নিডোব্লাস্ট কোষের গঠন । নিডোসাইট কোষের গঠন । Cnidoblast/Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ nettle এবং blastos অর্থ germ নিয়ে Cnidoblast শব্দটি গঠিত। হাইড্রার বহিঃত্বকে কলসি বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির যে কোষ থাকে তাকে নিডোব্লাস্ট কোষ বলে। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, নাশপাতি, পেয়ালা বা লাটিম আকৃতির হতে পারে। পদতল ছাড়া দেহের সর্বত্র নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে। তবে কর্ষিকায় এর সংখ্যা অধিক। কখনো কখনো কোষগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এদের গুচ্ছকে ব্যাটারী বলে।
১। আবরণীঃ প্রতিটি নিডোব্লাস্ট কোষ দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। ইহা প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে।
২। নেমাটোসিস্টঃ নিডোব্লাস্ট কোষে বিদ্যমান প্যাচানো সুত্রকসহ ক্ষুদ্র থলিকে নেমাটোসিস্ট বলে। নেমাটোসিস্টের থলীকে ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুলে বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন থাকে। হিপনোটক্সিন প্রোটিন ও ফেনল দ্বারা গঠিত। হিপনোটক্সিন বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির। অর্থাৎ শিকারের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে। এই বিষের মাত্রা ৭৫% গোখরা বা কোবরা সাপের বিষের মতো। নেমাটোসিস্টের অগ্রপ্রান্তে লম্বা ও ফাঁপা সূত্রক থাকে। সূত্রকের গোড়ার প্রশস্ত অংশকে বাট বা শ্যাফট বলে। বাটের উপর বার্ব নামক তিনটি বড় কাঁটা থাকে। বাটে সর্পিলাকারে সজ্জিত ছোট ছোট বার্বিউল কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্ট বাট ও কাঁটাসহ থলির ভিতরে ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না।
৩। অপারকুলামঃ নেমাটোসিস্টের মুখে ঢাকনার মতো একটি অংশ থাকে। একে অপারকুলাম বলে। উন্মুক্ত অবস্থায় ইহা পাশে সরে যায়।
৪। নিডোসিলঃ নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে শক্ত, দৃঢ়, ক্ষুদ্র ও অতিসংবেদনশীল একটি ফাঁপা কাঁটা থাকে। একে নিডোসিল বলে। ইহা একটি রুপান্তরিত সিলিয়াম। ইহা ট্রিগারের মতো কাজ করে। ফলে প্যাচানো সূত্রক বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।
৫। পেশিসূত্র ও ল্যাসোঃ নেমাটোসিস্টের নিম্ন প্রান্ত হতে কতক গুলো পেশী সূত্র নির্গত হয়। এছাড়া নিম্ন প্রান্তে ল্যাসো নামক একটি প্যাচানো সুতা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *