গ্রীক শব্দ nematos অর্থ সূতা, eidos অর্থ আকৃতি এবং helminth অর্থ কৃমি নিয়ে Nematoda শব্দটি গঠিত। যে সকল প্রাণীর দেহ নলাকার, কিউটিকলযুক্ত, খন্ডবিহীন, দ্বিপাশর্^ীয় প্রতিসম এবং অপ্রকৃত সিলোমযুক্ত তাদেরকে নেমাটোডা বলে। এ পর্বের প্রাণিরা সূতাকৃমি বা গোলকৃমি নামে পরিচিত। দেহের গঠন ‘নলের ভিতর নল’ এর মতো। এরা মানবদেহে অ্যাসকেরিয়েসিস, এলিফ্যান্টটিয়াসিস, কনজাংটিভাইটিস, পেট ব্যথা, ট্রাইচুরিয়াসিস প্রভৃতি রোগ সৃষ্টি করে। নাইট্রোজেন চক্রে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। সমুদ্রের তলদেশে ৯০% প্রজাতি নেমাটোড। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ২৫,০৩৩টি। পূর্বে এরা Nemathelminthes বা Aschelminthes নামে পরিচিত ছিল। Nemathelminthes পর্বটির নামকরণ করেন বিজ্ঞানী Gagenbaur (১৮৫১)।
নেমাটোডা পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, উভয় প্রান্ত সরু এবং মধ্যভাগ চওড়া। গোলকৃমি নামে পরিচিত।
২। দেহ অখন্ডায়িত, সিলিয়াযুক্ত এবং পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
৩। দেহ নমনীয় এবং ইলাস্টিন নির্মিত।
৪। দেহে অপ্রকৃত সিলোম বিদ্যমান।
৫। এরা এক লিঙ্গিক এবং যৌন জননে দ্বিরুপতা দেখা যায়।
৬। পৌষ্টিক নালি সম্পুর্ণ, সোজা, শাখাবিহীন এবং মুখ হতে পায়ু পর্যন্ত প্রসারিত। তাই দেহের গঠন নলের ভিতর নল এর মতো মনে হয়।
৭। মুখ ছিদ্র বৈশিষ্ট্যপুর্ণ ওষ্ঠ দ্বারা পরিবেষ্টিত।
৮। শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
৯। জীবনচক্রে র্যাবডিটিফর্ম বা মাইক্রোফাইলেরিয়া লার্ভা দশা বিদ্যমান।
১০। এরা স্থলচর বা জলচর, মুক্তজীবী বা পরজীবী।