ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য

১। ব্যাকটেরিয়া হলো আণুবীক্ষণিক, ক্ষুদ্রতম (০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার) ও সরলতম জীব।

২। এরা এককোষী জীব। তবে একত্রে দল বা কলোনী গঠন করতে পারে।

৩। এরা আদি প্রকৃতির জীব। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস থাকে না।

৪। এদের কোষে রাইবোজোম (৭০S) ছাড়া অন্য কোন অঙ্গাণু থাকে না। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ায় ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলজিবডি, লাইসোসোম, সাইটোস্কেলিটন, মাইক্রোবডিজ প্রভৃতি থাকে না।

৫। এরা পরজীবী (parasitic), মৃতজীবী (saprophytic) অথবা স্বভোজী (autophytic) হতে পারে।

৬। এদের কোষ প্রাচীর মিউকোপেপটাইড, পেপটাইডোগ্লাইক্যান, পলিস্যাকারাইড, টিকোয়িক এসিড ও মুরামিক এসিড এসিড দ্বারা গঠিত। কোষপ্রাচীর থাকে বলে এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।

৭। এদের কোষঝিল্লি বা প্লাজমাপর্দা ভাঁজ হয়ে মেসোজোম গঠন করে।

৮। ফায্ ভাইরাসের প্রতি এরা খুবই সংবেদনশীল।

৯। এরা অজৈব লবণকে জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।

১০। এরা প্রচন্ড ঠান্ডা -১৭ ডিগ্রী সে. থেকে শুরু করে ৮০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

১১। অটোফাইটিক ব্যাকটেরিয়ার কোষে ফটোসিনথেটিক প্রিগমেন্ট হিসেবে ব্যাকটেরিওক্লোরোফিল, ব্যাকটেরিওভিরিডিন, ব্যাকটেরিয়াম ক্লোরোফিল ও ক্যারোটিন থাকে।

১২। এদের কোষে ক্রোমোসোম না থাকায় মাইটোসিস ও মায়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে না।

১৩। এরা দ্বি-বিভাজন, অঙ্গজ, অযৌন ও যৌন জনন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে।

১৪। ইহা অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে শ^সন ক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।

১৫। কিছু ব্যাকটেরিয়া বাধ্যতামূলক বায়বীয়, কিছু ব্যাকটেরিয়া বাধ্যতামূলক অবায়বীয় এবং কিছু ব্যাকটেরিয়া সুবিধাবাদী অবায়বীয়।

১৬। ব্যাকটেরিয়ার কোষে ফ্ল্যাজেলা থাকে। ইহা ফ্ল্যাজেলিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

১৭। ব্যাকটেরিয়ায় পিলি বা ফিমক্সি থাকে। ইহা পিলিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

১৮। এর কোষঝিল্লিতে কোলেস্টেরল বা স্টেরয়েড থাকে না।

১৯। প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এন্ডোস্পোর গঠন করে। এ অবস্থায় ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

২০। এরা সাধারণত বেসিক রং (গ্রাম পজিটিভ বা নেগেটিভ) ধারণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *