ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

১। সাধারণ ডেঙ্গু ¦রের লক্ষণ

(i) প্রথমে শীত শীত ভাব এবং হঠাৎ প্রচন্ড জ্বর আসে।

(ii) মাথা, গলা কপালে তীব্র ব্যথা হয়।

(iii) চোখের পিছনে ব্যথা করে এবং রক্ত জমাট বাধে।

(iv) মেরুদন্ড, কোমর, মাংসপেশী জয়েন্টে তীব্র ব্যথা হয়। অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয় বলে একে হাড়ভাঙ্গ ¦ বলে।

(v) বমি বমি ভাব হয়।

(vi) চামড়ায় ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা যায়।

(vii) দাঁতের মাড়ি নাক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়।

(viii) লিভার বড় হয় এবং সংবহনতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(ix) জ্বরের মাত্রা ১০৩১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট হয়।

(x) খাবারে অরুচি হয়। ক্ষুধামন্দা হয়।

(xi) রক্তে অণুচক্রিকার (প্লে¬টলেট) সংখ্যা হ্রাস পায়। অবস্থাকে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বলে। রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না। 

(xii) হৃৎস্পন্দন রক্তচাপ কমে যায়।

(xiii) গ্রীবা কুঁচকির গ্রন্থিগুলো ফুলে যায়।

(xiv) হাত পায়ের তালু ফুলে যায় এবং উজ্জ্বল লাল বর্ণ ধারণ করে।  

 

২। হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

রোগী দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু ¦রে আক্রান্ত হলে তাকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু বলে। ডেঙ্গু হেমোরেজিক হলে রোগীর খুব খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হয়। শিশুরা অধিক আক্রান্ত হয়। এতে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

(i) চোখের কোণে রক্ত জমাট বাধে।

(ii) রক্ত বমি হতে পারে।

(iii) নাক, মুখ, দাঁতের মাড়ি ত্বক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়।

(iv) পায়খানার সাথে রক্ত বের হতে পারে।

(v) রক্তের প্লে¬টলেট হ্রাস পায় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না।   

(vi) অত্যাধিক ¦রের কারণে দেহে পানি শুন্যতা দেখা দেয়।

(vii) হেমোকনসেন্ট্রেশন ঘটতে পারে।

(viii) দেহে তরলের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তনালিতে চাপ পড়ে।

(ix) রক্তক্ষরণ বা ইন্টারনাল বিøডিং এর পরিমাণ বেড়ে যায়। অবস্থাকে ডেঙ্গু শক সিনড্রম বলে।

(x) শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

 

৩। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম

রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে হিমোকনসেনট্রেশন হলে তাকে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বলে।

(i) রক্তে ফ্লুইড বা তরলের পরিমাণ কমে যায়।

(ii) রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়।

(iii) রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।

(iv) রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *