করোনারী বাইপাস কী । Coronary Bypass/CABG। করোনারীবাইপাস পদ্ধতি ও সতর্কতা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 যে নালিকা হৃৎপিন্ডের প্রাচীরে রক্ত প্রদান করে তাকে করোনারী ধমনী বলে। করোনারী ধমনীতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে শক্ত পদার্থে পরিনত হয়। পুঞ্জিভূত এই পদার্থ গুলোকে অ্যাথেরোমেটাস প্ল্যাক বলে। এ প্রক্রিয়াটিকে আর্টারিওস্কে¬রোসিস বলে। অন-পাম্প অথবা অফ-পাম্প অথবা বিটিং হার্ট সার্জারীর মাধ্যমে করোনারী বাইপাস করা হয়। চিকিৎসক রোগীর বয়স, করোনারী ধমনীর সমস্যা, লক্ষণ, অন্যান্য সমস্যা প্রভৃতি বিবেচনা করে করোনারী বাইপাস করে থাকেন।

করোনারী বাইপাস বা CABG সার্জারী পদ্ধতি

করোনারী বাইপাস হার্ট স্পন্দিত অবস্থায় বা বিটিং হার্টে করা যায়। একে অবক্যাব (OPCAB) বলে। বর্তমানে হৃৎস্পন্দন বন্ধ করে বুকের বাম পাশে ছোট করে কেটে করোনারী বাইপাস করা হয়। একে মিডক্যাব (MIDCAB) বলে।

 

১। করোনারী বাইপাস শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

২। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়।

৩। হার্ট-লাংস মেশিন দ্বারা রোগীর রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।

৪। রোগীর বুক কেটে হৃৎপিন্ড বের করা হয়।

৫। হাত বা পায়ের ধমনী কেটে নিয়ে হৃৎপিন্ডের সাথে যুক্ত করা হয়। ফলে বিকল্প পথে হৃৎপিন্ডে রক্ত চলাচল করে।

৬। এক্ষেত্রে সময় লাগে ৩-৫ ঘন্টা। রোগীকে ২-৩ দিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দুই মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।

 

রোগীর প্রতি সাবধানতা

১। করোনারী বাইপাস রোগীর কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলতে হয়।

২। ধুমপান না করা।

৩। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।

৪। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা।

৫। কোলেস্টেরলের চিকিৎসা করানো।

৬। নিয়মিত ব্যায়াম করা।

৭। শরীরের ওজন ঠিক রাখা।

৮। মানসিক চাপে না থাকা।

৯। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *