সেলুলোজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, গঠন ও ব্যেবহার ।। Cellulose

সেলুলোজ হলো একটি জটিল হোমোপলিস্যাকারাইড। স্বভোজী উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। পৃথিবীর জৈব উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিরাজ করে সেলুলোজ। সেলুলোজকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা সালফিউরিক এসিড বা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে গ্লুকোজ পাওয়া যায়। সেলুলোজ অণুতে β-1-4 গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী থাকে। প্রাণী বা মানুষের এই β-1-4 গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী ভাঙ্গার মতো কোন এনজাইম থাকে না বলে সেলুলোজ হজম করতে পারে না। ফরাসি রসায়নবিদ অ্যানসেলমি পায়েন (Anselme Payen, 1838) সেলুলোজ আবিষ্কার করেন। কোবায়েসি এবং সোডা (Kobayashi & Shoda, 1992) সর্বপ্রথম কৃত্রিম সেলুলোজ তৈরী করেন। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

সেলুলোজের পরিমাণ

তুলায় ৯৪%, লিনন বা তিসিতে ৯০%, তন্তুকোষে ৯০%, তৃণলতায় ৩০-৪০%, কাঠে ৬০%, শুষ্ক হেল্প তন্তেÍÍ ৪৫%, পাটকাঠিতে ৫৮% আখের ছোবড়ায় ৪০%, গমের খড়ে ৪২%  এবং জৈব মাটিতে ৪০-৭০% সেলুলোজ থাকে।

 

সেলুলোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম

(i) সেলুলোজ হলো স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন পদার্থ।

(ii) রাসায়নিক ভাবে ইহা নিষ্ক্রিয়, তবে গাঢ় এসিড দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে গ্লুকোজে পরিনত হয়।

(iii) ইহা পানি ও জৈব দ্রাবকে অদ্রবণীয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iv) এর আণবিক ওজন ২ লক্ষ থেকে কয়েক লক্ষ ডাল্টন।

(v) ইহা মিষ্টি বিবর্জিত এবং বিজারণক্ষমতা বিহীন।

(vi) ইহা আয়োডিন দ্রবণে কোন বর্ণ ধারণ করে না।

(vii) এটি শক্ত ও ফাইবারের মতো।

(viii) এর কোন পুষ্টিগুণ নাই।

(ix) সেলুলোজে ৪৪.৪১% কার্বন, ৪৪.৪% অক্সিজেন এবং ৬.২% হাইড্রোজেন থাকে।

 

সেলুলোজের রাসায়নিক গঠন

সেলুলোজ হলো একটি জটিল পলিস্যাকারাইড। ইহা গ্লুকোজ অণু দ্বারা গঠিত। অসংখ্য গ্লুকোজ অণু β 1-4 গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। সেলুলোজকে H2SO4 বা HCl বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করলে গ্লুকোজে পরিনত হয়।

 

সেলুলোজের ব্যবহার

(i) বস্ত্রশিল্পেঃ সেলুলোজ বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল তৈরীর প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। কাপড়ের কাঁচামাল রেয়ন তৈরী করা হয় সেলুলোজ থেকে।

(ii) বিস্ফোরক হিসেবেঃ ইহা নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার হয়। নাইট্রোসেলুলোজ তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে সেলুলোজ ব্যবহার হয়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iii) আসবাবপত্র তৈরীতেঃ কাঠ ও বাঁশের প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। বাঁশ ও কাঠ দ্বারা বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরী করা হয়।

(iv) কাগজ শিল্পেঃ ইহা ফিল্টার পেপার ও টিস্যু পেপার তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় নিউজপ্রিন্ট কাগজ থেকে সেলুলোজ ইনসুলেটর তৈরী করা হয়। সেলুলোজ ইনসুলেটর হলো একটি পরিবেশ বান্ধব আবরক।

(v) হজমেঃ কাঠখেকো কীটপতঙ্গ কাঠ হজম করতে সেলুলোজ ব্যবহার করে।

(vi) আঠা তৈরীতেঃ মিথাইল সেলুলোজ আঠা তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়। বিশুদ্ধ সেলুলোজ পানির সাথে মিশিয়ে আঠা তৈরী করা হয়।

(vii) ফটোগ্রাফিক ফিল্ম তৈরীতেঃ ফটোগ্রাফিক, সেলোফেন এবং সেলুলয়েড তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়।

(viii) জৈব প্রযুক্তিতেঃ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপন্ন সেলুলোজ বায়োটেকনোলজিতে ব্যবহার হচ্ছে।

(ix) গাঠনিক উপাদান হিসাবেঃ সেলুলোজ উদ্ভিদের প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। ইহা উদ্ভিদের পাতা, কান্ড ও শাখা-প্রশাখা গঠন করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(x) উদ্ভিদের কঙ্কালতন্ত্রঃ সেলুলোজ উদ্ভিদকে দৃঢ়তা ও সুরক্ষা প্রদান করে। তাই সেলুলোজকে উদ্ভিদের কঙ্কালতন্ত্র বলা হয়।

(xi) মল তৈরীঃ প্রাণীর খাদ্যের সাথে আগত সেলুলোজের অধিকাংশই মল হিসেবে নির্গত হয়। রাফেজ কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে। তাই প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য সেলুলোজ অত্যাবশ্যক। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(xii) স্টেশনারি ফেজঃ থিন লেয়ার ক্রোমাটোগ্রাফিতে স্টেশনারি ফেজ হিসেবে সেলুলোজ ব্যবহার হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq