মানুষের বক্ষগহŸরে হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মতো দুইটি ফুসফুস থাকে। ইহা CO2 ও O2 এর বিনিময় ঘটায়। ধুমপানের ফলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিড়ি ও সিগারেটে নিকোটিন, টার, আর্সেনিক, মিথেন, অ্যামোনিয়া, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এসব রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসের ক্ষতি করে। ধুমপায়ী এবং অধুমপায়ীর ফুসফুসের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন-
১। সাদা-কালো দাগঃ অধুমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রের কালো ও সাদা দাগের মধ্যে সুস্পষ্ট দাগ দেখা যায়। ধুমপায়ীর ফুসফুসে কালো দাগগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়।
২। স্বচ্ছতাঃ অধুমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে অ্যালভিওলাইয়ে সুষম স্বচ্ছতা দেখা যায় না। ধুমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে অ্যালভিওলাইয়ে সুষম স্বচ্ছতা দেখা যায়।
৩। প্রাচীরঃ অধুমপায়ীর ফুসফুস ও অ্যালভিওলাসের প্রাচীর স্বাভাবিক ও সবল। ধুমপায়ীর ফুসফুস ও অ্যালভিওলাসের প্রাচীর পাতলা ও দুর্বল।
৪। এমফাইসিমাঃ সিগারেটের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাস ধ্বংস করে ভিতরে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি করে। একে এমফাইসিমা বলে। অধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে এমফাইসিমার চিহ্ন দেখা যায় না। ধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে এমফাইসিমার চিহ্ন দেখা যায়। এ রোগে ফুসফুসের শ্বসন অঞ্চল কমে যায় এবং স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়।
৫। ক্যান্সার কাষঃ অধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ দেখা যায় না। ধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ দেখা যায়। বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি করে। ৯০% ফুসফুসীয় ক্যান্সার ধুমপানের কারণে হয়।
৬। সিলিয়াঃ অধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের সিলিয়া গুলো স্বাভাবিক। ধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরের সিলিয়া গুলো নষ্ট হয়ে যায়। এতে ট্রাকিয়ায় মিউকাস জমে প্রদাহের সৃষ্টি করে। একে ব্রংকাইটিস বলে।
৭। টিউমারঃ অধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে টিউমারের চিহ্ন দেখা যায় না। ধুমপায়ীদের ফুসফুসের এক্স-রে চিত্রে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টিউমার উপবৃদ্ধি দেখা যায়।
৮। বংশগতিঃ ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার এবং সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অধুমপায়ীদের তেমন সম্ভাবনা নাই।