ঘাস ফড়িং-এর পুঞ্জাক্ষির প্রতিটি ষড়ভূজাকৃতির দর্শন একককে ওমাটিডিয়াম বলে। প্রতিটি পুঞ্জাক্ষিতে ১২০০-১৮০০ ওমাটিডিয়া থাকে। নিচে একটি ওমাটিডিয়ামের গঠন বর্ণনা করা হলো।
১। কর্ণিয়াঃ ওমাটিডিয়ামের বাইরের দিকে বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উত্তল ও ছয়কোণাকার আবরণীকে কর্ণিয়া বলে। ইহা লেন্সের মতো কাজ করে।
২। কর্ণিয়াজেন কোষঃ কর্ণিয়ার নিচে একজোড়া কর্ণিয়াজেন কোষ থাকে। ইহা কর্ণিয়া সৃষ্টি করে।
৩। ক্রিস্টালাইন কোণ্ কোষঃ কর্ণিয়াজেন কোষের নিচে চারটি ক্রিস্টালাইন কোণ্ কোষ থাকে। ইহা ক্রিস্টালাইন কোণ্ গঠন করে।
৪। ক্রিস্টালাইন কোণ্ঃ ক্রিস্টালাইন কোণ্ কোষ দ্বারা আবৃত মোচাকৃতির অঙ্গকে ক্রিস্টালাইন কোণ্ বলে। এর মধ্য দিয়ে ওমাটিডিয়ামে আলো প্রবেশ করে।
৫। আইরিশ পিগমেন্ট আবরণঃ ক্রিস্টালাইন কোণ্ কোষের চারিদিকে যে রঙ্গীন আবরণী থাকে তাকে আইরিশ পিগমেন্ট আবরণ বলে। ইহা তীব্র আলোতে প্রসারিত হয়ে কোণ্ কোষ গুলো আবৃত করে রাখে এবং মৃদু আলোতে সংকুচিত হয়ে কোণ্ কোষ গুলে কে আংশিক উন্মুক্ত রাখে।
৬। রেটিনুলার কোষঃ কোণ্ কোষ গুলোর নিচে ৭ টি লম্বা রেটিনুলার কোষ থাকে। ইহা বৃত্তাকারে সজ্জিত থাকে। এদের এক প্রান্ত কোণ্ কোষের সাথে এবং অপর প্রান্ত স্নায়ুতন্তুর সাথে যুক্ত থাকে। ইহা আলোক সংবেদী। এদের ক্ষরণ থেকে র্যাবডোম সৃষ্টি হয়।
৭। র্যাবডোমঃ রেটিনুলার কোষের মাঝখানে যে মাকু আকৃতির কোষ থাকে তাকে র্যাবডোম বলে। এর মাধ্যমে আলো গৃহীত হয়।
৮। রেটিনাল সিথঃ রেটিনুলার কোষকে ঘিরে যে কালো পর্দা থাকে তাকে রেটিনাল সিথ বলে। ইহা পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ওমাটিডিয়ামকে পৃথক রাখে।
৯। ভিত্তি পর্দাঃ যে পাতলা পর্দার উপর ওমাটিডিয়াম অবস্থান করে তারে ভিত্তি পর্দা বলে। ইহা ওমাটিডিয়ামকে ধারণ করে।