ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়ামের পর থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত মোটা, নলাকার ও খাঁজযুক্ত অংশকে বৃহদান্ত্র বলে। মানুষের বৃহদান্ত্রের কাজ বর্ণনা করা হলো।
১। শোষণ ও পুনঃশোষণঃ বৃহদান্ত্র দ্বারা পানি, খনিজ লবণ, সোডিয়াম, ক্লোরাইড প্রভৃতি শোষিত হয়। পরিপাক বর্জ্যে বিদ্যমান পানির ৭০-৮০% বৃহদান্ত্র দ্বারা পুনঃশোষিত হয়।
২। অণুজীবের ভান্ডারঃ বৃহদান্ত্রের অ্যাপেনডিক্সকে উপকারী অণুজীবের সুরক্ষিত ভান্ডার বলা হয়। মানুষের কোলনে ৫০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস প্রাপ্ত হলে অ্যাপেনডিক্সের ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জীবগোষ্ঠিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে। এসব ব্যাকটেরিয়া অপ্রাচ্য খাদ্য উপাদানকে ভেঙ্গে ক্ষুদ্র শিকল ফ্যাটি এসিড উৎপন্ন করে।
৩। গাঁজন ও পাচনঃ বৃহদান্ত্রে ৫০০ প্রজাতির মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এসব ব্যাকটেরিয়া অপ্রাচ্য খাদ্য উপাদানকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে ক্ষুদ্র শিকল ফ্যাটি এসিড উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন ও মিথেন গ্যাস মুক্ত করে। ক্ষুদ্র ফ্যাটি এসিড (অ্যাসিটিক এসিড, প্রোপাওনিক এসিড ও বিউটারিক এসিড) কোলনের প্রাচীরের কোষে শক্তি সরবরাহ করে।
৪। মল উৎপাদনঃ ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে তরল কাইম বা মন্ড বৃহদান্ত্রে প্রবেশ করে এবং শোষণের মাধ্যমে আর্দ্র ও নরম মলে পরিনত হয়। সাধারণত ৩৫০ গ্রাম মন্ড থেকে ১৩৫ গ্রাম মল উৎপন্ন হয়।