হাইড্রার এপিডার্মিস কোষগুলোর গঠনও কাজ ।। Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। পেশি আবরণী কোষ (Musculo-Epithelial cell)ঃ পেশি আবরণী কোষ বহিঃত্বকের সমগ্র অংশ জুড়ে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে স্তম্ভাকার। প্রতিটি কোষের বাইরের দিক চওড়া ও মুক্ত এবং ভিতরের দিক বদ্ধ ও সরু। ভিতরের দিকে দুটি পেশি প্রবর্ধক থাকে। একে পেশী লেজও বলা হয়। পেশি লেজের ভিতরে সংকোচনশীল সূত্রক মায়োনিম থাকে। কোষের সাইটোপ্লাজমে একটি নিউক্লিয়াস, মিউকাস বস্তু ও গ্রানিউলার গ্রন্থি থাকে। কর্ষিকার পেশি আবরণী কোষ গুলো বড়, চ্যাপ্টা এবং নিডোসাইট বহন করে। মিউকাস বস্তু হতে মিউসিন এবং গ্রানিউলার গ্রন্থি হতে গ্রানিউল নিঃসৃত হয়। পেশি আবরণী কোষ গুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি অবিচ্ছেদ্য আবরণী সৃষ্টি করে।

পেশি আবরণীর কাজ

(i) পেশি আবরণী দেহ আবরণী সৃষ্টি করে দেহকে রক্ষা করে।

(ii) মায়োনিম সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে দেহের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটায়।

(iii) মিউকাস গ্রন্থির নিঃসরণ দেহকে পিচ্ছিল রাখে।

(iv) ইহা নেমাটোসিস্ট বহন করে।

(v) ইহা সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে চলনে সাহায্য করে।

(vi) মিউকাস দানা নিঃসৃত রস কিউটিকল গঠন করে।

(vii) ইহা নিডোব্লাস্ট ধারণ করে।

(viii) দেহকে কোন বস্তুর সাথে আবদ্ধ রাখে।

(ix) মিউকাস দানা সমৃদ্ধ অংশ শ^সনে অংশ নেয়।

২। ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cell) ঃ পেশি আবরণী কোষের মাঝখানে গুচ্ছাকারে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ অবস্থান করে। একে সংরক্ষিত কোষ (Reserve cell) বা স্টেম কোষ (Stem cell) বা মাল্টিপোটেন্ট কোষ (multipotent cell) বলা হয়। কোষ গুলো দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার বা ত্রিকোণাকার। প্রতিটি কোষে একটি নিউক্লিয়াস, অসংখ্য মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে। ইহা টটিপটেন্সি ক্ষমতা সম্পন্ন। তাই ইহা প্রয়োজনে অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হয়। কোষগুলোর ব্যাস ৫ μm।

ইন্টারস্টিশিয়াল কোষের কাজ

(i) এ কোষ অন্য যে কোন কোষে রুপান্তরিত হতে পারে।

(ii) ইহা হাইড্রার পুনরুৎপত্তি, বৃদ্ধি, গোনাড ও মুকুল সৃষ্টিতে অংশ নেয়।

(iiii) ৪৫ দিন পর পর দেহ কোষ নষ্ট হয়ে গেলে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ সে স্থান পুরণ করে।

৩। সংবেদী কোষ (Sensory cell)ঃ  পেশী আবরণী কোষের ফাঁকে ফাঁকে বিক্ষিপ্ত ভাবে সংবেদী কোষ অবস্থান করে। তবে কর্ষিকা, হাইপোস্টোম, পদতলে ইহা অসংখ্য। কোষ গুলো দেখতে সরু, লম্বা ও মাকু আকৃতির।  অর্থাৎ মধ্যভাগ প্রশস্ত এবং উভয় প্রান্ত সরু। প্রতিটি কোষে সাইটোপ্লাজম ও স্ফীত নিউক্লিয়াস থাকে। এর বাইরের দিকে সংকোচনশীল রোম এবং ভিতরের দিকে সংবেদনশীল স্নায়ু থাকে। ইহা আলো, তাপ, স্পর্শ, রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতির প্রতি সংবেদনশীল।

সংবেদী কোষের কাজ

(i) ইহা পরিবেশ হতে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা গ্রহণ করে।

(ii) ইহা আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

(iii) ইহা বাসস্থান নির্বাচনে সাহায্য করে।

(iv) ইহা খাদ্য বাছাই করে।

৪। স্নায়ু কোষ (Nerve cell)ঃ স্নায়ু কোষ গুলো এপিডার্মিসের নিচে মেসোগিøয়া ঘেঁষে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে মাকু আকৃতির বা বহুভুজাকার। কোষে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস বিদ্যমাণ। প্রতিটি কোষে দুই বা ততোধিক শাখাযুক্ত স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে। স্নায়ুতন্ত্র গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে স্নায়ু জালিকা গঠন করে।

স্নায়ু কোষের কাজ

(i) ইহা সংবেদী কোষ হতে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

(ii) ইহা বিভিন্ন কোষের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

৫।  গ্রন্থি কোষ (Gland cell)ঃ  গ্রন্থি কোষ গুলো পাদচাকতি, হাইপোস্টোম ও কর্ষিকায় অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে নলাকার, দানাযুক্ত বা ডিম্বাকার হতে পারে। ইহাতে মিউকাস গ্রন্থি, এনজাইম গ্রন্থি ও আঠালো রস নিঃসরণকারী গ্রন্থি রয়েছে।

গ্রন্থি কোষের কাজ

(i) এ কোষ খাদ্য গলাধঃকরণে সাহায্য করে।

(ii) নিঃসৃত আঠালো রস হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) ইহা ক্ষণপদ সৃষ্টি করে চলনে সাহায্য করে।

(iv) বুদবুদ সৃষ্টি করে হাইড্রাকে পানিতে ভাসতে সাহায্য করে।

৬। জনন কোষ (Germ cell)ঃ  প্রজনন ঋতুতে হাইড্রার দেহ কান্ডে ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ হতে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়  সৃষ্টি হয়। শুক্রাশয় উপরে এবং ডিম্বাশয় নিচে থাকে। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু এবং ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু অতি ক্ষুদ ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। ইহা মস্তক, মধ্যখন্ড ও চলনক্ষম লেজ দ্বারা গঠিত। ডিম্বাণু বড়, গোলাকার ও তিনটি পোলার বডি যুক্ত।

জনন কোষের কাজঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে।

৭। নিডোব্লাস্ট (Cnidocyte cell)ঃ  হাইড্রার পদতল ছাড়া সর্বত্র নিডোবøাস্ট কোষ বিস্তৃত। ইহা পেশি আবরণী কোষের ফাঁকে ফাঁকে অবস্থান করে। কোষ গুলো দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার, ফ্ল্যাক্স আকৃতির, পেয়ালাকার বা নাসপাতির মতো। প্রতিটি কোষ দ্বি-আবরণী বিশিষ্ট এবং একটি মাত্র নিউক্লিয়াস যুক্ত। কোষের ভিতরে প্যাচানো সুতাযুক্ত নেমাটোসিস্ট থাকে।

নিডোব্লাস্টের কাজ

(i) ইহা খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে।

(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(iii) আত্মরক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

(iv) শিকার ধরা ও অসার করে।

(v) প্রাণীকে কোন বস্তুর সাথে আকড়ে ধরতে সাহায্য করে।

(vi) ইহা শ্রেণীতাত্তি¡ক গুরুত্ব বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq