pH হলো ট্রিপসিন-৮.০, ইউরিয়েজ-৭.০, সেলুবায়েজ-৫.০, ইনভারটেজ-৪.৫, পেপসিন-২.০ প্রভৃতি।
৪। সাবস্ট্রেটের ঘনত্বঃ সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব বাড়লে এনজাইমের ক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব কমলে এনজাইমের ক্রিয়া কমে যায়।
৫। এনজাইমের ঘনত্বঃ এনজাইমের ঘনত্ব বাড়লে বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায় এবং এনজাইমের ঘনত্ব কমলে বিক্রিয়ার কমে যায়।
৬। কো-এনজাইমঃ কোন কোন কো-এনজাইমের উপস্থিতিতে এনজাইমের ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। যেমন- ATP, ADP, NAD, NADP, FAD, FADP প্রভৃতি।
৭। ধাতু বা ধাতবঃ ধাতুর উপস্থিতি এনজাইমের ক্রিয়া বৃদ্ধি ও হ্রাস উভয়ই ঘটে। Mg2+, Mn2+ প্রভৃতির উপস্থিতিতে এনজাইমের ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়।
৮। জারণঃ কিছু এনজাইম বিজারণ পদার্থে সক্রিয় হয় এবং মৃদু জারক পদার্থের সংস্পর্শে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। যেমন-সালফাইড্রিল।
৯। প্রতিরোধকঃ যে সব পদার্থের উপস্থিতি এনজাইমের ক্রিয়া সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় তাকে প্রতিরোধক বা ইনহিবিটর বলে। উচ্চ শক্তির বিকিরণ, ভারী ধাতুর লবণ, সায়ানাইড, ডাই নাইট্রোফেনল, ফরমালিন প্রভৃতি হলো প্রতিরোধক।
১০। সক্রিয়কঃ সক্রিয়ক পদার্থ নিষ্ক্রিয় এনজাইমকে সক্রিয় করে। HCl এর প্রভাবে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিনে পরিনত হয়। যেমন- Cl+, Mg++, Ca++, Mn++ প্রভৃতি।
১১। সংস্পর্শঃ এনজাইম এবং সাবস্ট্রেট পরস্পরের সংস্পর্শে আসে এবং যৌগ গঠন করে। যৌগ গঠিত হলে এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে।
১২। বিকিরণঃ উচ্চশক্তি সম্পন্ন বিকিরণ (α, β ও γ রশ্মি) এনজাইমের গাঠনিক বিচ্যুতি ঘটায় এবং কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।
১৩। বাধক এজেন্টঃ যে সব ধাতুর উপস্থিতি এনজাইমের কার্যকারীতা বাঁধা দান করে তাকে বাধক এজেন্ট বলে। যেমন- Ag, Zn, Hg, Cu প্রভৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *