ট্রান্সক্রিপশন একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার ধাপগুলো হলো- ট্রান্সক্রিপশন সূচনা, mRNA বৃদ্ধিকরণ, mRNA সমাপ্তিকরণ ও mRNA চুড়ান্তকরণ।
১। ট্রান্সক্রিপশন সূচনা (Initiation)
(i) ট্রান্সক্রিপশন ঘটে কোষের নিউক্লিয়াসের ভিতরে। নিউক্লিয়াসের ভিতরে DNA থাকে। DNA অণুতে জিন থাকে। প্রতিটি জিনের একটি প্রোমোটার থাকে। প্রোমোটারের সিকুয়েন্স হলো 5-TATAWAWA-3। প্রকৃত কোষে একে TATA box ev Goldberg-Hogness box নড়ী বলা হয়। আদিকোষে TATA box-এর পরিবর্তে TATAAT থাকে এবং একে Pribnow box বলা হয়।
(ii) ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর, প্রোমোটার এবং RNA পলিমারেজ এনজাইম সংযুক্ত হয়ে ট্রান্সক্রিপশন কমপ্লেক্স গঠন করে।
(iii) RNA পলিমারেজ এনজাইম DNA অণুর প্যাচ (কমপক্ষে ২০ জোড়া) খুলে দেয় এবং হাইড্রোজেন বন্ধনী ভেঙ্গে দেয়। ফলে দুইটি একক সূত্র সৃষ্টি হয়। একটি টেমপ্লেট সূত্র এবং অপরটি কোডিং সূত্র।
(iv) টেমপ্লেট সূত্রটি mRNA তৈরীর ছাঁচ হিসেবে কাজ করে। এতে দুইটি বিন্দু থাকে। সূচনা বিন্দু (start site) ও সমাপ্তি বিন্দু (terminal site)। সূচনা বিন্দু থেকে ট্রান্সক্রিপশন শুরু হয়।
২। mRNA বৃদ্ধিকরণ (Elongation)
(i) RNA পলিমারেজ এনজাইম টেমপ্লেট সূত্রে নতুন নতুন নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে। নিউক্লিওটাইড গুলো ৩-৫ কার্বনমুখী যুক্ত হতে থাকে।
(ii) বেসপেয়ারিং নীতি অনুযায়ী অ্যাডিনিনের (A) পরিপূরক হিসেবে ইউরাসিল (U) এবং গুয়ানিনের (G) পরিপূরক হিসেবে সাইটোসিন (C) যুক্ত হয়। অর্থাৎ DNA সূত্রে ATTCGA সিকোয়েন্স থাকলে mRNA সূত্রে UAAGCU সিকোয়েন্স গঠিত হয়। DNA অণুর যতটুকু অংশ থেকে mRNA তৈরী হয় তাকে ট্রান্সক্রিপশন ইউনিট বলে।
(iii) টেমপ্লেট সূত্রের সমাপ্তি বিন্দু না পৌছা পর্যন্ত mRNA শিকল বৃদ্ধি পেতে থাকে। একই সাথে ট্রান্সক্রিপশন হওয়া অংশে দ্বিকুন্ডলী হতে থাকে।
৩। mRNA সমাপ্তিকরণ (Termination)ঃ mRNA সূত্র বৃদ্ধি পেয়ে একসময় DNA এর সমাপ্তি (টার্মিনেটর) বিন্দুকে স্পর্শ করে। সমাপ্তি বিন্দুকে স্পর্শ করলে RNA পলিমারেজ এনজাইম মুক্ত হয়ে যায়। ফলে mRNA তৈরীর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে উৎপন্ন mRNA-কে প্রাক্-mRNA বলে।
৪। mRNA চুড়ান্তকরণ
(i) ক্যাপিংঃ প্রি- mRNA এর ৫ প্রান্তে ৭টি গুয়ানোসিন নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়ে গুয়ানিন ক্যাপ বা টুপি গঠন করে। একে ক্যাপিং বা টুপি পরানো বলে। একে ৫ ক্যাপও বলা হয়। ইহা ট্রান্সলেশনের সময় রাইবোসোমের সংযুক্তি নিশ্চিত করে।
(ii) টেইলিংঃ প্রি- mRNA এর ৩ প্রান্তে ৫০-১৫০টি অ্যাডিনিন যুক্ত হয়ে পলি A টেইল গঠন করে। এই প্রক্রিয়াকে টেইলিং বলা হয়। এটি mRNA-কে হাইড্রোলাটিক এনজাইমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং পরিবহন ত্বরান্বিত করে।
(iii) স্প্লাইসিংঃ প্রি-mRNA-তে দুইটি অংশ থাকে। Exon বা কোডিং অংশ এবং Intron বা নন-কোডিং অংশ। Intron থেকে কখনো ট্রান্সলেশন হয় না। তাই স্প্লাইসিয়োসোম এর উপস্থিতিতে স্প্লাইসিং প্রক্রিয়ায় প্রি- mRNA থেকে intron কেটে ফেলা হয়। ফলে চুড়ান্ত mRNA পাওয়া যায়। চুড়ান্ত mRNA সাইটোপ্লাজমীয় পরিবেশের জন্য উপযুক্ত। তাই নিউক্লিয়াসের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সাইটটোপ্লাজমে চলে যায়।