বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান। দেশে ৪ প্রকার ধান চাষ করা হয়। আউশ, আমন, বোরো ও ইরি। আবাদী জমির ৭০% ধান চাষে ব্যবহার হয়। চালে কার্বোহাইড্রেট ৮০%, প্রোটিন ৭.১% এবং চর্বি ০.৬৬%। সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয় ময়মনসিংহে।
ধানের উফশী জাতের বৈশিষ্ট্যঃ গাছ খাটো ও হেলেপড়ে না, গাছের গোড়া মজবুত ও পাতা খাড়া থাকে, ধান পাঁকলেও গাছ সবুজ থাকে, খড়ের চেয়ে ধানের উৎপাদন বেশি, অধিক কুশি গজায়।
ধানের উফশী জাতঃ সোনার বাংলা–১, সুপার রাইস, হাইব্রিড হিরা, ইরাটম, ব্রিশাইল, চান্দিনা, মালা, শাহী বালাম, শ্রাবনী, মুক্তা, গাজী, আশা, মোহিনী, বিপ্লব, সুফলা, প্রগতি, ময়না, হাসি, শহজালাল, মঙ্গল, দুলাভোগ, ব্রিবালাম, পূর্বাচী, নিয়মত। জুমচাষ হয় পাহাড়ী এলাকায়।
ধানের রোগ ভাইরাস–টুংরো। ব্যাকটেরিয়া–লিফ ব্লাইট, কান্ড পচা। কৃমি–উফরা। মাজরা, চুঙ্গি, থ্রিপস, বিপিএইচ পোকা, গান্ধী পোকা।
বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’ এর ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৭–৮.৮ টন। এর জীবনকাল ১৪৮ দিন। এতে শর্করা ২৬.৮% এবং প্রোটিন ৭.৮%।
ব্রি ধান–১০৫ কম গ্লাইকোসেমিক ইনডেক্স বলে একে ডায়াবেটিক ধান বলে। ব্রি ধান ১০৬ হলো অলবণাক্ত ধান এবং জোয়ার ভাটা অঞ্চলের জন্য উপযুক্ত। বাংলামতি হলো সুগন্ধি ধান। আলোক ৬২০১ জাতটি ভারত থেকে ব্র্যাক আমদানী করেছে।
ধান উৎপাদনে পৃথিবীতে ১ম চীন, ২য় ভারত, ৩য় বাংলাদেশ এবং ৪র্থ ইন্দোনেশিয়া এবং ৫ম ভিয়েতনাম। ধান/চাল রপ্তানিতে শীর্ষদেশ থাইল্যান্ড। ২০১৫ সালে চাল রপ্তানিতে শর্ষ দেশ ভারত। ধান আমদানীতে শীর্ষ দেশ চীন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানঃ আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ওজজও) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে, ম্যানিলা, ফিলিপাইন। ‘বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে, জয়দেবপুর, গাজীপুর। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৬ সালে, জয়দেবপুর, গাজীপুর। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান এবং তাইওয়ানের ডিজি উজেন ধানের মধ্যে নিষেক ঘটিয়ে ইরি–৮ ধান উদ্ভাবন করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান, ভারতের টিকেএম–৬ ধান এবং তাইওয়ানের টাইচু–১ ধানের মধ্যে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে ইরিশাইল ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে।