ফার্ন স্পোর অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে ৪-৬ কোষ বিশিষ্ট প্রোটোনেমা গঠন করে। প্রোটোনেমার দুই পাশের কোষ বার বার বিভাজিত হয়ে যে সবুজ, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ, চ্যাপ্টা ও বহুকোষী হৃৎপিন্ডাকার গঠন সৃষ্টি করে তাকে ফার্ন প্রোথ্যালাস বলে। ফার্ন প্রোথ্যালাসের গঠন বর্ণনা করা হলো।
১। থ্যালাসঃ ফার্ন প্রোথ্যালাস হলো গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ। এর দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না। অর্থাৎ এরা থ্যালাস আকৃতির। থ্যালাস সবুজ, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ, চ্যাপ্টা, বহুকোষী ও হৃৎপিন্ডাকার। এর অগ্রভাগে একটি বড় খাঁজ থাকে। একে অগ্রস্থ খাঁজ বলে। প্রোথ্যালাস সবুজ হওয়ায় সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করতে পারে।
২। রাইজয়েডঃ থ্যালাসের নিম্নতল হতে সরু, সূত্রাকার, শাখা-প্রশাখাবিহীন, বর্ণহীন ও এককোষী রাইজয়েড উৎপন্ন হয়। রাইজয়েড দুই ধরনের। মসৃণ ও অমসৃণ রাইজয়েড। রাইজয়েড থ্যালাসকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ করে।
৩। স্কেলঃ থ্যালাসের নিম্নাংশ হতে সরু, সুত্রাকার, শাখা-প্রশাখাবিহীন, বর্ণহীন ও বহুকোষী স্কেল উৎপন্ন্ হয়। ইহা থ্যালাসকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিশোষণ করে। স্কেল থ্যালাসকে প্রতিকূল পরিবেশে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।
৪। জননাঙ্গঃ Pteris-হলো সহবাসী উদ্ভিদ। এদের পুংজননাঙ্গ ও স্ত্রীজননাঙ্গ একই থ্যালাসে অবস্থান করে। এর পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়াম এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়াম বলে।
(i) অ্যান্থেরিডিয়ামঃ থ্যালাসের নিচের দিকে গোলাকার বা ডিম্বাকার কতক গুলো পুংজননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। এর গোড়ায় দুইটি বলয় কোষ এবং একটি ঢাকনা কোষ থাকে। অ্যান্থেরিডিয়ামের ভিতরে ২০-৫০টি শুক্রাণু মাতৃকোষ বা অ্যান্ড্রোসাইট থাকে। প্রতিটি শুক্রাণু মাতৃকোষ প্যাচানো বহু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শুক্রাণুতে পরিনত হয়।
(ii) আর্কিগোনিয়ামঃ অগ্রস্থ খাঁজের নিচে কলসী বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির কতক গুলো স্ত্রীজননাঙ্গ আর্কিগোনিয়া জন্মে। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। গ্রীবা এবং উদর। গ্রীবা সামান্য বাঁকানো এবং কয়েকটি গ্রীবা নালিকা কোষ দ্বারা গঠিত। উদরে একটি ডিম্বাণু এবং একটি উদরীয় নালিকা কোষ থাকে। পরিনত আর্কিগোনিয়ামের গ্রীবা নালিকা কোষ এবং উদরীয় নালিকা কোষ গলে গিয়ে একটি নালি পথ গঠন করে। নালি পথটি মিউসিলেজ এবং ম্যালিক এসিড দ্বারা পূর্ণ থাকে।