মেসোজোয়িক যুগে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী থেকে পাখিদের উৎপত্তি হয়েছে। পাখিদের পূর্বপুরুষ হলো সরীসৃপ। বিবর্তনের মাধ্যমে সরীসৃপরা পাখিতে রুপান্তরিত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বিখ্যাত পাখিবিদ থমাস হাক্সলে (Thomas Huxley) এদেরকে পাখিরা মহিমান্বিত সরীসৃপ নামে অভিহিত করেন। আর্কিওপটেরিক্স (Archaeopteryx) হলো সরীসৃপ ও পাখির মধ্যে যোগসূত্রকারী জীবাশ্ম। অর্থাৎ সরীসৃপ থেকে আর্কিওপটেরিক্স এবং আর্কিওপটেরিক্স থেকে পাখি সৃষ্টি হয়েছে। সরীসৃপ থেকে পাখি সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হলো–
১। সরীসৃপ হলো নিম্ন বিপাকীয় হার সমৃদ্ধ শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। পাখি হলো উচ্চ বিপাকীয় হার সমৃদ্ধ উঞ্চ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
২। সরীসৃপ হলো গতি সম্পন্ন প্রাণী। পাখি উড্ডয়ন ক্ষমতা লাভের কারণে সবচেয়ে দক্ষতার সাথে দ্রুত চলতে পারে।
৩। সরীসৃপের দেহ শুষ্ক আঁইশযুক্ত। সরীসৃপের আঁইশ থেকে পাখির পালক সৃষ্টি হয়েছে।
৪। সরীসৃপের অসম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিন্ড থেকে পাখির চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিন্ড সৃষ্টি হয়েছে।
৫। সৃরীসৃপের রক্ত সংবহনতন্ত্রে দুইটি সিস্টেমিক আর্চ এবং পাখির একটি সিস্টেমিক আর্চ।
৬। সরীসৃপের রেনাল পোর্টাল সিস্টেম উন্নত প্রকৃতির। পাখিদের উহা ক্ষয়প্রাপ্ত।
৭। সরীসৃপের চোয়াল থেকে পাখির লম্বা চঞ্চু সৃষ্টি হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সরীসৃপ থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে পাখির উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ পাখিরা মহিমান্বিত সরীসৃপ।